somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভাবীর বাড়ীতে পৌছার পর ভেবেছিলাম এই বুঝি শেষ হল , কিন্তু শরীর না কুলালেও রাত ১টায় যেতে হল খালা শ্বাশুড়ীর বাড়ীতে কারন সন্ধ্যা থেকে সবাই নাকি আমাদের জন্যে অপেক্ষায় আছেন। সত্যিকার অর্থে জীবনে যতবার সারপ্রাইজড হয়েছি ওটা ছিল অন্যতম! এত আয়োজনের বিন্দুমাত্র আমার ধারনায় ছিল না।

আনন্দঘন এক পরিবেশে পারিবারিক মিলনমেলা বসেছিল সেদিন। স্বাস্থ্যবান লম্বা একজন মানুষ জোব্বা পড়ে ভাগ্নেদের সাথে নাচছেন, নিজেকে আরেকটু স্মার্ট দেখানোর জন্যে ভাগ্নেদের সানগ্লাস নিয়ে চোখে দিয়ে নাচলেন। ভিন্ন জেলায় বিয়ে হয়ে ভিন্ন সংস্কৃতির ফলে অনেক নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন এখন পর্যন্ত হতে হলেও সেদিনের সকল মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অকৃত্রিম ভালোবাসা আমৃত্যু আমি যতনে রাখবো।

যার কথা বলছিলাম, তিনি আমার মামা শ্বশুর। আজীবন প্রবাসে কাটিয়ে, সকলের চাহিদা পূরণের মেশিন ছিলেন তাইতো তার যে নিজের একটা জীবন হওয়া দরকার, পরিবার হওয়া দরকার বড় ভাইবোনরা এই চিন্তাই করেননি। নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরলে কেউ আর রইলেন না পাশে। ৫০+ বছরেও সংসার হল না। অসুস্থ শরীরে একাকী জীবন টেনে নিয়ে গেছেন। চার মাস আগে যখন দেখা হল মামার সাথে আমার কন্যাদের কী রেখে কী দেবেন, আমাদের কী দিয়ে আপ্যায়ন করবেন দিশা পাচ্ছিলেন না। ব্যস্ত হতে নিষেধ করলেও শুনলেন না। 'আম্মু' এবং 'আপনি' ছাড়া আমাকে সম্বোধন করতেন না।

ভাগ্নেদের বিষয়সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ মেটাতে আসতেন। একজনের ঘরে গেলে তার মত সে বুঝিয়ে পাঠাতো, আবার অপরপক্ষ থেকে উল্টো বুঝ দিয়ে পাঠাতো। অথচ এই সহজ সরল মানুষটি নিজের বিষয় সম্পত্তিই বুঝে পাননি ঠিক মত, সেই শালিস নিয়ে মনে হয় না কারো কাছে যেতে পেরেছেন।
আমাদের দেখতে আসলেন, যেতে চাইলে বললাম মামা রাত থেকে যান। উত্তর দিলেন , "আম্মু ছুটো ছুটো মুরগীর বাচ্চা আছে তো, ইঁদুরে নিয়ে যাবে। আমি বাড়ীতে না থাকলে গ্যাসের টাংকিটা (সিলিন্ডার) চুরে নিয়ে যাবে যে…"। যতবার দেখা হয়েছে অত্যন্ত আন্তরিকতা দিয়ে বলেছেন "আমার বেয়াই বেয়ানীকে সালাম দিবেন, আমি বেড়াতে যাবো বেয়াই এর কাছে।" হঠাৎ শুনি সেই মানুষটা আর এই দুনিয়ায় নাই! মামা , মুরগীর বাচ্চাগুলো ইঁদুরে নিয়ে গেলে কিংবা গ্যাসের টাংকিটা চোরে নিলেও আর দেখার কেউ নাই।
একটি অধ্যায়ের শেষ হয়ে গেল, যার জন্যে দশটি টাকা সাদাকাহ করার কেউ রইল না কিংবা ঈদে কোরবানে কবর জিয়ারত এর টানে কেউ যাবে না। নিঃস্ব এক গাংচিল এর জীবনাবসান হল!

দুইরাত চোখের পানিকে বাঁধ মানাতে পারিনি মামা আপনার শেষ দিনগুলোর কথা ভেবে। আপনার যত কষ্ট না পাওয়া সব যেন দুনিয়াতেই থেকে যায়। আল্লাহ আপনাকে জান্নাত নসিব করুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×