ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন 2006
গত রোববার জাতীয় সংসদে তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উত্থাপিত ক্যাব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন 2006-এর বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স পাওয়া, লাইসেন্সপ্রাপ্তির পর কার্যক্রম শুরু ও লাইসেন্সের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ, বিদেশ থেকে সম্প্রচারিত দেশীয় চ্যানেলের সম্প্রচার, অপারেটরদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চ্যানেল চালু, পে চ্যানেলের বিপরীতে বিদেশে অর্থ পাঠানো, প্রাইম ব্যান্ডে সরকারি ও সরকার অনুমোদিত বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে বাধ্যতামূলক, বিদেশি চ্যানেল বন্ধ ইত্যাদি বিষয়ে সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে।
নতুন করে সংযোজিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, কোনো পরিবেশক ও অপারেটর ভিডিও ভিসিডি, ডিভিডির মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে নিজস্ব কোনো চ্যানেল বাংলাদেশে বিপণন, সঞ্চালন ও সম্প্রচার করতে পারবে না, পরিবেশকদের নতুন করে এলসি খোলার মাধ্যমে বিদেশি পে চ্যানেল ডাউনলিংক করতে হবে এবং সরকারি অনুমোদন ও বিদেশে অর্থ প্রেরণে সরকারি অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত বিদেশি পে চ্যানেল ডাউনলিংক, সঞ্চালন ও সম্প্রচার করা যাবে না । এছাড়া লাইসেন্স না পেলে মাল্টি চ্যানেল মাল্টি পয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশন সার্ভিস (এমএমডিএস) বা ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) টার্মিনাল স্থাপন, ব্যবহার, বিপণন ও সঞ্চালন করা যাবে না এবং মাল্টি চ্যানেল মাল্টি পয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশন সার্ভিসের মধ্যে টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয় বলে সংশোধিত বিলে উল্লেখ করা হয়।
সংশোধিত বিলে বিদেশ থেকে সম্প্রচারিত কোনো দেশীয় চ্যানেল এ দেশে ডাউনলিংক, বিপণন ও সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ধারাটি নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রেও।
বিলে শতকরা 20 ভাগের বেশি শেয়ারের মালিকানায় কোনো বিদেশি ব্যক্তি থাকলে ওই পরিবেশক ও অপারটরকে লাইসেন্স ইসু করা হবে না বলে সংশোধনী আনা হয়। একই উপধারায় কোনো বিদেশি নাগরিকের মালিকানায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স ইসুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নতুনভাবে সংযোজন করা হয়। এছাড়া নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে 5টি উপদফা। এগুলোতে রয়েছে পরিবেশকদের পে চ্যানেলের প্যাকেজ বা বান্ডিলে নিষেধাজ্ঞা, অপারেটরদের গ্রাহক চাহিদা না থাকলে ক্রয়কৃত পে চ্যানেল পরিবেশকদের ফেরত দেওয়ার সুযোগ, গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী সংযোগ দেওয়া, জোরপূর্বক গ্রাহকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংযোগ নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, বিপণনের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিধির মাধ্যমে চ্যানেল সংখ্যা সময়, সময় নির্ধারণ ও বিদেশি পে চ্যানেল অনুমোদনের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে সরকারের হাতে ক্ষমতা।
বেশকিছু পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, আইন প্রণয়নের আগে লাইসেন্সপ্রাপ্তদের এ আইন বলবৎ হওয়ার পর পুনরায় লাইসেন্সের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে 90 দিনের মধ্যে পরিবর্তে 30 দিন, লাইসেন্সের আবেদনের পর 30 দিনের মধ্যে অপারটেরদের লাইসেন্সিং কতর্ৃপক্ষের তা ইসু করা এবং লাইসেন্সের মেয়াদ পরিবেশকদের ক্ষেত্রে 3 বছর ও অপারেটরদের ক্ষেত্রে 1 বছরের পরিবর্তে প্রত্যেককে 2 বছর নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অননুমোদিত যন্ত্রপাতি বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে সেবা প্রদান বা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থাপনকৃত যন্ত্রপাতি আটকের পর লাইসেন্স নেওয়ার সময়সীমা 45 দিনের পরিবর্তে 30 দিন করা হয়েছে।
খসড়া বিলের বেশ কিছু উপধারা এ বিলে বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে অপারটরদের দৃটি পৃথক প্যাকেজে বিদেশি পে চ্যানেল ও ফ্রি টু এয়ার চ্যানেল সঞ্চালন। এছাড়া সংশোধিত বিলে জনস্বার্থে যে কোনো চ্যানেল বন্ধের পরিবর্তে সরকার যে কোনো কেবল্ টেলিভিশন নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করতে পারবে।
সংশোধিত বিলে সরকারি ও বেসরকারি চ্যানেল সঞ্চালনের ক্ষেত্রে প্রাইম ব্যান্ড ও প্রাইম ব্যান্ডের মাঝখানে ঢুকে যাওয়া অন্য ব্যান্ডগুলোতেও সরকারি চ্যানেলগুলো ও সরকার অনুমোদিত বেসরকারি দেশীয় চ্যানেলগুলো অনুমোদনের তারিখ অনুযায়ী অগ্রাধিকারক্রমে অব্যাহতভাবে সঞ্চালন বা সম্প্রচার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


