somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমাদের অভিবাদন জানাই যারা জীবন বাজি রেখে অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছো

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ প্রত্যেকেই তারা পরের তরে, তোমাদের অভিবাদন জানাই যারা জীবন বাজি রেখে অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছো, নাম ও সংখ্যা না জানা সেইসব মানুষদের জন্য আমার শুভকামনা ও দোয়া রইল। এটাকেই বোধহয় আমাদের দেশের যুব শক্তি বলে। অজানা,অচেনা ঐ মানুষ গুলো, যারা আমাদেরকে ঋনী করে রাখলো তাদের সামাজিক দায়বদ্বতার কাছে। একদিন এই যুবশক্তিই পাল্টে দিবে আমাদের ঘুনেধরা সমাজকে।

তাঁরা কেউ কাউকে চেনেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধসে পড়া ভবনের ভেতর ঢুকে পরিচয়। পরস্পরের নামও জানা নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গত বুধবার থেকেই ভবনের ভেতর ঢুকে উদ্ধার করেন জীবিত-মৃত শ খানেক মানুষকে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ছুরি আর হ্যাক্সো ব্লেড চালিয়ে পা কেটে চারজনকে, হাত কেটে একজনকে জীবিত বের করে এনেছেন তাঁরা।

দীর্ঘ পরিশ্রম আর ভবনের ভেতরের গুমোট পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের চারজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনা হয় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে আসার পর চারজন পরস্পরের নাম জানতে পারেন।

এই চারজন হলেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি রুবেল, স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন, পোশাকসামগ্রীর ব্যবসায়ী মো. হাবিব ও ব্যবসায়ী কাওসার হীরা। দুই দিনের এই উদ্ধারকাজে সঙ্গী বাকি তিনজনের নাম জানাতে পারেননি এই চারজন। নাম জানার ফুরসতই তাঁরা পাননি।

শুধু এই সাতজন নন, বুধবার থেকেই শত শত সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে চিড়েচেপ্টা হয়ে যাওয়া নয়তলা ভবনের ভেতর ঢুকে ও বাইরে থেকে উদ্ধারকাজ করে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে ভবনের ভেতরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। স্থানীয় মানুষই ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধার করছেন, অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে বা লাশ রাখার স্থানে নিচ্ছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিড় সামলাচ্ছেন, অ্যাম্বুলেন্স আর ওষুধ নিয়ে আসা যানবাহনের দ্রুত চলাচলের রাস্তা করে দিচ্ছেন, রক্ত দিচ্ছেন। এ এক অভূতপূর্ব সহমর্মিতার উপাখ্যান। তাঁরাই স্বজনের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে খাবার আর পানি দিচ্ছেন, হাসপাতাল আর লাশ রাখার জায়গা চিনিয়ে দিচ্ছেন, সান্ত্বনা আর পরামর্শ দিচ্ছেন। রাজধানী থেকে মানুষ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ওষুধ, খাবার আর পানি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন।

ওঁরা সাতজন: স্বেচ্ছায় উদ্ধারকর্মী হয়ে পড়া সাতজনের দলটির একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মো. রুবেলের বড় বোন রিমা ও ভগ্নিপতি ফরিদ ভবনের চারতলায় ফ্যান্টম ট্যাক কারখানায় কাজ করতেন। ভবনধসের পর ফরিদ বের হতে পারলেও রিমাকে লাশ হতে হয়েছে। রিমার লাশটা আটকে রয়েছে একটা বিমের নিচে। রুবেল বোনের মৃত মুখটা দেখতে পারলেও বোনকে উদ্ধার করতে পারেননি। বোনকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি তিনি। অন্যদের উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ এক মরিয়া লড়াইয়ে নেমেছেন সর্বশক্তি দিয়ে।
স্নাতকের ছাত্র আবিরের বাসা ঢাকার আজিমপুরে। সাভারে ভবনধসের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। একপর্যায়ে নিজে থেকেই উদ্ধারকাজে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জানান, বুধবার বেলা একটার দিকে চেপে থাকা দুই ছাদের ফোকর দিয়ে কোনোরকমে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন আরও ছয়জন কাজ করছেন। আবিরের দাবি, তাঁরা অন্তত দেড় শ জনকে সেখান থেকে বের করেছেন। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন মৃত।

আবির বলেন, বুধবার ভবনের ভেতরে ঢোকার পর তাঁরা কয়েকজনকে টেনে বের করেন। বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া ব্যক্তিরা তখন চিৎকার করছিলেন। তাঁরা সেই শব্দ শনাক্ত করে করে সামান্য হাতুড়ি-ছেনি ব্যবহার করে দেয়াল ভেঙে কয়েকজনকে উদ্ধার করে আনেন। কিন্তু ভবনটি এমনভাবে ধসেছে যে দুটি ছাদের মাঝে কেবল শুয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে অল্প জায়গায় চলা যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় শুয়ে শুয়ে হাতুড়ি-ছেনি দিয়ে কাজ করা যাচ্ছিল না। ভেতরে যেমন প্রচণ্ড গরম, তেমন নিকষ অন্ধকার। বুকভরে শ্বাসও নেওয়া যায় না। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ।

আরেকজন স্বনিয়োজিত উদ্ধারকর্মী হাবিব ওই এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, গতকাল তাঁরা একজনের ওপর আরেকজন করে পড়ে থাকা তিনজন নারীকে ভবনের এক অংশে খুঁজে পান। তিনজনের একজন জীবিত ছিলেন। পাখি নামের ওই মেয়েটির একটি পা ভবনের বিমের নিচে চাপা ছিল। পরে হাঁটুর ওপর থেকে পা কেটে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তাঁরা। কারণ, এ ছাড়া তাঁকে আর বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। আরেকজন পুরুষকর্মীর গোড়ালি কেটে পা মুক্ত করে বের করে আনেন তাঁরা।
হাবিব আর রুবেল বলেন, হাত-পা চাপা পড়ে আটকে থাকা কাউকে পেলে প্রথমে তাঁরা বাইরে অপেক্ষায় থাকা চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। চিকিৎসকেরাই আটকে পড়া অঙ্গ কেটে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সিদ্ধান্ত দেন। তবে এর জন্য উদ্ধারকারী যুবকদের চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগের কৌশল শিখিয়ে দেন চিকিৎসকেরা। পাখি নামের মেয়েটিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে তাঁর শরীরে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। তারপর চিকিৎসকদের পরামর্শমতো চাপা পড়া পা দড়ি আর ব্যান্ডেজের কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে সরবরাহ করা ছুরি দিয়ে সেটি বিচ্ছিন্ন করেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাখিকে বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। এই উদ্ধারকাজে তাঁদের সময় লেগেছে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।

রুবেল বলেন, ‘কাজ করার সময় খেয়াল ছিল না। পরে ছিন্ন অঙ্গ দেখে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে অন্যরা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।’ প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:১৩
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×