অনেক কিছুই ভালো লাগেনি। ভালো লাগেনি ক্ষমতাশীন ও বিরোধীদের রাজনৈতিক দন্ধ যদিও শোসন ও দুর্নীতি তাদেরই এক ও অভিন্ন লক্ষ্য। ভলো লাগেনি এই রাজনৈতিক হঠকারিতায় দেশের সাধারণ জনগনের অসহায় আত্মসমর্পন। ভালো লাগেনি ঘরের বাইরে মানুষের প্রতি মানুষের ব্যবহার। ভালো লাগেনি যানজট, ভালো লাগেনি বাইরের অরাজকতা।
ঢাকা শহরের মানুষগুলোকে মানসিক ভাবে অসুস্থ মনে হলো। সন্ত্রাস, অনাচার, শোষনের গ্রেনেড ছড়ানো প্রতিটি পদে পদে। সেখানে প্রতি মুহুর্তে পা টিপে চলতে চলতে এ অসুন্থতা অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। তারপরেও বেদনাদায়ক। শারিরীক অসুস্থতার একটি কারণ হচ্ছে ঢাকা শহরের জানজট, দুষিত বাতাস ও ভেজাল খাবার। এর ভয়াবহতা অপরিসীম। আর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরাজয় আমাদের মানসিক অসুস্থতার কারণ। ছেলে মেয়েরা সকালে বেরুলে বিকেলে বাড়ী ফিরবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কিত প্রতিটি মা। অফিসে রাজনৈতিক প্রভাবের সাথে হাত না মিলিয়ে স্বামীর চাকুরি টিকে থাকবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কিত প্রতিটি গৃহবধু।
প্রতিটি সাধারণ মানুষকে জীবনের কাছে পরাজিত মনে হয়। পরাজয়ের অসহায়তা প্রতিটি চলনে বলনে পরিস্ফুটিত। দেশের বাজনৈতিক দলগুলো, তাদের ক্ষমতা ও সম্পদলিপ্সার কাছে পরাজিত দেশের জনগন। জননেতাদের ক্রুঢ় চেহারা কারো কছেই তা অজানা নয়, তারপরও এই অসহায় আত্মসমর্পন খুবই বেদনাদায়ক। মধ্যবিত্তদের এই হতাশা ও পরাজয়ের জের টানছে দেশের অতি দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষগুলো। রিকশাচালক, বাড়ীর কাজের মানুষ ও তখাকথিত ছোট কাজগুলো যারা করে খাকেন, তাদের প্রতি অপোকৃত উঁচুবিত্তদের ব্যবহার ন্যাক্কারজনক। দুর্বলের প্রতি সবলের এই মনোভাব আমাদের জীবনের পদে পদে পরাজয়েরই ফলাফল। যাকে যে মুহুর্তে দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যাবে, তার উপর সে মুহুর্তে ছড়ি ঘোরানো আমাদের জাতীয় চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রকাশ শুধু বাইরেই নয়, নিজস্ব গন্ডীর ভেতরেও যে কেউ যে কোন মুহুর্তে অন্যের ঘাড়ের উপর পা রাখতে দ্বিধা বোধ করে না। স্বার্থের হানাহানিতে পরমআত্মীয়ও মুহুর্তেই পরম শত্রু হয়ে যেতে পারে। অতি মিষ্ট দাদা, মামা, মামী, খালু, খালা ডাকগুলো তখন তার তাদের সন্মান বহন করে না।
দুলাভাই নামক এক ব্লগার জাতি হিসেবে নিজেদের ধিক্কার দিয়েছেন। তার সমস্ত বক্তব্যের সাথে একমত না হয়েও এ ধিক্কারের প্রাতি একমত পোষন না করার কোন উপায় দেখছি না। এ ধিক্কারের মাঝে যদি আমরা আমাদের হারানো সন্মান, হারানো মানবিকতা তথা চালবাজ রাজনীতির হাত থেকে হারানো দেশকে আবার ফিরে পেতে পারি, তাহলে এ ধিক্কারই হবে আমাদের প্রধান অস্ত্র। এ ধিক্কারের মাঝেই আমরা হয়তো শিখব, আমাদের অসৎ রাজনীতিকে প্রতিহত করা। এ ধিক্কারই হয়তো একদিন আমাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখাবে। এ ধিক্কারের মাঝেই হয়তো আমরা আমাদের হারানো মানবিকতার সন্ধান খুজে পাব। এ ধিক্কারই হয়তো আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে একটি আবার সসন্মানে প্রতিষ্ঠিত করবে। যতদিন তা না হয়, ততদিন এই ধিক্কারই আমাদের প্রধান সম্বল।
তারপরেও ফিরে এসে মনে হচ্ছে এখানকার মাপা পরিশীলিত জীবনের চেয়ে দেশের অরাজকতাই অনেক বেশী সুন্দর। মনে হয় এখানকার সাজানো গোছানো রাস্তার চেয়ে ঢাকার ধুলি মলিন জ্যামই অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য। এথানকার জৌলুষে ক্যফের চেয়ে কোন প্রত্যন্ত বাজারের টং এর চা অনেক বেশী তৃপ্তিদায়ক। অনেক কিছুর প্রতিই আত্মর টান অনুভব করছি শুধুমাত্র একটি জিনিস বাদে। তা হচ্ছে আমাদের সততাহীনতা। সেটা ফিরে ফেলে অতি দরিদ্র এক জাতি হয়েও আমরা বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারতাম। আসুন, আমরা আমার সে অভিষ্ট লক্ষ্যপুরনের প্রয়াসে নিজেদেরকে আবারো ধিক্কার জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


