somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধিক্কার: আত্মশুদ্ধিতে মুক্তি, আত্মশ্লাঘায় নয়....

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় চার সপ্তাহের মতো কাটিয়ে এলাম প্রিয় জন্মভুমিতে। ভালো লেগেছে নিজের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো। ভালো লেগেছে সহজ সরল সন্ধ্যাগুলো ও একসাথে মিলে মিশে হইচই। ভালো লেগেছে আত্মার আত্মীয়তাকে স্পর্শ করার মতো অনুভব করে।

অনেক কিছুই ভালো লাগেনি। ভালো লাগেনি ক্ষমতাশীন ও বিরোধীদের রাজনৈতিক দন্ধ যদিও শোসন ও দুর্নীতি তাদেরই এক ও অভিন্ন লক্ষ্য। ভলো লাগেনি এই রাজনৈতিক হঠকারিতায় দেশের সাধারণ জনগনের অসহায় আত্মসমর্পন। ভালো লাগেনি ঘরের বাইরে মানুষের প্রতি মানুষের ব্যবহার। ভালো লাগেনি যানজট, ভালো লাগেনি বাইরের অরাজকতা।

ঢাকা শহরের মানুষগুলোকে মানসিক ভাবে অসুস্থ মনে হলো। সন্ত্রাস, অনাচার, শোষনের গ্রেনেড ছড়ানো প্রতিটি পদে পদে। সেখানে প্রতি মুহুর্তে পা টিপে চলতে চলতে এ অসুন্থতা অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। তারপরেও বেদনাদায়ক। শারিরীক অসুস্থতার একটি কারণ হচ্ছে ঢাকা শহরের জানজট, দুষিত বাতাস ও ভেজাল খাবার। এর ভয়াবহতা অপরিসীম। আর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরাজয় আমাদের মানসিক অসুস্থতার কারণ। ছেলে মেয়েরা সকালে বেরুলে বিকেলে বাড়ী ফিরবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কিত প্রতিটি মা। অফিসে রাজনৈতিক প্রভাবের সাথে হাত না মিলিয়ে স্বামীর চাকুরি টিকে থাকবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কিত প্রতিটি গৃহবধু।

প্রতিটি সাধারণ মানুষকে জীবনের কাছে পরাজিত মনে হয়। পরাজয়ের অসহায়তা প্রতিটি চলনে বলনে পরিস্ফুটিত। দেশের বাজনৈতিক দলগুলো, তাদের ক্ষমতা ও সম্পদলিপ্সার কাছে পরাজিত দেশের জনগন। জননেতাদের ক্রুঢ় চেহারা কারো কছেই তা অজানা নয়, তারপরও এই অসহায় আত্মসমর্পন খুবই বেদনাদায়ক। মধ্যবিত্তদের এই হতাশা ও পরাজয়ের জের টানছে দেশের অতি দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষগুলো। রিকশাচালক, বাড়ীর কাজের মানুষ ও তখাকথিত ছোট কাজগুলো যারা করে খাকেন, তাদের প্রতি অপোকৃত উঁচুবিত্তদের ব্যবহার ন্যাক্কারজনক। দুর্বলের প্রতি সবলের এই মনোভাব আমাদের জীবনের পদে পদে পরাজয়েরই ফলাফল। যাকে যে মুহুর্তে দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যাবে, তার উপর সে মুহুর্তে ছড়ি ঘোরানো আমাদের জাতীয় চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রকাশ শুধু বাইরেই নয়, নিজস্ব গন্ডীর ভেতরেও যে কেউ যে কোন মুহুর্তে অন্যের ঘাড়ের উপর পা রাখতে দ্বিধা বোধ করে না। স্বার্থের হানাহানিতে পরমআত্মীয়ও মুহুর্তেই পরম শত্রু হয়ে যেতে পারে। অতি মিষ্ট দাদা, মামা, মামী, খালু, খালা ডাকগুলো তখন তার তাদের সন্মান বহন করে না।

দুলাভাই নামক এক ব্লগার জাতি হিসেবে নিজেদের ধিক্কার দিয়েছেন। তার সমস্ত বক্তব্যের সাথে একমত না হয়েও এ ধিক্কারের প্রাতি একমত পোষন না করার কোন উপায় দেখছি না। এ ধিক্কারের মাঝে যদি আমরা আমাদের হারানো সন্মান, হারানো মানবিকতা তথা চালবাজ রাজনীতির হাত থেকে হারানো দেশকে আবার ফিরে পেতে পারি, তাহলে এ ধিক্কারই হবে আমাদের প্রধান অস্ত্র। এ ধিক্কারের মাঝেই আমরা হয়তো শিখব, আমাদের অসৎ রাজনীতিকে প্রতিহত করা। এ ধিক্কারই হয়তো একদিন আমাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখাবে। এ ধিক্কারের মাঝেই হয়তো আমরা আমাদের হারানো মানবিকতার সন্ধান খুজে পাব। এ ধিক্কারই হয়তো আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে একটি আবার সসন্মানে প্রতিষ্ঠিত করবে। যতদিন তা না হয়, ততদিন এই ধিক্কারই আমাদের প্রধান সম্বল।

তারপরেও ফিরে এসে মনে হচ্ছে এখানকার মাপা পরিশীলিত জীবনের চেয়ে দেশের অরাজকতাই অনেক বেশী সুন্দর। মনে হয় এখানকার সাজানো গোছানো রাস্তার চেয়ে ঢাকার ধুলি মলিন জ্যামই অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য। এথানকার জৌলুষে ক্যফের চেয়ে কোন প্রত্যন্ত বাজারের টং এর চা অনেক বেশী তৃপ্তিদায়ক। অনেক কিছুর প্রতিই আত্মর টান অনুভব করছি শুধুমাত্র একটি জিনিস বাদে। তা হচ্ছে আমাদের সততাহীনতা। সেটা ফিরে ফেলে অতি দরিদ্র এক জাতি হয়েও আমরা বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারতাম। আসুন, আমরা আমার সে অভিষ্ট লক্ষ্যপুরনের প্রয়াসে নিজেদেরকে আবারো ধিক্কার জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্মি এখনও ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেনা কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

“শেখ হাসিনার পতনের মূল কারণ ছিল চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভূরাজনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অভ্যন্তরে একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×