somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নয়ন বিন বাহার
তোমাদের এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দূরে! বহু দূরে! ঈগল চোখের আড়াল খুঁজে নিচ্ছি- যেখানে সমস্ত পাপী স্বীকারোক্তি দেয় তাদের আকন্ঠ পাপের। অন্তত তারা সত্যের আড়ালে পাপ করে না; পাপ নিয়ে করে না কোন মিথ্যাচার!

প্রসঙ্গ ব্লগিং

০২ রা মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধুদের কাছে বলা আছে, তোমরা যদি আমার সমালোচনা করতে না পার তবে আমরা কখনো ভাল বন্ধু হতে পারব না। সব কাজে তেলতেলে সমর্থন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

ব্লগটাকে যদি একটা সমাজ কল্পনা করা যায় তাহলে এখানের সদস্য হিসেবে আমি আশা করব একজন শাসক থাকবে, একজন আশ্রয়দাতা থাকবে, একজন লাফাঙ্গা থাকবে, একজন ভালমানুষ থাকবে। থাকবে একজন তেলবাজও।

তবে থাকবে না কোন ক্রিমিনাল। যদিও প্রতিটি সমাজ ক্রিমিনালে ভরপুর।
একটা ক্রিমিনাল একটা সমাজকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ঠ।

আমার শুরুর দিকের একটা পোস্টে চাঁদগাজী একটা কমেন্টস করেছে। কমেন্টসটা পড়ে আমার মাথা গরম হয়ে গেছিল। সাথে সাথে পাল্টা আক্রমন করার জন্য নিজেকে সমুহ প্রস্তুত করে ফেলেছিলাম।

পরে, মাথা ঠান্ডা রেখে প্রশ্ন করলাম, আপনার কোথায় আপত্তি আছে বলেন, তখন উনি বললেন। আমি দেখলাম, তাইতো। উনিতো ঠিকই বলেছেন। মাথা পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গেল।

উনাকে নিয়ে প্রবলেম হল, প্রথমে উনি আক্রমন করেন। এই আক্রমনে টেম্পার্ড না হয়ে যে কুল থেকে পাল্টা জবাব নিতে পারে, এই আক্রমন যে সামলাতে পারে হয়তো সে কিছু শিখতে পারে।

যাইহোক, অনেক পরে বুঝতে পারলাম এইরকম একজন ব্লগার অন্যদের জন্য কতটুকু পথ নির্দেশক, বিশেষ করে নতুনদের, একটু চিন্তা না করলে তা বুঝা যায় না।

আমাদের এক শিক্ষক বলেছিলেন, একজন শিক্ষিত লোক কাউকে গালি দিলেও তা হয় এরিস্টোক্র্যাট গালি। ননসেন্স, ফাউল, স্টুপিড, পাগল ছাগল, বোকা ইত্যাদি।
আর একজন মূর্খ্য লোক গালি দেয় ‘চ’-বর্গীয় বর্ণমালা নিয়ে গঠিত শব্দযোগে।

একজন বক্তার সাথে অন্যরা একমত নাও হতে পারে। অবশ্যই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। এখন একজন বক্তা যদি মনে করেন তাকে নেতিবাচক মন্তব্য করা যাবে না, তাহলে আমি বলব, বক্তা শিক্ষিত হতে পারেন তবে চিন্তাহীন। সেই মূর্খ্য যে চিন্তাহীন।

দ্বিমত পোষণ করে তর্কের মূর্চনা সৃষ্টি করতে হবে। তবে সেখানে থাকতে হবে যুক্তি। আবেগ বা বিশ্বাস নয়। যা কিছু যৌক্তিক তাই টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে।

আমার মনে হয় ব্লগে তেল যুগ চলছে। হয়তো পড়ছে ঠিকই, অনেকেই কমেন্টস করছে না। যারা করছে তারাও তেল মেরে কমেন্টস করছে। সমালোচনা হচ্ছে না।

সবাই দায়সারা গোছের কমেন্টস করছে। এটা একজন লেখকের জন্য খুবই খারাপ। সে বুঝছে না কোথায় কোথায় তার ল্যাক আছে।

তবে ব্যতিক্রম আছেন দুয়েকজন। আমি বলতে চাচ্ছি সমালোচনার কালচার তৈরী হচ্ছে না।

আমরা সাধারণত সমালোচনা করতে গিয়ে হয় নিন্দা করি না হয় গীবত করি। সমালোচন আর হয়ে উঠে না।

চাঁদগাজী ব্লগারদের যে পরীক্ষা নিচ্ছেন তার গুরুত্ব অনেক ব্লগারই পজিটিভলি নিতে পারছে না। তাছাড়া চাঁদগাজীর মত আর কাউকেই দেখছি না।

অনেক সময় দেখা যায়, একই বিষয় বা ভাবের দুইটা পোস্টে একই রকম মন্তব্য যুতসই হয় না। তাই আমার মনে হয় মন্তব্যকারীর ্ঐ মন্তব্য নিয়ে শুধুমাত্র ঐ পোস্টেই আলোচনা, তর্ক হতে পারে। এর বাইরে গিয়ে আলোচনা হলে বিষয়টা প্রাসঙ্গিকতা হারায়।

পোস্টের কোন মন্তব্যে যদি ব্যক্তি আক্রমন হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এ নিয়ে বিচার বসতে পারে। আর যদি মন্তব্য হয়,‘আপনার পোস্ট হয়নি, কি লিখেছেন ছাই-পাস!’ এই টাইপের, তবে পোস্ট দাতা টং করে রেগে যাবার কি আছে?

আপনার পোস্ট হয়নি এটা যদি কেউ বলে তবে আপনি নিজেকে চূড়ান্ত অপমানিত ভাবার কোন কারণ আছে কি?
পাল্টা প্রশ্ন করুন, কেন হয়নি?

এটাকে নতুন একটা দৃষ্টিকোণ হিসেবে নেয়া যায়।

আমার ব্যক্তিগত মত হল, কিভাবে কমেন্টস করতে হয় এবং প্রতিউত্তর দিতে হয় তা শিখতে হলে চাঁদগাজীর পোস্টের মন্তব্য অবশ্যই পড়তে হবে।

শুভ ব্লগিং।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭
১৮টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

×