somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজাইরা গল্পঃ লাভ রিঅ্যাক্ট

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি : যুগান্তরের সৌজন্যে

সেই এক বিতিকিচ্ছিরি কাণ্ড। রতিন তার কাজের মেয়ের ফেসবুক পোস্টে রিঅ্যাক্ট করেছেন! তাও আবার লাভ রিঅ্যাক্ট। লোক হিসাবে খারাপ নন রতিন। কারো দিকে চোখ তুলে তাকান না। অফিসের কাজ করেন! ফাঁকে তালে একটু ফেসবুক চালান। এখানেও তিনি দক্ষ নন।

বয়স তাঁর পঁয়তাল্লিশের কোটায়। নিজেকে অনেকটা বুড়োই মনে করেন। বুড়োই বটে। ৪৫ বছরের মানুষ তো আর জোয়ান হবে না! এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভিমরতি টাইপ কিছু তিনি করছেন বলে মনে পড়ে না।

বাসায় ফেরার পর থেকে বেচারা বেশ মন খারাপ করে আছেন। কাজটি তাঁর করা ঠিক হয়নি। বা করেছেন বেকুবি বশত--- এতেই তাঁর লজ্জার শেষ নেই। তার উপর তার বউ---

কাজের মেয়ে রনিতা ফেসবুক আইডি খুলেছে; এটা তিনি জানতেন না। তার উপর তাঁকে মেয়েটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন, এটাও তাঁর ভাবনায় আসেনি। সে যা-ই হোক রনিতা সাহস করে রতিনকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলো। সেও আর খেয়াল করেনি; স্যার যে তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সসেপ্ট করেছে! লাভ রিঅ্যাক্ট পাবার পর, তার খেয়াল হলো স্যার তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছে!

রতিন নিজের উপর বেশ বিরক্ত। তাঁর দরকার ছিল প্রোফাইল চেক করে তারপর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করা । সেটি তিনি করেননি। কেন করেননি; এর কোন ব্যাখ্যা নেই। একসেপ্ট করেছেন, তাও না হয় হলো। রিঅ্যাক্ট কেন দিলেন! তিনি কি রনিতাকে চেনেননি! হতে পারে---

অফিস শেষ করে বাসায় আসার পর রনিতার সাথে দেখা হলে সে খালি হাসে... রতিন বুঝতে পারেন না। মেয়েটা হাসে কেন! বয়স একেবারে কম বলা যাবে না। ২৪/২৫ তো হবে। বিয়ে একবার হয়েছে। তারপর ছাড়াছাড়ি। স্বামীর সাথে ঝগড়া করে বাড়ির বাইরে। বিয়ে করেনি, আরেকবার। সংস্কার নাকি ইচ্ছে হয়নি; সেটি তিনি জানতে চাননি।

রতিনের বউ মেয়েটাকে খোঁজ করে এনেছে। বউ অবশ্য এখনো ব্যাপারটা জানে না। কাজের মেয়ের পোস্টে লাভ রিঅ্যাক্ট! হলে যে কি হবে, তা নিয়েই তিনি অস্থির এবং এটা মনে করে ঘেমে যাচ্ছেন।

একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ রতিন। যেটাকে সাহিত্যে রাশভারি বলে। সে রকমই। মানুষের সাথে মেশে কম। নিজের কাজ কারবার নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এর বাইরে তার ভিন্ন কোন জগত নেই।

রনিতা লাল আটার রুটি আর একটা ডিম পোচ দিয়ে লাজুক হেসে চলে যায়। মেয়েটির আচরণ তার কাছে কেমন যেনো ঠেকে। অফিসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই মুড খারাপ করেননি।

বাইরে একটু বৃষ্টি। রনিতা আজকে একটু খাতির করে ছাতা এগিয়ে দেয়। অন্যদিন খালু বললেও আজকে বলে স্যার! কেমন রহস্যময়। নিজেকে প্রশ্ন করতে করতে তিনি বাসা থেকে বের হন!

ফেসবুকে একটু ঢুঁ মারেন। আনমনে আবারো সেই রনিতার একাউন্টে! এমন কেন হচ্ছে। যদিও রতিনের স্পষ্ট হয়নি এটা তার কাজের মেয়ের একাউন্ট!

মেয়েটা বড্ড ফাজিল। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা। আরেকটু হলে ফরশা বলা যেতো। দেখেতেও খারাপ না। সকালে ডিম পোচ দেবার সময় একবার মেয়েটার দিকে চোখ পড়েছিল তাঁর। সাধারণত এমন হয়না। তবুও আজকে কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারেনি। পরে চোখ নামিয়ে নাশতা করেছেন তিনি।

ফেসবুক আইডি খুলে রনিতা তার অনেকগুলো ছবি আপলোড করেছে। ক'মাসের জমানো টাকা থেকে সে একটা স্মার্টফোন কিনেছে! বেশ ফরশা টাইপ ছবি উঠে। আরো বেশি গোছানো লাগছে। কারণ রতিনের বউ তাকে এক বিকালে সাজিয়ে দিয়েছে। ছবিও তুলে দিয়েছে। সেই ছবি আপ করেছে রনিতা। দেখে মনে হবে মধ্যবিত্ত ঘরের গৃহিণী। দেখে ভালো লাগে রতিনের। দেয় একটা রিঅ্যাক্ট! এটাই গল্প!

রতিনের ঘোর কাটে না। মেয়েটা কেন তাকে স্যার বলে? আচরণ কেমন যেনো! বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে কিনা বুঝতে পারে না! শেষতক ছুটির সকালে সে তাকে চা দিতে এলে জিজ্ঞেস করে; তুই হাসিস কেন! মেয়েটা আরো বেশি করে হাসে----! উত্তর দেয় না। বলে স্যার ফেসবুকে আপনি আমার ফ্রেন্ড!

রতিন কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে তার বউ উপস্থিত! ...বেশ রঙ্গ হচ্ছে! বুড়ো বয়সে ভিমরতি! আমার মরে যাওয়া উচিত! বলে নিজের মনে গজ গজ করেন আনিতা-- শেষ পর্যন্ত কাজের মেয়ের সাথে রঙ তামাশা!! রতিন ঘটনার আকস্মকিতায় ভড়কে যায়! ব্যাখ্যা করতে পারে না। বা ঠিক কি ব্যাখ্যা করবে বুঝে উঠতে পারে না। কেবল নিজের মনে মনে বলে ধূর ছাই! ফেসবুক আর চালাবো না!!

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নাইজেরিয়ায় ধর্ষকদের পুরষ্কার স্বরূপ খোজাকরণ, শিশু ধর্ষণকারীদের মৃত্যুদন্ডের বিধান; আপনি কি একে নিছকই নির্মমতা বলবেন? আমাদের দেশের ধর্ষকবৃন্দকে এমন পুরষ্কার দেয়ার পক্ষে আওয়াজ তুলুন!!!!

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:১৫

ছবি: অন্তর্জাল।

নাইজেরিয়ায় ধর্ষকদের পুরষ্কার স্বরূপ খোজাকরণ, শিশু ধর্ষণকারীদের মৃত্যুদন্ডের বিধান; আপনি কি একে নিছকই নির্মমতা বলবেন? আমাদের দেশের ধর্ষকবৃন্দকে এমন পুরষ্কার দেয়ার পক্ষে আওয়াজ তুলুন!!!!

পৃথিবী জুড়েই বারবার ধর্ষণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ নিজ বাড়ীতে বাস করে, মাসে ৪/৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১



মানুষ যাতে নিজ গ্রামে, নিজ ঘরে, নিজ পরিবারে বাস করে মাসে ৪/৫ হাজার টাকা আয় করে, কিছুটা সুস্হ পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারেন, সেটার জন্য কি করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যবাদিতা দেশে দেশে

লিখেছেন মা.হাসান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৬

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাই সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সত্য বিমুখতা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন- মিথ্যার কাছে পরাভূত সত্য (একটি শিক্ষণীয় গল্প) । ঐ পোস্টের কমেন্টে কতিপয় দেশি-বিদেশি জ্ঞানীগুণী ব্লগার তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিলেকোঠার প্রেম-৯

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৩

এর ঠিক পরের দিনই কোনো এক ছুটির দিন ছিলো সেদিন। বাসাতেই ছিলাম আমরা দু'জন। সকাল থেকেই আমার ভীষন গরম গরম খিঁচুড়ি আর সেই ধোঁয়া ওঠা খিঁচুড়ির সাথে এক চামচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা ডাহুক

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৩৮



বুকের চাতালে দিনমান কিসের বাদ্যি বাজাও !
কইলজার মইধ্যে ঘাইদেয় সেই বাজন গো বাজনদার।
চোরকাঁটার মতন মাঠঘাট পার হইয়া অন্দরে সিধাও ক্যান কইতে পারো
নিজের বিছনায় ও আমার আরাম নাই।

হইলদা বনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×