somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হৃৎপিন্ডে ব্যথা অনুভব করছি…

১৪ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘এত তার আলো সে চলে গেলেও হয় না যে ঘর অন্ধকার,
এত তার প্রেম, সে যাবার পরেও ছড়িয়ে থাকে গন্ধ ভালোবাসার’

খুব কম ছেলেকে দেখলে আমার মনে হয়, বুক পকেটের নিচে তার একটি হৃদয় আছে। সুশান্ত সিং রাজপুতকে দেখলে আমার ঠিক এই কথাটাই প্রথম মনে হতো। ভীষণ হৃদয়বান মানুষ ছিলেন। ছিলেন! হ্যাঁ, তাঁর টুইটগুলো পড়ে আমার তাকে মানবিক, লোকহিতৈষী ব্যক্তিই মনে হতো। ধানমন্ডি ২৭ এর মীনাবাজারের উল্টোদিকে বাটার যে আউটলেট আছে ওখানে সুশান্তের খুব সুন্দর বিশাল একটা ছবি আছে। কর্মস্থলে আসতে - যেতে ছবির ছেলেটাকে আমি রোজ মনোযোগ দেখতাম। সে আর বেঁচে নেই, এই অনুভূতিটা খুব অদ্ভুত! বিষন্ন...

গত ৮৫ দিনের ঘরবন্দি জীবনে সবথেকে বেশিবার শুনেছি ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ মুভির তেরে মেরে বিচ মে ক্যায়া হে গানটা। গানের শেষ লাইনটা আমার খুব প্রিয়- তুঝে পাতা তো হে, ক্যায়া হে! অথচ আমাদের জানার মধ্যে কত ফাঁক থেকে যায়। ধোনি’র বায়োপিকে করা মুভিটিতে প্রথম নায়িকা কল করে যখন জানতে চায়, মিস করোগে মুঝে? ধোনি চরিত্রে সুশান্ত একমূহুর্তে প্রতিউত্তর দেন ‘না’। মেয়েটা দূর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পরে সুশান্ত এই ছোট্ট না টুকু বলার জন্য রিগ্রেট ফিল করেন। আর আজ আমরা সুশান্তের জন্য রিগ্রেট ফিল করছি। পিকে মুভিতে নায়িকার কাছে চেয়ে নেয়া চারকদম সময়টা এত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে কে কবে ভেবেছিল!

ভালোবেসে অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়া সুশান্ত চলে গেলেন মাত্র ৩৪বছর বয়সে। তবে সেই যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। চলচ্চিত্র তাকে তারকা খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গেলেও শারীরিক- মানসিক প্রশান্তির শীর্ষে নিতে পারেনি! বিপরীত প্রক্রিয়ায় দিন দিন ভেঙে যাচ্ছিলো ব্যক্তি সুশান্ত, যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন। রূপালি চরিত্রগুলো থেকে বেরিয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না। তাঁর টুইটগুলো বলে দেয়, নিজের ভাবনাগুলোর লাগাম ধরতে পারছিলেন না তিনি। কোনো অব্যক্ত কারণে তাঁর মন ছুটে চলছিলো দুর্বার গতিতে। মনের এই দুর্বার ছুটে চলার সঙ্গে গতি ধরে রাখতে গিয়েই কি হোঁচট খাচ্ছিলেন কোথাও কোথাও? তারকা সত্তার বিপরীতে সুশান্তের ব্যক্তিসত্তা। সত্তার টানাপড়েন নয়তো! হয়তো চেয়েছিলেন সাময়িক বিরতি, চেয়েছিলেন প্রশান্তিতে সব কিছু ভুলে থাকতে। ১৪জুন, ২০২০ অনন্তের পথে চলে গেলেন সুশান্ত। তবে তার স্টার সত্তা হয়তো স্টার সুশান্ত হয়েই আরো কিছুদিন বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে।

রূপালী জগৎ একজন তারকাকে প্রথমেই জানিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে, 'তুমি সাধারণের জন্য কিন্তু সাধারন থেকে আলাদা'। শুরু হয় তার বিচ্ছিন্নতার অভিযান। তারকারাও হয়ে যান ডানা থেকে খসে পড়া শাদা পালকের মতো। প্রকৃতি, ভালোবাসা, কাছের মানুষ অধিকন্তু সাধারণ মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও বন্দি হয়ে যায় রঙিন বাক্সে। তারকার ব্যক্তিজীবনের আড়াল থাকে না। যে আড়াল প্রয়োজন একজন ব্যক্তি-মানুষের বেঁচে থাকার জন্য। কাছের মানুষ, পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের সংগায়ন বদলে যায়। বিচ্ছিন্নতার ঘেরাটপে ডুবে যান একান্ত ব্যক্তিগত এক বলয়ে।

খ্যাতি একসময় সমাজ, পরিবার, ভালোবাসা, সময় সব কিছু কেড়ে নেয়। সাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে পড়ে যান্ত্রিক। ইচ্ছে করলেই খোলা আকাশের নিচে সাধারণের মত ধীরে হাঁটতে পারেন না; লুকিয়ে রাখতে হয় নিজেকে। শরীর-মন থেকে বিচ্ছিন্ন সত্তা গড়ে ওঠে। ফলে বিচ্ছিন্নতার একপর্যায়ে শ্রমিক যেমন তার নিজের কারখানায় আগুন দিতে দ্বিধাবোধ করে না, তেমনি তারকা ও যাপিত জীবনের দ্বন্দ্বে কূলকিনারা না পেয়ে হয়তো বিদায় জানান জগতকে, চলে যান চিরতরে। একটা সম্ভাবনাময় নক্ষত্র ঝরে গেলে বলেই তো তাকে নিয়ে এত কথা। অথচ কি আশ্চর্য দেখুন; আমি তাঁর কেউ নই, বাস্তবে দেখিনি পর্যন্ত কোনোদিন। তবু তাঁর জন্য আমি হৃৎপিন্ডে ব্যথা অনুভব করছি…
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১২:৩৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×