somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খোলা চিঠি...

১৭ ই জুন, ২০১২ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় বাবা,
কেমন আছ? দীর্ঘ ১৬ বছরের জীবনে কখনও তোমাকে চিঠি লেখা হয়নি। কারণ তোমার উপস্থিতি ও ছায়া এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে আজ পর্যন্ত অনুপস্থিতিটুকু মেনে নিতে পারিনা। দেখতে দেখতে ৮টি বছর চলে গেল। ঘুরে ফিরে আরেকটি ‘বাবা দিবস’ চলে এল,৯ম বাবাবিহীন ‘বাবা দিবস’। ভালবাসার কোন বিশেষ দিন নেই। তবু প্রকাশের জন্যে মানুষ নানা উপলক্ষ খুজে নেয়। যে চিঠি লিখব লিখব করেও এতদিন লেখা হয়নি আজ তা লিখতে বসলাম। আক্ষেপ শুধু এটুকুই! এই চিঠির কোন জবাব আসবেনা!
আমার এক বন্ধু বলেছিল,এসব ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো কি ব্লগে শেয়ার না করলে হয়না? কিন্তু আমার যে বড় ইচ্ছে করে সবার কাছে গল্প করতে,এক অসাধারণ রাজার ভাগ্যবতী রাজকন্যা আমি! বাবা,তুমি কী জান যে আমার নামের আগে এখন ‘ডাঃ’ লেগে গেছে? যখন এপ্রোন পরে গলায় স্টেথো ঝুলিয়ে হাসপাতালে ঘুরে বেড়াই তখন তোমার মেয়েকে ডাক্তার বলেই মনে হয়! তোমার ফাঁকিবাজ মেয়েটি এখন একজন সিরিয়াস ইন্টার্ন ডাক্তার! তখন নাহয় তোমার ব্লাড প্রেশার,ব্লাড সুগার পরিমাপ করতে পারতাম না। তাই বলে এভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলে? এখনতো সব পারি! একবারও তোমার মেয়ের পরীক্ষা নিতে চাইলেনা? এতটাই অযোগ্য মনে হল তোমার আমাকে?
৩দিন আগে গ্রামে গিয়েছিলাম। তোমার সেই স্কুলে অনেকক্ষণ সময় কাটালাম। ৩৫০জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করলাম। তুমি থাকলে তাই করতে না বাবা? প্রতিটি ক্লাসে ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম তোমার পরিশ্রমের ফল। বাবা একটা ব্যাপার কি জান যখন আমার পরিচয় দেয়া হচ্ছিল সবার কাছে তখন একজন ডাক্তারের চেয়ে তোমার মেয়ে হিসেবে পরিচয় পেতেই বেশি ভাল লাগছিল। আজ এতদূর এসেও আমি বুঝতে পারি,বাবা,তোমার বিশালত্বের কাছে আমি খুবই নগন্য। সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়,আমি তোমার মেয়ে!
স্কুলের অনুষ্ঠানে “আয় খুকু আয়” গানটি গেয়ে সবার চোখে পানি এনেছিলাম। গানটা আজ আমাকে কাঁদায় বারবার! তুমি না কথা দিয়েছিলে এস.এস.সিতে এ+ পেলে আমাকে নিয়ে কাঠমান্ডু ঘুরে আসবে। ডাক্তার হলে কী আমাকে ইউরোপে ট্রিপ দিতে? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে! অনেককিছুই পাওনা রয়ে গেল যে! আমিতো কথা রেখেছি,তুমি কেন রাখলেনা? এমন শূন্যস্থান কেন তৈরি করে গেলে যা ভরাট করার ক্ষমতা কারো নেই! মা ভীষণ একা হয়ে গেছে। মুখে কিছু না বললেও তার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস আমি টের পাই। তোমাদের কোনদিন কিছুই দিতে পারিনি। মুখ ফুটে বলতেও পারিনি কতটা ভালবাসি। আজ এই আনন্দের জোয়ারে তোমার শূন্যতাটা বড় চোখে পড়ে! ১০ বছর আগে রোটারী ক্লাবের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে সবাই জানতে চেয়েছিল,দেখতে চেয়েছিল আমার বাবাকে। সেদিন তোমার চোখে যে আনন্দ দেখেছিলাম আজ তা বড় দেখতে ইচ্ছে হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তোমাকে ভীষণ মিস করি বাবা। কারণ আমি জানি তোমার চেয়ে মুগ্ধ শ্রোতা আমার আর কেউ হবেনা। কেউ লাইব্রেরী ঘুরে ঘুরে আমার জন্যে সেরা বইটি খুঁজে আনবেনা। কেউ পত্রিকায় প্রকাশিত কোন ভাল প্রবন্ধ কেটে আমার জন্যে নিয়ে আসবেনা। কেউ তোমার মত নয়,কেউ তোমার মত হবেনা। পৃথিবীর সবটুকু ভালবাসা তোমার মধ্যেই সঞ্চিত ছিল তাই আজ চারপাশের ভালবাসাহীন পৃথিবীটা বড় রুক্ষ মনে হয়!
আজ তোমার সেই ছোট মেয়েটা অনেক বড় হয়ে গেছে। একা একা চলতে শিখে গেছে। এখন সে ব্যালকনীতে বসে দূরের তারাটি দেখে আর কাঁদেনা। কারণ সে আজ বিশ্বাস করে,তার বাবা সবসময় তার পাশে আছে বলেই সে আজ এত আত্মবিশ্বাসী। যে স্বপ্নের বীজ তুমি তার মধ্যে বুনে গিয়েছিলে তা নষ্ট হয়ে যায়নি,বরং সেই স্বপ্ন আজ ডালপালা মেলেছে। তুমি পাশে না থাকলে তা বুঝি হতে পারত? এমন ভাগ্য নিয়ে কয়টা মানুষ পৃথিবীতে এসেছে! অনেককিছুই লেখার ছিল কিন্তু চিঠিটা লিখতে গিয়ে কিভাবে যে এত এলোমেলো হয়ে গেলাম তা বুঝতেও পারলাম না। চিঠির শেষে শুধু এটুকুই বলব,ভাল থেকো বাবা,খুব ভাল।
ইতি,
তোমার মামণি
(তুমিতো কখনও আমাকে নাম ধরে ডাকনি)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১২ রাত ১১:৩৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×