somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিন্সেস ইলাবতী উপাখ্যান ...

১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইহা একটি চিরাচরিত রাজা রানীর রুপকথার গল্প, কারো সাথে মিলে গেলে সেটা হবে কাকতালমাত্র, এইজন্যে লেখককে কোনভাবেই দায়ী করা যাইবে না...


রানী ইলাবতীর আগেকার সুখের জীবন আর রহিল না। ইচ্ছেমত ঘুম হইতে উঠা, প্রাতঃভ্রমনে সখাদের সহিত ইতঃস্তত ভ্রমন, রাজপুত্র, কোটালপুত্র, মন্ত্রীপুত্রদিগের সহিত কবুতরের মাধ্যমে পত্র বিনিময়, এইসব নতুন রাজা সহ্য করিবে না বলিয়া প্রজ্ঞাপন জারি হইয়াছে। নতুন রাজার বিষয়টা এইবারে একটু খোলাসা করিতে হয়।

সোমনগর রাজ্যের রাজার দুই কন্যা, ইলাবতী আর কলাবতী। ইলাবতীর রুপে মুগ্ধ হইয়া পার্শ্বদেশের আরেক রাজন ইলাবতীর পানিপ্রার্থী হইবার জন্যে আগ্রহ জ্ঞাপন করিয়াছেন। কিন্তু ইলাবতী এহেন অস্থিতিশীল রাজনকে মানিয়া লইতে নারাজ বিধায় রাজা আক্রমন করিয়া সবাইকে বন্দী করিয়া ইলাবতীকে জোরপুর্বক বিবাহের সিদ্ধান্ত লইয়াছেন। বিবাহের দিন ধার্য হইয়াছে। আসন্ন কোজাগরী পুর্নিমার দুইদিন বাদে ইলাবতীর বিবাহ। যেদিন এর কথা কহিতেছি সেই দিন ছিল কোজাগরী পুর্নিমা। ইলাবতী অনেক কষ্ট পাইয়া ভাবিল, এই অস্থিতিশীল রাজনের সাথে বিবাহের পুর্বে সখীগনের সহিত একবার জলকেলী করিতে পারিলে মন্দ হইত না। ঘড়া ভর্তি করিয়া আড়ং দুধ, মধু, কাচাহলুদ, চন্দন, বসরাই গুলাব, মসলিন আসিল। মসলিন দেখিয়া ইলাবতীর কিঞ্চিত শরম লাগিতে লাগিল, এই পরিধেয় কিভাবে পরিধান করিবে ইলাবতী।

সে যাই হোক, সেই মস্ত দীঘির তলদেশে ছিল কুমির রাজার বসবাস। কুমির রাজা বহুকাল পুর্বে এই রাজ্যের ই রাজা ছিলেন, কোন এক মুনির অভিশাপে অদ্য রাজা কুমির । সেই কুমির রাজ্যের রাজপুত্র সত্যবিক্রম অনিন্দ্যকান্তি পুরুষ, স্তিতিশীল পুরুষ। কিন্তু সমস্যা একটাই, ইহার নিম্নদেশ কুমিরের। স্থিতিশীল হইয়াও কাহারো সহিত কোনরুপ কর্ম সম্পাদন করিতে পারিতেছে না এইটা নিয়া রাজপুত্রের মনে বেজায় কষ্ট, মনের দুঃখে সত্যবিক্রমকে হরহামেশাই দিঘীর জলে সাতার কাটিতে দেখা যায়। আমাদের ইলাবতী যখন মসলিন পরিধান করিয়া জলকেলী করিতে উদ্যত তখনই সত্যবিক্রম ইলাবতীকে দেখে। চন্দ্রের আলো যখন ইলাবতীর অঙ্গে পরিয়া চকচক করতেছিল তখন সত্যবিক্রম ভাবিয়াছিল, ইহা একটি ইলিশ মাছ। সে আনন্দ সহকারে অগ্রসর হইয়া বিস্ফোরিত নেত্রে দেখিল, আরে, ইহা যে মনুষ্যনারী। মনুষ্যনারীর অনেককিছুতেই সত্যবিক্রম বিস্মিত হইল এবং প্রেমযমুনায় পতিত হইল। আরো ভালো করিয়া ইলাবতীকে অবলোকনের উদ্দেশ্যে সত্যবিক্রম সহসা স্বপিঠে ইলাবতীকে লইয়া এক দৌড়ে আপনকক্ষে প্রবেশ করিল। ইলাবতী এতক্ষনে কিছু ঠাহর করিবার অবস্থানে আসিল।

একি! উনি কে! উনি কি স্বর্গের দেবতা? এত স্থিতিশীল পুরুষ এতকাল কোথায় ছিল? ক্বিয়দক্ষন ভালোভাবে নিরিক্ষা করিতেই ইলাবতী বুঝিল ইহার নিম্নদেশ কুমিরের। দেখিয়া ইলাবতী কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়িল, নিম্নদেশ না থাকিলে কেমনে কি হইবে? ইলাবতী ক্রন্দনের হেতু বুঝিতে পারিয়া সত্যবিক্রম ইলাবতীর মসলিন হইতে নেত্র সরাইয়া বলিল, “কন্যা, ইহা কোন সমস্যা নহে, সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ে মুনি আছেন, ঊনার কাছে তোমার এই মসলিন নিয়া যাইতে পারিলেই আমি পুনরায় পরিপুর্ন পুরুষ হইয়া উঠিব।” শুনিয়া এইবার ইলাবতীর নেত্র আনন্দ অশ্রুতে পরিপুর্ন হইল, সে আনন্দ সহকারে মসলিন বিসর্জন দিল। সত্যবিক্রম জীবনে এই প্রথম একটা মিথ্যা কথা বলিল, মুনি মসলিন নিয়া যাইতে বলেন নাই, খালি হাতে গেলেও হইত।

এর পরের কাহিনী সরল, সত্যবিক্রম মুনিদর্শন করিয়া পুর্নাঙ্গ স্থিতিশীল পুরুষ হিসাবে আবির্ভুত হইয়া ইলাবতীকে বগলদাবা করিয়া অত্যাচারী অস্থিতিশীল রাজার নিকট যাইয়া একখান হুঙ্কার দিয়া বলিল, "দূরে যায়া মর!"। অস্থিতিশীল কিছু স্থিতিশীল এর নিকট কখনও টিকিতে পারিয়াছে বলিয়া আপনারা শুনিয়াছেন কখনো?

অতঃপর উহারা সুখে শান্তিতে দিন গুজরান করিতে লাগিল। (Happily ever after)

পরবর্তী উপাখ্যানঃ প্রিন্সেস কলাবতী উপাখ্যান।
৫১টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×