somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগার নীল আকাশের বই - ''ন-মানুষ''

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বইয়ের নাম ন-মানুষ । বইটার লেখক আমাদের একজন সহব্লগার । ব্লগারদের বই পড়তে আমি সব সময়ই পছন্দ করি । কাছের মানুষদের বই মনে হয় । বইমেলা থেকে সব সময় ব্লগারদের বই সংগ্রহ করতে চেষ্টা করি । বইমেলা শুরু হয়েছে । এবারও সহ ব্লগারদের কিছু বই বের হয়েছে । এই বইটা আমার ২০২২ সালেই পড়া হয়েছে । তখনই লিখেছিলাম বইটা নিয়ে । তবে সামুতে প্রকাশ করা হয় নি। বইমেলা যেহেতু শুরু হয়েছে তাই বইটা নিয়ে পোস্ট করা যায় এখন ।

গল্পের শুরু হয় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে । প্রথমে মনে হবে যেন আলাদা আলাদা কোন ঘটনা ঘটেই চলেছে । একটার সাথে অন্যটার কোন সম্পর্ক নেই মনে হবে। তবে গল্পের কাহিনী যত এগিয়ে যাচ্ছিলো ততই আস্তে আস্তে সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলো একে অন্যের সাথে সম্পর্ক খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো ।

গল্পের শুরু হয় শীতলক্ষ্যাতে একটা মেয়ের মৃত মেয়ের লাশ ভেসে ওঠে । মেয়েটি কে, কোথা থেকে এসেছে আর কিভাবে মারা গেল প্রথমে জানা গেল না । থানার সেকেন্ড মারুফ সাহেবের জীবনে লাশটি নিয়ে এল এক অন্য রকম সমস্যা । তার ঘুম ছুটে গেল একদম । এমনই অবস্থা হল যে তাকে মানসিক অশান্তি দুর করতে মানসিক ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হল । অন্য দিকে সাজিদের জীবন থেকে হঠাৎ করেই সোমা হারিয়ে গেল । একেবারে হাওয়া হয়ে গেল মেয়েটা । এমন ভাবে একটা মেয়ে কিভাবে হারিয়ে যায় । অনেক চেষ্টা করেও সাজিদ সোমার কোন খোজ খবর বের করতে পারলো না । তবে এক সময়ে সোমা আবারও ফিরে এল তার জীবনে । তবে এমন ভাবে ফিরে এল যেটা সাজিদ কোন ভাবে আশা করে নি ।

সুখের সংসার ছিল ফিরোজ আর ফাহরীন । তারপর তাদের মাঝে কি হল যে ফাহরীন মডেল হতে উঠে পড়ে লাগলো । এবং এক সময়ে ফিরোকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেল । এমন কি তাদের ভালোবাসার ফসল একমাত্র ছেলে ফাহমিও মেয়েটিকে আটকে রাখতে পারলো না ।

আরেকদিকে এএসপি শুভর থানায় এসে হাজির হল এক কেস যেখানে বিদেশ ফেরৎ এক স্বামী তার বউকে মারধোর করেছে । কিন্তু থানায় এনে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হল তখন জানা শুভ আর রাকিবের মনে হল যে এই কাহিনীর পেছনে আরও অন্য কাহিনী রয়েছে ।

আবার একটা ফ্লাট থেকে পাওয়া গেল একটা ছেলের মৃত দেহ । সেই মৃত দেহের খোজ খবর করতে গিয়ে উপরের একটা ঘটনার সাথে সংযোগ পাওয়া গেল । এরপর যতই কাহিনী এগিয়ে যেতে লাগলো ততই দেখা গেল উপরের ছোট ছোট আলাদা কাহিনী গুলো একে অন্যের সাথে সম্পর্ক যুক্ত । এক সময়ে সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলো যুক্ত হয়ে এক সাথে ।

গল্পের কাহিনী আপাতত এই পর্যন্ত । এর বেশি আর কিছু না বলি । এবার বলি যে বইটা পড়ে আামর কেমন লেগেছে । সত্যিই কথা বলতে যে বই পড়ে আমি একেবারে আবিভূত হয় নি । তবে বই পড়ে আমি বিরক্তও হই নি । বরং বলা যায় বইটা যত সময় পড়েছি খুব দ্রুত পড়তে পেরেছি । এটা বইয়ের ভাল দিক । পাঠক আশা করি বই পড়তে পড়তে বিরক্ত হবেন না । বরং দ্রুত পড়ে শেষ করতে পারবে । লেখক বইতে সমাজের একটা নগ্ন দিক কঠিন ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন । সমাজের চাকচিক্যের আড়ালে একটা ভয়ংকর দিক যে আছে আমরা কজন সেটা জানি । পড়তে আমার বারবার মনে হচ্ছিলো যে আসলেই কি একম কি হয় বাস্তবে !

এই বইয়ের সব থেকেে ভাল দিক আমার কাছে মনে হয়েছে গল্পের ফ্লো । কাহিনী প্রথম দিকে একটু এলোমেলো মনে হবে । কারণ লেখক সেখানে প্রথমে প্লট তৈরি করছেন আস্তে ধীরে । তারপর যখনই ঘটনা গুলোর একটার সাথে অন্যটা যুক্ত হতে থাকবে তখন কাহিনী এগিয়ে যাবে দ্রুত । এই ব্যাপারটা আমার সব সময় পছন্দ । বই পড়তে পড়তে যদি ঝিমিয়ে যেতে হয় সেই বই আমার ভাল লাগে না । সেদিক থেকে এই বইটা চমৎকার । তবে গল্পের শেষটা নিয়ে একটু যেন দ্বিধায় ছিলাম । একবার মনে হচ্ছে শেষ যেন এইভাবে হবে আবার মনে হচ্ছিলো যে এইভাবে হবে না । অন্য শেষ হবে । দুই প্রেডিক্টের একভাবে শেষ হয়েছে । তবে একেবারে শেষ ঘটনাটা লেখকে না দিলেও হয়তো পারতেন । যদিও এটা একান্তই আমার নিজেস্ব মতামত !

বইয়ের খারাপ দিক হচ্ছে বানানে । আমার নিজের বানান ভুল যায় প্রচুর । এই লেখার ভেতরেও বানান ভুল আছে নিশ্চয়ই । তাই আমার অন্যয়ের বানান ভুল ধরা সাজে না । তবে একটা ভাল বইয়ের অন্যতম একটা ভাল হল নির্ভুল বানান । এই ব্যাপারে লেখকে আরও মনযোগী হতে পরামর্শ দেব । বিশেষ করে পড়ি আর পরি বানানের স্পষ্ট ঝামেলা আছে । পরের সংস্করণে অবশ্যই আরও ভাল প্রুফ চেক করতে অনুরোধ করবো । এতে বইয়ের মান আরও বেড়ে যাবে।

বইয়ের পৃষ্ঠার মান চমৎকার । মূল্যের হিসাবে চমৎকার পৃষ্ঠা দেওয়া হয়েছে । বাঁধাই মজবুত ।

সব শেষে বইয়ের জন্য শুভ কামনা রইলো । আপনারা চাইলে বইটা পড়ে দেখতে পারেন । এক বৈঠকেই পড়ে শেষ করে ফেলতে পারবেন আশা করি । মেলা থেকে সংগ্রহ করতে পারেন । এবারের মেলাতে লেখকের আরও একটা বই আসছে বলে শুনেছি । সেটাও সংগ্রহ করার চেষ্টা করবো ।

বইয়ের নাম ন-মানুষ
লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ যুনাইদ
শব্দশিল্প থেকে প্রকাশিত
মোট পৃষ্ঠা ১৭৫



পোস্ট পূর্বে নিজেস্ব ব্লগ সাইটে প্রকাশিত
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৪৬
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাইকা লেন্সে তোলা ক’টি ছবি

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১১:৩০




ঢাকার বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ট্রেন ঢোকার সময়, ক্রসিংয়ে তোলা। ফ্ল্যাস ছাড়া তোলায় ছবিটি ঠিক স্থির আসেনি। ব্লার আছে। অবশ্য এরও একরকম আবেদন আছে।




এটাও রেল ক্রসিংয়ে তোলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কার গল্প জানেন ও কার গল্প শুনতে চান?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৭ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:৩১



গতকাল সন্ধ্যায়, আমরা কিছু বাংগালী ঈদের বিকালে একসাথে বসে গল্পগুজব করছিলাম, সাথে খাওয়াদাওয়া চলছিলো; শুরুতে আলোচনা চলছিলো বাইডেন ও ট্রাম্পের পোল পজিশন নিয়ে ও ডিবেইট নিয়ে; আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবাকে আমার পড়ে মনে!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৭ ই জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫২

বাবাকে আমার পড়ে মনে
ঈদের রাতে ঈদের দিনে
কেনা কাটায় চলার পথে
ঈদগাহে প্রার্থনায় ..
বাবা হীন পৃথিবী আমার
নিষ্ঠুর যে লাগে প্রাণে।
কেন চলে গেলো বাবা
কোথায় যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×