somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বান্দরবান ভ্রমণ – “স্বর্ণ মন্দির”

১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বান্দরবান ভ্রমণ – “স্বর্ণ মন্দির”


২৫ জানুয়ারি রওনা হয়ে ২৬ তারিখ সকালে পৌছাই খাগড়াছড়ি। একটি মাহেন্দ্রা গাড়ি রিজার্ভ করে নিয়ে সারা দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ি খাগড়াছড়ি ভ্রমণে। একে একে দেখে ফেলি “আলুটিলা গুহা”, “রিছাং ঝর্ণা”, “শতবর্ষী বটবৃক্ষ” আর “ঝুলন্ত সেতু”।
পরদিন ২৭ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটির দিকে রওনা হই একটি চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে। পথে থেমে দেখে নিই “অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহার”। ২৭ তারিখ দুপুরের পরে পৌছাই রাঙ্গামাটি। বিকেল আর সন্ধ্যাটা কাটে বোটে করে কাপ্তাই লেক দিয়ে “সুভলং ঝর্ণা” ঘুরে।
২৮ তারিখ সকাল থেকে একে একে দেখে এলাম ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি ও রাজবন বিহার। দুপুরের পরে বাসে করে রওনা হয়ে যাই রাঙ্গামাটি থেকে বান্দারবানের উদ্দেশ্যে। রাতটা কাটে বান্দরবানের “হোটেল ফোরস্টারে”।
পরদিন ২৯ তারিখ সকালে একটি জিপ ভাড়া করে নিয়ে চলে যাই নীলগিরিতে। নীলগিরি থেকে ফেরার পথে দেখে নিলাম শৈলপ্রপাত। বিকেলটা কাটিয়ে দিলাম নীলাচলে সূর্যাস্ত দেখে।
৩০শে জানুয়ারি সকালের নাস্তা চলে গেলাম মেঘলাতে। মেঘলা ঘুরে সেখান থেকে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে বেরিয়ে পরি স্বর্ণ মন্দির দেখতে।


বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটার কাছে পুলপাড়া নামক স্থানে স্বর্ণ মন্দিরের অবস্থান। স্বর্ণ মন্দির বলা হলেও এর আসল নাম মহাসুখ মন্দির। মহাসুখ মন্দির তার সোনালি রঙের জন্য "স্বর্ণ মন্দির" নামে বেশি পরিচিত। তাছাড়া একে স্বর্ণ মন্দিরের পাশাপাশি স্বর্ণ জাদি মন্দির, বুদ্ধ ধাতু চেতী ইত্যাদি নামেও ডাক হয়। মন্দির বললেও এটি আসলে বৌদ্ধদের প্যাগোডা। এটি বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান।

গৌতম বুদ্ধের সম-সাময়িক কালে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মূর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। এই প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা গুলোর একটি। এই মন্দিরের কাছেই রয়েছে দেবতা পুকুর নামে একটি পুকুর, যদিও এই পুকুরটি আমি দেখিনি একবারও।

স্বর্ণ মন্দিরের পথ আমাদের খুবই পরিচিত, বালাঘাটার তুলা উন্নয়ন বোডের ডাকবাংলোতে এর আগে আমরা থেকে গেছি বেশ কয়েক রাত। তাছাড়া বেশ কয়েকবার গিয়েছিও স্বর্ণ মন্দিরেও।


টিলার উপরে স্বর্ণ মন্দির


মন্দিরের আগেই ঢালু হয়ে রাস্তা নেমে গেছে ছোট্ট একটা ছড়ার উপর দিয়ে, তারপরেই বাম দিকে বাক নিয়ে উঠে গেছে মন্দিরে।



মন্দিরটি একটি মাঝারি উচ্চতার পাহারের উপরে তৈরি করা হয়েছে বলে কিছুটা চড়াই পথ বেয়ে উঠতে হয়। এর পরেই আছে অনেকগুলি সিঁড়ি, সিঁড়ি শেষেই শুরু হয়েছে মন্দিরের সীমানা।


সিঁড়ে সাইয়ারা, মনে হয় ১৮০টির মত সিঁড়ি রয়েছে এখানে।


মন্দিরের শেষ অংশের সিঁড়ি।


১০টাকা টিকেট কেটে প্রথমেই আপনার হাতের বাম দিকে পরবে এই মিউজিয়ামের মত অংশটি।


এখানে ১০ টাকার টিকেট কেটে মন্দির প্রাঙ্গণে যেতে হয়, শর্ট প্যান্ট পরে মন্দিরে ঢুকা নিষেধ, জুতা খুলে ঢুকতে হয়। মূল মন্দির চত্বরে আছে কারুকাজ করা সুন্দর তোড়ন, তার দুপাশে দুটি মূর্তি।


মূল তোড়ন


তোড়নের বাম পাশে বসা এই মহাশয়।



তোড়নের ডান পাশে বসা এই মহাশয়।

মন্দিরের বাইরের অংশে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠে ১২টি দেশের শৈলীতে ১২টি দন্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। মন্দির দণ্ডায়মান আছে গরুড় স্তম্ব ও একটি বিশাল ঘণ্টা। মন্দিরটি পাহারের চূড়ায় হওয়ায় এর উপর থেকে চারিধারের প্রাকৃতিক মনোরম শোভা উপভোগ করা যায়।





এমন ১২টি দন্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি আছে।


মূল মন্দিরের সামনে সাইয়ারা।


গরুড় স্তম্ব, মূলত একটি পতাকা দন্ড।


মন্দিরের ঘন্টার সামনে সাইয়ারা।


ঘন্টা










আপনি যদি এই স্বর্ণ মন্দির দেখতে যান তাহলে অবশ্যই সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেতে ১১.৩০ মিনিটের মধ্যে যাবেন, আর যদি সকালে যেতে না চান তাহলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনটি থেকে বিকেল ৬টার মধ্যে যেতে পারেন। অন্য সময় আপনাকে মন্দিরে ঢুকতে দেয়া হবে না।



মন্দির দেখা শেষে আমরা আবার ঘুর পথে (দেবতা পুকুর যেদিকে) নেমে আসি। এই পথে নামার সুবিধা হচ্ছে এটায় কোন সিঁড়ি নেই। মূলত এই পথটা ধরে গাড়িগুলি একে বারে মন্দিরের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। মন্দির থেকে নেমে আমরা এবার চললাম সাঙ্গু নদের দিকে........


পূর্বের পর্বগুলি -
খাগড়াছড়ির পথে”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – প্রথম পর্ব”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – আলুটিলা গুহা”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – রিছাং ঝর্ণা”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – শতবর্ষী বটবৃক্ষ”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – ঝুলন্ত সেতু”।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ – অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহার”।
রাঙ্গামাটি ভ্রমণ – সুভলং ঝর্ণা ও কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার”।
রাঙ্গামাটি ভ্রমণ – ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি ও রাজবন বিহার”।
বান্দরবান ভ্রমণ – নীলগিরি”।
বান্দরবান ভ্রমণ – শৈলপ্রপাত”।
বান্দরবান ভ্রমণ – মেঘলা”।


প্রথম প্রকাশ: ঝিঁঝি পোকা


এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের ঝিঁঝি পোকার বাগানে নিমন্ত্রণ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মকিম গাজী ভাই

লিখেছেন কুশন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ২:০৪



আমি এখন বাফেলো শহরে থাকি।
আমেরিকার সেরা দশ শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাফেলো। এখানে হালাল মার্কেট, হালাল রেস্তোরাঁ আর অনেক মসজিদ। এই শহরে বাঙ্গালীদের অভাব নেই। অনেক বাঙ্গালীকে লুঙ্গি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:০৫

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

“আমি ৭০ বছরের একলা মানুষ। তবে এখনো সক্ষম, নিজের সব কাজ, বাজার হাট, রান্নাবান্না ও নিজের দেখাশোনাটাও নিজেই করতে পারি। তেমন কোন রোগব্যাধিও নেই। অবসরপ্রাপ্ত, মাসিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুচরো ব্লগিং চারঃ এ চাইল্ডস লজিক

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫৮



কয়েক দিন আগে অনলাইনে দেখা একটা একটা ফানি ভিডিওর কথা মনে পড়লো । সেখানে দেখা যায় একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে জানতে চাইছে, আচ্ছা হানি, যদি আমি মোটা হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষ্টেশন ভাগাভাগি' র গল্প

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০৯


শৈশব থেকে পথ হারিয়েছি বহুবার, তবুও আশ্চর্য এক কারনে নতুন পথের সন্ধানে নামতে হয় বারংবার। খেলার সাথী বন্ধুমহল কিংবা অগ্রজ অনেকেই বেশ নির্ভার থাকেন আমার দেখানো পথে। তাদের ভাবনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিফিউজী সমস্যা ও সামুর ব্লগারদের সচেনতা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৪৫



রোহিংগাদের নিয়ে পোষ্ট লেখেননি, এই রকম কোন ব্লগার যদি সামুতে থেকে থাকেন, আপনি হাত তুলুন! রোহিংগাদের নিয়ে আমি নিজেই আনুমানিক ৫০'টার মতো পোষ্ট লিখেছি। বর্তামন বিশ্বের হিংসার রাজনীতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×