somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশ্রমের রাজহংস যুগল

১১ ই মে, ২০২৩ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের আশ্রম এর কথা আপনারা অনেকেই জানেন। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো আশ্রমে কয়েক রকমের রাজহাঁস পালবো। সমস্যা হচ্ছে গ্রামে যাদের রাজহাঁস আছে তারা কেউ বিক্রি করতে চায় না, না বড় হাঁস বিক্রি করে, না বাঁচ্চা বিক্রি করে, না ডিম বিক্রি করে। হাট থেকে কিনে আনলে সেগুলি হয় রুগনো, বড় হতে হতে মারা যায় বেশীর ভাগ। দামও নেয় খুব চড়া।



বেশ কয়েক মাস আগে হঠাত করে এক লোক ঝাঁকায় করে বেশ কিছু রাজহাঁস বিক্রি করতে নিয়ে আসে এলাকায়। মোটামুটি তরুণ রাজহাঁস। ভাবলাম এরা খামারের হলেও যথেষ্ট বড় হয়ে গেছে, নিচ্ছয়ই আশ্রমে ছেড়ে দিলে মারা যাবে না। অনেকক্ষণ দরদাম করে বেশ সুস্থ সবল দেখে ৭টি রাজহাঁস কিনলাম ৮,০০০/= (আট হাজার) টাকা দিয়ে। সেদিনই বন্ধু হিরা আর ইস্রাফীল সেগুলিকে নিয়ে চলে গেলো আশ্রমে।



পরদিন খবর এলো একটির অবস্থা খারাপ। তারপরদিন আরো একটির অবস্থা খারাপ। কোনোটি খাচ্ছে না। কোনোটা ঠিক মতো হাঁটছে না। কোনোটার পাতলা পায়খানা। একটা করে দূর্বল হয়, আর সেটিকে কেটেকুটে খাওয়ার আয়োজন করা হয়। এমন করে করে শেষ হতে হতে সবেধন মণি দু্খানি রাজহংস টিকে রইলো শুধু। বাকিরা আমারাদের ভূড়িভোজের রসনা বিলাসে লেগেছে শুধু।



টিকে যাওয়া সবেধন মণি দু্খানি রাজহংস এখনো বেশ বহাল তবিয়াতেই রয়েছে। আশ্রমে রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে পুরুষ রাজ হাঁসটি মাঝে মাঝেই অন্য সকল প্রাণীদের উপরে দাপট দেখিয়ে বেড়ায়। দূর থেকে দেখতে ভালই লাগে। দূর থেকে, কারণ সে মাঝে মাঝে আমাদের উপরেও চড়াও হয়। একদিন বন্ধু হিরার হাতে কামড়ে দিয়েছে। এক দিন হিরার মেয়ে রাহিকে তাড়া করে ফেলে দিয়েছে।



এই সিজনে রাজহংসীটি গোটা দশেক ডিম পেরেছে। হিরা ডিম গুলিকে মুরগির নিচে দিয়েছিলো তা দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর জন্য। আমি নিষেধ করেছিলাম। কারণ প্রথম বারের ডিমে বাচ্চা হওয়ার চান্স খুবই কম থাকে। পুরুষটি সবল হতে বেশ কিছুটা সময় নেই। প্রথম দিকের বিটে ডিমগুলি ফারটাইল হয়না বললেই চলে। আমার কথা না শুনে হিরা চান্স নিয়েছিলো। কোনো লাভ হয়নি। একটি ডিমও ফারটাইল হয়নি, বাচ্চা পাওয়া যায়নি। আশা করছি আগামী বার ডিম থেকে বাচ্চা পাবো।




ছবি তোলার স্থান : আশ্রম, নাগরি, কালিগঞ্জ, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খিষ্টাব্দ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০২৩ বিকাল ৪:৫৪
৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×