somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বিপন্ন জাতির আর্তনাদ: ইউনূসের শাসনে ধ্বংসের পথে বাংলাদে।

০৩ রা জুন, ২০২৫ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি বিপন্ন জাতির আর্তনাদ: ইউনূসের শাসনে ধ্বংসের পথে বাংলাদেশ
===========================================
দেশ এক নতুন "ত্রাণকর্তা" পেয়েছে, কিন্তু সেই ত্রাণকর্তা যে জাতিকে ত্রাসের মধ্যে ঠেলে দেবে, তা বুঝতে অনেকের সময় লাগেনি। ইউনূস সাহেব যখন রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেন, একদল বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত আতেল গোষ্ঠী উল্লাসে মেতেছিলেন বলেছিলেন, "বাংলাদেশ এবার জাপান-সিঙ্গাপুর হবে।" কিন্তু সময়ের চাকায় খুব দ্রুতই সেই অলীক স্বপ্নের খোলস খুলে পড়েছে।
আজ যখন দেখছি, দেশের কুখ্যাত দুর্নীতিবাজ, ধর্ষক, খুনী, চোরাকারবারী, রাজাকার এবং সন্ত্রাসীদের জেল থেকে মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে, তখন প্রশ্ন জাগে এই কি ছিল পরিবর্তন? শেখ হাসিনার উপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের খালাস দিয়ে কি আমরা স্বাধীনতার চেতনার প্রতি চরম অবমাননা করিনি?
দেশ আজ নিরাপত্তাহীনতার জ্বলন্ত চিত্র। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে শিরোনাম হয় খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি। একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড সবই ঘটছে প্রশাসনের নীরব দর্শকের ভূমিকার মাঝে। আজ পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী নিরব; কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং অনেক সময় তাদের পক্ষপাতিত্বে এসব অরাজকতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
নিরাপত্তার শূন্যতায় প্রতিটি মানুষ আতঙ্কিত
আজ সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির নেতাকর্মীরা যেখানেই আছেন, টার্গেট কিলিং চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হয় পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, নয়তো গায়েবি মামলা দিয়ে জেলে পুরে দেয়া হচ্ছে। এমনকি জেলখানা ও আদালতের মত নিরাপদ স্থানেও সরকারবিরোধী লোকদের উপর হামলা হচ্ছে। কোনো মিডিয়া স্বাধীনভাবে এসব প্রকাশ করতে পারছে না। করলেই জেল-জরিমানার ভয়।
শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই পড়াশোনার পরিবেশ। ছাত্ররা অটোপাস দাবি করছে, শিক্ষকরা নীরব কারণ রাষ্ট্র তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি করা হয়েছে চরম হতাশা, অবিশ্বাস আর অন্ধকার ভবিষ্যৎ। একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা চলছে একটি প্রজন্মকে শিক্ষা বিমুখ করে তোলার।
আরো ভয়াবহ বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পক্ষের আদর্শে বিশ্বাসী সম্মানিত শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের হাতেই লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ক্লাসরুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে জুতা পিটা করে বের করে অপমানিত করা হয়েছে। যারা বছরের পর বছর দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তাদের এভাবে অপমান করা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, গোটা জাতির মেরুদণ্ডে লাথি মারা। এই ঘটনা আমাদের জাতি হিসেবে গভীর লজ্জায় ফেলে দেয়।
দুর্নীতিবিরোধী নাটকের ভেতরের মুখোশ
সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো যাদের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই বিগত সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলারও রায় এই সরকারের আদালতে এখনো দেয়া হয়নি।
প্রশ্ন জাগে,আদালত যদি স্বাধীন থাকে, তবে কেন একটি মামলারও বিচার শেষ হলো না?
আর যদি কেউ প্রকৃত দোষীই হয়ে থাকে, তবে কেন তাদের রাতের আঁধারে গোপনে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো?
এটাই আজ মানুষ বুঝে গেছে সবকিছুই ছিল ইউনূসের এক সুপরিকল্পিত নাটক। দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান ছিল একটি মোড়ক, যার আড়ালে নিজ স্বার্থ রক্ষা ও বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করাই ছিল মূল লক্ষ্য। বিচার চাইবার নামে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতি চালু হয়েছে সত্যিকারের বিচার বা ন্যায়বিচার নয়।
ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের অপব্যবহার
যেখানে দেশের মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে ইউনূস সাহেব নিজের করবাবদ প্রায় ৭০০ কোটি টাকা মওকুফ করে নিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকার মামলা ক্ষমতার জোরে বাতিল করেছেন। তাঁর ছায়াতলে থাকা সহযোগীদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বানানো হয়েছে। যেই ইউনূস দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে এসেছিলেন, তিনিই আজ দুর্নীতির রোল মডেল।
এই নৃশংসতা কে ঠেকাবে? কার জন্য এই নৈরাজ্য?
একটি প্রজন্মের হৃদয়বিদারক দীর্ঘশ্বাস
আজ মানুষ বলছে --- "আগে ভালো ছিলাম।" উন্নয়ন হয়তো সবাই উপভোগ করেনি, কিন্তু বর্তমান যে অনিয়ন্ত্রিত, দিশাহীন এক ধ্বংসযাত্রা তা অতীতের চেয়ে হাজার গুণ ভয়ানক। আজ বাংলাদেশ কাঁদছে চিকিৎসা নেই, শিক্ষা নেই, কর্মসংস্থান নেই, আর নেই কথা বলার স্বাধীনতা। রাষ্ট্র চলছে গুটিকয়েক সুবিধাভোগীর স্বার্থে।

সমাপ্তি নয়, শুরু হওয়া দরকার প্রতিবাদের
এই লেখা নিছক কোনো দলীয় অবস্থান নয়। এটি সেই সমস্ত নাগরিকের মনের ভাষা, যারা দেশটাকে ভালোবাসে, যারা চায় একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র। প্রয়োজন সত্য উচ্চারণ, প্রয়োজন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অটল অবস্থান, প্রয়োজন সেই বাংলাদেশ যার জন্য লাখো শহীদ প্রাণ দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২৫ রাত ১১:২৪
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×