somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজিন
লেখক নই আমি। কোন চলচ্চিত্র দেখা মাত্র মনের কথা গুলি লিখে ফেলি আর কি।

রাজিন রিভিউ: Padmaavat

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অবশেষে দেখা হলো সেই “পদ্মাবত”। প্রায় এক বছর ধরে যে মুভি নিয়ে দুনিয়ার বিবাদ, সেটা অবশেষে মুক্তি পেয়েছে। আমি ভাবলাম সঞ্জয় লীলা ভানসালির মুভিতে কী আর হবে? একটু নাচ-গান, রং-চং ছাড়া কিছুই তো থাকে না। কিন্তু দুনিয়ার কন্ট্রোভার্সিতে পরার কারণে মুভিটি দেখার ইচ্ছা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিল। সাধারণত কোন মুভির প্রতি অতিরিক্ত আশা থাকলে সেটা তেমন ভালো লাগে না। কিন্তু পদ্মাবত দেখে আমি পুরাই মুগ্ধ।

কাহিনী ১৩শ সালের দিকের। ভারতের মাটির দিকে তুর্কী-আফগানদের ধীরে ধীরে দখল শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানের সুলতান, আলাউদ্দীন খিলজী (রণভীর সিং)। ভয়ংকর শয়তান এক শাসক। একটা একটা করে রাজ্য আক্রমণ করে সেই জায়গার সব নারীদের নিজস্ব হেরেমে বন্দী করে ফেলে। বাকি সারা জীবন সেই নারীদের উপর চলে অত্যাচার। আলাউদ্দীন খিলজী আবার এক্ষেত্রে একটু উদার হয়ে নিজের হেরেমে বিনোদনের জন্য পুরুষদেরকেও রাখতেন। এদিকে চিত্তরের রাজপুত রাজা রতন সিং (শহীদ কাপুর) এর রাণী পদ্মাবতী (দীপিকা পাডুকোন) এর সৌন্দর্যের কথা জানতে পারে খিলজী। তারপর শুরু হয় তার চিত্তর আক্রমণের কাহিনী।

মুভিটি মালিক মোহাম্মদ জায়াসির মহাকাব্য “পদ্মাবত” থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কাহিনী তেমন কোন আহামরি নয়। তবুও চিত্রনাট্য, সংলাপ, এবং অভিনয় নৈপুণ্যের কারণে মুভিটি পুরাই ফাটাফাটি পর্যায় নিয়ে গেছেন ভানসালি। ভানসালির মুভিতে সেট ডিজাইন, লাইটিং বরাবরই ভালো হয় তবে এই মুভির তুলনায় আগের গুলি কিছুই না।
চিত্তরের দূর্গ দেখে আমি কইলাম:”ওরে আল্লাহ্! এত্ত বড়!”। এছাড়া ক্যামেরা এমনভাবে ধরা হয়েছে যেন মনে হচ্ছিল আমি নিজেই সেখানে আছি। মুভির একশান দৃশ্যগুলিও দারুণ। বিশেষ করে শেষের দিকে একটি দৃশ্য দেখেই এতটাই টাশকি খাইসি যে “ট্রয়” এর সেই দ্বৈত লড়াই এর দৃশ্যকেও চ্যালেন্জ দিবে!

অভিনয়ে অবশ্যই প্রথমে নাম আসবে রণভীর সিং এর। ওরে আল্লাহ! কী এ্যাকটিং! পুরাই ফাটাই ফেলসে। প্রতিটি দৃশ্যতে আগুন লাগায় দিসে। খিলজীর চেহারা দেখে সকল দর্শকের মনে ঘৃণা জন্মাবে। তবুও দৃশ্যগুলি বার বার দেখার মত। রণভীর সিং এর এই চরিত্রটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বদা মনে রাখা হবে। গাব্বার সিং, মোগাম্বো, এবং এবার আলাউদ্দীন খিলজী!

মুভিটি আমি আশা করেছিলাম দীপিকা প্রধান হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। সেকারণে দীপিকার নৈপুণ্য সেরকম দারুন বলা যাচ্ছে না। তবে দারুণ লেগেছে শহীদ কাপুরকে। রতন সিং এর চরিত্রটি অনেক দুর্বল হওয়ার কারণে কেউ এই চরিত্র করতে রাজি ছিল না। আর এদিকে শহীদ কাপুর এতটাই ভাল অভিনয় করেছে যে এটাই তার সেরা অভিনয়। রণভীর সিং এর এত দারুণ অভিনয়ের সামনে পাল্লা দেওয়া এত সহজ ছিল না।

এছাড়া দুইজনের অভিনয়ে পুরাই টাশকি খাইসি। মালিক কাফুর চরিত্রে জিম সর্ভ এবং মেহরুন্নিসা চরিতে অদিতি রাও হায়দ্রী। সহ-অভিনেতাদের চরিত্র এত ভালো হওয়ার কারণে মুভিটি অনেক উঁচু পর্যায়ে চলে গেছে। রতন সিং- পদ্মাবতীর প্রেমের চাইতে খিলজী-মালিক কাফুর এর প্রেমকাহিনী বেশি রোমাঞ্চকর ছিল।

মুভির সংগীত মোটামুটি। তবে “বিনতে দিল” গানটি আমার দারুণ লেগেছে। এছাড়া কিছু সিগনেচার ভানসালি গান আছে, যেমন ঘুমার (মার ডালা) এবং খালিবালি (মালহারি) যেগুলি দেখতে বেশ ভালোই লেগেছে।

মুভিতে বলে রাজপুতদের অনেক বীর দেখানো হয়েছে। সকল রাজপুতেরাই এই মুভি দেখে গর্বিত হবে। সেকারণে হুদা কামে এই মুভির পিছনে লাগার কারণটা কিছুই বুঝলাম না। যদি কেউ এই মুভি দেখে কেউ অসন্তুষ্ট হয় তবে মুসলমানেরা হতে পারে। তবে খিলজী আসল জীবনে আরো বড় শয়তান ছিল। তার শয়তানির কিছুই দেখানো হয়নি এবং সেগুলি একটি পারিবারিক মুভিতে দেখানোও সম্ভব না।

মুভিটির খারাপ দিক নিয়ে কিছু বলি। মুভিটি একটু বেশি বড়। শেষ দৃশ্যটিই প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে চলতে থাকে। কিছু ভানসালি জাকজমকতা দেখাতে গিয়ে কাহিনী থেমে যায়। এছাড়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মুভির কাহিনীর মূল বিষয় ছিলো রানী পদ্মাবতীর সৌন্দর্য। কিন্তু দীপিকাকে এত সুন্দরও লাগেনি। সেই জায়গায় অদিতি রাও হায়দ্রীকে বেশী সুন্দর লেগেছে।

এদিকে মানুষজন হুদাই কিছু কথা বলে। যেমন “আলাউদ্দীন খিলজিকে কেন এত শয়তান দেখানো হয়েছে?” আরে ব্যাটা! এই খিলজী হালার পুত এদিকে নারী-পুরুষ-শিশু সবার সাথেই তার যৌন লালসা মিটাইতো। এমনকি সে নিজেকে নবী বানায়ে নতুন ধর্মও বানাতে চেয়েছিল।
আবার অনেকে বলে “রণভীর সিং এর চরিত্রটি “গেম অব থ্রোনস” এর খাল-ড্রোগোর নকল”। কইলেই হইলো? যত্তসব! আবার এই মুভি বলে “সতীদাহ” প্রথাকে উৎসাহিত করছে। কিন্তু মুভিতে “সতীদাহ” দেখানো হয়নি। যেটা দেখানো হয়েছে সেটি হলো “জওহার” যা শুধুমাত্র যুদ্ধের পরাজয়ের পর পালন করা হতো।

সব মিলিয়ে এই মুভির প্রতি দৃশ্য দারুণভাবে উপভোগ করেছি। নিঃসন্দেহে সঞ্জয় লীলা ভানসালির তৈরী সেরা মুভি।

রেটিং – ৪.৫ / ৫.০
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:০৫
২৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×