somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কানসাট : উত্তাপ ও আলো

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যুগ যুগ ধরে সয়ে যাওয়া লাঞ্ছনা, বঞ্ছনা, যন্ত্রণার বিরুদ্ধে মানুষের ােভের প্রকাশ বিস্ফোরণের রূপ ধারণ করে। খেটে খাওয়া মানুষের ঐক্য গড়ে প্রবল প্রতিবাদ জানায় শোষকের রক্তচুকে - আর পরিণামে চলে দুঃসহ, নির্যাতন, দমন, নিপীড়ন - এমন ঘটনার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় ইতিহাসের পাতায় পাতায়। এই দৃষ্টান্তসমূহের মধ্যে নতুন সংযোজন কানসাট।

কানসাটের পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিষদ দাবী করেছে ‘বিদ্যুৎ সরবরাহের’, কারণ কৃষি উৎপাদনে জলসেচের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন - এই চাহিদা পূরণ করতে। অর্থাৎ ‘উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ’ই হচ্ছে এই দাবীর মূলকথা। যে কোন সভ্য, সুশীল, আধুনিক, উন্নয়নকাঙ্খী রাষ্ট্রের সরকারের কাছে ‘উৎপাদনের জন্য অবকাঠামো সহায়তার’ বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। আবার বলছি, কানসাটের মানুষ বিদ্যুৎ দাবী করেছে ‘কৃষি উৎপাদনের’ জন্য; অতিষ্ঠ গরমে এসি, ফ্যান চালানো বা নির্বিঘেœ টিভিতে খেলা দেখার জন্য নয়।

অথচ এই দাবীকে কেবল অগ্রাহ্যই করা হল না - গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হল, রাতে বাড়িতে বাড়িতে লুট চলল (এবং নারী ধর্ষণের খবরও পত্রিকায় এসেছে)। আর কানসাটের মানুষ প্রত্য করল এই হত্যা-লুট-ধর্ষণ করেছে রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত পুলিশ এবং মতাসীন দলের কর্মীরা।

কৃষি প্রধান একটি দেশের ‘কৃষি উৎপাদন’ মতাসীন সরকারের কাছে কোন অগ্রাধিকার পেল না। রাষ্ট্র পরিচালনার েেত্র দারিদ্র্যবিমুখ, উন্নয়ন পরিপন্থী অবস্থান সুস্পষ্ট করল বর্তমান সরকার। আর সেইসাথে ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবীকে রাষ্ট্রের আইন শৃংখলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনী এবং সেইসাথে নিজ দলীয় কর্মীদের দিয়ে কিশোর আনোয়ারসহ আরও অনেককে (২৪ জনের বেশি) হত্যা করে - মানুষের অধিকার আদায়ের দাবীকে দমন-নিপীড়ন-নির্যাতন করে স্তিমিত করার যে কৌশল রয়েছে তার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সরকার।

শোষকের নিপীড়নমূলক নীতি-কৌশলের জন্য বাস্তুচ্যুত হয়েছে অনেক পরিবার, কিশোর আনোয়ারের লাশ দেখে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন তার বাবা। কিন্তু সম্মিলিত মানুষের প্রতিবাদের ঢল আর বজ্রনাদ থামেনি। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই, নানা বয়সের নারী-পুরুষ লাঠি, দা নিয়ে মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে, আন্দোলন গড়ে তুলেছে।

এত মানুষকে কোন রাজনৈতিক দল একত্রিত করেনি - দুর্যোগই মানুষকে একত্রিত করেছে। হ্যাঁ, এদের লাঠি, দা এর শক্তিকে পুলিশ আর সরকারের দলীয় বাহিনীর টিয়ার শেল, বন্দুক, গুলি দিয়ে দাবানোও যেতে পারে। হয়ত দেখা যেতে পারে অসহনীয়, অকথ্য, ভয়ংকর শক্তি ব্যবহার করে কানসাটের গ্রামবাসীকে স্তিমিত করে দেয়া হয়েছে। অথবা নিতান্ত বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে সমঝোতা আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আবার, আজকে যে-ই খবরের কাগজ, মিডিয়ার ফোকাস হচ্ছে কানসাটে, অন্য কোন ঘটনার তোড়ে এই ফোকাস স্থানান্তর হয়ে যাবে। (কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্ট কলেজে ছাত্রীদের উপর দলীয় শিক ও ছাত্রদল কর্মীদের আক্রমণের ঘটনা সমগ্র পত্রিকা, মিডিয়া আর মানুষ মনোযোগ দিয়ে পর্যবেণ করছিল। তার ক’দিনের মধ্যেই এরশাদ-বিদিশার পারিবারিক সম্পর্কের মতো এত ুদ্র, তুচ্ছ একটি বিষয়ের দিকে মনোযোগ স্থানান্তর হয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিা প্রতিষ্ঠানের এতবড় কলংকজনক ঘটনার কোন প্রতিকার হল না। শিার্থীদের ফুটওভার নির্মাণের দাবী ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।)

তারপরও, কানসাটের মানুষ এই একবিংশ শতাব্দীতে গণবিমুখ, নিপীড়ক শোষকের বিরুদ্ধে পুরোপুরিই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত, সংঘবদ্ধ প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ীণ আশা করা যায়, এই সম্মিলিত প্রয়াস, তাজা প্রাণের বিসর্জন শুধু বাংলাদেশের নিপীড়ত মানুষের জন্যই নয় - সারাবিশ্বের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের অসভ্য, বর্বর শোষক চক্রের বিপে ঝাঁপিয়ে পড়ে গগণবিদারী হুংকার তুলতে উত্তাপ ও আলো দেবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×