somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শের শায়রী
অমরত্বের লোভ কখনো আমাকে পায়না। মানব জীবনের নশ্বরতা নিয়েই আমার সুখ। লিখি নিজের জানার আনন্দে, তাতে কেউ যদি পড়ে সেটা অনেক বড় পাওয়া। কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছুই নেই।

অমৃতের সন্তানেরা

০৫ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অপমানিত এক দ্বিকবিজয়ী সম্রাট। বিজিত সম্রাট আপমান, লজ্জা, বেদনায় মাথা নত করে বসে আছেন বিজয়ী বীরের সামনে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্ব একছত্র সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু পরাজয়ের নীল ছোবল তাকে আঘাত হানে। সময়টা ১৯৯৬ সালের মে মাস। সম্রাটের নাম “গ্যারি কাসপরভ” আর বিজয়ী সম্রাটের নাম “ডীপার ব্লু” নামক এক কম্পুটার। আর প্রোগ্রাম টার নাম ছিল “জিনিয়াস-টু”।



অথচ ১৯৮৮ সালের গোড়ার দিকে প্যারিসে এক সাংবাদিক সন্মেলনে বিশ্বজয়ী ওই দাবা সম্রাট বেশ আত্মম্ভরী নিয়েই বলছিলেন “২০০০ সালের আগে কোন গ্রান্ডমাষ্টার কে কোন কম্প্যুটার হারাতে পারবে না, কম্প্যুটারের সাথে খেলতে যদি কোন গ্রান্ডমাষ্টারের অসুবিধা হয় তবে খুশি মনে তাকে চাল বলে দিতে প্রস্তুত।” কম্প্যুটারের কাছে কাসপারভের এই হার ছিল ভীষন লজ্জার কারন যিনি কিনা অন্যকে বুদ্ধি দেবেন তিনিই কিনা হেরে গেলেন।

অবশ্য এর বছর ঘোরার আগেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান খেতাবের আর এক দাবীদার গ্রান্ড মাষ্টার বেন্ট লারসেন হেরেছিলেন এক কম্প্যুটারের কাছে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বীচে। এমন কোন আহামরি সে কম্প্যুটার ছিল না সেটা সেই ১৯৮৯ সালে। কারনেনি মিলান ইউনির্ভাসিটির চার ছাত্রের তৈরী এক সাধারন মানের যন্ত্র ছিল সেই “ডীপ থট” নামক কম্প্যুটারের।



এইসব দাবা খেলার কম্প্যুটারের পূর্বসুরী কিন্তু আজকে না সেই ১৭৬০ সালে ওলফগ্যাং ভন কেমপেলিন বানিয়েছিলেন “টার্ক”। টার্ক কিন্তু ছিল একটা পুতুল যার ছিল মস্ত গোফ আর বড় পাগড়ি মাথাওয়ালা যা কিনা পুতুল নাচিয়েদের মত আর একজন পর্দার পেছন থেকে তাকে নিয়ন্ত্রন করত। খুব সুক্ষ্ম দড়ি দিয়ে এই টার্ক কে চালনা করত একজন দক্ষ দাবাড়ু যার কারনে একটু দূর থেকেও বুজা যেত না ওটার হাত পা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে একজন দক্ষ বাজিকর বুদ্ধিমান দাবাড়ু দ্ধারা। আর এই টার্ক ভীষন খেপিয়ে দিয়েছিল আর এক মহা পরাক্রান্ত সম্রাট নেপোলিয়নকে কারন উনিশ চালেই সম্রাট কিস্তি মাত। আর জানেনই তো সম্রাটরা পরাজিত হতে পছন্দ করেনা

কৌশল নির্ধারন যদি হয় বুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপহার তবে দাবা খেলা তার চমৎকার নিদর্শন। সম্ভবতঃ এই জন্যই গ্যেটে এই খেলাকে বলছিলেন “বুদ্ধির কষ্ঠিপাথর”। নির্দিষ্ট একটা চালের পালটা চাল কত রকম হতে পারে, এবং তার মাঝে সেরা চাল দিয়ে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলে নিজের সুবিধা আদায় করার মাঝেই দাবার মুল আনন্দ। যে প্রতিপক্ষ যত বেশি চাল চিন্তা করে তার মাঝ থেকে সেরা চালটা বের করে নিতে পারে সেই সাফল্য লাভ করবে। অতএব দাবার সাফল্য যুক্তিনির্ভর চিন্তার শ্রেষ্ঠ উদাহরন।

তা যদি হয়, তবে চিন্তাশীল যন্ত্রের পৌছানোর শ্রেষ্ঠ উপায় দাবাড়ু কম্প্যুটার বানানো, কারন তা প্রমান করে দেবে যুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ যন্ত্রের ক্ষমতাধীন। অবশ্য এই মত যে সবাই মানেন তা কিন্তু না। কারন দাবার চাল নাকি অগুনিত “হ্যা” “না” র বিশ্লেষানে (চাল পালটা চালের লাভ ক্ষতির বিচারের মানদন্ডে) যে কাজটা কম্প্যূটার করে চলছে সারাক্ষন। দাবাড়ু কম্প্যুটারের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যাপার নাকি এই টুকু যে সে “হ্যা” “না” বিচার করতে পারে অনেক দ্রুত। আবার অন্যেরা ভিন্নমত পোষন করেন, তারা মনে করেন চিন্তার বিশ্লেষানকেও “হ্যা” “না” র ফর্মুলায় ফেলা যায়। চিন্তাকে বাধা যায় একটা ফর্মুলায়।


বিট্রিশ গনিতবিদ অ্যালান টুরিং

আধুনিক যুগে দাবাড়ু কম্প্যুটারের ব্যাপারে প্রথম ভেবেছিলেন বিট্রিশ গনিতবিদ অ্যালান টুরিং। এরপর জন ভন নিউম্যান এবং নিউম্যানের চিন্তার সুত্র ধরে ক্লদ শ্যানন। ১৯৫০ সালে শ্যানন লিখেন “সমস্যাটি খতিয়ে দেখা উচিত এই কারনে যে এর মধ্যে দিয়ে বেড়োতে পারে নতুন কিছু টেকনিক যা আমাদের বাস্তবে অন্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে.......”


ফাদার অভ “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স” মারভিন মিনস্কি

এম আই টি বা ম্যাসাচ্যুটেসাস ইনষ্টিটিউট অভ টেকনোলজির বিজ্ঞানী মারভিন মিনস্কি ভাবে বুদ্ধি বা ইন্টেলিজেন্স মানুষের একার সম্পত্তি না, চেষ্টা করলে যত্ন করলে যন্ত্রকেও বানানো যাবে বুদ্ধিমান। সেই মাথা খাটিয়ে বুদ্ধি বানানোকে বলা যাবে “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স”। এই বিশ্বাসের মুলেও সেই যুক্তি। বুদ্ধি আসলে একটা ফর্মুলা হতে পারে তা কিছুটা জটিল কিন্তু আদতে ফর্মুলা আর তাই তা যন্ত্রও আয়ত্বে আনতে পারবে। ওদিকে এর বিরোধী পক্ষ বিজ্ঞানী রজার পেনরোজ আবার এটা মানতে নারাজ, তার মতে বুদ্ধি কেবল কোন যুক্তি নির্ভর কোন কৌশল না তার থেকেও বড় কিছু। যন্ত্র যতই হিসাবে পটু হোক না কেন আদতে কোন দিন সে প্রকৃত বুদ্ধিমান হতে পারবে না। বিষয়টি ব্যাখ্যার জন্য ১৯৮৯ সালে লিখলেন “দ্যা এমপ্রেরস নিউ মাইন্ড” এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে লিখলেন “শ্যাডোজ অভ মাইন্ড”।


স্যার রজার পেনরোজ

পেনরোজ যতই বইপত্র লিখুক মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে যতই শ্রেষ্ঠতর সম্পদ বিবেচনা করে দিস্তায় দিস্তায় কাগজ লিখে বই বানাক আজকে এসে এটা সুনিশ্চিত বুদ্ধির ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের দিনের অবসান ঘটতে চলছে। এ যেন মানুষেরই নিজের হাতে নিজের বিবর্তন। “ডীপার ব্লু”র কাছে হেরে যাওয়া কাসপরভের লজ্জায় অবনত হওয়া যেন সে দিকেই নির্দেশ করে।



কোপার্নিকাস প্রাক যুগে মানুষের বিশ্বতত্ত্ব ছিল স্বর্গে আর মর্ত্যে, পৃথিবী ছিল ব্রাক্ষ্মান্ডের কেন্দ্রে, ডারউইন এসে পরের আঘাত হানল মানুষ কোন অনন্য সৃষ্টি না অন্যান্য পশুর সাথে আমাদের আসন একই বিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের এই পর্যন্ত আসা, ফ্রয়েড এসে মনোজগত নিয়ে তার তত্ত্বে বিলো দ্যা বেল্ট আঘাত করে একদম কুপোকাত করে দিলেন আমাদের। আমরা আমাদের প্রবৃত্তির মালিক না। যার কারনে আমরা পারি না নিজেদের নিয়ন্ত্রন নিতে সেই জন্যই পারি না অ্যানিম্যালিটি থেকে র‍্যাশনালিটিতে পৌছাতে। কেবল দেহ না তার মানে মনেও আমাদের আর পশুতে খুব একটা পার্থক্য নেই। তবে কি ঘুচে যাবে সব সীমারেখা মানুষ আর পশুতে? মানুষ আর মেশিনে? এম আই টির বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ ব্রুস মাৎশালিস এসে মুছে দিলেন চতুর্থ সীমারেখা তার লেখা বই “দ্যা ফোর্থ ডিসকন্টিনিউটি” তে এই অধ্যাপক লিখলেন “এই পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব যন্ত্র হাতে। আবিস্কৃত ফসিলের পাশাপাশি মিলছে হাতিয়ার........। স্বল্প বুদ্ধির আদিম মানুষ থেকে আজকের বুদ্ধিমান মানুষ আবার আদিম মানুষের এই হাতিয়ারের আধুনিক সংস্করন তো যন্ত্র...... এই যন্ত্রের কারনেই বিরাট বিরাট পশুর তুলনায় কমশক্তি আর কমজোরি হবার পরো আমরা টিকে গেছি আর তারা হয়েছে বিলুপ্ত..... এখন আমরা যন্ত্র নির্ভর এক প্রানী।

মাৎশলিশের ভাষায় মানুষের মত যন্ত্রেও এসেছে বিভিন্ন প্রজন্ম দুই শ্রেনীর বিবর্তন যা তার ভাষায় “কো-ইভলুশান” ব্যাপারটা অনেকটা মানুষ ও পশুর মত যেখানে বিজ্ঞান সাংবাদিক ষ্টিফেন বুদিয়ানস্কি তার "দ্য কভেন্যান্ট অব দ্যা ওয়াইল্ড। হোয়াই এনিম্যাল চোজ ডোমেষ্টিক” বইতে দেখিয়েছেন মানুষের এই পশুকে পোষ মানানো বিবর্তনের এক ধারা। যন্ত্রের ক্ষেত্রেও মাৎশালিশ বলেছেন বিবর্তন এগিয়েছে পারস্পারিক হাত ধরে। আমরা যান্ত্রিক হয়েছি, হাতে, হৃদয়ে, মাথায়। প্রমান চান? মাৎশলিশ প্রমান দিয়েছেন আমাদের এখন চালনা করে ঘড়ি, উৎপাদনের যান্ত্রিক কৌশল এবং প্রতিদিনের জীবন যাপনে যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তায়। আজকে আপনি একটি মোবাইল বা কম্প্যুটার ছাড়া অচল। এক দিকে যন্ত্রের অবিশ্বাস্য অগ্রগতিতে ধরুন হালের জিন প্রযুক্তিতে বা ন্যানো টেকনোলজিতে মানুষ পরিনত হচ্ছে যন্ত্রে “মেকানাইজেশান অভ এ্যানিম্যাল” আবার যন্ত্রকে বুদ্ধিমান বানানোর জন্য দেখা যাচ্ছে যন্ত্রের মানবিকিরন “এ্যানিম্যালাইজেশান অভ মেশিনস”

যন্ত্রের ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা যত বাড়বে ততই আমরা যান্ত্রিক হয়ে যাব। আস্তে আস্তে আবির্ভাব হবে “সাইবর্গ” সেখান থেকে আরো অগ্রসর হয়ে যন্ত্র মানব বা “রোবট”। জিন প্রযুক্তি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, ন্যানো টেকনোলজি যেভাবে বিস্তার লাভ করছে তাতে বোধ হয় খুব বেশি দিন নেই আমাদের “যন্ত্রমানব” হতে অথবা “মানবযন্ত্রে”। কিন্তু শেষ কথা মস্তিস্ক বা বুদ্ধি, সেটার কি হবে? মিনস্কির ব্যাখ্যা যতই আমাদের যন্ত্রের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হোক না কেন, বুদ্ধি কিন্তু সে হারে বাড়ছে না। কিভাবে? আইনষ্টাইন কি নিউটন বা আর্কিমিডিসের থেকে বেশী মেধাবী? আর বেশী হলেও সেটা কি সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে যন্ত্রিকতার অগ্রগতির তুলনায় একই গতিতে? আবার শেকসপিয়ার বা ইউরিপিডিসের থেকে কি খুব বেশী মেধাবী নাট্যকার আবির্ভুত হয়েছে? যদি জবাব চান তবে বলতে হয় “না”। অর্থ্যাৎ যন্ত্রের অগ্রগতি হচ্ছে জ্যামিতিক হারে কিন্তু আমাদের মেধা বা বুদ্ধি কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে আটকে গেছে বা খুব সামান্য এগিয়েছে। এই কারনে মিনস্কি বলছেন আমাদের উচিত আমাদের মস্তিস্ক নিয়ে গবেষনা করে এর কার্যকারিতা বাড়ানো, না হলে যন্ত্র মানুষের সাথে প্রতিযগিতায় আমরা টিকব না।



প্রচন্ড ক্ষমতাবান বুদ্ধিমান যন্ত্রমানবেরা কি আসবে কোন দিন? মিনস্কির ধারনা আসবে আর পেনরোজের ধারনা আসবে না। মানুষের মস্তিস্কে ৬০০০ অংশ আছে। বিজ্ঞানীরা খুজে পেয়েছেন তাদের বিভিন্ন দায়িত্বই দক্ষতার চাবিকাঠি, ওই বিশেষ অংশ গুলোর একটা নষ্ট হয়ে গেলে একেক রকমের ক্ষতি যেমন কোনটা খারাপ হয়ে গেলে জীবজন্তুর নাম মনে থাকবে না, কোনটা খারাপ হয়ে গেলে বড় কোন পরিকল্পনা করা যাবে না, কোনটা খারাপ হয়ে গেলে বাজে কথা বেশি বলবে, কোনটা খারাপ হলে কেউ কেউ অহেতুক আগ বাড়িয়ে মানুষের সাথে ঝগড়া করবে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে এক অংশ নষ্ট হলেও মগজের কাজ কিন্তু বন্ধ হবে না। কিন্তু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটার বড় অভাব একটা অংশ নষ্ট হলে পুরো কম্প্যুটারই অকেজো, এজন্যই বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অস্বীকার করে। এই অবজ্ঞাই মিনস্কির মতে “ফিজিক্স এনভি”। কিন্তু সেটা কতদিন? কোন দিন যদি কম্প্যুটারের কোন প্রোগ্রাম নিজে নিজে নিজের খারাপ অংশ টাকে রিপেয়ার করতে পারে তবে সেদিন কি হবে?

“বোঝা” কাকে বলে? মিনস্কির নতুন বই “দ্যা সোসাইটি অভ মাইন্ড” এ লিখছেন “আপনি যদি কোন কিছু এক ভাবে বুঝেন তাহলে ধরে নিতে হবে আপনি আদৌ কিছু বুজেন নি। কেননা সেক্ষেত্রে কোন কিছু ভুল দিকে গড়ালে আপনি আটকে পড়বেন......... চিন্তাশক্তির বিভিন্ন দিক অনুমান করে ভাবনা কে...... একটায় কাজ না হলে অন্যটায়...... এটাকেই আমরা বলি চিন্তাশক্তি।” আপাতত মিনস্কিদের মত মানুষদের বিশ্বাস যেদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই রকম ভাবনার অধিকারী হবে সেদিন দূর হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা। ফলাফল? মানুষের বিবর্তন। মানুষ থেকে মেশিন। আমাদের উত্তারাধিকারী হবে মেশিন মানবরা। সেক্ষেত্রে মেশিন মানবদের প্রচন্ড বুদ্ধিমত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য হয়ত কোন এক জনের একক মস্তিস্কে কাজ হবে না, সুপার কম্পিউটারের মত অগুনিত কম্পিউটারকে এক করার মত সমগ্র মানুষজাতির মস্তিস্ককে হয়ত এক হতে হবে কোন এক উপায়ে তবে সেক্ষেত্রেও বিবর্তন কিন্তু হবে মানুষের অঙ্গ প্রতঙ্গে কারন হাত পা বা শরীরের অনেকাংশের কাজই তখন ইনভ্যালিড হয়ে যাবে। সুপার কম্প্যুটারের মত সুপার ব্রেইন অথবা মেশিন মানবদের মাঝে কি হারিয়ে যাবে আমাদের মানব জাতি? তবে কি মেশিন মানুষরাই আমাদের বিবর্তনের শেষ ধাপ? আমি জানি না। তবে আশার কথা, আপনাকে আমাকে তত দিন বেচে থাকতে যে হবে না তা নিশ্চিত।

Bertrand Russell তার Conquest of Happiness বইতে লিখেছেন ইংল্যান্ডে Industrial Revolution হবার পর মানুষের উদ্ভাবিত যন্ত্র সাধারন এক ঘেয়ে কাজের ভার নেবে আর মানুষ তত নিজেকে মানবিক কাজে নিয়োজিত করবে “To do the human Things” কিন্তু এখন কি হল? মানুষ তো কায়িক শ্রম বিসর্জন তো দিলই মানুষ জন্মের সব থেকে বড় সার্থকতা, নিজের সন্তান এর মুখ নিজ স্ত্রীর গর্ভ থেকে বের হয়ে আসার পর প্রথম দর্শন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় নাকি আগামী ৩০ বছর সেটাও থাকবে না।

নিজের মস্তিস্ক ও মানুষ আজকে কম্প্যুটার নামক যন্ত্রের কাছে ইজারা দিয়ে দিল। সারা বিশ্ব এখন কম্পুটার সুপার কম্প্যুটারের জয় জয়কার। সেদিন আর বেশী দূরে নাই যেদিন মানুষ বুজতে পারবে আমাদের এই সব আবিস্কার আমাদের উন্নতির দিকে না নিয়ে ব্যাক টু দ্যা ফিউচার এ আমাদের আদিম গুহা মানবের যুগে ফেরত নিচ্ছে। যা কিছু মানুষ নিজে গড়ে তুলছে সাহিত্য চিত্রকলা সঙ্গীত সব আজকে কম্পুটার এর হাতে সপে দিয়ে আমরা আমাদের মেধা মনন কে কি নির্লজতায় অস্বীকার করছি কেউ কি ভাবছ?

সবাই ভাবছে ভবিষ্যত উজ্জ্বল কারন দিন দিন নিত্য হরেক পন্য আবিস্কার আমাদের চোখ ধাধিয়ে দিচ্ছে। মানুষ্যত্বের মরন আর্তনাদ কেউ শুনতে পাচ্ছে না।

গত কিছুদিন যাবত মাঝে মাঝে এইসব বৈজ্ঞানিক লেখা পড়তে গিয়ে আজকের এই নিবন্ধ লিখতে গিয়ে হঠাৎ করে মনে পড়ল কিছু দিন আগে একটা বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী লিখছিলাম আসলেই কি সেটা কল্প কাহিনী হয়ে থাকবে? না সত্যও হতে পারে? সময় থাকলে দেখুন নিকট ভবিষ্যতে

ভালো থাকুন মানব জাতি। অমৃতের সন্তানরা যেভাবেই থাকুক না কেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৫৬
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুটা আত্মকথন, কিছুটা স্মৃতিচারন আর আমার গানের ভুবন!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০১ লা জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩৩




কোন একটা ক্রাইসিসে একেক মানুষ একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সবার একরকমের হয় না। মানুষ হিসাবে আমি কেমন….…..দুর্বোধ্য নাকি সহজবোধ্য? প্রশ্নটা আমার নিজের কাছেই।

গত কয়েকদিন ধরে মাথায় ঘুরছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-৭)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০০

বিভিন্ন সময়ের তোলা কিছু ছবি ।
১। পিটুনিয়া



কেমন আছেন সবাই? কেমন ছিলেন? বন্দিত্বের দিনগুলোতে। অনেক দিন গ্যাপ হয়ে গেলো পোস্ট দিচ্ছি না। বন্দি থেকে থেকে হয়রান হইতে হইতে অফিস করছি এখন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খানসাব জানিলো কেমনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫


খানসাব জানিলো কেমনে!!
নূর মোহাম্মদ নূরু

ও মনু তাইলে তুমিও ছিলা ওদের দলে
বুঝছ এখন ক্যামনে তুমি পড়াছা যাতা কলে!
বারোটা সাঙ্গাত যখন উঠলা রাতের ট্রেনে
মতি গতি ভালোনা তা বুঝলো আামার ব্রেনে।

মজা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকান সৌন্দর্য্য

লিখেছেন শের শায়রী, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৫:০৩



একেই বলে আমেরিকান সৌন্দর্য্য। সব খানে জর্জ ফ্লয়েডের কারনে আমেরিকায় শুধু মারামারি, হানাহানির ছবি খবর দেখে বিরক্ত। কারন এতে আমি নতুনত্ব কিছু খুজে পাই নাই। আমাদের দেশে এসব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ

লিখেছেন অনল চৌধুরী, ০১ লা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০



ইউরোপ-এ্যামেরিকায় প্রতিদিন মুসলমান-এশিয় ও আফ্রিকানদের উপর জঘন্য বর্ণবাদী আক্রমণ হয়।
এ্যমেরিকাতে এখনো কালোদের প্রায় ক্রীতদাসই ভাবা হয়।

তাদের প্রতি পুলিশের আচরণই তার প্রমাণ।পুলিশ তাদের যেকোনো সময়ে বিনা অপরাধে গ্রেফতার এমনকি হত্যাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×