somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ মেহেদী হাসান
মূলত কবি। একই সাথে গল্প, প্রবন্ধ এবং ছবি আঁকায় সিদ্ধ হস্ত। বরিশালে তুমুল আলোচিত সাংবাদিক। ইতিমধ্যে দুটি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে। ‘জল পরীর ডানায় ঝাপটা লাগা বাতাস’ (২০১৩) এবং ‘সাদা হাওয়ায় পর্দাপন’ (২০১৫)

জনগণকে বেধে রাখা বাছুর বানাবেন না

০৫ ই জুন, ২০২২ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গরুর দুধ খেতে অনেক স্বাদ। মানব সন্তান এই স্বাদ যখন জিহ্বায় অনুভব করতে পারে ঠিক ততদিনে তিনে নিজের মায়ের দুধের স্বাদ ভুলে যায়। তারপরও যেহেতু তার মোটাতাগড়া হওয়ার সাধ এজন্য অন্য প্রাণীর ওলানের দুধ নিয়ে পান করে। গরুর দুধ গলধকরণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয়ে দাড়িয়েছে। টিভিতে বড় বড় বিজ্ঞাপন দেখি বিদেশী গরুর দুধে প্রস্তুতকৃত পন্য। আবার দু’ একটি ধর্মেও গরুর দুধ পান করা নিয়ে দেব-দেবীদের বারতা আছে।

মানুষ নিজেকে দাবী করেন আশরাফুল মাখলুকাত। মানে সৃষ্টির সেরা জীব। কেন? কারন তার বুদ্ধি, বিবেক, সৃজনশীলতা এবং ঐক্য রয়েছে। এত কিছু দাবীদার মানুষ কি কখনো ভেবে দেখেছেন, তিনি যে গরুর দুধ ওলান থেকে নিয়ে পান করছেন সেই দুধ ওই গরুর বাছুরের। একটি শিশু প্রাণীর মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে মানব সম্প্রদায়ের শরীরের পুষ্টি বাড়ানোর অধিকার কি সৃষ্টিকর্তা মানুষকে দিয়েছে?

ঠিক উল্টোটা চিন্তা করুন, কোন মানবজননীর নবজাতকের দুধ যদি পশু, পাখি বা অন্য প্রজাতির প্রাণী কেড়ে নিয়ে খেতো তখন মানুষের কেমন লাগতো। অথচ সেই কাজটি মানুষ করছে বাছুরকে মায়ের সামনে বেধে রেখে।

মানবসভ্যতায় মানবাধিকার কিংবা মানবতা শব্দ নিয়ে মাঝেমাঝেই তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু মানুষ প্রতিদিন এভাবে ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে অন্যের অধিকার যেভাবে হরণ করে নিচ্ছে তাতে মানুষকে কতখানি বিবেকবান মনে হতে পারে? এর জুৎসই সংজ্ঞা আমার মত আপনারাও হয়তো সহসাই জোগাড় করতে পারবেন না।

ঠিক তেমনি দুধ চুরি করে খাওয়া এক প্রজাতির শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন, যাদের আমরা বুদ্ধিজীবী বলি সাধারণত। এরা রাষ্ট্রের কোন নিয়োগপ্রাপ্ত চাকুরে নন বা সাংবিধানিকভাবে তাদের অস্তিত্ব খুব গুরুত্ব বহন করে না। তবে বাস্তবতায় একটি রাষ্ট্রের গতি কাঠামো নির্ধারিত হয় এই শ্রেণীর উচ্চ মার্গীয় ব্যক্তিবর্গের চিন্তার উৎকর্ষে। তাদের সুচিন্তিত মতামত, সংকল্প এবং পর্যবেক্ষণ রাষ্ট্রের স্তম্ভ বলে বিবেচ্য।

কিন্তু হতাশার কথা হলো বুদ্ধিজীবীদের আচরণ অনেকটা গরুর ওলান থেকে বাছুরের অধিকার নষ্ট করে দুধ খেয়ে ফেলার মত। রাষ্ট্রের উর্ধ্বমহলের নৈকট্য লাভের আশায় মাঝে মাঝে তারা বুদ্ধি-বিবেকের শার্টার বন্ধ করে দেন। তখন সাধারণ মানুষ হতাশ হন, অধিকার হারান। গরুর অবুজ বাছুরের মত তাকিয়ে থাকেন।

সামনে নির্বাচন আসছে। রাজনীতির যেমন কোন শেষ নেই তেমনি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়েও শেষ ফয়সালা বলতে কিছু দেখছি না। প্রতি মৌসুমে একই আলোচনা তুঙ্গে চলে আসে, কিভাবে নির্বাচন হবে কিভাবে হবে না। অথচ রাষ্ট্রের বয়স পঞ্চাশ পার হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থার সঠিক ও সহজ সমাধান কেউ দিতে পারেনি। যেহেতু রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্ব বহন করেন এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণী। ফলে প্রতি নির্বাচনের আগে নানান ঢংয়ে নানান বিবেচনায় প্রসিদ্ধসব বুদ্ধিবিক্রেতাদের ডাক আসে উর্ধ্বতন মহল থেকে। এরপরই ভোল পাল্টে যায় বুদ্ধিজীবীদের। হয়তো তারা এতে ব্যক্তি সুবিধা পান কিন্তু ক্ষতি হয়ে যায় রাষ্ট্রের।

আবারও নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। দিন দিন কদর বাড়ছে বুদ্ধিজীবীদের। তাদের কথাবার্তার কাটতিও বাড়ছে তুলনামূলক। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে বুদ্ধিজীবীরাও তাদের মতামত দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এভাবেই চলে আসছে বিগত পঞ্চাশ বছর। কিন্তু সমাধান কি হলো? সেইতো একই নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে এখনো অলোচনা। তাহলে বুদ্ধিজীবীদের মতামত কি ভোতা? কোন কাজে আসছে না? যদি কাজেই না আসে তাহলে সেই বুদ্ধিজীবীতার দরকার কি?

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন ‘অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে, তেলাপোকা টিকিয়া আছে।’ আবার মহামতি হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন, সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। যদি এমন হয় তাহলে তার দায় বুদ্ধিজীবীরা এড়াতে পারেন না। নির্বাচন এসেছে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে বুদ্ধীজীবিরা এখন থেকে কাজ শুরু না করলে জনগণতো বেধে রাাখা বাছুরের মত হয়ে যাবে।

মনে রাখতে হবে, জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন মানুষের অধিকার বাস্তায়নের জন্য। সেই অধিকার কুক্ষিগত করে রাখার অধিকার কিন্তু কারো নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২২ রাত ৩:১৪
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভার্টিগো আর এ যুগের জেন্টস কাদম্বিনী

লিখেছেন জুন, ১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৯:১৩



গুরুত্বপুর্ন একটি নথিতে আমাদের দুজনারই নাম ধাম সব ভুল। তাদের কাছে আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্র ,পাসপোর্ট এর ফটোকপি, দলিল দস্তাবেজ থাকার পরও এই মারাত্মক ভুল কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিমনি মা হয়েছে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১০:২৩



আজ পরিমনি একটা ফুটফুটে পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছে । বি ডি ২৪ এই খবর ছাপিয়েছে ।
করোনার সময়ে একটি ক্লাবে পরিমনি বনাম ক্লাব মেম্বারদের ঝগড়া ঝাটির সময়ে আমি পরিমনিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৈফিয়ত

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:০০


(ছবি নেট হতে)

আউযুবিল্লাহিমিনাশশাইত্বোয়ানিররাজিম।
বিসমিল্লাহিররাহমানিররাহিম।
আসসালামুআলাইকুম।

উপরের মত করে সূচনা যাদের নিকটে বিরক্তিকর মনে হয়, তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করে বলছি,

এভাবে শুরু করার ফলে আমার বিভিন্ন সুবিধা হয়ে থাকে। যেমন ঐ অংশটা লিখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবনঃ কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।

লিখেছেন জাদিদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:১৪

১।
মেয়েকে রুমে একা রেখে বাথরুমে গিয়েছিলাম। দুই মিনিট পরে বের হতে গিয়ে দেখি দরজা বাইরে থেকে লক। পিলে চমকে উঠে খেয়াল করলাম পকেটে তো মোবাইলও নাই। আমি গেট নক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোটিপতি এবং বাংলাদেশীদের সুইস ব্যাংকের হিসাব।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:১৮



স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬... ...বাকিটুকু পড়ুন

×