somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা ফাগুন। ভ্যালেন্টাইন’স ডে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন যাপনে নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত বা অভিযুক্ত শফিক রেহমানের হাত ধরে এদেশে ভ্যালেন্টাইন’স ডের প্রচলন।

১৪ ফেব্রুয়ারি এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। তাজা প্রাণ হত্যা করায় দিনটি আমাদের কাছে শোক, লড়াই ও প্রতিবাদের৷ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লড়াই সংগ্রামের বিশেষ এই দিনটির তাৎপর্য লঘু করার উদ্দেশ্যেই শফিক রেহমান এই দিনে ভ্যালেন্টাইন’স ডে আমদানির কুট বুদ্ধিটা করেছেন ; নাকি শফিক রেহমান তার স্বভাবজাত কথিত আধুনিকতার চর্চার জায়গা থেকে দিবসটিকে এ দেশে আমদানির ব্যবস্থা করেছেন সেটা হয়ত বিস্তর আলোচনার সুযোগ রাখে।

কিন্তু কারন যেটাই হোক। এ দেশের উঠতি তারুণ্য দেশীয় পহেলা ফাগুনকে ভালবাসা প্রকাশে দেশীয় ঢংগে উদযাপনের দিবস না বানিয়ে আমদানি করা দিনটাকেই ভালবাসার কথিত প্রকাশের দিবস বানালো কেন? সচেতন তারুণ্য তো উপেক্ষা ও বাতিলও করতে পারতো আমদানি করা দিনটিকে। আরো সাদরে গ্রহণ করতে পারতো তার নিজের পহেলা ফাগুনকে। যে তরুণ কথায় কথায় ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেয় সেই তরুণকেও দেখবেন তার ধর্মে অননুমোদিত ভ্যালেনটাইন’স ডের মত অপ্রয়োজনীয় দিনটিকে ঘটা করে উদযাপন করতে। শফিক রেহমানদের খেয়ালে বা বেখেয়ালে করা অপকর্মের প্রভাব এমনই তীব্র। নিজের অগ্রজের আত্মত্যাগ ভাবানো তো দূরের কথা সেই ত্যাগের কথা জেনে নেবার প্রয়োজনটুকুও মনে করে কি না সন্দেহ আছে।

ভ্যালেন্টাইন’স ডের চাইতে মৌসুমের সবচে সেরা ঋতুর প্রথম দিনটিকেই ভালবাসা প্রকাশের দিবস বানালে বেশি উপযুক্ত হত না? যদি এমন একটা দিবস রাখতেই বা উদযাপন করতেই হয়, সেক্ষেত্রে। এ অঞ্চলের মানুষের পড়তে পড়তে ভালবাসা, রন্ধ্রে রন্ধ্রে রসের মেলা। আমাদের লোকজ অনেক কিছুতেই নর নারীর অকৃত্রিম ভালবাসার নিদর্শন পাই আমরা। পানিতে ও রসে টইটুম্বুর এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বোধকরি পহেলা ফাগুনই বেশি উপযুক্ত ছিলো ভালবাসার বহিঃপ্রকাশের দিন হবার।

১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালবাসাবাসির দিবস হিসেবে উদযাপন করতে বাধে । কোথাও না কোথাও খচ খচ করে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকরা অগ্রজদের অসম্মান করে ফেলছি, এই অনুভূতি হয়। গ্লানি বোধ হয়। সে জায়গায়, পহেলা ফাগুন কে আপন ও একান্ত নিজের মনে হয়। পহেলা ফাগুন সুখ দেয়। স্বস্তি দেয়। গ্লানি থেকে দূরে রাখে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:১৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১১)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:১৩




আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১০)


কেহ উঁকি মারে নাই তাহাদের প্রাণে
ভাঙ্গিয়া দেখে নি কেহ, হৃদয়- গোপন-গেহ
আপন মরম তারা আপনি না জানে।

দুপুর আড়াইটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেল আর তেলের গল্প.....

লিখেছেন কিরমানী লিটন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০১



দেশটা আমার বাবার
ওয়ারিশের মালিক আমি
রেলের মাথা খাবার।

তুই ব্যাটা কে বলার
প্রতিবাদের ভাষার ছলে
সেই প্রশ্ন তোলার?

আমি দিদি রেল
স্বাধীনতার মানে বুঝি
তোমার কথার- তেল?

তোমার সুরে চলার
উল্টে দিয়ে পাল্টে দেবো
মিথ্যে কথা- বলার!

পিশাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিরপিনের ডিম ভাজা রেসিপি

লিখেছেন মা.হাসান, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৩






ঘটক এক সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণের কন্যার জন্য পাত্রের খবর নিয়ে এসেছে। পাত্র কেমন জানতে চাওয়ায় ঘটক বলল ---পাত্রের সবই ভালো। দোষের মধ্যে এই খালি একটু পিঁয়াজ রসুন খায়। হবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×