somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ছোট্ট আলাপ জিকোর সাথে

২৯ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলকাতায় ফেরার আগের দিন দুপুরবেলায় চলমান দূরভাষে এক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন। কে হতে পারে ভাবতে ভাবতে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো, ......বৌদি কথা বলছেন কী? বৌদি শুনে প্রথমে ভাবলাম রঙ নাম্বার কিন্তু পরক্ষণেই খেয়াল হল, বৌদির আগে যে নামটি ইনি উচ্চারন করেছেন সেটি আমারই! কে বলছেন জানতে চাইলে জবাব এলো, আমি জিকো বলছি। সাথে সাথেই চিনতে পারলাম, ইনি ইশতিয়াক জিকো! আরও বললেন, আমাকে দাদা মেল করে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন!

এই 'জিকো' নামটির সাথে আমার পরিচয় অর্কুটের সুত্রে। আমার বরের স্ক্র্যাপবইয়ে জিকোর স্ক্র্যাপ দেখেছি বেশ কিছু। আর ওকেও দেখেছি জিকোর স্ক্র্যাপের উত্তর দিতে মহা উৎসাহে! আমার তিনি স হজে কারও ভক্ত হন না। কথা হয়তো সবার সাথেই বলেন, কিন্তু সেগুলো শুধু বলতে হয় বলেই বলা। কাজেই তিনি যখন কারও সাথে মহা উৎসাহে কথা বলেন, ভক্ত হন, আমার সমীহ জাগে সেই মানুষটির সম্পর্কে। জিকোর সম্পর্কেও তাই হয়েছিল। আমি ব হুবার জিকোর প্রোফাইলে গেছি, ওর স্ক্র্যাপ পড়েছি, ওর ব্লগও পড়েছি কিন্তু কখনও কথা হয়নি জিকোর সাথে। সেই জিকোর ফোন পেয়ে আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত!

জিকো জানালো, আমার বর মেল করে কিছু ডিভিডি ও অডিওর খোঁজ চায়, যেগুলো আমি খুঁজে পাইনি। আমি পরদিনই চলে আসছি শুনে জিকো জানায়, সন্ধ্যের মধ্যে ও আমাকে ফোন করে জানাবে, কিছু পেল কীনা। বিকেলটা আমার ব্যস্ত কাটলো গোছগাছ করা আর বোনকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসায়। আমি জিকোর ফোনের অপেক্ষা করি। জিকো ফোন করে জানায়, ডিভিডি একদিনে খুঁজে পাওয়া গেল না তবে ময়মনসিংহগীতিকা একটা ওর কাছে আছে যেটা ও দিয়ে দিতে চায়। আমি নিজে গিয়ে ওটা নিয়ে আসতে পারবো না বলে জিকো আসে আমার বোনের বাসার সামনে। তখন পাওয়ার ছিলো না। শুধু মেন রোডে আলো জ্বলছে। অনধকার গলিতে ও কোথায় বাসা খুঁজে বেড়াবে ভেবে আমি ওকে মেন রোডেই অপেক্ষা করতে বলি। মোবাইল ফোনের আলোতে রাস্তা দেখে পৌঁছে যাই মেন রোডে আর দূর থেকে দেখেই কখনোও না দেখা জিকোকে চিনতে পারি।

স্ট্র ীট লাইটের আলোতে দাঁড়িয়ে জিকোর সাথে কথা বলি আধঘন্টারও বেশি। কথা হয় লেখালেখি নিয়ে, সিনেমা নিয়ে। আমি কি নিয়ে লিখতে পছন্দ করি, কার উৎসাহে এই লেখালেখি জানতে চায় জিকো। এবং উত্তরটাও জিকোই দেয়, নিশ্চয়ই দাদা! আমি হেসে ফেলি। খুব অল্প কথা হয় ওর সাথে কিন্তু ঐ অল্প সময়েই অনেক বিষয়ে কথা হয়। একটু একটু করে। যেন বুড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া।

আমি বেশ অবাক হই জিকোকে দেখে। ও যে একদম পুচকে একটা ছেলে এ আমার ধারণাই ছিলো না। আর মজার ব্যপার হল, জিকোকে দেখে, ওর সাথে কথা বলে আমার সমীহ নয়, বন্ধুত্ব নয়, বড়বোন সুলভ এক অনুভূতি হল!! খুব আপসোস হল, আগে কেন ওর সাথে দেখা হয়নি ভেবে। বলেও ফেললাম সেকথা। জিকো বললো, পরেরবার দেখা হবে! বারে বারেই জিকো বলছিলো, আরেকটা দিন সময় পেলে ও ঠিক খুঁজে বের করতে পারত আমার বরের দেওয়া লিষ্টের অন্তত কিছু সিনেমা-গান। রাত প্রায় সাড়ে নটায় আমি বিদায় নিলাম জিকোর কাছ থেকে। ওরও অবশ্যই দেরী হচ্ছিল। এত দূর থেকে এই রাতেরবেলা সে ছুটে এসেছে নিজের সংগ্রহের এক বই দিতে এক অজানা-অচেনা (?) বন্ধুর স্ত্র ীকে। আমার বারে বারেই মনে হচ্ছিল এ শুধু আমার দেশের মানুষই পারে!

ঐ ছোট্ট এক দেখা - আলাপ এখনও পর্যন্ত আমার মন জুড়ে আছে।

এবার দেশে গিয়ে অনেক বন্ধুপ্রাপ্তি হয়েছে। এই ব্লগের সুত্রে। যাদের প্রত্যেকের কথাই একে একে লেখার ইচ্ছে রইল। ধন্যবাদ কনফুকে। ধন্যবাদ সামহোয়্যারইনকে।

জিকো,
তোমার সাথে আবারও দেখা হওয়ার আকাঙ্খা রইল, আর অনেক অনেক গল্প করারও।



ছবি> জিকোর ফিল্মের পোষ্টার, জিকোর অনুমতি না নিয়ে।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:৩৯
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×