somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবর্ণ রংধনু আর আমি............

২৮ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দোতলায় উঠেই বুঝতে পাড়লাম, ক্লাস হচ্ছে না আজ। প্রথমেই মনে পড়লো ঠিক দুটোয় রুহানের চায়ের দোকানটার সামনে দাড়িয়ে থাকার কথা, আর এখন বাজে বারোটা। এই দুটো ঘণ্টা আমি কোথায় বসে থাকি? ভাবতে ভাবতেই মনে হল বসে না থেকে আমি তো রুহানের কোচিং এও চলে যেতে পারি। যদিও এর আগে যাওয়া হয়নি। কোথায় ওর ক্লাস হয় তাইবা কে জানে? তবে বিল্ডিংটা চিনি ভালোমতোই। আবার তাই প্যান্ট গুটিয়ে, ওড়নাটাকে গলায় মাফলারের মতো করে পেঁচিয়ে নিয়ে রাস্তায় নামলাম। অন্য দিন এই সময়টায় ফার্মগেটের কোচিং পাড়ায় ছেলেপেলেদের যন্ত্রণায় আর রিক্সার ধাক্কায় রাস্তায় নামতেই ভয় লাগে অথচ আজকে রাস্তা সম্পূর্ণ ফাঁকা। কালকে সারা রাত ধরে বৃষ্টি হওয়াতে সুধু এই রাস্তা নয় পুরো ঢাকাই যেন আজ ফাঁকা...........

রুহানদের কোচিং বিল্ডিং এর প্রায় সবগুলো ফ্লোর ঘুরেও যখন রুহানের কোনই হদিস পাওয়া গেল না, মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। মনে মনে বৃষ্টির গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে নিচে নামলাম। ফার্মগেট ব্রিজের নিচ দিয়ে হেটে রাস্তা পার হয়ে আবার প্রাইমেটের সামনে এসে দাড়াতেই দেখি একটা দোকানের দেয়ালে হেলান দিয়ে মাহবুব আর রুহান কথা বলছে আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। সামনে গিয়ে রুহানের হাতে ছাতাটা ধরিয়ে দিয়ে বললাম চল কথাও খেতে যাই বেশ খিদে পাইছে, রুহানের সহাস্য উত্তর, ক্যান তুমি কি কামলা খেটে আসছ? দুপুর ইতো হয় নাই, এতো জলদি খিদে পাইছে কেন?? তারপর আমরা তিনজন একটা রিক্সা নিলাম। এর মধ্যেই আবার ভয়াবহ বৃষ্টি নামলো। আমরা রিক্সার হুড ফলে দিয়ে একটা বিশাল বড় ডাণ্ডা ওয়ালা ছাতা মেলে দিয়ে অর্ধেক ভিজতে ভিজতে গেলাম এলিফ্যান্ট রোডের একটা চাইনিজ এ, রাস্তায় তখন হাঁটু পানি। রিক্সা ওয়ালাতো বিরক্তির চরমে কিন্তু আমাদের সেকি উচ্ছ্বাস, এর মধ্যে মাহবুব কোথা থেকে একটা তোয়ালে জোগাড় করে ফেললো। সেই তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে আমি সেদিন সারা শহর ঘুরেছি।

সেইদিনটা ছিল ঢাকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়া দিনগুলার মধ্যে কোন একটা, শুধু বৃষ্টির পানিতে ঢাকা সেদিন প্রায় ডুবেই গিয়েছিলো। আমার মনে আছে মিরপুর রোড এ আমরা ফেরার পথে সেকি অবিশ্বাস্য অবস্থা, রিক্‌শওয়ালা পানির তোড়ে পায়ে হেটে রিক্সা টেনে নিয়ে যাচ্ছে, পানি তার প্রায় বুক ছুঁই ছুঁই। রিক্সা পানি কেটে কেটে এগিয়ে যাওয়ায়, আমার কাছে বেশ নৌকা নৌকা একটা ব্যাপার মনে হচ্ছিলো। রুহান আর মাহবুব ও মাঝে মাঝে রাস্তায় নেমে যাচ্ছিলো রিক্সা থেকে। তাই ওরা ও বৃষ্টির পানিতে মোটামুটি গোসল দিয়ে ফেলছে। আশেপাশের সবাই যেন নৌকায় চড়ছে এমন একটা ভাব।

সাইন্স ল্যাব এর সামনে দিয়ে এক ছাতার নিচে হাটতে হাটতে রুহান যখন আমাকে বলল, তোমার কাঁধে একটু হাতটা রাখি? আমি হ্যাঁ বলায় সেদিন ওর অসম্ভব শান্ত চেহারাতে কি অদ্ভুত রকমের খুশি ঝলমল করছিলো তা মনে করে আমি এখনো ভেতরে অপরাধ বোধের কষ্ট টের পাই.......

সারাদিন অবিরাম অবিশ্রান্ত বর্ষা, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ, কাক ভেজা একটা ঢাকা শহর এর বিল্ডিংগুলি যেন সেদিন অনেকটাই ধোঁয়াটে লাগছিলো। তারমধ্যে প্রায় পুরো ভেজা কামিজে জিনস এর প্যান্ট গুটিয়ে ওড়নার উপরে তোয়ালে জড়িয়ে সেই মেঘলা সুন্দর দিনটাতে ঢাকা শহর চোষে বেরানো। না এক ছাতার নিচে রুহান আর আমি। কোনটা যে আমার কাছে বেশি আদরের আমি এখনো আলাদা করতে পারি না...........
আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ব্লগ এর কথা শুনেছিলাম বোধহয় কদিন আগেই। আজকে যখন প্রথম বারের মতন পাতা উল্টে দেখলাম যা ইচ্ছে তাই লেখার এই গল্পের, দেখলাম বড্ড বৃষ্টির ঘোরে আছে সবাই। আজো নাকি আমার শহর বৃষ্টিতে মেতেছে। সবার মুখেই যেন শুধু তাই বৃষ্টির ই গল্প। সবার মুখের গল্প শুনে, বহুদিন আগেই ভুলে যাওয়া আমার রংধনু দিনগুলা হঠাৎই মনে পরে গেলো......
মেঘলা ধূসর দিনগুলাতেও কত রং এর ছড়াছড়ি ছিল,, আহারে......।।















সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:৩২
১৮টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×