মৃত্যুঃ
---------
১ - এ পৃথিবীতে প্রত্যেক জীবের শেষ পরিণতি হবে মৃত্যু। আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, "প্রত্যেকটি প্রাণীকেই মরণের স্বাদ ভোগ করতে হবে (অতঃপর) তোমাদেরকে (জীবন ভর) কামাইর প্রতিফল কেয়ামতের দিন আদায় করে দেয়া হবে, যাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই হবে সফল ব্যক্তি। (মনে রেখো) এই যে পার্থিব জীবন! তা বাহ্যিক ছলনার মাল সামানা ছাড়া আর কিছুই নয়।" (সূরা আল-ই-ইমরানঃ আয়াত ১৮৫) তিনি আরো বলেন, "(যমীন ও) তার ওপর যা কিছু আছে সবই (একদিন) বিলীন হয়ে যাবে," (সূরা আর্ রাহ্মানঃ আয়াত ২৬) তিনি নিজের নবীর উদ্দেশ্যে বলেন, "অবশ্যই (একদিন) তুমি মারা যাবে- তারাও নিঃসন্দেহে একদিন মৃত্যুমুখে পতিত হবে," (সূরা আঝ ঝুমারঃ আয়াত ৩০) এ বিশ্ব চরাচরে কোন মানুষের জন্য চিরস্থায়ীত্ব নাই। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, চিরন্ততা তো তোমার পূর্বের কোন মানুষের জন্য সাব্যস্ত করে দেয়া নাই। মৃত্যু একটি নিশ্চিত বস্তু তাতে কোন সন্দেহ নাই। অথচ অধিকাংশ লোকই তা থেকে গাফেল। একজন মুসলমানের করনীয় যে, মৃত্যুর কথা বেশী বেশী স্মরণ করবে এবং তার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকবে। একইভাবে দুনিয়ায় থাকতে সময় ফুরিয়ে যাবার পূর্বে আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করবে। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিষের পূর্বে মূল্যবান মনে করো, তোমার জীবনকে মৃত্যুর পূর্বে, তোমার সুস্থতাকে অসুস্থতার পূর্বে, তোমার অবসরকে তোমার ব্যস্ততার পূর্বে, তোমার যৌবনকে বার্ধক্যের পূর্বে এবং তোমার সচ্ছলতা, প্রাচুর্যকে দারিদ্রতার পূর্বে। জেনে রাখুন মৃত ব্যক্তি পার্থিব কোন সম্পদ কবরে বয়ে নিয়ে যাবে না। তার সঙ্গে থাকবে শুধুমাত্র তার আমল সুতরাং ভাল কাজের পাথেয় সংগ্রহ করতে আগ্রহী হোন যা আপনাকে দেবে আনন্দ এবং আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি ও পরিত্রাণ।
২ - মানুষের জীবনের সময় সীমা এমন একটি রহস্য ও গোপন বস্তু যা একমাত্র মহান আল্লাহ জানেন, অন্য কেউ নয়। কেউ জানে না সে কোথায় মরবে এবং কখন মরবে। কারণ, সেটা গায়েবের ইলম্ তথা অদৃশ্য জগতের জ্ঞান যা এক ও একক মহান আল্লাহই জানেন।
৩ - মৃত্যু আসলে তা দমন, প্রতিহত করা বা পিছিয়ে দেয়া কিংবা তা থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ পাক বলেন, প্রত্যেকটি জাতির জন্যেই (তার উত্থান-পতনের) একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ আসবে, যখন তাদের সে মেয়াদ আসবে, তখন তারা একদণ্ড বিলম্বও করবে না, তেমনি তারা এক মুহূর্ত এগিয়েও আসবে না। (সূরা আল্ আ'রাফঃ আয়াত ৩৪)
৪ - মুমিনের নিকট যখন মৃত্যু আসে তখন মৃত্যুর ফেরেশতা সুন্দর মনোহর রূপ ও আকৃতি নিয়ে উপস্থিত হয়, সুগন্ধে ভরে যায় পরিবেশ আর তাঁর সাথে থাকে রহমতের ফেরেশতা যারা উক্ত ব্যক্তিকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়।
আল্লাহ পাক বলেন, "(অপরদিকে) যারা বলে আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন আমাদের মালিক, অতঃপর (এই ঈমানের ওপর) তারা অবিচল থাকে, (মৃত্যুর সময় যখন) তাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল হবে এবং তাদের বলবে, (হে আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দারা) তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না; (উপরন্তু) তোমাদের কাছে যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছিল (আজ) তোমরা তারই সুসংবাদ গ্রহণ করে আনন্দিত হও।" (সূরা হা-মীম্ আস সাজদাঃ আয়াত ৩০)
কাফেরের কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা দুর্গন্ধময় কাপড়, কালো চেহারা ও ভীতিপ্রদ আকৃতি ধারণ করে আসেন এবং তাঁর সাথে থাকে আযাবের ফেরেশতা যারা তাকে আযাবের দুঃসংবাদ দেয়। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "সে ব্যক্তির চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে নানাবিধ মিথ্যা কথা রচনা করে বেড়ায় অথবা বলে যে, আমার ওপর ওহী নাযিল হয়েছে, (যদিও) তার প্রতি কিছুই নাযিল করা হয়নি। (তার চাইতেই বা বড়ো যালেম কে), যে বলে আমি অচিরেই আল্লাহ তায়ালার নাযিল করা গ্রন্থের মতো কিছু নাযিল করে দেখাবো! যদি যালেমদের মৃত্যু-যন্ত্রনা (উপস্থিত) হবার সময়টিতে (তাদের অবস্থাটা) তুমি দেখতে পেতে ! যখন (মৃত্যুর) ফেরেশ্তারা তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, এসো, তোমার প্রাণবায়ু বের করে দাও। তোমরা আল্লাহর আয়াতের ব্যাপারে যে (ক্ষমাহীন) ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, তার জন্যে (আজ) অত্যন্ত অবমাননাকর এক আযাব তোমাদের দেয়া হবে।" (সূরা আল্ আনআ'মঃ আয়াত ৯৩)।
মৃত্যু আসলে বাস্তব সত্য উম্মোচিত হয়ে যাবে এবং আসল তত্ত্ব মানুষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "এমনকি (এ অবস্থায়) এদের কারো মৃত্যু এসে হাযির হবে, তখন সে বলবে, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাকে (আরেক বার পৃথিবীতে) ফেরত পাঠাও, যাতে করে (সেখানে গিয়ে) এমন কিছু নেক কাজ আমি করে আসতে পারি, যা আমি ছেড়ে এসেছি, (তখন বলা হবে) না, তা তো আর কখনো হবার নয় ! (মূলত) সেটা হচ্ছে একটি (অসম্ভব) কথা॥ যা সে শুধু বলার জন্যেই বলবে, এই (মৃত) ব্যক্তিদের সামনে একটি যবনিকা (ওদের আড়াল করে রাখবে,) সেই দিন পর্যন্ত, যেদিন তারা (কবর থেকে) পুনরুত্থিত হবে !" (সূরা আল্ মু'মিনূ-নঃ আয়াত ৯৯ ও ১০০)।
মৃত্যু আসলে কাফের ও পাপী লোক ভাল ও সত্কাজ করার জন্য পুনরায় পার্থিব জীবনের দিকে ফিরে যেতে চাইবে কিন্তু সময় শেষ হওয়ার পর অনুশোচনা কোন কাজে আসবে না। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "(হে নবী,) যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা গোমরাহ করে দেন, তার জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো দ্বিতীয় অভিভাবক থাকে না, তুমি যালেমদের দেখবে যখন তারা (আল্লাহ তায়ালার) আযাবকে পর্যবেক্ষণ করবে- তখন তারা বলবে, (আজ এখান থেকে) ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আছে কি?" (সূরা আশ্ শূ-রাঃ আয়াত ৪৪)।
৫ - বান্দাগণের উপর অশেষ করুনা ও রহমত যে, যার মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে শেষ বাক্য "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু" হবে, সে জান্নাত লাভ করবে। রাসূল সাঃ বলেছেন, দুনিয়ায় যার শেষ বাক্য "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু" হবে, সে জান্নাত লাভ করবে। কারণ এমনি মুমূর্ষ অবস্থা ও সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে কালেমার ব্যাপারে নিষ্ঠাবান ব্যক্তি ছাড়া কোন মানুষের পক্ষে তা উচ্চারণ করা সম্ভব হবে না। পক্ষান্তরে নিষ্ঠাহীন ব্যক্তি মৃত্যুর যাতনায় তা ভুলে যাবে। একারণেই মৃত্যু ঘনিয়ে আসা ব্যক্তিকে "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু" শিক্ষা দেয়া সুন্নত।
শেষ দিবস - পর্ব ৩/৫
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



