নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

কলিমুদ্দি দফাদার

“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”

কলিমুদ্দি দফাদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি? সামনে হয়তো শহীদ কোকোর প্রয়ান দিবস, তারেক রহমানের কারা দিবস, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পাল্টা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ সময় বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান।

এই অভ্যুত্থানের ফলে তৎকালীন ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসেখালেদ মোশাররফের নেতৃত্বাধীন সামরিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়।ফলে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন, পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন রাজনৈতিক ও আদর্শিক ধারা তৈরি হয়।১৯৭৫ সালের সাত নভেম্বরের বিপ্লব ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের প্রতি বিপ্লব। 

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে দেশেকে প্রিন্সিপালসের উপর দাঁড় করানো হয়: 

১। সমাজতন্ত্র 
২। ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ
৩। ভারত নির্ভরতা
৪। সোভিয়েত ব্লক
৫। ধর্মীয় রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা
৬। সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ 
৭। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের আদলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। 

১৯৭৫ সালের সাত নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পরে একাত্তরের সরকারের সকল নীতিমালা ডাস্টবিনে ফেলা হয় এবং প্রতিষ্ঠা করা হয় ঠিক বিপরীত মতাদর্শ:

১। সংবিধানে বিসমিল্লাহ। 
 ভারতের সাথে সম্পর্ক একবারে কমিয়ে দিয়ে মুসলমান বিশ্বাস সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সংবিধানে ক্লজ যুক্ত করা।
৩। ইসলামি রাজনীতি উন্মুক্ত করা।
৪। আমেরিকান—পাকিস্তানি ব্লকে ঢোকা।
৫। সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক দল উন্মুক্ত করা।
৬। মুক্ত বাজার অর্থনীতি।
৭ মুসলমান জাতীয়তাবাদের আদলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।


ফেসবুক এক জামাত সমর্থক ছোট ভাই শেয়ার করলো। সোস্যাল মিডিয়ার যেহেতু রাজনৈতিক তর্ক নিষেধ এখানেই একটু মনের জ্বালা মিটাই!!!!

শেখ মুজিব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের আদলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ রচনা করেছিলেন। ভারতীয় কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবার সেক্যুলার ঘরানার‌। ৪৭ এর পর থেকে ৯০ মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেসের ছিলো একক আধিপত্য। সেই ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশে চেয়েছিলেন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের আড়ালে বাঙালি জাতীয়তাবাদ রচনা করতে? ইহা ও কি যুক্তিতে ঘাটে? ২০ কোটি মুসলমানের দেশে ভারত যদি এখন সংবিধানে জয় শ্রী রাম যুক্ত করে বংগ দেশে ধর্মীয় দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কি হবে?

জিয়াউর রহমান সংবিধান বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছেন। পিছনের দড়জায় ক্ষমতায় অনেক সামরিক শাসক ধর্মীয় ট্রাম্প কার্ড খেলতেন। এরশাদ ও শুক্রবার কে রাষ্ট্রীয় ছুটি করেছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ধর্মকে যোগ করে দুজন দেশের অকৃত্রিম ক্ষতি করেছেন। দেশে এখন আওয়ামীলীগ নেই। ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সুফল এখন জিয়াউর রহমান ছেলে তারেক রহমান ভোগ করছেন।

জামাত বা অনন্যা ধর্মীয় দলগুলো জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়াকে যেভাবে পছন্দ করে বা নমনীয় তারেক রহমানের ক্ষেত্রে মুদ্রার একদম উল্টো পিঠ। কারন জিয়াউর রহমানের সময়ে ধর্মভিত্তিক দলগুলো প্রকাশ পায় আর খালেদা জিয়ার সাথে জোট করে ক্ষমতার স্বাদ আর তারেক রহমান প্রতিপক্ষ। জুলাইয়ে আগে জামায়াতের দৃষ্টিতে তারেক রহমান‌ নিষ্পাপ ও মাসুম শিশু থাকলে নির্বাচনের পুর্বে হয়ে যায় মিষ্টার ১০% আর খাম্বা তারেক। আর জামাতের সেই চিরো চেনা কার্ড "ইন্ডিয়ার সাথে আঁতাত"। মোটাদাগে জামাতি দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখলে জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়ার শাসনামল বাদে পুরোটাই সময় বাংলাদেশ ছিলো ইন্ডিয়ার কব্জায়......

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে ।

০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি

২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২১

আলামিন১০৪ বলেছেন: ভাই আপনার বাপ-চাচাদের জিজ্ঞাসা করিয়েন- মুজিববাদ কি জিনিস-

০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩২

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

ধরে নিলাম মুজিবাবাদ হচ্ছে নাৎসিবাদ ফ্যাসিবাদ থেকে ও খারাপ কিছু_
কিন্তু ৭১ এর প্রিন্সিপাল হচ্ছে ভারত নির্ভরতা, হিন্দুত্ববাদের আদলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ তৈরি
এগুলি কারা কোন দল প্রচার করছে? এর অর্থ কী?

৩| ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

মাথা পাগলা বলেছেন: ৭১ ছিলো বাংলা ভাষা, নিজের সংস্কৃতি আর অসাম্প্রায়িকতা চিন্তা-ভাবনা থেকে। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদ একটা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক মতাদর্শ। মনে স্বামী বিবেকানন্দ শুরু করেছিলেন।

লজিক/কমন সেন্স/সিভিক সেন্স/এম্প্যাথি নাই - সিংহ ভাগ পপুলেশন বিসমিল্লাহ সংযোজন খাবে। আদর্শের বদলে এগুলা রাজনীতি এবং জনসমর্থন তৈরির ট্যাকটিস। আবার এই সিংহভাগ পপুলেশনই হিন্দুত্ববাদের চরম বিরোধীতা করবে।


০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
শেখ মুজিবের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই স্লোগান দিয়ে জুলাইয়ে পর মুজিবাবাদী সংবিধানের কবর রচনা করা হবে, জুলাই হচ্ছে নতুন দিনের নতুন বন্দোবস্তের মতো ফ্যান্টাসাইজ মনে হলো নিচের এই লাইন টা ও....

৭১ ছিলো বাংলা ভাষা, নিজের সংস্কৃতি আর অসাম্প্রায়িকতা চিন্তা-ভাবনা থেকে। ৬ দফার কোথায় আছে এগুলি? পাকিস্তান আর্মি নির্মমভাবে নিরীহ বাঙ্গালী হত্যা করেছে, মা-বোন ধরে নিয়ে বর্বরতা চালিয়েছে। শহরে-গ্রামে খেটে খাওয়া জনতা বিবেকের তাড়নায় যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। বাংলা ভাষা,‌ দেশি সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকয়তা কি জিনিস ইহা বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা ই জানে না....

৪| ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪

মেঠোপথ২৩ বলেছেন: তারেক রহমান সম্পর্কে জামাত আসলে কিছুই বলছে না। শিবিররা কিছু বলতে চাইলেও তাদের থামিয়ে দেয়া হয়। এটাই জামাতের রাজনৈ্তিক পলিসি। সোস্যাল মিডিয়ায় তরুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা আওয়ামিলীগ , বিএনপি, তারেক রহমান সম্পর্কে যা লিখছে তারা সবাই আমজনতা । জামাত নেতারাতো কুসুম কুসুম বিরোধিতা দেখিয়ে ভেতরে ভেতরে বিএনপির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। মির কাশেম , নিজামির এম্পি পুত্ররা বিদেশে গিয়ে মির্জা আব্বাসের সাথে মোলাকাত করছে। সেসব ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় চলে আসে। ইন্ডিয়ার সাথে বিএনপির আতাঁতে কথাও কোন জামাত নেতা নয় , এনসিপি নেতারা বলছে , অনলাইন এক্টিভিস্টরা বলছে।

জামাত বরাবরই বাক প্রতিবন্দী রাজনীতি করে। সংসদে এনসিপির নয়জন ও রুমিন ফারহানা না থাকলে বোঝার উপায় নাই যে , সেখানে আর কোন বিরোধি দল আছে। তাই তাদের নিয়ে ট্যগিং রাজনীতি চলে এই দেশে। কারন এদের গায়ের চামরা এতটাই মোটা যে, কোন প্রকার মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতেও এরা কুন্ঠাবোধ করে।

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০৮

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আবার আসিবো ফিরো ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়_
কখনো মেঠোপথ কখনো ঢাবিয়ান হয়ে।



জামায়াত নেতৃবৃন্দ যেটা মুখে বলছে না সেটা প্রক্সিদের দিয়ে বলাচ্ছে। বিএনপি রনি, রাশেদ এর মতো কিছু ছেচড়া ফিট করে দিয়েছে জামায়াত কে মিডিয়া ব্যাশিং করার জন্যে। ৬ সিটের এনসিপি বিএনপি তারেক রহমানের নাম মুখে নিয়ে রাজনীতি ও মিডিয়ায় প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় তরুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা আওয়ামিলীগ , বিএনপি, তারেক রহমান সম্পর্কে যা লিখছে তারা সবাই আমজনতা । তরুণ প্রজন্ম আমজনতা কি শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি নিয়েই এসব বলছে নাকি নব্য জমিদারের নাতী, ওয়েস্টিনে হংস ভক্ষণ করা নেতাদের নিয়ে কিছু বলছে?

৫| ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২০

নাহল তরকারি বলেছেন: রাজনৈতিক পোস্ট এরিয়ে চলার চেষ্টা করি। রাজনৈতিক পোস্ট পড়েলেও কমেন্ট করি না।

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০৯

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

ধন্যবাদ। আপনি একজন সুখী মানুষ...

৬| ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

মাথা পাগলা বলেছেন: পাকিস্তান আর্মি নির্মমভাবে নিরীহ বাঙ্গালী হত্যা করেছে, মা-বোন ধরে নিয়ে বর্বরতা চালিয়েছে। শহরে-গ্রামে খেটে খাওয়া জনতা বিবেকের তাড়নায় যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। বাংলা ভাষা,‌ দেশি সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকয়তা কি জিনিস ইহা বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা ই জানে না....
--------------

এগুলাও কারন - বিবেক, আদর্শ, জীবন বাঁচানো, প্রতিশোধ। কিন্তু ৭১' তো হঠাৎ করে হয় নাই, শুরু তো ৫২' থেকেই হয়েছিলো। ৬৯' গণঅভ্যুত্থান কি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল, নাকি বাঙ্গালী জাতির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নও জড়িত ছিল? যুদ্ধের ডাক তো আম্রাই দিয়েছেলাম। একজন যে পরিবেশে বড় হয়েছেন - বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। সবার সব সংঙ্গা জানতে হবে এমন কোন ব্যাপার না। মুক্তিযোদ্ধাদের জ্ঞানের দোহাই দিয়ে এগুলা অস্বীকার করা যায় না।

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৩

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আমার কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আর বর্তমান একটি লুপ মনে হয়; একই জিনিস বারবার ঘুরে ফিরে। সব আন্দোলন সংগ্রামের ই একটা নির্দিষ্ট পটভূমি থাকে; হুটহাট করে কিছু ঘটে না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের একটি অংশ ২৪ কেন‌ নেমেছিলো তারা তো বৈষম্যের শিকার নয় না তাদের কোটার প্রয়োজন? এই আন্দোলন কেন ১৪ বা ১৮ তে হলো না?

৭১ এর সাথে ২৪ কে মেলাচ্ছি না, যুদ্ধে মানুষের দুঃখ কষ্ট, সংগ্রাম আত্মত্যাগ অন্য কিছুর সাথে তুলনা চলে না। কিন্তু রাজনীতিক দলগুলো নিজের স্বার্থে আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে বয়ান উৎপাদন করে। যেমনটা কোটা আন্দোলন আবেগে রাস্তায় নামা হাজারো ছাত্র নামার পর আন্দোলন শেষে যখন শুনেছি মানুষ নতুন দিনের নতুন বন্দোবস্তের চাই, মুজিবাবাদি সংবিধানের কবর চায়, এনসিপি নামক রাজনৈতিক দল চায় ........

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.