| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০ লাখ দরিদ্র মানুষকে শুধু খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা নয়; বরং পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এজন্য আমি একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক নগর প্রতিষ্ঠা করতাম, যেখানে দারিদ্র্যকে স্থায়ীভাবে পরাজিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
========================
একটি নতুন অর্থনৈতিক নগর প্রতিষ্ঠাঃ
========================
প্রথমে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের বসবাসের উপযোগী একটি আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠা করতাম। তবে সবাইকে একটি জায়গায় জোর করে স্থানান্তর না করে তাঁদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতাম।
নগরটিকে ১৭টি স্বয়ংসম্পূর্ণ অঞ্চলে ভাগ করতাম। প্রতিটি অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা থাকত। সেখানে পরিকল্পিত আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, খেলার মাঠ, গণপরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকত।
=================================
পাঁচ বছরের জন্য পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণঃ
=================================
প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ বছরের জন্য পাঁচটি মৌলিক সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়া হতো।
√খাদ্য: প্রতিটি পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা।
√বস্ত্র: বছরে প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক সরবরাহ।
√বাসস্থান: নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বিদ্যুৎসুবিধাসম্পন্ন আবাসন।
√চিকিৎসা: বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুসেবা।
√শিক্ষা: শিশুদের বিনামূল্যে আধুনিক শিক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারিগরি শিক্ষা।
তবে এই সুবিধাগুলোকে নিছক সরকারি অনুদান হিসেবে নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার একটি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতাম।
=========================
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে কর্মক্ষম করে তোলাঃ
=========================
এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতো কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন।
নগরে ১৭টি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতাম। সেখানে তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস, আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র শিল্পের কারখানা গড়ে উঠত।
প্রতিটি কর্মক্ষম নারী-পুরুষকে তাঁদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করা হতো।
কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাঁকে বিনা সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ দেওয়া হতো। নারীদের কর্মসংস্থান এবং ঘরে বসে কাজ করার সুযোগও বিশেষভাবে তৈরি করতাম।
===============================
মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য পাঁচ বছরের আয় পরিকল্পনাঃ
===============================
ধরা যাক, একটি দরিদ্র পরিবারের বর্তমান মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকা। তাদের লক্ষ্য হবে পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকা বা তার বেশি মাসিক আয় অর্জন করা।
এজন্য প্রথম বছর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি তৈরি, দ্বিতীয় বছর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, তৃতীয় বছর দক্ষতার উন্নয়ন, চতুর্থ বছর আয় বৃদ্ধি এবং পঞ্চম বছর পূর্ণ আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতাম।
প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অগ্রগতি পরিকল্পনা থাকত।
==============================
নগরকে উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্রে পরিণত করাঃ
==============================
এই নগর শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা হতো না; এটি হতো একটি বিশাল উৎপাদনকেন্দ্র। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতাম। সরকার অবকাঠামো ও প্রাথমিক সহায়তা দিত, আর বেসরকারি খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করত।
নগরের উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হতো। ফলে নগরটি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল না থেকে ধীরে ধীরে নিজের অর্থনীতি দিয়ে পরিচালিত হতে পারত।
============================
পাঁচ বছর শেষে কী অর্জন করতে চাইতাম?ঃ
============================
পাঁচ বছর শেষে আমার লক্ষ্য হতো:
√প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন বা দুজন নিয়মিত উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
√ প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা।
√ প্রতিটি পরিবারের নিরাপদ আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
√ পরিবারগুলোর মাসিক আয় অন্তত ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করা।
√প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অর্থনীতির উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করা।
======
উপসংহারঃ
======
আমার কাছে দারিদ্র্য দূরীকরণ মানে দরিদ্র মানুষকে পাঁচ বছর বিনামূল্যে খাওয়ানো নয়; বরং পাঁচ বছর এমনভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, যাতে ষষ্ঠ বছর থেকে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পরিবার পরিচালনা করতে পারেন।
১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে বোঝা হিসেবে না দেখে আমি তাঁদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতাম।
আমার বিশ্বাস, সরকার যদি এই প্রকল্পে সঠিক বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ইতিহাসে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।
একটি মানুষকে একবেলা খাবার দেওয়া মানবিকতা, আর সেই মানুষকে এমন সক্ষম করে তোলা যেন তিনি সারা জীবন নিজের খাবার নিজেই কিনতে পারেন - সেটিই প্রকৃত উন্নয়ন।
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
অর্থ যোগানের পরিকল্পনা এখানে দিয়ে দিলে আমাকে আর প্রয়োজন হবে না যে!!!
সব কিছু সবখানে দিতে নাই।
ধন্যবাদ।
২|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: খুব সুন্দর আইডিয়া।
'বছরে প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক সরবরাহ' - বলতে কি বুঝাতে চাইছেন? শুধু ঈদে কাপড় পাব?
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
হ্যাঁ।
ঈদকে কেন্দ্র করে পুরো বছরের প্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে দেওয়া হবে।
ধন্যবাদ।
৩|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১
হুমায়রা হারুন বলেছেন: দুই ঈদে নাকি শুধু রোজার ঈদে?
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
দুই ঈদেও দেওয়া যেতে পারে পুরো বছরের কাপড় - ৫ ঋতুর জন্যে ৫ ধরণের কাপড়।
ধন্যবাদ।
৪|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কেন তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে একটি আধুনিক নগরীতে চলে যাবে? মাত্র পাঁচ বছরে এত বড় একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কীভাবে সম্ভব? এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য আধুনিক নগরী গড়ে তোলার মতো জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে? এত শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকার কোথা থেকে পাবে?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক মানুষের থাকা, খাওয়া ও জীবিকার ব্যবস্থা কীভাবে হবে? তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে? শুধু নগরী নির্মাণ করলেই তো হবে না, সেখানে বসবাসকারী মানুষের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
সব মিলিয়ে পরিকল্পনাটি শুনে মনে হচ্ছে, কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। কাগজে-কলমে বিশাল পরিকল্পনা করা যায়, কিন্তু বাস্তবে সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, অর্থায়ন, অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুস্পষ্ট রূপরেখা কোথায়?
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
এটি একটি কনসেপ্ট পেপার বলতে পারেন।
এটার পূর্ণ পরিকল্পনা হিসেবে আসতে কয়েক হাজার পৃষ্ঠা দরকার।
আমি চেষ্টাটা শুরু করলাম, আপনাকে শেষ করার দায়িত্ব দিয়ে।
ধন্যবাদ।
৫|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ ঈদকে কেন্দ্র করে পুরো বছরের প্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে দেওয়া হবে। দুই ঈদেও দেওয়া যেতে পারে পুরো বছরের কাপড় - ৫ ঋতুর জন্যে ৫ ধরণের কাপড়।
আমাদের দেশে না ছয়টি ঋতু ছিল ? শরৎ, হেমন্ত কি এখন এক হয়ে গেছে?
ছয় রকমের জায়গায় পাঁচ রকমের কথা বলে কাপড় তাহলে কম দেয়া হবে, তাই না?
৬|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২১
নাহল তরকারি বলেছেন: দারিদ্র্য বিমোচনের এমন সমন্বিত চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু বিনামূল্যে সহায়তা নয়, বরং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষকে স্বাবলম্বী করার ধারণাটিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিয়ে যথাযথ গবেষণা হলে এটি বাংলাদেশের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হতে পারে। খুব সুন্দর একটি চিন্তাশীল প্রস্তাব।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
লন্ডন ফেরত প্রধানমন্ত্রীর জন্য লন্ডনী গ্র্যাজুয়েট শ্যাইয়ান কে উপদেষ্টা হিসেবে চাই....
১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের জন্যে মেগাসিটি তৈরী করবেন, অর্থ কোথায়?
সরকার ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বেতন দিচ্ছে।