নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ভেতরে গভীরভাবে জমে থাকা এক বিকৃত সংস্কৃতির প্রতিফলন, যেখানে নাগরিকের মর্যাদা সমান নয়, বরং পরিচিতি ও প্রভাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে নাঈম হাসান পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং থানায় নিয়ে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে ফেলা হয়। পরে কিছু পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার ও তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়, এটি কি বাস্তব জবাবদিহি, নাকি জনমত সামাল দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া?

মূল সমস্যা ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং ক্ষমতা প্রয়োগের একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা। অনেক ক্ষেত্রেই আইন প্রয়োগ আইনের সীমার মধ্যে থাকে না, বরং ক্ষমতার প্রদর্শনে পরিণত হয়। নাগরিককে সন্দেহভাজন বানানোর আগে ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণও উপেক্ষিত হয়।
এই ঘটনা আলোচনায় এসেছে কারণ ভুক্তভোগী একজন জাতীয় ক্রিকেটার। কিন্তু একই ধরনের আচরণের শিকার প্রতিদিন অসংখ্য সাধারণ মানুষ, যাদের কোনো গণমাধ্যম কাভারেজ থাকে না, কোনো জবাবদিহিও তৈরি হয় না।

এটাই রাষ্ট্রীয় সমতার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। আইন সবার জন্য সমান বলা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ সমান নয়। পরিচিতি ও অবস্থান অনেক সময় নিরাপত্তা নির্ধারণ করে দেয়, যা সরাসরি আইনের শাসনের পরিপন্থী।

প্রতিবার একই ধাঁচের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তদন্ত হয়, কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তন হয় না। ফলে একই ঘটনা বারবার ঘটে।

এখন আর ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা নির্ধারণ এবং কঠোর, স্থায়ী জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

নাঈম হাসানের ঘটনা তাই শুধু একটি অভিযোগ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ। যেখানে নাগরিকের নিরাপত্তা পরিচিতির ওপর নির্ভর করে, সেখানে আইনের শাসন কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতা পরিবর্তন না হলে, এমন ঘটনা শুধু পুনরাবৃত্তিই হবে না, বরং রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই আরও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশে পুলিশদের ব্যবহার ভালো না।
অতি কুৎসিত।

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক নাগরিকের অভিজ্ঞতাও এমনই। তবে পুরো বাহিনীকে এক কাতারে না ফেলে বলা যায়, যেখানেই ক্ষমতার অপব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ ঘটুক, সেখানে কার্যকর জবাবদিহি ও সংস্কার নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

২| ১৩ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লালখান বাজারের মতো জায়গায় এই ঘটনা ভাবা যায় ? কত গিয়েছি এই এলাকায় ।

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ। ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই এলাকার পরিচিত পরিবেশ বিবেচনায় অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। তবে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৩| ১৩ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৮

মায়াস্পর্শ বলেছেন: বাংলাদেশ পুলিশের ৩০ ভাগ হচ্ছে পেশাদার ছিনতাইকারী, ২০ ভাগ কিডন্যাপার, ১০ ভাগ চোর, ১০ ভাগ ব্ল্যাকমেইলার, ২০ ভাগ মাদক চোরাচালানকারী এবং মাদকসেবী, আর বাকি ১০ ভাগ অমানুষ।

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৮

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য। তবে কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠী সম্পর্কে এভাবে সামগ্রিক ও শতকরা ভিত্তিতে নেতিবাচক মন্তব্য করা বাস্তবসম্মত বা ন্যায্য নয়। সমালোচনা অবশ্যই হওয়া উচিত, কিন্তু তা তথ্য, প্রমাণ ও নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে হওয়াই অধিক গ্রহণযোগ্য।

৪| ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পুলিশ দাবি করে তারা মানবিক পুলিশ
কিন্ত বাস্তবে আমরা তা দেখতে পাইনা ।

...........................................................
পুলিশের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানো দরকার
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল ও সুপারিশের কারনে
তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং নৈতিকতার মানদন্ড
নষ্ট হয়ে গেছে ।

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য। পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাইলে পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, নৈতিক ও জনবান্ধব করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

৫| ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: পুলিশ তার পেশাগত আচরণ আরো পেশাদার না করলে জনগণের রোষানলে পড়তে খুব বেশী সময় লাগবে না। প্রশাসনের উচিত এ ব্যাপারে আরো কঠোর হওয়া ও বিষয়গুলোর দিকে যত্নবান হওয়া। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারলে, জনগণের সহযোগী না হতে পারলে, পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। ক্ষোভের প্রতিফলনস্বরূপ আগস্টের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও আমি অবাক হব না। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসন, জনগন, সুধী সমাজ ও পুলিশকে একযোগে কাজ করা জরুরী।

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাদারিত্ব, সংযম ও জনবান্ধব আচরণ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা গড়ে তোলে। জবাবদিহি, পারস্পরিক সম্মান এবং জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কই একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর সমাজের ভিত্তি। আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য কৃতজ্ঞতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.