| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক

ইশ্কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা কবিতাটি।
একদিন ইশ্কের গভীর রাতে
খোদা তোমাকে আমি বললাম
তুমি কোথায়?
তুমি কোনো উত্তর দিলে না
শুধু আমার বুকের ভেতর
একটি নীরবতা রেখে গেলে।
আমি আবার ডাকলাম
আমি তো তোমাকে খুঁজছি
নীরবতা আরও গভীর হলো।
তখন বুঝলাম হয়তো এতদিন
আমি তোমাকে খুঁজিনি
খুঁজেছি আমারই
একটি সুন্দর কল্পনাকে।
আমি ছিলাম আমার জ্ঞান নিয়ে
আমার সাধনা নিয়ে, আমার পুণ্য নিয়ে
আমার মর্যাদা নিয়ে
আমার পরিচয়ের অহংকার নিয়ে।
বলতাম এ আমার।
একদিন ইশ্ক এসে
আমার মুঠো খুলে দিল
বলল দেখো,কী আছে তোমার হাতে?
আমি তাকিয়ে দেখি শূন্য।
যে শ্বাসকে বলেছিলাম আমার শ্বাস
সে তো আমার আগে থেকেই
আকাশের আমানত।
যে জীবনকে বলেছিলাম
আমার জীবন সে তো একদিন
আমার হাত ছেড়ে যাবে।
যে প্রতিভায় আমি নিজের নাম লিখেছিলাম
সেটিও তো অদৃশ্য কোনো দানের আলো
যে ভালোবাসতে পারি
সেই ক্ষমতাটুকুও আমার অর্জন নয়।
এমনকি
তোমাকে খুঁজবার যে আকুলতা
সেটিও তো তোমারই দেয়া।
তখন বুকের ভেতর একটি পুরোনো প্রাসাদ
ভেঙে পড়তে লাগল আমি’র প্রাসাদ
একটি করে ইট খুলে গেল
আমার জ্ঞান,আমার গর্ব
আমার সাধনা,আমার শ্রেষ্ঠত্ব
আমার আমি জানি
সবই ধুলো হয়ে
পড়ে রইল পায়ের কাছে।
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
তবে আমি কোথায়?
ইশ্ক বলল না কিছু
শুধু দেখাল একটি আয়না।
সেখানে দেখলাম যে আমি-কে এতদিন
অমর ভেবেছিলাম
সে তো এক মুহূর্তের অতিথি।
নাম বদলায় শরীর বদলায়
সম্পদ চলে যায়, মর্যাদা মুছে যায়
প্রশংসা থেমে যায় তবু আমি
আমার, আমার বলে
শূন্য মুঠো আঁকড়ে থাকি!
সেই মুহূর্তে আমার ভেতর কিছু একটা
নিভে গেল ,নিভল অহংকার
নিভল দাবির আগুন
নিভল শ্রেষ্ঠ হওয়ার বাসনা।
এটাই কি তবে ফানা?
নিজেকে মুছে ফেলা নয়
বরং মুছে ফেলা
নিজেকে কেন্দ্র করে
বোনা মিথ্যার দেয়াল।
আমি বড় , এই শব্দের মৃত্যু
আমিই জানি এই অন্ধকারের মৃত্যু
সব আমার এই মোহের মৃত্যু
আমি অন্যের চেয়ে উত্তম
এই বিষের মৃত্যু।
তারপর অদ্ভুত এক সকাল এলো
আমি ভাবলাম
এবার হয়তো পৃথিবী ছেড়ে
দূরে কোথাও চলে যাব
কিন্তু তুমি যেন বললে
না, ফিরে যাও।
যেখানে মানুষ কাঁদে,সেখানে যাও
যেখানে ক্ষুধা আছে সেখানে যাও
যেখানে মানুষ একা তার পাশে বসো
যে ভুল করেছে তার দিকে পাথর ছুড়ো না
তার জন্য দোয়া করো।
যে তোমার চেয়ে আলাদা
তাকে ছোট করো না
তার ভেতরেও আমার নিঃশ্বাসের
গোপন রহস্য আছে।
তখন বুঝলাম
ফানার পরে শূন্যতা নয়
আসে বাকা।
বিলীন হয়ে আবার ফিরে আসা
তবে আগের মতো নয়
আগে বলতাম আমি সবার ওপরে।
এখন বলি আমি সেবক সবার
যুক্ত হয়েছি সমাজ সেবার কাজে !!!!
আগে জ্ঞান ছিল আমার মুকুট
এখন জ্ঞান হলো
আমার দায়িত্ব পালন
আগে ধর্ম ছিল
অন্যকে বিচার করার দাঁড়িপাল্লা
এখন ধর্ম হয়ে গেল
অন্যের ক্ষত ঢেকে দেওয়ার চাদর।
আগে ইবাদত ছিল
নিজেকে পবিত্র ভাবার কারণ
এখন প্রতিটি সিজদা
শুধু একটি কৃতজ্ঞতা
যা কিছু পেয়েছি
সবই তোমার।
এখন অন্যের ভুল দেখলে
চোখ আগে যায়
নিজের অন্তরের আয়নায়
নিজেকে জিজ্ঞেস করি
আমার ভেতরে কি
এই ভুলের কোনো ছায়া নেই?
কারও পতন দেখলে
হাসি আসে না
হৃদয় নরম হয়ে যায়।
কারও অন্ধকার দেখলে
নিজেকে আলোকিত ভাবি না
শুধু মনে হয়, হে রব
আমাকেও তো তুমি
অন্ধকার থেকে তুলে এনেছ।
তখন আমি আর তুমি
দুটি শব্দ হয়তো রয়ে যায়
কিন্তু তাদের মাঝখানের
দেয়ালটি আর থাকে না।
আমি আছি কিন্তু নিজের জন্য নয়
আমি বাঁচি কিন্তু নিজের অহংকারে নয়
আমি ভালোবাসি কিন্তু পাওয়ার জন্য নয়।
আমি সিজদা করি
কিন্তু নিজের পুণ্য গোনার জন্য নয়।
আমি পৃথিবীতে থাকি কিন্তু পৃথিবীকে
নিজের সম্পত্তি ভাবি না।
এটাই হয়তো ফানার পরের সকাল
নিজেকে হারিয়ে
মানুষকে ফিরে পাওয়া
মানুষকে ফিরে পেয়ে
সৃষ্টিকে ভালোবাসা
আর সৃষ্টির ভেতর দিয়ে
স্রষ্টার রহমতের গন্ধ পাওয়া।
শেষে একদিন আবার তোমার কাছে এসে
শুধু এইটুকু বলব হে প্রিয়,
আমার কিছুই নেই।
এই শ্বাস তোমার,এই প্রাণ তোমার
এই চোখের জল তোমার
এই ভালোবাসা তোমার
তোমাকে খোঁজার ব্যাকুলতাও তোমার।
শুধু একটি জিনিস আমার বলে মনে হয়েছিল
আমি
আজ সেটিও তোমার দরবারে রেখে এলাম
তারপর তুমি যদি জিজ্ঞেস করো
এখন তুমি কে?
আমি হয়তো মাথা নত করে বলব
আমি কিছুই নই
এই না-হওয়ার মধ্যেই
তোমার দেওয়া
সবকিছুকে নতুন করে
ভালোবাসতে শিখেছি।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার আন্তরিক প্রশংসা ও মূল্যবান মন্তব্যের জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। লেখার মূল বক্তব্য
অনুধাবন করে এত সুন্দরভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, যা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনাদের এমন উৎসাহই
লেখালেখির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আপনার প্রতি রইল আন্তরিক
শুভকামনা।
২|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৪৫
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: অসাধারণ আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা।
ফানা মানে নিজেকে অস্বীকার করা নয়, বরং অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের মোহ থেকে মুক্ত হওয়া; আর বাক্বা মানে সেই উপলব্ধি নিয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা। প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা তাই নির্জনে নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়, বরং মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে, বিনয় ও করুণায় হৃদয়কে সমৃদ্ধ করা। যখন জ্ঞান অহংকার নয়, দায়িত্ব হয়ে ওঠে; ধর্ম বিচার নয়, সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়—তখনই আত্মশুদ্ধি জীবনের সত্যিকার সৌন্দর্যে প্রকাশ পায়। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদের ‘আমি’র অহংকার থেকে মুক্ত করে তাঁর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার গভীর উপলব্ধি ও হৃদয়স্পর্শী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। প্রকৃত আত্মশুদ্ধি অহংকারমুক্ত হয়ে মানবসেবা,
বিনয় ও করুণার মধ্যেই বিকশিত হয়। পরম করুণাময় আমাদের সবাইকে সেই সত্য উপলব্ধি করে জীবন পরিচালনার
তাওফিক দান করুন। আমিন।
৩|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: Near Death Experience (NDE ) যাদেরই হয়েছে তাদেরকে যা বলা হয়েছে তার সাথে আপনার লেখার এই কয়েকটা লাইন হুবুহু মিলে যায়ঃ
'তারপর অদ্ভুত এক সকাল এলো
আমি ভাবলাম
এবার হয়তো পৃথিবী ছেড়ে
দূরে কোথাও চলে যাব
কিন্তু তুমি যেন বললে না,
ফিরে যাও।
যেখানে মানুষ কাঁদে, সেখানে যাও
যেখানে ক্ষুধা আছে সেখানে যাও
যেখানে মানুষ একা তার পাশে বসো
যে ভুল করেছে তার দিকে পাথর ছুড়ো না
তার জন্য দোয়া করো।'
NDE তে যাবার পর ওদেরকে বলেছিলঃ 'এখনো তোমার সময় হয় নাই। ফিরে যাও। তোমার কাজ এখনো অনেক বাকী।' বেশীর ভাগেরই এমন এক্সপেরিয়েন্স। তাই কবিতার এই অংশটুকু পড়ে মনে হচ্ছিল যেন আপনি NDE -র জগতও ভ্রমণ করে এসেছেন।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এমন গভীর অনুভব ও আন্তরিক উপলব্ধি আমাকে সত্যিই আপ্লুত করেছে। হয়তো মৃত্যুর দুয়ার থেকে
ফিরে আসার অভিজ্ঞতা আর আত্মার গভীর উপলব্ধি একই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে মানুষের প্রতি ভালোবাসা,
দয়া ও সেবাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। আপনার এই সুন্দর অনুধাবন কবিতার আবেদনকে আরও গভীর
করে তুলেছে।
হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইল।
৪|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
পাথর নামাও, মোছো বুকের ক্ষত তার।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
ক্ষমা আর দয়া হোক জীবনেরও সার।
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
অন্ন দাও ক্ষুধার্তেরে, জাগাও মানবতা।
হাইয়া আলাস-সালাহ
ছুটে যাও সেথায়, যেখানে অশ্রু আর হাহাকার।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
পাথর নামাও, মোছো বুকের ক্ষত তার।
হাইয়া আলাল-ফালাহ
বোসো পাশে তার, যে একা জনম ভর।
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ
দোয়া করো তার তরে, যে পথ হারালো এবার।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
মানুষের মাঝে বাঁচুক মানুষ, ছুঁয়ে মানবতার ছোঁয়া।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই অসাধারণ সৃষ্টিতে আজানের পবিত্র ধ্বনি যেন মানবতা, ক্ষমা, করুণা ও ভালোবাসার এক অনন্য
জীবনদর্শনে রূপ নিয়েছে। ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য যে কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ক্ষুধার্তের মুখে
অন্ন তুলে দেওয়া, অসহায়ের চোখের জল মোছা, নিঃসঙ্গ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পথভ্রষ্ট মানুষকে ঘৃণা না
করে তার জন্য প্রার্থনা করার মধ্যেও নিহিত আপনি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় সেই সত্যটিই তুলে ধরেছেন।
বিশেষ করে, পাথর নামাও, মোছো বুকের ক্ষত তার পঙ্ক্তিটি যেন মানুষের প্রতি বিদ্বেষ, বিচার ও নিষ্ঠুরতার
পরিবর্তে ক্ষমা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার এক গভীর আহ্বান। আপনার এই লেখা আমাদের মনে করিয়ে দেয়,
ইবাদতের আলো তখনই জীবনে সত্যিকার অর্থে বিকশিত হয়, যখন তার প্রতিফলন ঘটে আমাদের আচরণে,
বিবেকে এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের হৃদয়কে অহংকার ও বিদ্বেষমুক্ত
করে মানবতার সেবায় নিবেদিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
৫|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১২
রাজীব নুর বলেছেন: ভালো লাগলো
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভালো লেগেছে শুনে কুশী হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লেখা ভালো হয়েছে ।
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখা ভাল য়েছে জেনে ভাল লাগল ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৫
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী লেখা। তথ্য, যুক্তি ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে আপনার উপস্থাপনা পাঠককে নতুন করে ভাবতে এবং বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে অনুপ্রাণিত করে। এমন সমৃদ্ধ লেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।