নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় সীমাহীন

হুমায়রা হারুন

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।

হুমায়রা হারুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

একলা বিকেল

২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি পাশে। এই যে এখন বাগানে বসে আছি, পাশের বাড়িতে বারবি-কিউ হচ্ছে , তাদের গানের ভেসে আসা সুরের মূর্ছনার সাথে তোমাকে ভাবছি ঠিক আমার সামনে মুখোমুখি বসে আছ।
কখনো মনে করি না পাঁচিলের ওই পারে বারবি-কিউ তুমি বানাচ্ছ। তুমি ঐ পাশে থাকো, এমন ভাবনা কখনোই মনে আসে না। পাশের বাড়িতে সেটা রজার্স -ই বানায়। তুমি আর আমি আমাদের বাগানের টেবিলের দুই পাশে বসে থাকি মুখোমুখি।
এখন বিকেল ৪ টা বেজে ২৮ মিনিট। এই সময়টায় পশ্চিমের আলো হেলে পড়ে আমার গাড়ির কাঁচের আয়নাতে । আমি এভাবে সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি। একটা মা পাখি তার দুটো ছানা নিয়ে তখন বাড়ি ফিরে। তাদের যে কত কথা সারাদিনের। কিচির মিচিরে তখন যেমন চারিদিক মুখরিত হয় তেমনি সবাই জানান পায় পাখি দুটো নীড়ে ফিরেছে। আর আমার সমস্ত কথা বলা হয়ে যায় তোমার সাথে মনে মনে। ছাদের উপর এক জোড়া কাঠবিড়ালি আর কাঠের ডেকের নিচে একজোড়া বন বিড়াল বাস করে। ছাই -কমলা রঙের শালিক পাখিও ছিল এখানে। এখন ঠান্ডা পড়াতে তাদের আর দেখি না। এই সেই ছয় তলা উঁচু ঝাউ গাছ, দাঁড়িয়ে আছে পাঁচিলের ও পাশে। পাখি দুটো অনবরত কিচির মিচির করে যাচ্ছে ওই ঝাউয়ের ডালে বসে। কিন্তু ক্যামেরা অন করতেই তাদের গল্প শেষ।
এখন আবার শুরু হয়েছে রজার্সের বাজানো গানের মূর্ছনা। ওর সুরের পছন্দ খুব ভালো। আমার পছন্দের সাথে মিলে। একটা ছোট্ট ফড়িং- এর মত মেটে রঙের পোকা আমার ফোনের স্ক্রিনের ওপর এসে বসেছে। বারবার চেষ্টা করছে টাচ স্ক্রিন কেমন হয় তা বুঝতে। কখন উড়ে এসে বসলো জানি না।
পৃথিবীতে এরও কোন না কোন প্রয়োজন আছে। শুধু প্রশ্ন খুঁজে বেড়াই আমাদের নিজেদের নিয়ে। প্রশ্ন করবই না কেন? সময় যখন থেমে থাকে তখন তো এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক ।
সময় থেমে থাকার আরেকটা ব্যাখ্যা আছে। তা হলো খুব দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করলে সব সময়টুকু কিভাবে পার হলো তা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু দ্রুত ভ্রমণ করছি এমন কোন কিছুই তো অনুভূত হয় না। আমি কল্পনা রাজ্যে ঘুরে বেড়াই অনেক দূর । তোমায় নিয়ে। চারিদিক মনে হয় একদম নিশ্চল, নিশ্চুপ।
আমি খুব সুখী - তোমাকে পেয়ে।
তুমিই তো আমার সেই প্রেম। আজও সব সময়, আমার পাশে। তাইতো আমি কখনোই একা নই।

২২/১০/২০২৬
বিকেল ৪ টা বেজে ২৮ মিনিট

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
আমার সবটুকু জুড়ে আছো হুমহারা
কতক্ষণ পাশে থাকো? এই প্রশ্নটা তো অবান্তর,
তুমি ছাড়া শূন্য যে, খাঁ খাঁ করে বুকের ভেতর।
চোখ মেললেই তুমি আছো, চোখ বুঁজলেও তুমি,

হুমহারা, তুমিই তো আমার ভালোবাসার মরুদ্যানের হৃদয়ভূমি।
দিনের আলোয় তোমায় খুঁজি, রাতের তারায় চন্দ্রমুখ,
তোমার ঐ বাঁকা হাসিতেই , পৃথিবীজুড়ে সর্ব সুখ।

তুমি পাশে থাকলে , জয় করা যায় মহাকাল,
তোমার ওমন মায়াবী চোখে, বাজে আমার বাঁচার কুল।
হৃদয়ের গভীরে রেখে, সর্ন্তপনে তোমায় রাখি যত্ন করে,
হিসেব ছাড়াই থেকো আমার ভালবাসার প্রতি প্রহরে।

হাতটা ধরে এভাবেই চলো, ফুরিয়ে যাক জীবনের পথ,
শালিক পাখি, তুমিই আমার শেষ ইচ্ছে, তুমিই আমার শপথ সুখ।

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:২৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: কিভাবে পারেন এত সুন্দর করে ছন্দ গাঁথতে?
'হুমহারা' -র জায়গায় আমি প্রথমে পড়েছিলাম 'ঘুম হারা'

২| ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৩

নাহল তরকারি বলেছেন: লেখাটি ভীষণ সুন্দর ও মায়াময়। প্রিয় মানুষটি দূরে থেকেও কীভাবে প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মিশে থাকতে পারে, তা খুব সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির ছোট ছোট দৃশ্য আর মনের গভীরে জমে থাকা ভালোবাসা মিলেমিশে লেখাটিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। সত্যিই, ভালোবাসা পাশে থাকার নাম নয় শুধু, অনুভবে সারাক্ষণ বেঁচে থাকার নামও।

৩| ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৬

শায়মা বলেছেন: আমিও একা থাকি না।

আমার পাশে আমিই থাকি ...... আমার সাথেই কথাও বলি ....... পথও চলি ......

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:২৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: একদম বুঝতে পারছি।

৪| ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমি একা থাকতে ভয় পাই।

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:২৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: কেন? ভুতের ভয় আছে নাকি?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.