নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Our sweetest songs are those that tell of saddest thought (Shelly).

রূপক বিধৌত সাধু

মন রে, কৃষিকাজ জানো না; এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলত সোনা! রামপ্রসাদ সেন ([email protected])

রূপক বিধৌত সাধু › বিস্তারিত পোস্টঃ

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল। ঢাকায় কয়েক বছর ধরে থাকা হলেও বারডেমে যাওয়া হয়নি। আসলে প্রয়োজনও হয়নি। বছর চারেক আগে অবশ্য ময়মনসিংহ থেকে একবার বারডেমের উদ্দেশে এসেছিল, তবে হাসপাতালে আর ঢোকা হয়নি। গেট থেকেই চলে গিয়েছিল। কেন ঢোকা হয়নি, সে কথা এখন আর মনে নেই মৃণালের। তবে এখন মনে হচ্ছে আগে আনলে ভালো হতো।

বারডেমের সামনে গাড়ি থেকে নামিয়ে বাবাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ইমার্জেন্সিতে নেওয়া হলো। টিকিট কেটে টাকা জমা দিয়ে পায়ের আঙুল ড্রেসিং করিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল মৃণাল। এর আগে প্রস্রাব, রক্ত পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটা পরীক্ষা করানো হলো। ডাক্তার দেখার পর বেশকিছু দিক-নির্দেশনা দিলেন, ওষুধ লিখলেন। কয়েক ঘণ্টায় মোটামুটি সব কাজ সেরে বাবাকে সিএনজিতে করে মহাখালীতে বাসায় নিয়ে আসা হলো।

ওষুধ চলল বেশ কয়েকদিন। ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে লিখেছিলেন একমাস পরে যাওয়ার কথা। কিন্তু এক সপ্তাহ যাওয়ার পর ক্ষতের কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। ডাক্তার আঙুল ভালো মতো ড্রেসিং করতে বলেছিলেন। বাসার ড্রেসিং ভালো হলো না। দেখা গেল আঙুল থেকে পোকা বের হচ্ছে। মা একদিন ১১টা পোকা বের করেছিলেন আঙুল থেকে। অগত্যা পার্শ্ববর্তী ফার্মেসী থেকে লোক এনে ড্রেসিং করানো হলো। নার্স আরও দুটো পোকা বের করলেন।

ড্রেসিং আরও সপ্তাহখানেক চলল। নার্সকে প্রতিবারে সাড়ে ৩০০ টাকা করে দিতে হলো। মানুষের জীবনের চেয়ে তো টাকার মূল্য বেশি না। ধারদেনা করে হলেও তো চিকিৎসা করাতে হবে। মৃণাল অবশ্য লোকজনের নির্মমতায় খুব অবাক এবং শোকাহত হয়েছিল। বিশেষ করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডাক্তার ও নার্সরা যখন ভালোমতো তার বাবাকে দেখছিল না, আবার ট্রলি বা হুইলচেয়ার যখন পাওয়া যাচ্ছিল না, পেলেও প্রতিবারের ১০০-২০০ করে লাগত, তখন মৃণাল উষ্মা প্রকাশ করে বলত, এরা কী মানুষ!

পায়ের আঙুলের পরিবর্তন তেমন হলো না। আবারও ডাক্তার দেখানো হলো, বেশকিছূ পরীক্ষাও করানো হলো। এবার ডাক্তার অবশ্য ভর্তির কথা বললেন।মৃণালের মা আগেরবারেই ভর্তি করাতে বলছিলেন। সেবার ডাক্তার ভর্তি দেননি। এবার যখন ভর্তি দিল, সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। কেননা তাদের কাছে টাকা-পয়সা তেমন ছিল না। মা বলছিলেন, ময়মনসিংহে ফেরত নিয়ে যেতে।মৃণাল বলল, আপাতত মহাখালীর বাসায় চলুক। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো জমি বেচে হলেও চিকিৎসা চলবে।

বাসায় নেওয়ার পর অবস্থা আরও খারাপ হলো। এর মধ্যে ইদ গনিয়ে এসেছে। দৌড়াদৌড়ি ঝামেলা। মৃণালের অফিস গমনে সমস্যা হয়ে গেল। তবে সে একটা বাঁচা বাঁচল যে, তাকে টানা পাঁচদিন নাইট ডিউটি দেওয়া হয়েছে। সারাদিন বাপের পেছনে ব্যয় করতে পারবে, তবে রাতে ডিউটি করা ক্লান্তিকর হয়ে উঠল।

শবে কদর উপলক্ষে সব ছুটি। এরপর আবার শুক্র-শনিবার। শনিবার আবার ইদ। বাবাকে একবার হাসপাতালে নিতেই হবে। তিনি সারারাত ঘুমেতে পারেন না। উঠে বসে থাকেন। মা আর শ্যালক বাবার পাশের ঘুমান মেঝেতে। সবারেই চিন্তা কী হবে!

বুধবার বারডেমে নেওয়া হলো। হাসপাতাল প্রায় বন্ধ। ৬০০ টাকা ভিজিটে ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার বললেন, রোগীর অবস্থা ভালো না, তাড়াতাড়ি হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যান। এরপর কিছু ওষুধ লিখলেন। আর বললেন, আঙুলে রক্ত চলাচল ঠিক নেই। ভাস্কুলারে নিতে হবে।

সিএনজিতে করে বাবাকে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা জানাল, এ কাজ তাদের নয়। ঢাকা মেডিকেলে নিতে হবে অথবা পঙ্গ হাসপাতালে। পায়ের আঙুলের অবস্থা খুবই খারাপ, কেটে ফেলতে হবে। পরে নিয়মিত চেকআপে এখানে আসতে হবে।

এদিন অবশ্য ঢাকা মেডিকেলে বাবাকে নিয়ে যাওয়া গেল না। তিনটায় অফিস পড়েছে। আপাতত বাসায় ওষুধ চলুক। ইদের পর দেখা যাক ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া যাবে।

রাতে আগের কাগজপত্র দেখছিল মৃণাল। হঠাৎ এক জায়গায় দেখল ডাক্তার হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর করেছে। কী একটা ভুল হয়ে গেল। মৃণালের আফসোস হতে লাগল কেন আগে চোখে পড়েনি। মামা না জেনে কেন বারডেমে আনলেন। আগেই ঢাকা মেডিকেলে নিলে হয়তো এত খারাপ অবস্থা হতো না।

পাঁচ
ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলো বাবাকে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দিলেন। একটা বাদে বাকিগুলো করে বিকেলে রিপোর্ট দেখানো হলো। বাকি পরীক্ষাটা এখন করা যাবে না। আগে শিডিউল নিতে হয়। ডাক্তার বললেন, আঙুলের অবস্থা খারাপ, কেটে ফেলতে হবে। উপায় না পেয়ে তাই করতে হলো।

অপারেশনের সময় বাবা ডাক্তারদের খুব বকাঝকা করলেন। আসলে তার বোধশক্তি বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। যাহোক, ডাক্তার কিছু ওষুধও লিখে দিলেন। বাকি পরীক্ষাটা করে সপ্তাহ খানেক পর ভাস্কুলারে যোগাযোগ করতে বললেন।

ইদ চলে এলো। সারারাত ডিউটি করল মৃণাল। দিনে বাসায় এসে ঘুম। বাবা সারাদিন শুয়ে থাকেন আর হাঁসফাঁস করেন। জানান, ব্যথা অনুভব করছেন। কারও কিছু ভালো লাগে না।

এদিকে বাচ্চার গায়ে স্ক্যাবিস ধরা পড়েছে। শেষরাতে কাঁদে। সাত মাসের বাচ্চার কান্না কি মা-বাবা সহ্য করতে পারে? তাও করতে হলো। পিজিতে ডাক্তার দেখানো হলো। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বহু সংখ্যক শিশুর শরীরে স্ক্যাবিস। ডাক্তার বাচ্চাকে দেখে ওষুধপাতি দিলেন।

এরইমধ্যে বাবার বাকি পরীক্ষাটা, মানে এনজিউগ্রাম করানো হলো জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে। সে এক বিরাট কাহিনী। বাবা নড়াচড়া করেন। টেকনিশিয়ানরা হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, হবে না। টাকা নিয়ে যান। শুধু শুধু পয়সা নষ্ট হবে। মৃণাল হাল ছাড়ল না। অনেক চেষ্টার পর এনজিউগ্রাম সম্পন্ন হলো। পরদিন রিপোর্ট নিয়ে ভাস্কুলারে যাওয়ার পালা।

মামা এলেন ময়মনসিংহ থেকে। সিএনজি ভাড়া করে বাবাকে নিয়ে আসা হলো ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে। এই ফাঁকে মৃণাল রিপোর্ট নিয়ে এলো। টিকিট দেখিয়ে হুইল চেয়ারে করে বাবাকে নিয়ে যাওয়া হলো ভাস্কুলারে। মৃণাল লক্ষ্য করল, বাবা বারবার ঘুমিয়ে পড়ছেন। তাকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। ভাস্কুলারের ডাক্তার বললেন, এটা ঘুম না, সমস্যা হচ্ছে। মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যান।

মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর স্যালাইন দেওয়া হলো। ভয় পেয়ে গিয়েছিল মৃণাল। বাবা সুস্থ বোধ করায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচল সে। এদিন আর ভাস্কুলারে নিয়ে যাওয়া হলো না। বিকেল গড়িয়ে গেছে। অগামীকাল নিয়ে আসতে হবে।

রাতে বাবার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল। বাবা টয়লেটে গেলেন আট-দশবার। তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ল। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা। কিন্তু শরীর এত দুর্বল যে, আগেরদিনের মতো হয়ে যেতে পারে। তার পরদিন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করল মৃণাল।

ছয়
অফিসে ছিল মৃণাল। হঠাৎ বাসা থেকে ফোন। বাবার অবস্থা গুরুতর। বাইক নিয়ে দৌড়ে বাসায় এলো মৃণাল। এসে দেখল বাবার চোখ উল্টে যাচ্ছে। গা এলিয়ে যাচ্ছে। ফার্মেসীর লোক ডায়াবেটিস চেক করে বললেন, কম আছে। চিনির পানি খাইয়ে স্বাভাবিক করা হলো। একটু পর আবারও খারাপ। মৃত্যুর আশঙ্কায় মা বললেন, ময়মনসিংহে নিয়ে যেতে। সবার সামনেই মরুক। বাঁধ সাধল মৃণাল। হাসপাতালে নিতে হবে।

সিএনজি ডাকা হলো। তবে সহজে বাবাকে তোলা গেল না, টেনেহেঁচড়ে তোলা হলো। পথে লুঙ্গি নষ্ট করলেন দুইবার। ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর সবকিছু ত্বরিত গতিতে হলো। প্রথমে আইসিইউতে নেওয়া হলো। সেখান থেকে নতুন ভবনের নিচতলায় মেডিসিন বিভাগে। সেখানে স্যালাইন চলল। জ্ঞান ফিরল তার। মৃণালের স্ত্রী যখন বাবা বলে ডাকল, সাড়া দিলেন তিনি। এরপর পাঠানো হলো ছয়তলায় ওয়ার্ডে। বেড পাওয়া গেল না। জায়গা হলো মেঝেতে। বাবাকে অক্সিজেন দেওয়া হলো, আবারও স্যালাইন দেওয়া হলো।

সবকিছু মোটামুটি গুছিয়ে স্ত্রীকে বাসায় পৌঁছে দিতে এলো মৃণাল। এসে দেখে তার সাত মাসের ছেলেটা সারাদিনের অনাহারে কেঁদে অস্থির। মনটা বিচলিত হলো। অতঃপর যে সিএনজিতে এসেছিল, সেটাতে করেই আবার ঢাকা মেডিকেলে ফিরল।

ডাক্তার কিছু ওষুধ দিলেন। বাইরে থেকে আনল। ডায়াবেটিস মাপতে প্রতিবারে ৫০ টাকা করে দিতে হয়। এ কারণে ২১০০ টাকা খরচে মেশিন কিনেছিল তমাল। তবে স্টিপ পাওয়া গেল না। অবশ্য অসুবিধা ছিল না। পরে ডায়াবেটিস মাপতে হয়নি।

ডাক্তার কিছু ওষুধ আর দুটো ইনসুলিন দিয়েছিলেন। বাইরে থেকে আনল মৃণাল। ওষুধ খাওয়ানো গেল না। বাবার শরীর অবশ। ডাক্তারের পরামর্শে দুটো ইনসুলিন পুশ করানো হলো। ইনসুলিন দুটো হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে। মৃণাল বাইরে থেকে এনেছিল। পরে মাকে বাবার কাছে রেখে ভাবল ইনসুলিন দুটো বদলানো যায় কি না আর ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের স্টিপ পাওয়া যায় কি না। এক তলা নামতেই মনে হলো ডায়াবেটিস মাপার মেশিনটা নেওয়া হয়নি।

দূর থেকে তাকে দেখে তার মা বললেন, তোর বাবা নড়ছে না। ডাক্তার আন।

মৃণাল ডাক্তার ডেকে আনল। সবকিছু চেক করে ডাক্তার নীরব হয়ে গেলেন। মৃণাল জিগ্যেস করল, কিছু হয়েছে? মারা গেছে?
ডাক্তার মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল?

মা আহাজারি শুরু করলেন আর মৃণাল মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।

সাত
রাত সাড়ে বারোটার মধ্যে হাসপাতালের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। সাড়ে ছয় হাজার টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাবার লাশ নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা দিল মৃণাল ও তার মা। মহাখালী থেকে স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালককে তুলে নিল। উত্তরা থেকে উঠলেন দুলাল কাকা।

চারপাশে সুনশান নীরবতা। বাবাকে নিয়ে দুঃখ করছিল মৃণাল। কেমনে যে কী হয়ে গেল। যে লোকটা বিকেলে অসুস্থ ছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালে আসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে এভাবে মারা যাবে? নার্সের গাফেলতির কারণে কি এমন হতে পারে? ইনসুলিনের ওই ডোজটা কি না দিলেই হতো? ওষুধ খেতে পারছিল না ইনসুলিন তো দিতেই হতো। সকাল পর্যন্ত কি অপেক্ষা করা উচিত ছিল? কত কী ভাবছে মৃণাল।

আফসোস করছে যদি মাসখানেক আগে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসত, তাহলে হয়তো আঙুল কাটা লাগত না। যদি লাগতও, হয়তো ভালো হয়ে যেত। ভাস্কুলারের চিকিৎসা করালে হয়তো হাঁটাচলাও করতে পারত।

বাসায় আসতে আসতে রাত তিনটে বেজে গেল। আত্মীয়স্বজনেরা রাস্তায় থাকতেই বারবার ফোন দিচ্ছিল। লাশ দেখার পর সবাই আহাজারি শুরু করল, বিশেষ করে মৃণালের ছোট বোন আর মেজো বোনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে এলো। কাঁদলেই কি আর মৃত মানুষের ফেরত আসবে? তাও মানুষ কেঁদে বুক হালকা করে।

মড়াবাড়িতে মানুষের অভাব নেই। পাড়াপড়শিরা সবাই এসেছে। থাকল সারারাত। মৃণালের চোখে ঘুম নেই কয়েকদিন ধরে। শরীর ভার নিতে পারছে না। কোন ফাঁকে মেঝেতে ঘুমিয়ে পড়ল সে। তার বাবাও তো এভাবেই মরে পড়েছিলেন অনাদরে। মা আর সে শিয়রে বসেছিল।

পরদিন বেলা ১১টায় দাফনকাজ সম্পন্ন হয়ে গেল। যে বাড়ি একসময় আনন্দ-হৈচৈয়ে পূর্ণ ছিল, সে বাড়িতে এখন কান্নার রোল। মৃণাল অফিসে মেসেজ করে বলেছিল তার বাবা মারা গেছে। অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই আপাতত৷ সপ্তাহখানেক তো বাড়িতে থাকতে হবে। মাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু মা তো বাড়িঘর ছেড়ে যেতে রাজি না।

এভাবে সাতদিন চলে গেল। পেটের তাগিদে কর্মস্থলে ফিরতে হবে। মা আর ছোটবোনকে রেখে ঢাকায় ফেরার পালা। শেষবারের মতো ছেলেকে নিয়ে বাবার কবরের পাশে গেল মৃণাল। রাজ্যের কান্না এসে হাজির হলো তার বুক চিরে। ছেলেকে কোলে নিয়ে বাবার কবরের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ।

২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঢাকা।

আগের পর্বের লিঙ্ক
বাবাকে নিয়ে আরও একটি লেখা আব্বা যখন জেলে ছিলেন

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মৃণাল অবশ্য লোকজনের নির্মমতায় খুব অবাক এবং শোকাহত হয়েছিল।
........................................................................................................
ক্ষেত্র বিশেষে বুঝা যায় মানুষ কতটা নির্দয় এবং অকৃতজ্ঞ,
তখন মনে হয় এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি কার জন্য ???

০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: এসব নিয়ে মানুষ ভাবে না, মনে করে দুটো পয়সা করতে পারলেই শান্তি। আসলে তো না।

২| ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম।

০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১৮

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: বড় হয়ে গেল নাকি?

৩| ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লেখা ঠিক আছে এবং ভালো হয়েছে ।

০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:২৫

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: আপাতত লিখে রাখছি। পরবর্তীতে আরও এডিট হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.