নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে। তবে আধুনিক যুগে এসে মনে হচ্ছে - আপনি সময়ের চেয়ে একটু পিছিয়ে ছিলেন!

এখন আদালতে ধর্মগ্রন্থ ছোঁয়ার আগেই উকিল সাহেব বলে দেন,
“মাননীয় আদালত, আমার মক্কেল নির্দোষ।”

মক্কেল পাশে বসে মনে মনে বলে,
“আল্লাহ জানেন, আমি কী করেছি!”

আর পানশালায় গ্লাস হাতে লোকটি বলে,
“ভাই, আজকে কিন্তু আমি একদম সত্য কথা বলব!”
পাশের বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার সরিয়ে ভোঁ দৌড় মারে। কারণ সে জানে - সত্য কথার চেয়ে বিপজ্জনক হলো মাতাল অবস্থায় বলা সত্য কথা!

স্বাভাবিক অবস্থায় যে স্বামী স্ত্রীকে বলে,
“তোমাকে আজ অসাধারণ সুন্দর লাগছে।”
দুই পেগ পরে সে বলে,
“তুমি বিয়ের দিনও কিন্তু এমন সুন্দর ছিলে না!”

ব্যস!
পরদিন সকালে লোকটির মাথাব্যথা নয় - বিবাহিত জীবনের ভবিষ্যৎটাই মাথাব্যথা!

আবার আদালতের সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করা হলো,
“আপনি সত্য বলছেন তো?”

তিনি বললেন,
“জি।”

উকিল বললেন,
“শপথ করে?”

“জি।”

“নিশ্চিত?”

“জি।”

“আপনার আগের বক্তব্যের সঙ্গে এটা মিলছে না কেন?”

সাক্ষী একটু চুপ করে বললেন,
“স্যার, সত্যটা একই আছে। স্মৃতিশক্তিটাই একটু পরিবর্তনশীল!”

তাই গালিব সাহেব, শেষ কথা হলো -
ধর্মগ্রন্থ, আদালত, পানশালা - সব জায়গাতেই মানুষ মানুষই।

শুধু পার্থক্য একটাই -
আদালতে মিথ্যা বললে বিচারক সন্দেহ করেন, আর পানশালায় সত্য বললে বন্ধুরা!



মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: সব মিথ্যা ক্ষতিকর নয়।
যেসব মিথ্যা মানুষের ক্ষতি করে না, সেসব মিথ্যা বলা যেতে পারে। তাতে গুনাহ হবে না।

গালিব সাহেব গ্রেট।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



তাই!!!
জানতাম না তো!!! :)

ধন্যবাদ।

২| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শাইয়ান সাহেব মহান মানুষ ।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১৪

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




তাঁকে সেটা প্রমাণ করতে হবে।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

৩| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৪

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: যারা মদপান করেন, নেশা করেন; তারা এই মদপান/নেশা -কে জাস্টিফাই করার জন্য ওইটার পজিটিভ সাইডটা তুলে ধরেন। যেকোন ধরনের নেশাই সাধারণত রিয়েলিটি শিফট করায়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা যা দেখি/শুনি/বুঝি; নেশাসক্ত অবস্থায় ওই অবস্থাটা পরিবর্তন হয়। একজন মানুষ সুন্দর কি অসুন্দর বা কতটুকু সুন্দর-- এইটা মানুষের ডিএনএ -এর মতন কোন অ্যাবসলুট ট্রথ না; এইটা একেক মানুষের চোখে একেক রকম। কিন্তু নেশা/মদ এই 'দেখা' -কে পরিবর্তন করে দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় যা দেখি/বুঝি নেশা/মদ ওইটাকে আরো বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে, চোখের দেখাটাকেই চেঞ্জ করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেশা/মদ/মাদক মানুষের স্বাভাবিক ইন্দ্রিয়ের ক্ষমতাকে আরো 'এনহ্যান্স' করে দেয় (যতক্ষণ নেশার ঘোর থাকে)। বিয়ের দিন বউকে যা দেখেছিলেন তিনি, মদপান করে ওইদিন তাকে আরো বহুগুন সুন্দর লাগছে।

সবই ঠিক আছে। সমস্যা হলো-- মদ/মাদক/নেশার এই প্রতিক্রিয়ায় মোহিত হয়ে যখন মানুষজন এটাকে নেশা/মদ/মাদকের একটা বিশাল পজিটিভ সাইড হিসেবে তুলে ধরে এবং এটাকে 'সত্যি' বলে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করে। সত্যির অনেক রকম ভার্সন থাকে। মদ খেয়ে আপনি যা অনুভব করলেন, যে সৌন্দর্য দেখলেন ওইটাও সত্যি-- ঠিক আছে। তাই বলে মদের প্রতিক্রিয়া যখন কাজ করেনি তখন চোখে/কানে/ইন্দ্রিয়ে যে 'সত্যি' দেখলেন/শুনলেন/অনুভব করলেন ওইটা মিথ্যা হয়ে যায় না।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




ভালো লিখেছেন।
ধন্যবাদ।

৪| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: লেখার শুরুতে আপনি যেটা মির্জা গালিবের নামে চালিয়ে দিলেন, সেটা আসলে ওমর খৈয়ামের কথা (মতান্তরে লোকজ প্রবাদ)।

ব্লগে এত ঘনঘন এত আবর্জনা প্রসব করে কি আনন্দ পান?

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আপনি ভুল করেছেন!!!

আপনাকে লিখতে হবে - ওমর খাই-আম!!!!
তবে, আমটা টক না মিষ্ট, তা আবার মন্তব্য করলে জানতে পারবেন।

৫| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মনস্তত্ত্ব মানুষের মনের ভেতরের কারণ খোঁজে, দর্শন খোঁজে তার যুক্তি ও নৈতিকতা, আর সাহিত্য
সেই সবকিছুর মিশ্রণে মানুষের আবেগঘন গল্প তৈরি করে। এই তিনটির মিলনমেলাতেই আমরা বুঝতে পারি
কেন মানুষ ধর্মগ্রন্থে গিয়ে কাঁদে, আদালতে গিয়ে নিজের অধিকার খোঁজে,
আবার পানশালায় গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে।

================================================================
আমাদের সাবধান হতে হবে, নাহলে রোবট যুগে প্রতিদিন অপমানিত হতে হবে
আমাদের এই বৈচিত্রমুখী আচরনের জন্য ।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




অপমানিত হলে স্বর্গের দরজা খোলে বলে শুনেছি।
ভালো থাকুন নিরন্তর।

৬| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

অধীতি বলেছেন: লেখক বলেছেন: “আদালতে মিথ্যে বল্লে বিচারক সন্দেহ করেন আর পানশালায় সত্য বল্লে বন্ধুরা।”
কিয়া বাত হে! কি দারুণ উক্তি!

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




কীভাবে কীভাবে যেন উক্তিটি চলে এসেছে, তা উক্তি নিজের বলতে পারবে না!!! :)
শুভেচ্ছা নিরন্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.