কবির গন্তব্য
আবু মকসুদ
মানুষ পালিয়ে যায়
ক্রমশঃ ছোট হয়ে আসে পরিধি,
অরণ্যের গল্প করি
অরণ্য নিধন দেখে নির্বোধ আকাশ সাজাই
চোখ বুজে বুজে শান্তনার পুকুর খুঁজি
চোখের উপর খেলা করে বাতির হলুদ বসতি।
এইসব অরণ্য একদিন অরক্ষিত ধূসর হবে,সুষমা হারাবে-
বোজা চোখে সুযোগ পেয়ে ঢালবে সময়, গরম সীসা
যে মহীরুহ নিয়ে গর্বে মাতি
তার ডালে গেড়েছে আসন ধূর্ত শকুন খেয়াল করিনি।
যে পালিশ দিয়ে কাটিয়ে দেই মধুমাস
বলি তোমরা তফাৎ যাও, সে পালিশে ধরেছে ঘূনপুকো
মিথ্যাবাদী রাখাল অহরহ খেয়ে ফেলছে গল্পের বাঘ।
দেখি ,
যে শিকারী তাক করে সময়ের পাখি
তাকে রুখবার জন্য দাঁড়ায় কোনো একজন
যে রাত দলিত হয়, ঘুমিয়ে থাকে শুষ্ক অভিমানে
একজন জেগে থাকে, পেতে সেই নীলভোর
আমাদের নৈঃশব্দ্যে শোনা যায় একজনের চিৎকার
ভুল তত্ত্বে, ভ্রান্ত পথে।
বিচ্যুতিতে, ক্ষয়ে যাওয়ায়, বিক্ষত হাওয়ায়
গুটিয়ে থাকা ছায়াহীনতায়, গাল্পিক বিষন্নতায়
পাথরের পাষানভারে
একজন দাঁড়ায়, সব কিছু ছাড়িয়ে গিয়ে আরো দূরে
দাঁড়ায় আরো একজন,
সে জানে ইঁদুর জীবন নিয়ে মানুষ বাঁচেনা
পশুদের পায়ের ছাপে আদিমতা,
একজন মানুষ জানে কি ভাবে চড়বে এভারেষ্ট শিখরে
একজন মানুষ পৌঁছতে চায় নদীর কিনারে,
একজন মানুষ দৌঁড়তে চায় মূর্তহরিণ মাত্রায়,
একজন মানুষ চায় জ্যোৎস্নাবৃষ্টি আর নিঃসরণের ঘ্রান
তাই সে দাঁড়ায় স্রোতের বিপরীতে ,
আর সেইসব মানুষের সম্মিলিত
স্বপ্ন বহন করে হেঁটে যান একজন কবি,
একজন আতাউর রহমান মিলাদ।
(আতাউর রহমান মিলাদের জন্ম ১৯৬১ সালে, মনু নদী বেষ্টিত মহকুমা সদর মৌলভীবাজারের শ্রীরাইনগর গ্রামে। পিতা মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া ও মাতা খায়রুন্নেছা বেগম। লেখাপড়া করেছেন মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ ও সিলেটের এম, সি কলেজে। রাজনীতি বিজ্ঞান শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্হায় (১৯৮৬ সালে) বিলেত আগমন। লেখালেখি সত্তর দশকের শেষার্ধে শুরু করলেও আশির দশকে তার স্ফুরন ঘটেছে। দেশে থাকা কালেই আশির দশকের একজন শক্তিশালী কবি হিসেবে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্হান তৈরী করে নিতে পেরেছিলেন। ছাত্রাবস্হায় সম্পাদনা করেছেন সাড়াজাগানো কবিতা সংকলন ‘ভালোবেসে অন্ধ হই‘। আশির দশকে মৌলভীবাজার থেকে সম্পাদনা করেছেন সাহিত্য পত্রিকা ‘ত্রৈমাসিক শাপলা‘। নব্বই দশকে যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘সাম্প্রতিক সাহিত্য‘। তাঁর কবিতা ছাপা হয়েছে বাংলাদেশের স্হানীয় জাতীয় পত্র পত্রিকা সহ ভারতের আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীতে। তার প্রকাশিত গ্রন্হগুলির মধ্যে রয়েছেঃ দুঃসময়ের চিৎকার (১৯৮৪),হৃদয়ের জানালা খুলে (১৯৯০), আর যদি একটা গুলি চলে (১৯৯৯), কবিতার চেক বই (২০০৫), স্মৃতিহীন অচিন আঁধার (২০০৫)। সম্পাদনাঃ তৃতীয় বাংলার কবিতা (২০০৫)। বর্তমানে বিলেত এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সাহিত্যের ছোট কাগজ শব্দপাঠ’র প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।)
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


