আতাউর রহমান মিলাদ এর এক গুচ্ছ কবিতা
জীবনের পুনর্মুদ্রন
বইয়ের মতো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন শেষে জীবনেরও পুনর্মুদ্রন হয়। অসতর্ক মুদ্রন ত্রুটি নিয়ে পুনর্মুদ্রনের আবশ্যকতা স্পষ্ট হয় দহন কালে। মত ও পথের মাঠে ছুটে পালা বদলের ঘোড়া--।
আমার বন্ধু মুজিব এখন কবিতা লিখেনা, মহাজনি ভঙ্গিতে দোকানের জমাখাতা লিখে। একটি কবিতার সমৃদ্ধ শব্দের চেয়ে তার চোখ খুঁজে সমৃদ্ধির জোরালো সংখ্যা। একটি শিল্পমান কাগজ বিয়োবার যন্ত্রণা ভুলে প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে আকাশকে ঘুঙুর পরায়। চাঁদের বাড়ী দখল নিয়ে বন্ধ্যা তর্ক শেষে বন্ধুরা ফিরেনা মুদির দোকানে। রাতজাগা ভোরের নারীরা ‘কোলা’র বোতল গুনে ক্লান্ত দেহে। রাতের দামে কিনে দিনের পন্য। মুজিব কড়ি গুনে সময় চিহ্নে।
পথ চুরি হয়, জীবন খুঁজে নেয় সুলভ সংস্করন। রঙীন প্রচ্ছদে ঘটে জীবনের পুনর্মুদ্রন।
তরুনীগন্ধ উৎসব
কবিতারা গেটের বাইরে অভুক্ত তিনদিন, দানাপানি পড়েনি পেটে। অসির উত্তেজনায় ক্রমাগত রক্তক্ষরন। শব্দপালক ঝরে বাতাসের ক্রোধে। মেয়ের বান্ধবী নিয়ে কবি শুয়ে আছেন খাল ও নদীর মতো। তরুনীগন্ধ উৎসবের অফুরন্ত ফুসরত নিয়ে পয়্তাল্লিশের কবি ভুলে যান কবিতার দৈনন্দিন লালন পালন। হুইস্কির গ্লাসে কাঁপে নেশার ঠোঁট, বদমাস উষতা নিয়ে কবি তৃপ্ত হন ঘরহীন প্রেমে। শো-কেসে সাজিয়ে গৃহলক্ষী বৌ, কবি দেহ তত্ত্ব তালাশ করেন জেরিনের ওমে। বন্ধুর মেয়ে তার মেয়ের বান্ধবী। কবিও সভ্যতার অংশ হন রাত্রির বিছানায়। অন্ধকার আঁচলের গিঁট খুলে কবি আলোকিত হন বিবস্ত্র জোসনায়, কবিতার মানবিক দাঁড়ি কমা ছিঁড়ে। যতোটা নারী চেনা তার চেয়ে বেশী জন্ম নিয়ন্ত্রন। ভাত পচে মদ হলে অভুক্ত কবিতা করে রক্তবমন।
মৌনতার সংগোপন ঢেউ
নিঃসঙ্গতা ঝুলে থাকে সন্ধ্যার ব্যালকনিতে মুখোমুখি। এলোমেলো নিঃশ্বাসে মৌনতার সংগোপন ঢেউ। মাঝে মাঝে নিঃসঙ্গ হই। সময় নিঃসঙ্গ করে পৃথিবীকে, সান্নিধ্যের বোঝা ভারী হলে ছিঁড়ে যায় গিটের বাঁধন। ভুলচেনা আলগোছে পিটে রাখে ভবঘুরে ছায়া। সম্পর্কের হাত ঝুলে ট্রেনের হাতলে, ফেরারী চক্কর খায় শুন্য প্লাটফর্মে। প্রশ্নহীন দৃষ্টি নিয়ে মনভরা বাতি জ্বলে জোছনার প্রতিবেশী সখ্যস্পর্শে। আমি সমর্পিত হই পিনপতন পূর্ণগ্রাসে --পুষ্টিকর স্মৃতিঘাসে।
নিঃসঙ্গতার শত্রু নেই, নিজের ভিতরে ডুবে থাকা যুদ্ধ কিংবা সমঝোতায়। নিজেকে ভাসিয়ে রাখা বাঁচার কৌশলে প্রতিদিন, সামুদ্রিক জলবিদ্যায়।
জীবন পাঠ
আজো তোমার হাতে স্কুলের খাতা, যতো বলি শেখো মেয়ে প্রেমের বিচিত্র পাঠ ততোই মগ্ন হও জ্যামিতিক নিয়মে। জীবনকে কাঁটা কম্পাসে মেপে কি লাভ বলো-- কি লাভ প্রতিভোরে জোরে জোরে নামতা মুখস্ত করে? জীবনে জীবন যোগ করে হূদয়কে হূদয় দিয়ে গুন করলেই চলবে--এরচে’ বেশী শেখার কোন প্রয়োজন নেই তোমার। ভাগ শিখলেই ভাগাভাগির প্রশ্ন আসে-- না না, তুমি এসব শিখবেনা। তোমাকে ভাগ করা যায়না।
ছোট জীবন! এতো যদি স্কুল করো জীবন পড়বে কখন ! স্কুল জামা পরে মন কি কখখনো বড় হয়? এই যে খাতা চেপে বুকে স্কুলে যাও, সেখানে কি ভুল করে লিখোনি কোন নাম, যে ছেলেটা প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে স্কুলের গেটের বিপরীতে শার্টের বোতাম খুলে?
জানোনা কি সেই ছেলেটা বই রেখে প্রতিদিন তোমাকেই পড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


