ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর শিখার জীবনেএকটা দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। ওহীদ দলবল নিয়ে মেয়েটাকে তার বাসা থেকে তুলে আনতে গিয়েছিল। তার সে চেষ্টা সফল হয় নি। উল্টো তাকে অনেকদিন শ্রীঘরে থাকতে হয়েছে।
লজ্জার ব্যাপার হলো, ওহীদকে আটক করার পর কলেজে মিছিল হয়েছে, ওয়াল রাইটিং হয়েছে - ওহীদ ভাই এর কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। আমাদের বাম নেতারা সকলে মুখে একটা সুশীল মুখোশ পরে থাকেন। ( তাদের মুখোশ খোলার জন্যই হয়তো ব্লগে নির্বাক সুশীল নিক নিয়ে অনেকে গুন্ডামি করেন।) ছাত্র জীবনের পর বাম নেতাদের আর সাক্ষাৎ পাই নি। তবে, সে সময় যাদেরকে দেখেছি, তাদের কাউকেই ওহীদের চেয়ে ভালো দেখিনি। এটা আমার দুর্ভাগ্যই বলতে হবে।
এ রকম আরেকজন বাম ছাত্রনেতা ছিল। কোন দলের ঠিক মনে নেই। তাদের তো আবার দলসংখ্যা গুনে বের করা কষ্টকর। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় তার সিট পড়লো আমার সাথে একই বেঞ্চে। সে বাম দিকে, আমি মাঝে। সম্ভবতঃ ইংরাজী দ্বিতীয় পত্রের দিন। পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখি বেঞ্চ কেমন যেন কালো হয়ে গেছে। আমি বুঝিনি যে মারাত্মক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।
পরীক্ষা শুরু হবার মনে হয় আধা ঘন্টা হয়েছে। আমার পাশে হঠাৎ বোমা ফাটলো। বেঞ্চে আগুণ জ্বলে উঠলো। বেঞ্চে পেট্রোল ঢেলে রেখেছিল। সে আমার খাতা কেড়ে নিতে গিয়েছিল। ভাগ্যভালো কয়েকজন শিক্ষক এসে আমার খাতা নিয়ে যান। দ্রুত পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অত্যন্ত নীচু মানসিকতা দিয়ে এই সব গুন্ডাদের গড়ে তোলা হচ্ছে আর তাদের মুখে আটকে দেয়া হচ্ছে মুক্তমনার মুখোশ। এরা পারে না, এমন কিছুই নেই। এরাই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যা করে লাশের উপর উঠে নৃত্য করেছে।
ব্লগে তাদের কার্যক্রম খোলামনে দেখলে যে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারবেন।
চলবে ..
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



