জীবন-চক্র বলে একটা টার্ম আছে, ইংরেজিতে বলে 'লাইফ সাইকেল'। প্রানী জীবন-চক্র সম্পর্কে প্রথম জানি প্রাইমারিতে - ব্যাঙ এর জীবনচক্র পড়তে হয়েছিল বিজ্ঞানবইতে। একটা ব্যাঙ প্রথমে পোনা, তারপর ব্যাঙাচি, তারপর ব্যাঙ, তার থেকে আবার পোনা ... চলতেই থাকে। এই জীবন চক্র ব্যাপারটা যে শুধু ব্যাঙ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বরঙ সকল জীবিত প্রানী এবঙ বহু বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য সেটা শিখতে স্কুল পেরোতে হয়েছে।
ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র বলে কলেজে থাকতে পন্যের জীবনচক্র পড়েছি, মুখস্ত করেছি, পরীক্ষার খাতায় উগড়ে দিয়েছি। এই পন্যের জীবনচক্র বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর গিরগিটির মতো বর্ণ পাল্টে গিয়ে হয়ে গেল 'প্রোডাক্ট লাইফ সাইকেল' এবং গুরুত্বের মাত্রা বেড়ে গেল ভয়াবহভাবে। যেদিকেই যাই, দেখি প্রোডাক্ট লাইফ সাইকেল আছে এবং এই লাইফ সাইকেলের কোন স্টেজে আপনি অবস্থান করছেন তার উপর নির্ভর করে স্ট্রাটেজি কি হবে সেটা ঠিক করতে হবে। চারটি বা পাচটি ধাপের লাইফ সাইকেলের এক একটি স্টেজের স্ট্রাটেজি পুরোটাই আলাদা। মজার ব্যাপার হলো - লাইফ সাইকেলের কোন স্টেজে আছে সেটা নির্ণয় করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। এটা বয়সের মতো নয় যে ১২ বছরের পর ১৩ তে পা দেয়া মাত্রই তাকে টিনএজার হিসেবে আখ্যায়িত করবেন, ৫০ পেরোলেই বার্ধক্য। কোন নির্দিষ্ট সীমা না থাকায় এর পলিসি মেকারদের বেশ বেগ পেতে হয় সঠিক স্টেজ নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী স্ট্রাটেজি তৈরী করার সময়।
লাইফ সাইকেলের এই ব্যাপারটা শুধু জীব কিংবা বস্তুর ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক তা নয়। একজন খেলোয়ার, একজন সিনেমা নির্মাতা কিংবা অভিনেতা অথবা একজন লেখক - প্রত্যেকেই এই লাইফ সাইকেল মেনে চলেন, স্বেচ্ছায় নন, অগোচরে। আর তাই খ্যাতির 'মধ্যগগনে' শব্দটা তাদের জন্য ব্যবহার করা যায় সহজেই। সকলেই আস্তে আস্তে শুরু করেন, তারপর বেড়ে উঠেন, এক পর্যায়ে চূড়ায় উঠতে সক্ষম হন, সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন এবং তারপর পড়তে শুরু করেন। কে কত বড় লাইফ সাইকেল ধরে রাখতে পারলেন কিংবা মধ্যগগনে কত বেশী সময় থাকতে পারলেন, অথবা পতন কতটা ধীরগতির হলো তার উপর নির্ভর করে সে কত দ্রুত হারিয়ে যাবে বা যাবে না।
এই পতন অবস্থা কখনোই কাম্য নয়, যে জীবিত কিছু হোক বা না হোক। বিভিন্ন কারণে এই লাইফ সাইকেল কম বা বেশী হয়। ব্লগারদের জন্য এই কথাটা একদম সত্যি। গত তিনবছরের ব্লগিঙ জীবনে বেশ উদাহরন রয়েছে। নাফিস ইফতেখার নামের অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্লগারের ব্লগিঙ লাইফ সাইকেল কিন্তু খুব বড় নয়। তিনি খুব দ্রুত চূড়ায় উঠেছেন এবং সেখান থেকে নেমেছেন অর্থ্যাৎ ব্লগিঙ বন্ধ করেছেন। আরেকজন ব্লগার আসিফ মুভি পাগলাকে তার ৫ মাসের পোস্ট সংখ্যা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম - এত দ্রুত পড়লেন কেন? এরকম উদাহরণ ভুরি ভুরি।
আমার যাবতীয় লেখার একজন অন্যতম পাঠক আমার ছোট ভাই। সে মূলত পাঠক, মাঝে মাঝে টুকটাক লিখে। (তার একটি লেখা আমার নিকে প্রকাশ করেছিলাম এই সামুতেই ) দিন দুয়েক আগে আমার বিগত কিছু পোস্ট পড়ার পরে সে মন্তব্য করেছে - আমার নাকি বিগিনিঙ অব দ্য ফল - অর্থ্যাৎ পতন শুরু হয়েছে। লেখার মানোবনতি ঘটেছে, যৌবন-জৌলুস হারাচ্ছে। অভিযোগ পেয়েছি পাঠকের কাছ থেকেও। এত দ্রুত লাইফ সাইকেলের শেষ স্টেজে চলে আসবো ভাবিনি - কষ্ট লাগছে খুব, তাই এই পোস্ট।
আপনাদের লাইফ সাইকেল দীর্ঘ হোক, অনেক অনেক অনেক দীর্ঘ - এই শুভকামনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




