somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন পর্ব ৯

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালটা কেমন যেন বোরিং লাগছে। অফিসে যেতে মন চাইছে না তামিমের। আনিতা এক সপ্তাহের জন্য ঢাকার বাইরে গেছে কিন্তু তামিমের বার বার মনে হচ্ছে আনিতা আর ফিরবে না। শেভিং ফোম গালে ঘুষতে ঘুষতে আয়নায় নিজেকে দেখে হাসে তামিম। সে কি ভাবছে আনিতা কে নিয়ে! না আনিতা সে রকম মেয়ে না। সে ফিরে আসবে। তামিমের ভালবাসা আনিতা কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারে না। রেজার দিয়ে গালে আঁচড় দেয় তামিম। আনিতা ক্লিন শেভে তাকে খুব পছন্দ করে। যদিও আনিতা নেই তার পরেও তামিম নিজেকে ফিট ফাট করতে চায়।
একটা মেরুন সার্ট আর নীলাভ রঙচটা জিন্স পেন্ট পরে নিচে নেমে আসে তামিম। এই ড্রেস আনিতার খুব প্রিয়। গত ভ্যালেন্টাইনে আনিতা এই সার্টটা তাকে গিফট করে।
ডাইনিঙে পঞ্চবেঞ্জন সাজানো। তামিমের মা সব সময় নানা রকম রান্নার এক্সপেরিমেন্ট করে। আর সে গুলো তামিম কে হজম করতে হয়। বেশির ভাগ সময়ে সেই রান্না মুখে তোলা যায় না। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু অসাধারন রান্না করে রাহেলা রহমান।
তামিম অন্য খাবারের দিকে আজ মন দেয় না। দ্রুত হাতে টোস্টে মাখন লাগিয়ে খেতে থাকে। গাজর, টমেটো, শসা, আনারসের মিশ্রণে এক কুৎসিত থকথকে পদার্থ যাকে জুস বলা যায় গ্লাসে ঢেলে গলধকরন করে বেরিয়ে পরে বাসা থেকে। আজ তামিম কে অনেক কাজ শেষ করতে হবে। অফিসে তার অনেক লিভ পাওনা আছে সেগুলো সৎব্যাবহার করতে হবে। এক সপ্তাহের ছুটি নিতে চায় সে। আনিতার কাছে থাকতে হবে।
আনিতা যখন তার কাছে কক্সবাজার যাবার কথা বলল তখন তার যে খারাপ লাগেনি তা না। কিন্তু আনিতা কে কোন ব্যাপারে বাধা দিতে পারে না বলেই সে এক কথায় রাজি হয়ে গেছে। আর তা ছাড়া আনিতা তার কাছে অনুমতি চেয়ে কথাও যাচ্ছে এতেও তামিমের কেমন জানি গর্ব হতে থাকে। কিন্তু আনিতা কে ছাড়া একটা মুহূর্ত দূরে থাকতে পারে না সে। কি এক টান আনিতার জন্য ফিল করে তামিম।
অফিসের কাঁচের দরজা টা ঠেলে ভেতরে ঢুকে তামিম। ঝটপট জরুরি ইনফরমেশন গুলো রিসেপশন থেকে নিয়ে তার ডেস্কে যায়। রাজ্যের যত ফাইল সব মনে হয় তার ক্যাবিনে জমা করে রাখে দপ্তরী। বিরক্তিতে ভ্রু কুঞ্চিত তামিমের। বেস্ত হাতে একের পর এক ফাইল রিড করে সিগনেচার করতে থাকে। যে গুলো একটু সমস্যা আছে সেগুলো আলাদা করে রাখে। দুপুর নাগাদ সব ফাইল দেখা শেষ করে ফেলে তামিম। ঘাড়ের একটা দিক ব্যাথায় টনটন করছে। অফিসের ক্যান্টিনে গিয়ে সুপ আর একটা বার্গার ওয়ার্ডার করে।
- কি তামিম সাহেব? খবর কি আপনার?
পাশ ফিরে দেখে আবিদ হোসেন। তামিম মোটেও এই লোকটাকে পছন্দ করে না। এর কথা তার কাছে আবার তার কথা এর কাছে বলে বেরানো টাইপ মানুষ আবিদ। কিন্তু এক সাথে কাজ করতে গেলে তো সৌজন্যমূলক ব্যাবহার করতেই হয়।
- এই তো ভাই, চলে যাচ্ছে দিন কোন মতো।
তামিমের হাল্কা জবাব।
- তা শুনলাম বস এবার জেনারেল ম্যানেজার করার জন্য দশ জনকে সর্ট লিস্টেড করেছেন! তার মাঝে আপনি একজন। এ ব্যাপারে কিছু জানেন নাকি?
স্বরযন্ত্রীর মতো মুখ করে বলে আবিদ।
- না জানি না।
- আমি জানি। এবার আপনি হচ্ছেন জিএম।
- হলে তো ভালোই।
তামিমের সোজা সাপটা জবাব। আবিদ কিছুটা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এ রকম মানুষের সাথে কথা বলে মজা নাই। আবিদ মুখ কালো করে চলে যেতে গিয়ে আবার ফিরে আসে।
- শুনলাম এবার যাকে জিএম করা হবে তাকে সিঙ্গাপুরের ব্রাঞ্চে ট্রান্সফার করা হবে।
- ভালই তো। কোম্পানির টাকায় সিঙ্গাপুর দেখতে পাবো।
তামিমের কথা শুনে আবিদ হোসেন কথা বলার সব উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। নিজের টেবিলে ফিরে যায়। অন্যদের সাথে কথা বলতে থাকে।
বিকাল চারটার দিকে তামিম তার সাত দিনের লিভ লেটারটা নিয়ে তার বসের ক্যাবিনে গেলো।
ডেভিড পার্ক একজন মার্কিন নাগরিক। কিন্তু বাংলা মোটামুটি ভালই জানে। হাসিখুশি মানুষ। কিন্তু কাজের ব্যাপারে খুব বেশি সিনসিয়ার। টাইম মতো আর খুব ভালো কয়ালিটির কাজ তার পছন্দ। তাই যারা এই দুইটা মেইনটেইন করতে পারে তাকে খুব পছন্দ করে ডেভিড। তামিম তাদের মধ্যে এক জন। কখনোই কাজের ব্যাপারে কম্প্রমাইজ করে না।
অর্ধস্বচ্ছ কাঁচের দরজা টা ঠেলে ডেভিডের ক্যাবিনে ঢুকে তামিম।
- হ্যালো স্যার।
হাসি মুখে সংবর্ধনা জানায় তামিম। সামনে এক মস্ত সেগুন কাঠের ডেস্ক। তার উপর এলোমেলো ফাইলের ইস্তুপ। তার পেছনে ডেভিডের হাসি মুখ দেখতে পায় তামিম। রিভেলভিং চেয়ারটায় হেলান দিয়ে তামিমের দিকে তাকায় ডেভিড পার্ক।
- Hello young man. So how was your day?
- Fine sir. I need your help.
- Help? You mean সাহায্য?
- জি স্যার। আই নিড লিভ ফর ওয়ান উইক।
- ওয়ান উইকের লিভ চাইছ কেন?
- একচুয়ালি কোথাও যেতে হবে।
- কোথায় যেতে চাও? এখন প্রমোশন এর জন্য বার বার অডিট আসছে। আমি রেকমেণ্ড করেছি যাতে তোমার জিএম এর পোস্টটা দেয়। আর তুমি না থাকলে কি করে হবে বল? এনিথিং আর্জেন্ট?
- প্লিজ একটু মেনেজ করুন। খুব আর্জেন্ট।
- ওকে। ইউ মে। বাট ট্রাই করো একটু তারাতারি ফিরতে।
- ওহঃ থ্যাঙ্কস স্যার।
তামিম খুশি মনে ডেভিডের ক্যাবিন থেকে বেরিয়ে আসে। আজকের রাত টা। তার পর তামিম আনিতার কাছে চলে যাবে।
নিজের ডেস্কে ফিরে তামিম কিছু কার্ড দেখতে থাকে। না নেই। তার যে কার্ডটা দরকার সেটা নেই। কেন যে অপ্রয়োজনীয় ভেবে কিছু কার্ড ফেলে দেয় সে এটা ভেবেই নিজের উপর রাগ লাগে তামিমের। হাতের কাছে ল্যাপটপ টা টেনে নিয়ে এয়ার লাইন গুলোর ওয়েব সাইট দেখতে থাকে। কোন এয়ার লাইনেই কাল টিকেট পাওয়া জাচ্ছে না। এটা পিক সিজিন। সবাই জাচ্ছে বাইরে। তামিম হাল ছাড়ে না। দেখতে থাকে একের পর এক। অবশেষে পেলো একটায়। অনলাইনে টিকেট কিনে ফেলল। কিছুক্ষন পর একটা মেয়ে ফোন করে রিনরিনে মিষ্টি গলায় জানিয়ে দিলো তার টিকেট কনফার্ম। আগামীকাল সকাল ১১টায় ফ্লাইট।
তামিম বাসায় ফিরে ফুরফুরে মেজাজে। রাতে রাহেলা রহমানের রান্না করা কুৎসিত মাছের কালিয়াও খুব মজা করে খায়। ঘুমতে যায় তারাতারি। রাহেলা কে সে বলেনা আনিতার কাছে জাচ্ছে। রাহেলা যদিও আনিতা কে পছন্দ করে কিন্তু ছেলে বিয়ের আগেই বউয়ের পেছনে ঘুরঘুর করবে এটা রাহেলা মেনে নিতে পারে না। আর তাছাড়া ছেলেকে নিজের কাছে রাখার জন্য নানানটা বাহানা করবে। তাই রাহেলা কে বলেছে সে কোম্পানির কাজে এক সপ্তাহের জন্য বাইরে যাচ্ছে। রাহেলা মেনে নিয়েছে সহজ ভাবেই। আনিতার কথা বললে হয়তো ব্যাপারটা এতো সহজ হতো না।

পর্ব ১ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×