somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন পর্ব ৫

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন রাত প্রায় ৩ টার মতো বাজে। সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন। রাহাতের চোখে ঘুম নাই। সে বই টা বন্ধ করে হাতড়ে একটা নোটবুক বের করে। সারাদিন কি কি করেছে সবকিছু লিখে রাখে সে এই নোটবুকটায়। টুকটাক ব্যাপার গুলো। বাসা থেকে এই এখন পর্যন্ত সবকিছু লিখতে থাকে। একটু ক্ষণের জন্য মাথা তুলে আনিতার দিকে তাকায় রাহাত। সামনের বাঙ্কে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। সুন্দর দেখাচ্ছে আনিতা কে। এই মেয়ে টা তাকে যে ভালবাসতে শুরু করেছে এটা রাহাত বুঝে। কিন্তু সে প্রকাশ করে না। অতি তুচ্ছ কোন ব্যাপার নিয়ে প্রায় প্রতি ক্লাসের পর তার কাছে ছুটে যেতো। রাহাতের কফি-কালার পছন্দ দেখে সে রঙের জামা বেশি পরে আসত। রাহাত সব বুঝতে পারে। কিন্তু নিজের ছন্নছাড়া জীবনের সাথে আনিতা কে জুড়তে চায়নি সে। তাই কোনদিন আনিতা কে বুঝতে দেয়নি যে রাহাতও আনিতার প্রতি দুর্বল হতে শুরু করেছে। কবে থেকে কি করে রাহাত জানে না। শুধু এটুকুই জানে প্রতি সপ্তাহের দুই দিনের ক্লাসের জন্য সে অপেক্ষা করে থাকে। ছটফট করে আনিতা কে দেখার জন্য। তার হাসিটা, কথা বলার ধরণ, তার দিকে তাকিয়ে থাকা, সবকিছুই রাহাতের খুব ভালো লাগে। কিন্তু সে আনিতার মতো সেটা প্রকাশ করে না। একদিন আনিতা ক্লাসে আসতে দেরি করল দেখে তাকে অনেক বকেছিল। আনিতার খুব মনখারাপ হয়েছিল। কিন্তু রাহাত তাতেও থামেনি। রাহাত জানে এটা তার দুর্বলতা ঢাকাবার একটা চেষ্টা মাত্র। আনিতার চখের দিকে তাকিয়ে সে থেমে যায়।
দিলিপ যখন এই ট্যুরটায় আসার প্রস্তাব দিল তখন রাহাত না করে দিল। কিন্তু যখন জানতে পারল আনিতাও জাচ্ছে তখন সে রাজি হয়ে গেল। রাহাত সেটা লুকানোর চেষ্টা করল। এমন ভাব করতে থাকলো যেন খুব অনিচ্ছার সাথে রাজি হয়েছে। ট্রেনে এক কেবিনে পাশাপাশি বাঙ্কে দুইজন বসে ছিল কিন্তু দুজনই এমন ভাব করছিল যেন কেউ কাউকে চিনে না। আনিতা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ আগে। চখের কণে একটু পানি কি দেখেছিল? হয়ত। আনিতা একটু একটু তাকাচ্ছিল তারদিকে। সরাসরি না আড়চোখে। রাহাত মুখের সামনে একটা বই ধরে রাখলেও আনিতার দিকে দেখছিল বার বার।
একটা সময় পর আনিতা চিপস দেয়ার অজুহাতে তার সাথে কথা বলা শুরু করলে রাহাতও কথা বলতে শুরু করে। নিজেকে আনিতার কাছে যাওয়া থেকে দূরে রাখতে পারেনা সে। আনিতার বাঙ্কে গিয়ে বসে। আনিতা হয়তো একটু অপ্রস্তুত হয়ে সরে বসে। কিন্তু রাহাত সেখানেই বসে থাকে। রাত ২ টা পর্যন্ত গল্প করল তারা। আনিতা এক সময় ঘুমিয়ে পরল। কিন্তু রাহাত জেগে থাকে। এই রকম কোন রাত তার জীবনে আসবে না। আনিতাকে এতো কাছথেকে কি আর কোনদিন দেখতে পাবে? প্রতিটা মুহূর্ত রাহাত নিজের কাছে ধরে রাখতে চায়।
আনিতা ঘুমের মাঝে একটু নড়ল। গা থেকে কম্বল টা একটু নিচে নেমে আসে। আনিতার দিকে তাকিয়ে রাহাতের গা ঝিমঝিম করতে থাকে। রাহাত এক অবর্ণনীয় আকর্ষণ অনুভব করে। না এটা শারীরিক আকর্ষণ না। আবার মানসিক আকর্ষণও না। দুইটাই মিলে মিশে একাকার ধরনের এক আকর্ষণ। রাহাত উঠে আনিতার কাছে যায়। কিছুক্ষন অপলক তাকিয়ে থাকে আনিতার দিকে। কি সুন্দরই না লাগছে আনিতাকে। রাহাত একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এটাই তাদের জীবনের শেষ জার্নি। আর কখনো তারা একসাথে থাকবে না। কোথাও এক সাথে যাবে না। আর একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে বুক থেকে।
রাহাত ঝুকে আনিতার কম্বলটা টেনে বুকের উপরে তুলে দেয়। কপালে আলতো একটা চুমু দেয়। আনিতা কি একটু কেপে উঠলো? আনিতা কি ঘুমায়নি? রাহাত দূরে সরে যায়। আনিতাকে সে কখনই বুঝতে দিতে চায়না তার দুর্বলতার কথা।

পর্ব ১ Click This Link
পর্ব ২ Click This Link
পর্ব ৩ Click This Link
পর্ব ৪ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×