somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট রাখলাম:


১. প্রত্যেকটা গার্মেন্টসের সাথে জড়িত ভীনদেশীদের তালিকা তৈরী করে, তাদের মধ্যে বিদেশী কর্মীদের অবসরে পাঠাতাম এবং ভীনদেশীরা (ক্লায়েন্ট/কর্মী) শুধুই ম্যানেজমেন্ট বডির সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য থাকবে এমন নিয়ম করতাম।

২. গার্মেন্টসের সিসি ক্যামেরার যথাযথ প্রয়োগ এবং নজরদারি বাড়াতাম। লাইনম্যানদের কড়া জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতাম, সেই সাথে প্রতি ৩ মাসে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতাম।

৩. শ্রমিকদের মজুরী সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতাম। এমন নিয়ম করতাম যে, ডলারের দামের ওঠা নামার সাথে সাথে তাদের বেতন অটোমেটিক ওঠা নামা করবে এবং সেটা প্রতি তিন মাস পরপর। অর্থাৎ টাকার মান কমলে ৩ মাসের মাথায় বেতন বাড়বে। অথবা টাকার মান বাড়লে ৩ মাসের মাথায় বেতন কমবে। সেই বেতন পরবর্তী ৩ মাস বলবৎ থাকবে।

৪. গার্মেন্টেসের মালিক পক্ষের উপর নজরদারি বাড়াতাম। কারন গার্মেন্টসের নিজস্ব মিডিয়া বরাতে দেশের মানি লন্ডারিং বা ডলার পাচার সবচেয়ে বেশি হয়। উদ্দ্যেশ্য সেটা কমিয়ে আনা।

৫. গার্মেন্টেস, হসপিটাল এবং সেনাবাহিনীর জন্য আলাদা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতে ব্যবস্থা করতাম। শুধু গার্মেন্টেসের জন্য আলাদা লাইনে নিরববিছ্ন্নি গ্যাসের ব্যবস্থা করতাম। নিরবিচ্ছ্ন্নি গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা।

৬. যতদ্রুত সম্ভব গার্মেন্টসকে ঢাকা থেকে সরিয়ে নিতাম, সেই সব অঞ্চলে প্রতিস্থাপনে বাধ্য করতাম, যেখান থেকে বেশি শ্রমিক এসেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। যেমন, হবিগঞ্জ, রংপুর, ঠাকুরগা, বরিশাল, মুন্ষিগঞ্জ, ফরিদপুর বা অন্যান্য জেলার মানুষ। কারন ৪২ লক্ষ গার্মেন্টেস কর্মীদের ঢাকায় টেনে আনায় ঢাকার উপর চাপ বেড়েছে। শুধু ৪২ লক্ষ কর্মী আসেনি, সাথে তাদের পরিবার এসেছে, খাদ্য সরবরাহকারী এসেছে, আরও অন্যান্য পেশাজিবী এসেছে তাদের চাহিদা মেটাতে। এই ৪২ লক্ষ আসলে প্রায় ডের কোটি। কিন্তু গার্মেন্টসগুলো যদি বিভিন্ন জেলায় রাখা যেত, তাহলে কর্মীরা নিজেদের বাসা বা এলাকায় থেকেই কাজে যোগ দিতে পারত। ভিন্ন একটা শহরে বাসা ভাড়া, বাচ্চা পালনের চিন্তা বা মা বাবাকে ফেলে আসার চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হত না। মানুষের যখন মানসিক তৃপ্তি থাকে, দু:চিন্তা কম থাকে তখন উৎপাদন অটোমেটিক প্রফিটেবল হয়।

উত্তর বঙ্গে সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে কার্গো বিমান ওঠা নামার সুযোগ আছে। বগুড়াতেও হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর। এছাড়া সিলেট, বরিশাল, যশোর আর চট্রগ্রামে তো আছেই। খুব সহজে মালামাল বিমানে বা অন-রোডে পাঠানো যায়। বায়ার রা বিমানে আসা যাওয়া করবে, সাথে প্রাইভেট হেলিকপ্টারও আছে, সেক্ষেত্রে যোগাযোগের কোন অযুহাত থাকতে পারে না। আমার কথা হল, প্রতিদিন ৫ কোটি পিস কাপড় তৈরীর জন্যে ১.৫ থেকে ২কোটি মানুষকে ঢাকায় টেনে আনার কোন মানে হয় না। দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্নভাবে গার্মেন্টেস সারা দেশে ছড়িয়ে থাকলে জনরোস ধীর গতিতে বাড়বে। ২ ঘন্টায় ঢাকা অচলের মত অবস্থা সৃষ্টি হবে না। তৃতীয়ত্ব, উৎপাদন খরচ কমবে। যানবাহন সংশ্লিষ্ট সকল জীবস্যজালানীর ব্যবহার কমবে। দেশের টাকা অবাঞ্চিত ব্যয় করবে। ঢাকার ৫০০০ বস্তি কমে অর্ধেকে নেমে আসবে। জবর দখল করা জায়গা অমানবীক ভাবে উচ্ছেদ না করেও, মালিকপক্ষ তা ফিরে পাবে।

৭. প্রতিটি গার্মেন্টসের জন্যে আমি পানির ব্যবহারের মিটার বসিয়ে দিতাম। সেই পানি তারা ভূগর্ভস্ত লেয়ার থেকে সংগ্রহ করুক বা ওয়াসা থেকে করুক, যায় আসে না। মাটির নীচের গ্যাস যেমন রাষ্ট্রের সম্পদ, পানিও তেমনি রাষ্ট্রের সম্পদ। সারা দুনিয়া বাংলাদেশ থেকে কাপড় কম দামে কেনে তার একটা বড় কারন এখানে পানির দাম দিতে হয় না এবং পানি রিসাইকেলিং করতে হয় না। কিন্তু এই পানি অফুরন্ত সম্পদ নয়। তাই লাগাম টেনে ধরতে পানির পুংখানু পুঙ্খ হিসাবের ব্যবস্থা করে মূল্য সংযোজন কর বসাতাম।

৮. কর্মী থাকা অবস্থায় ইন্ডাসট্রি ফলটের কারনে অপমৃত্যু হলে সেই কর্মীর পরিবারকে পরবর্তী ১০ বছর পূর্ন বেতন প্রদান করতে হবে নিয়ম করতাম।

৯. গার্মেন্টসের পাশাপাশি লেদার বা চামড়াশিল্পকে পুনরোজ্জিবিত করতাম। লেদার গার্মেন্টেসের দিকে নজর দিতাম।

১০. দেশের বিসিক শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট সকল যন্ত্রাংশ তৈরীর উদ্দ্যোগ নিতাম।

১১. কর্মীদের বাচ্চাদের SSC পর্যন্ত সকল পরীক্ষার ফিস গার্মেন্টসের উপর চাপিয়ে দিতাম এবং ১৮ বছর বয়ষ্ক হলে তাদেরকে আগ্রাধিকার সূত্রে কর্মী হিসেবে নিয়োগের নিয়ম চালু করতাম।

১২. অভ্যন্তরীন অরাজগতা সৃষ্টিকারী বা এক গার্মেন্টেসের গোপনীয় তথ্য অন্য কোথাও প্রকাশ করা কর্মীকে সম্মিলিত বয়কটের নিয়ম করতাম। অর্থাৎ সেই কর্মী অন্য কোন গার্মেন্টেসে নিয়োগ প্রাপ্ত হতে পারবে না। কারন এরা হল নতুন প্রজন্মের '৭১র গাদ্দার। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মৌলিক চাহিদা বিনষ্ট হলে প্রতিবাদ করার অধিকার বলবৎ রাখতাম।

১৩. প্রিন্ট বা অনলাইন মিডিয়াকে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর ও ভূয়া খবর প্রকাশে সংযম হতে নির্দেশ দিতাম।

১৫. ২০ বছরের অধিক পুরোন কোন বিল্ডিয়ে গার্মেন্টস করা যাবে না নিয়ম করতাম। প্রতি ২ বছর পরপর বিল্ডিয়ের ব্যবহার উপযোগিতা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতাম বিনামূল্যে। যাতে রানা প্লাজা ট্রাজেডী ইতিহাসে ঐ একটিই থাকে।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×