somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০ লাখ দরিদ্র মানুষকে শুধু খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা নয়; বরং পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এজন্য আমি একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক নগর প্রতিষ্ঠা করতাম, যেখানে দারিদ্র্যকে স্থায়ীভাবে পরাজিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

========================
একটি নতুন অর্থনৈতিক নগর প্রতিষ্ঠাঃ
========================

প্রথমে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের বসবাসের উপযোগী একটি আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠা করতাম। তবে সবাইকে একটি জায়গায় জোর করে স্থানান্তর না করে তাঁদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতাম।

নগরটিকে ১৭টি স্বয়ংসম্পূর্ণ অঞ্চলে ভাগ করতাম। প্রতিটি অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা থাকত। সেখানে পরিকল্পিত আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, খেলার মাঠ, গণপরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকত।

=================================
পাঁচ বছরের জন্য পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণঃ
=================================

প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ বছরের জন্য পাঁচটি মৌলিক সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়া হতো।
√খাদ্য: প্রতিটি পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা।
√বস্ত্র: বছরে প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক সরবরাহ।
√বাসস্থান: নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বিদ্যুৎসুবিধাসম্পন্ন আবাসন।
√চিকিৎসা: বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুসেবা।
√শিক্ষা: শিশুদের বিনামূল্যে আধুনিক শিক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারিগরি শিক্ষা।

তবে এই সুবিধাগুলোকে নিছক সরকারি অনুদান হিসেবে নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার একটি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতাম।

=========================
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককে কর্মক্ষম করে তোলাঃ
=========================

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতো কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন।
নগরে ১৭টি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতাম। সেখানে তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস, আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র শিল্পের কারখানা গড়ে উঠত।

প্রতিটি কর্মক্ষম নারী-পুরুষকে তাঁদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করা হতো।

কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাঁকে বিনা সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ দেওয়া হতো। নারীদের কর্মসংস্থান এবং ঘরে বসে কাজ করার সুযোগও বিশেষভাবে তৈরি করতাম।

===============================
মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য পাঁচ বছরের আয় পরিকল্পনাঃ
===============================

ধরা যাক, একটি দরিদ্র পরিবারের বর্তমান মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকা। তাদের লক্ষ্য হবে পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকা বা তার বেশি মাসিক আয় অর্জন করা।

এজন্য প্রথম বছর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি তৈরি, দ্বিতীয় বছর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, তৃতীয় বছর দক্ষতার উন্নয়ন, চতুর্থ বছর আয় বৃদ্ধি এবং পঞ্চম বছর পূর্ণ আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতাম।

প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অগ্রগতি পরিকল্পনা থাকত।

==============================
নগরকে উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্রে পরিণত করাঃ
==============================

এই নগর শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা হতো না; এটি হতো একটি বিশাল উৎপাদনকেন্দ্র। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতাম। সরকার অবকাঠামো ও প্রাথমিক সহায়তা দিত, আর বেসরকারি খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করত।

নগরের উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হতো। ফলে নগরটি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল না থেকে ধীরে ধীরে নিজের অর্থনীতি দিয়ে পরিচালিত হতে পারত।

============================
পাঁচ বছর শেষে কী অর্জন করতে চাইতাম?ঃ
============================
পাঁচ বছর শেষে আমার লক্ষ্য হতো:
√প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন বা দুজন নিয়মিত উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
√ প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা।
√ প্রতিটি পরিবারের নিরাপদ আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
√ পরিবারগুলোর মাসিক আয় অন্তত ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করা।
√প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অর্থনীতির উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করা।

======
উপসংহারঃ
======
আমার কাছে দারিদ্র্য দূরীকরণ মানে দরিদ্র মানুষকে পাঁচ বছর বিনামূল্যে খাওয়ানো নয়; বরং পাঁচ বছর এমনভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, যাতে ষষ্ঠ বছর থেকে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পরিবার পরিচালনা করতে পারেন।

১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে বোঝা হিসেবে না দেখে আমি তাঁদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতাম।
আমার বিশ্বাস, সরকার যদি এই প্রকল্পে সঠিক বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ইতিহাসে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।

একটি মানুষকে একবেলা খাবার দেওয়া মানবিকতা, আর সেই মানুষকে এমন সক্ষম করে তোলা যেন তিনি সারা জীবন নিজের খাবার নিজেই কিনতে পারেন - সেটিই প্রকৃত উন্নয়ন।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পৃথিবীর বয়স ৪৫০ কোটি বছর

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩


টাইটেল দেখে অনেকে ই বিশ্বাস করবে না। খোদ আমেরিকান চার্চের লোকজন কেই দেখেছি যে পৃথিবীর বয়স ৬০০০ বছর বলেই তাদের অন্ধ বিশ্বাস। ধর্মান্ধরা বিশ্বাস করুক আর না করুক, পারমানবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেশা

লিখেছেন তন্দ্রাবতী এনাক্ষী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

শুনেছি আফিমে নেশা হয়, নেশা হয় ধূমপর্ণীতে
মানুষে যে নেশা হয় তাতো জানা ছিলোনা।
একবার পেয়ে গেলে ঘোর ধরে যায়! বিভ্রম! মায়া! ধূম্রজাল! চোখ মেলে আর কিছু দেখা যায় না।
এ নেশা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×