somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন পর্ব ২

২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তামিম একটা চেয়ারে বসে আনিতার জন্য এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছে। এই মেয়েটাকে সে এখন পর্যন্ত চিনতে পারল না। এতদিনের সম্পর্ক তারপরেও কেমন যেন ধোয়াটে। কখনো হয়তো সে চাইছে আনিতার সাথে দেখা করতে কিন্তু আনিতা নানা বাহানা করে আসছে না। আবার কখনো হঠাৎ করেই চলে আসে। কখনো অকারণে গলার রগ ফুলিয়ে ঝগড়া করছে আবার কখনো খুব ভালবাসছে। আসলে তামিম ঠিক জানেনা আনিতা তাকে সত্যি ভালবাসে কি না।
যে দিন আনিতার সাথে দেখা হল সে দিন তামিম খুব হেসেছিল। এতোটুকুন একটা মেয়ে কে এনে তার সামনে বসিয়ে দিয়ে গেলো সবাই। তখন তামিম সবে অনার্স পাস করে মাস্টার্সে পড়া শুরু করেছে। আনিতা তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। অনেক ছোট তামিমের থেকে। কিন্তু চখে মুখে একটা বড় মানুষের মতো ভাব ফুটিয়ে তামিমের সামনে বসে আছে। তামিম কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। এতো ছোট একটা মেয়ের সাথে কেন তার মা বিয়ে দিতে চাচ্ছে সেটা তামিম বুঝে উঠতে পারছিল না। কেমন বড় বড় চখ করে আনিতা তার দিকে তাকিয়ে ছিল সেদিন। তামিমের খুব মজা লাগছিলো দেখতে।
তামিম একটু কটমট করে আনিতাকে বলল
- এই যে মেয়ে, তুমি কোন ক্লাসে পড়?
- আপনি তো জানেনই আমি কোন ক্লাসে পড়ি। সেটা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন দেখছি না।
আনিতার চটপট উত্তর।
তামিম একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এতো ছোট মেয়ের কাছে এ রকম উত্তর আশা করেনি সে। মনে মনে একটু বিরক্ত যে হয়নি তা না। কিন্তু আনিতার সজা সাপটা কথায় একটু মহিতই হয়।
প্রথমে বিয়ে তে রাজি না হলেও মায়ের জোরাজুরি তে শেষপর্যন্ত তামিম আনিতা কে বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে। আনিতা কে অন্তত পক্ষে গ্রাজুয়েশন টা শেষ করতে হবে। প্রথমে আপত্তি করলেও পরে সবাই মেনে নেয়।
কিন্তু আনিতা এখন পর্যন্ত তাদের এই সম্পর্কটা নিয়ে কি ভাবছে তামিম জানে না। জানার চেষ্টা করে না। আনিতা তার কাছথেকে মুক্তি চাইলে সে দিয়ে দিবে। এক্তু কষ্ট পাবে হয়তো। কিন্তু আনিতারও মতের একটা ব্যাপার আছে। তামিম জোর করে তার সিদ্ধান্ত চাপাতে চায়না।

আনিতা আসছে। একটা ব্যাগ হাতে করে নিয়ে আসছে। আনিতা কে আজ কেমন যেন ক্ষেপার মতো লাগছে। একটা সবুজ আর সাদা মেশানো জামা পরেছে। ঘাড়ে কমলা রঙের একটা পার্স, এক হাতে একটা বই। অন্য হাতে আড়ং এর ক্যাটকেটে লাল-কমলা একটা কাগজের ব্যাগ। আনিতা রেস্টুরেন্টের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে এদিক ওদিক তাকিয়ে তামিমকে খুঁজতে থাকে। একটা হাত উঁচু করে তামিম নিজের অবস্থানটা জানিয়ে দেয়।
- কেমন আছ?
চেয়ার টেনে বসতে বসতে আনিতা হাল্কা ভাবে জিজ্ঞেস করে তামিমকে।
- ভালই। তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে খুব একটা ভালো নেই। মন খারাপ নাকি?
একটু ঠাট্টা করেই জিজ্ঞেস করে তামিম। কিন্তু আনিতার মুখে ঈশান কোণের মেঘ জমতে শুরু করছে দেখে অন্য প্রশঙ্গে চলে যায়।
- তোমার তো আজ সিটি ছিল , কেমন হল?
- ভালই। জানো তো আজ কি হয়েছে............
আনিতা স্বাভাবিক ভাবে তার ক্লাসে কি কি হয়েছে তামিম কে বলতে থাকে। তামিম স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে। না, আনিতার কিছু হয়নি। এখনি সে হেসে কুটি কুটি হবে। আবার এই তার ক্লাসের কোন ছেলে তাকে “জান” বলে ডেকেছে বলে রাগ করে তার কাছে নালিশ করবে। আঁখি তার জামা দেখে কিছু একটা বাজে মন্তব্য করেছে কিনা তাও বলবে। না এই বাচ্চা মেয়ে টা কখনোই তার কাছে কিছু লুকোয়না। এ জন্যই এতো ভালোবাসে তামিম আনিতা কে।
আনিতা কথা বলেই জাচ্ছে। তামিমের খুব ইচ্ছে হচ্ছে আনিতা কে একটু আদর করে দিতে। একটু হাত টা ধরে নিজের কাছে টেনে নিতে। কিন্তু তামিম জানে আনিতা এগুলো একদম পছন্দ করে না।
- আরে আমি তো বলতে ভুলেই গেছি। এই দেখো তোমার জন্য একটা পাঞ্জাবী এনেছি। যাও তো একটু পড়ে আসো।
আনিতা কথা থামিয়ে তামিমের হাতে কাগজের ব্যাগ টা ধরিয়ে দিল।
- কি ব্যাপার, হঠাৎ আমার জন্য শপিং? তুমি তো শপিং এ যেতেই চাওনা।
- গেলাম। তোমার জন্য কিছু নিয়ে আসতে মন চাইল তাই। এখন কথা না বলে ওয়াশ রুমে গিয়ে দ্রুত পড়ে আসো।
আনিতা তাড়া দেয়। তামিম একটু খুশিই হয় এসবে আনিতা জানে। তামিম ঝটপট সার্ট টা বদলে নিলাভ পাঞ্জাবী টা পড়ে আসে। কিন্তু সে আনিতার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। আনিতা কাঁদছে ? কেন? তামিম কি আনিতা কে কোন কষ্ট দিয়ে কথা বলেছে? এক সাথে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায় তামিমের মনে। তামিম গুটি পায়ে আনিতার কাছে এগিয়ে যায়।
To be continued.............
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১:৫৬
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×