somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন পর্ব১২

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সূর্যের তাপে উত্তপ্ত বালুকাবেলা। তারপরেও রাহাত বালুর উপর শুয়ে আছে। রাগে কাঁপছে সে। আনিতা তার সাথে এরকম করতে পারলো? তার যদি আগে থেকে বিয়ে ঠিক হয়েই থাকে তাহলে কেন সে তার কাছে ছুটে আসলো? আনিতা কি ইনসিকিউর ফিল করছিল? না তা না। তামিম কে দেখে মনে হচ্ছে বেশ সম্ভ্রান্ত, আর বেশ ভালো একটা পজিশনে জব করে সেটাও বোঝা যাচ্ছে। অন্তত রাহাতের থেকে বেশি ফিনেনশিয়ালি স্টেবল। আর বয়সে যে রাহাতের থেকে খুব ছোট বা খুব বড় তাও না। তার সমবয়সী হবে। রাহাতের হিসাব গরমিল করে দিল আনিতা।
অসম্ভব রাগে রাহাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আগুন জ্বলছে যেন। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে আনিতা চোখ বন্ধ করে আছে আর তামিম আনিতার হাতের কব্জি ধরে তার কাছে আরও কাছে যাচ্ছে। তামিমের নিঃশ্বাসে আনিতার গালের উপর পরে থাকা আদুরে চুলগুলো তিরতির করে কাঁপছে। রাহাত সেই দৃশ সহ্য করতে পারেনি। রাগে তার গা জ্বালা করছিলো। আনিতা যাকে আপাত দৃষ্টিতে একটা ভালো মেয়ে বলে জানতো সেই তাকে ধোঁকা দিল। কোনমতে ড্রেসিং টেবিলটা ধরে নিজেকে সামলেছিল রাহাত। হাত লেগে পারফিউমের বোতলটা উল্টে গেলো। আনিতা তাকে দেখতে পেয়ে তামিম নামের সেই ছেলেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিল। আনিতার জ্বর দেখার নামে এমন করে গালে আর কপালে হাত দিয়ে দেখছিল যে রাহাত আর সহ্য করতে পারেনি। তার আনিতার গায়ে কেউ এ ভাবে স্পর্শ করবে এটা ভাবতেও রাহাতের কষ্ট হয় সেখানে তার সামনেই তামিম এরকম করে আনিতার এতো কাছাকাছি! রাহাত আর ভাবতে পারে না। আনিতার রুম থেকে বেরিয়ে আসে, নিচে নেমে একটা রিক্সা করে ক্ষানিক এলোপাথাড়ি ঘুরে বেড়ায়। পরে সৈকতে যায়।
রাহাত আনিতার সম্পর্কে ভাবার চেষ্টা করছে। আনিতা সেই মেয়ে যার জন্য তার সম্পূর্ণ জীবন আবার এলোমেলো হতে যাচ্ছে। সে নিজের কষ্ট চেপে রাখার চেষ্টা করছেনা। চোখ দিয়ে খানিক পর পর অশ্রুর মোটা ধারা গড়িয়ে পরছে বালুর উপর। এই বালুরাশি যেন পরম মমতায় তার সকল কষ্ট নিজের মাঝে ধারণ করছে। না সে এভাবে আনিতাকে হারাতে পারে না। হারাতে দিবেনা সে আনিতাকে তার জীবন থেকে।
রাগ একটু কমে আসতে থাকলে রাহাত ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে। যদি আনিতা আর তামিমের সম্পর্ক ভালো যেত তবে আনিতা কেন তার কাছে ছুটে এসেছিলো? নিশ্চয় তামিমের থেকে রাহাতের সঙ্গ বেশি প্রিয়। এটা ভেবে একটু যেন স্বস্তি পেল রাহাত। না আনিতাকে সে পরম আদরে পরম ভালবাসায় ভরিয়ে দিবে। তামিমকে এক বারের জন্যেও তাদের মাঝে আসতে দিবেনা রাহাত। আনিতার সাথে তার কথা বলতেই হবে। রাহাত উঠে পরে উত্তপ্ত বালির উপর থেকে। এখন যেন সে উত্তাপটা উপলব্ধি করছে।
হেঁটে সমুদ্রের ঢেউগুলোর দিকে যায়। পা টা ভিজিয়ে নেয় সমুদ্রের লোনা পানিতে। একের পর এক ঢেউ আছড়ে পরছে রাহাতের পায়ে। লুটোপুটি খাচ্ছে আবার ফিরে যাচ্ছে সমুদ্রে। রাহাতের যেন তৃপ্তি হয়না এতে। আবার এক ঢেউ আছড়ে পরেছে রাহাতের পায়ে। এটা বড়। রাহাত কে টেনে সমুদ্রের দিকে নিচ্ছে যেন। রাহাতের মনে হতে থাকে এই সমুদ্র আনিতার মতো। তাকে ভালোবাসার ছোট পরশ দিচ্ছে কিন্তু আবার এই ঢেউগুলোর মতো ধাক্কা দিয়ে দূরে ছুড়ে আবার কাছে টানছে। রাহাত যেমন এই সমুদ্রের টানে যেতে পারছে না ঠিক তেমনি আনিতার টানেও তার কাছে যেতে পারছে না।
চোখে জ্বালা জ্বালা করছে রাহাতের। চোখের কালো ফ্রেমের চশমাটা খুলে ফেলে। উশখ খুসকো চুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু সমুদ্রের কার্বন মেশানো ঠাণ্ডা বাতাস আবারো এলোমেলো করে ফেলে।
বিষণ্ণ রাহাত। ক্লান্ত রাহাত। হেরে যাওয়া রাহাত। যেন কোন নতুন আলোর খোঁজে আনিতার কাছে ছুটে যেতে চায়। কিন্তু কথায় একটা চরাকাঁটা বুকে বিঁধে থাকে। না আনিতা একবারও বলেনি তামিমের কথা রাহাতকে। রাহাত মুষড়ে পরে। ধীর পায়ে, ক্লান্ত শ্রান্ত রাহাত আনিতার টানেই ফিরে যায় হোটেলের কামরায়।

পর্ব ১ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link পর্ব ৯ Click This Link পর্ব ১০ Click This Link পর্ব ১১ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×