আনিতার সমস্ত পৃথিবী এলোমেলো করে দিল তামিম। তামিমকে সে কি বলবে? কি এক প্রলঙ্কর পরিস্থিতি আনিতার সামনে। যেন আকাশটা দু ভাগ হয়ে আনিতার মাথায় ভেঙে পরেছে। যেন শত সহস্র ধারালো ছুরি দিয়ে তার হৃদয় থেকে রাহাত নামের সেই মানুষটাকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলছে তামিম। কেন তামিমকে আজ আনিতা না করতে পারল না। আজ তার জন্যই রাহাত খুব কষ্ট পেয়েছে। আনিতা যদি রাহাতের সাথে অন্য কোন মেয়ে কে এতো ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখত তবে কি নিজেকে ঠিক রাখতে পারতো? না আনিতা আর ভাবতে চায় না। সে পারতো না। কিছুতেই পারতো না।
আনিতা তামিমকে রেখে ঘর ছেড়ে বাইরে আসে। তামিম কি কিছু ভাবছে? জানেনা আনিতা। যা ইচ্ছা ভাবতে পারে সে। আজ এই মুহূর্তে রাহাত ছাড়া আর কিছুই ভাবতে ভালো লাগছে না আনিতার। ৪ তলার বারান্দা দিয়ে নিচে তাকায় সে। বন্ধুরা ফিরছে। রাই, আঁখি, নাঈম সবাই আসছে। কিন্তু রাহাত নেই তাদের সাথে। বন্ধুরা আনিতাকে দেখে হাত নাড়ায়। প্রত্যুত্তরে আনিতাও হাতটা একটু ঝাঁকিয়ে জানায় সে দেখেছে বন্ধুদের।
আনিতার চোখ রাহাতকে খোঁজে। না নেই রাহাত। ফিরেনি সে। আনিতার বুকে একটা চিনচিনে কিন্তু বেস জোরালো ব্যাথা অনুভূত হয়। তবে কি রাহাত ফিরে গেলো? তাকে না বলে, তাকে না জানিয়ে, তার থেকে সত্যতা না জেনে? না রাহাত এরকম করতে পারে না। তার রাহাত এরকম না। সে বুঝে আনিতাকে। কিন্তু মনের সেই সন্দেহ টা দানা বাঁধতে থাকে ক্রমশ। দুপুরে এলনা রাহাত। দুপুর গড়িয়ে রাত নামলো। শীতের প্রকপ বাড়ছে। তাও রাহাতের দেখা নেই। দুপুর থেকে ঠায় দাঁড়ানো বারান্দার রেলিং ধরে। না রাহাতকে দেখছে না আনিতা। তামিম রাতে খাবার জন্য আনিতাকে ডাকতে এলো, বন্ধুরা এলো কিন্তু আনিতা অনড়।
ঘড়িতে রাত ১২ টা বেজে পার হল কিন্তু রাহত কই? আনিতার বুকের সেই অজানা ব্যাথাটা তীব্রতর হতে থাকে। তামিম একবার এসে দেখে গেলো আনিতাকে। কি বা বুঝল তামিম। ফিরে গেলো তার কামরায়।
আনিতার উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে রাহাত ফিরল। তখন ঘড়িতে রাত ১ টা বেজে ২০ মিনিট। অবিন্যস্ত পা ফেলে ধীরে বুঝিবা একটু টলছে রাহাত। বারান্দায় দারিয়ে দেখছে আনিতা। রাহাতের ঘরের সামনে গিয়ে দারিয়ে থাকে সে। রাহাত আসছে। তার এলোমেলো পা ফেলার শব্দ পাচ্ছে আনিতা। রাহাতের কাছে গিয়ে ধরে ফেলে রাহাতকে। ধরে রাহাতের পতন রোধ করে। রাহাত আক্রোশে দূরে সরিয়ে দেয় আনিতাকে। কেউবা দেখছে তাদের। কিন্তু আনিতার কিছু যায় আসেনা। কিছু পরোয়া করে না। আবার সে রাহাতকে ধরে। আবার দূরে সরিয়ে দেয় রাহাত। কিন্তু আনিতা হাল ছাড়েনা। আবার রাহাতের কাছে যায়। এবার রাহাত নিজেকে আনিতার কাছে শপে দিয়েছে।
আনিতার কাধে মাথা রেখে নিজের ঘরের দিকে জেতে থাকে। একটা পোঁচা কিন্তু মিষ্টি গন্ধ রাহাতের নিঃশ্বাসে। আনিতা বুঝেনা প্রেমে কষ্ট পেলে ছেলেরা মদ খায় কেন। এতো কষ্টের মাঝেও তার হাসি উঠে যায়। এখনো ছোট্ট বাচ্চাদের মতো কাজ করে রাহাত।
আধা পথ পারি দিতেই রাহাত ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠে। আনিতাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। শব্দ করে কাঁদছে রাহাত। তার এলোমেলো চুল থিরি থিরি কাঁপছে কান্নার দমকে। চখের চশমাটা বাঁকা হয়ে নাকের এক পাসে ঝুলে আছে। রাহাতের ভারি শরীরের চাপে আনিতা টাল সামলাতে পারছে না। কিন্তু রাহাত কাঁদছে।
ঝটিকায় একটা কামরার দরজা খুলে গেলো। কে বা কারা দেখল তাদের সহসা। আবার ধারাম। দরজা বন্ধ হয়ে গেলো। আনিতা দেখেনি কে বা কারা তাদের দেখল। দেখুক না তাতে কি বা যেয়ে আসে আনিতার। সে রাহাতকে ভালবাসে।
কিন্তু এভাবে কারো ঘুম নষ্ট না করে রাহাতকে নিয়ে রাহাতের ঘরে গেলো আনিতা। রাহাত অবিরাম কেঁদেই চলেছে। বিছানায় বসাল রাহাতকে। আনিতাকে জরিয়ে ধরে রাহাত। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেনা আনিতা।
- আমাকে ছেড়ে যাবে না তো তুমি?
রাহাতের ব্যাকুল প্রশ্ন।
- না। কক্ষনো না। আমি কি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো?
রাহাতের এলোমেলো চুলগুলোয় আঙুল দিয়ে বিলি কেটে বলে আনিতা। এখনো রাহাতের বাহুতে আবদ্ধ সে।
রাহাত তার বাহু থেকে মুক্তি দেয় আনিতাকে। তাকায় আনিতার দিকে।
- তোমাকে অন্য কেউ ছুঁলে আমার কি যে অসম্ভব রাগ হয় সেটা কি তুমি বুঝ?
- বুঝি। আর বুঝি বলেই তো তোমার অপেক্ষায় দারিয়ে ছিলাম আমি।
- আমার খুব হিংসে হয় অই তামিমকে। কত বড় সাহস আমার সামনে আমার আনিতাকে স্পর্শ করে।
- আর করবে না।
- না আর করলে আমি মরে যাবো।
আনিতা রাহাতের মুখে হাত রেখে রাহাতের কথা থামিয়ে দেয়। নিজের মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে দেয় রাহাত। আনিতাকে জড়িয়ে ধরে। রাহাতের বাহু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনা আনিতা। মোমের মতো গোলে গোলে পরতে থাকে তার দেহ। এক নেশা লাগা চোখের চাউনি উপেক্ষা করতে পারে না আনিতাকে। তাঁদের যেন আদিম সেই নেশায় পেয়ে বসেছে। রাহাতের ঠোঁট নেবে এসেছে আনিতার ঠোঁটে। যেন একটা হাজার ভল্টের তার আনিতার গায়ে কেউ লাগিয়ে দিয়েছে। কেঁপে উঠল আনিতা। কিন্তু সেটাও ক্ষণিকের জন্য। রাহাতের গরম নিঃশ্বাস তার গালে যেন আগুল লাগিয়ে দিচ্ছে। সেই আগুন তার সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। একে একে অনভ্যস্ত ভাবে উন্মুক্ত হোল তাদের দুজনের সমস্ত রহস্য। সকল রহস্য জাল ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছে দুই মানব মানবী। আজ তারা দু জন এক। এক তাদের নিঃশ্বাস, এক তাদের মন, এক তাদের দেহ। এই রাহাত এবং আনিতাকে আর কে পারবে ছিন্ন করতে?
পর্ব ১ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link পর্ব ৯ Click This Link পর্ব ১০ Click This Link পর্ব ১১ Click This Link পর্ব ১২ Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



