somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন পর্ব১৩

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনিতার সমস্ত পৃথিবী এলোমেলো করে দিল তামিম। তামিমকে সে কি বলবে? কি এক প্রলঙ্কর পরিস্থিতি আনিতার সামনে। যেন আকাশটা দু ভাগ হয়ে আনিতার মাথায় ভেঙে পরেছে। যেন শত সহস্র ধারালো ছুরি দিয়ে তার হৃদয় থেকে রাহাত নামের সেই মানুষটাকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলছে তামিম। কেন তামিমকে আজ আনিতা না করতে পারল না। আজ তার জন্যই রাহাত খুব কষ্ট পেয়েছে। আনিতা যদি রাহাতের সাথে অন্য কোন মেয়ে কে এতো ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখত তবে কি নিজেকে ঠিক রাখতে পারতো? না আনিতা আর ভাবতে চায় না। সে পারতো না। কিছুতেই পারতো না।
আনিতা তামিমকে রেখে ঘর ছেড়ে বাইরে আসে। তামিম কি কিছু ভাবছে? জানেনা আনিতা। যা ইচ্ছা ভাবতে পারে সে। আজ এই মুহূর্তে রাহাত ছাড়া আর কিছুই ভাবতে ভালো লাগছে না আনিতার। ৪ তলার বারান্দা দিয়ে নিচে তাকায় সে। বন্ধুরা ফিরছে। রাই, আঁখি, নাঈম সবাই আসছে। কিন্তু রাহাত নেই তাদের সাথে। বন্ধুরা আনিতাকে দেখে হাত নাড়ায়। প্রত্যুত্তরে আনিতাও হাতটা একটু ঝাঁকিয়ে জানায় সে দেখেছে বন্ধুদের।
আনিতার চোখ রাহাতকে খোঁজে। না নেই রাহাত। ফিরেনি সে। আনিতার বুকে একটা চিনচিনে কিন্তু বেস জোরালো ব্যাথা অনুভূত হয়। তবে কি রাহাত ফিরে গেলো? তাকে না বলে, তাকে না জানিয়ে, তার থেকে সত্যতা না জেনে? না রাহাত এরকম করতে পারে না। তার রাহাত এরকম না। সে বুঝে আনিতাকে। কিন্তু মনের সেই সন্দেহ টা দানা বাঁধতে থাকে ক্রমশ। দুপুরে এলনা রাহাত। দুপুর গড়িয়ে রাত নামলো। শীতের প্রকপ বাড়ছে। তাও রাহাতের দেখা নেই। দুপুর থেকে ঠায় দাঁড়ানো বারান্দার রেলিং ধরে। না রাহাতকে দেখছে না আনিতা। তামিম রাতে খাবার জন্য আনিতাকে ডাকতে এলো, বন্ধুরা এলো কিন্তু আনিতা অনড়।
ঘড়িতে রাত ১২ টা বেজে পার হল কিন্তু রাহত কই? আনিতার বুকের সেই অজানা ব্যাথাটা তীব্রতর হতে থাকে। তামিম একবার এসে দেখে গেলো আনিতাকে। কি বা বুঝল তামিম। ফিরে গেলো তার কামরায়।
আনিতার উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে রাহাত ফিরল। তখন ঘড়িতে রাত ১ টা বেজে ২০ মিনিট। অবিন্যস্ত পা ফেলে ধীরে বুঝিবা একটু টলছে রাহাত। বারান্দায় দারিয়ে দেখছে আনিতা। রাহাতের ঘরের সামনে গিয়ে দারিয়ে থাকে সে। রাহাত আসছে। তার এলোমেলো পা ফেলার শব্দ পাচ্ছে আনিতা। রাহাতের কাছে গিয়ে ধরে ফেলে রাহাতকে। ধরে রাহাতের পতন রোধ করে। রাহাত আক্রোশে দূরে সরিয়ে দেয় আনিতাকে। কেউবা দেখছে তাদের। কিন্তু আনিতার কিছু যায় আসেনা। কিছু পরোয়া করে না। আবার সে রাহাতকে ধরে। আবার দূরে সরিয়ে দেয় রাহাত। কিন্তু আনিতা হাল ছাড়েনা। আবার রাহাতের কাছে যায়। এবার রাহাত নিজেকে আনিতার কাছে শপে দিয়েছে।
আনিতার কাধে মাথা রেখে নিজের ঘরের দিকে জেতে থাকে। একটা পোঁচা কিন্তু মিষ্টি গন্ধ রাহাতের নিঃশ্বাসে। আনিতা বুঝেনা প্রেমে কষ্ট পেলে ছেলেরা মদ খায় কেন। এতো কষ্টের মাঝেও তার হাসি উঠে যায়। এখনো ছোট্ট বাচ্চাদের মতো কাজ করে রাহাত।
আধা পথ পারি দিতেই রাহাত ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠে। আনিতাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। শব্দ করে কাঁদছে রাহাত। তার এলোমেলো চুল থিরি থিরি কাঁপছে কান্নার দমকে। চখের চশমাটা বাঁকা হয়ে নাকের এক পাসে ঝুলে আছে। রাহাতের ভারি শরীরের চাপে আনিতা টাল সামলাতে পারছে না। কিন্তু রাহাত কাঁদছে।
ঝটিকায় একটা কামরার দরজা খুলে গেলো। কে বা কারা দেখল তাদের সহসা। আবার ধারাম। দরজা বন্ধ হয়ে গেলো। আনিতা দেখেনি কে বা কারা তাদের দেখল। দেখুক না তাতে কি বা যেয়ে আসে আনিতার। সে রাহাতকে ভালবাসে।
কিন্তু এভাবে কারো ঘুম নষ্ট না করে রাহাতকে নিয়ে রাহাতের ঘরে গেলো আনিতা। রাহাত অবিরাম কেঁদেই চলেছে। বিছানায় বসাল রাহাতকে। আনিতাকে জরিয়ে ধরে রাহাত। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেনা আনিতা।
- আমাকে ছেড়ে যাবে না তো তুমি?
রাহাতের ব্যাকুল প্রশ্ন।
- না। কক্ষনো না। আমি কি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো?
রাহাতের এলোমেলো চুলগুলোয় আঙুল দিয়ে বিলি কেটে বলে আনিতা। এখনো রাহাতের বাহুতে আবদ্ধ সে।
রাহাত তার বাহু থেকে মুক্তি দেয় আনিতাকে। তাকায় আনিতার দিকে।
- তোমাকে অন্য কেউ ছুঁলে আমার কি যে অসম্ভব রাগ হয় সেটা কি তুমি বুঝ?
- বুঝি। আর বুঝি বলেই তো তোমার অপেক্ষায় দারিয়ে ছিলাম আমি।
- আমার খুব হিংসে হয় অই তামিমকে। কত বড় সাহস আমার সামনে আমার আনিতাকে স্পর্শ করে।
- আর করবে না।
- না আর করলে আমি মরে যাবো।
আনিতা রাহাতের মুখে হাত রেখে রাহাতের কথা থামিয়ে দেয়। নিজের মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে দেয় রাহাত। আনিতাকে জড়িয়ে ধরে। রাহাতের বাহু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনা আনিতা। মোমের মতো গোলে গোলে পরতে থাকে তার দেহ। এক নেশা লাগা চোখের চাউনি উপেক্ষা করতে পারে না আনিতাকে। তাঁদের যেন আদিম সেই নেশায় পেয়ে বসেছে। রাহাতের ঠোঁট নেবে এসেছে আনিতার ঠোঁটে। যেন একটা হাজার ভল্টের তার আনিতার গায়ে কেউ লাগিয়ে দিয়েছে। কেঁপে উঠল আনিতা। কিন্তু সেটাও ক্ষণিকের জন্য। রাহাতের গরম নিঃশ্বাস তার গালে যেন আগুল লাগিয়ে দিচ্ছে। সেই আগুন তার সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। একে একে অনভ্যস্ত ভাবে উন্মুক্ত হোল তাদের দুজনের সমস্ত রহস্য। সকল রহস্য জাল ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছে দুই মানব মানবী। আজ তারা দু জন এক। এক তাদের নিঃশ্বাস, এক তাদের মন, এক তাদের দেহ। এই রাহাত এবং আনিতাকে আর কে পারবে ছিন্ন করতে?


পর্ব ১ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৮ Click This Link পর্ব ৯ Click This Link পর্ব ১০ Click This Link পর্ব ১১ Click This Link পর্ব ১২ Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×