আমার প্রিয় পোস্ট

উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি

ছিন্নগ্রন্থির জলরঙে ঝুমঝুম বৃষ্টির রাত

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১১

শেয়ারঃ
0 0 0

না দেখা

না দেখা শহর না দেখা চিতল পেটি পিঠের উপর চুল
বুনোহাঁসের পালকে লেগে থাকা শিশিরের শাদামেঘ
গড়াতে গড়াতে দরোজার পাশে মুখ
কিশোরী ছলনা

না দেখা পাহাড়ের চুড়ায় ভেসে থাকা দিগন্তের ছায়া
হাত বাড়ানো ফুল
তুমি বিষাদ মুখর সড়কে কার চুলের কাঁটায় - নীল
যাদুঘর?

আমি ঢুকে পড়েছি বৃষ্টির ভিতর
দাঁড়িয়ে আছি অস্থির বিজ্ঞাপন রক্তচূর্ণ চুম্বনের শেষ অধ্যায়ন
বৃষ্টিপান করতে গিয়ে রক্তের মধ্যে নেশা জড়ানো ঘোর।

ড্রিম আলোর মধ্যে মৃতদেহগুলো দেয়ালে
ঝুলে পড়েছিল
ওরা ছবি আঁকছিলো শিমুল তুলোর মতো উড়ছিল ওদের চুল..

তার আগে নকশালবন্দি কারখানায়
রোস্ট প্রস্তুতকারী বাদ্যদলের সঙ্গীরা এসে
কেটে নিয়ে গেছে হাতের আঙুল
হলদের আভায় তোমার চুল ছুঁয়ে হাসপাতালের করিডোরে
পা পিচলে দেখো অস্থির আয়নায় সাঁতার কাটছে
কিশোরী কোমর
তোমার আমার রাত্রি জাগা মনের শিমুল

তুমি মুখ লুকানো সাপ

তুমি মুখ লুকানো সাপ ফুলের আড়ালে সন্ধ্যার
চিত্রালী মাছের কাঁটায় বিড়ালের থাবা লেগে থাকা রোদ্দুর
আমি ভিজতে থাকা জোনাকিদের
খুঁজতে গিয়ে
পথ হারিয়ে যোগিনীদের কামকুঞ্চন ভ্রু

উপড়িয়ে ফেলেছি দাঁত
টুকরো
টুকরো
জোছনার কফিনে দেখো আমি কাত হয়ে যাওয়া
রাস্তা

কত পায়রা উড়ে যাচ্ছে
তাদের পাখনা থেকে শব্দের রুমাল ঝরছে
আমি রুমালে আঁকা তোমার সুঁচের
ফোঁড় দেওয়া অচিন
পুকুর

হাঁটছি তোমার গুহাকালের দেয়ালে
বাঁকানো ধনুক
নক্ষত্রের এক ঝাঁক মুখ ভেসে উঠছে কামার্ত শার্টে

এ লট অফ ফ্লাইং কিস

এ লট অফ ফ্লাইং কিস
পালক নির্মিত সেতুর উপর অধীর ক্রন্দন
দহনের কাঁটাতারে মেঘ গেঁথে রাখে
দিগন্তের কূলহারা নীলের ব্যঞ্জনায় তবুও
তোমার বাহু আমাকে শীতল জলোচ্ছ্বাসে জড়িয়ে ধরে
আমি জেনে গেছি শববাহকের আহত মুখমণ্ডলের
গভীর বেদনাবোধের মুদ্রণকৃত নকশায়
তুমি এখন শুধুই ঝরা ফুল
লেদমেশিনের চাকা...

মাইল মাইল ঝাউবনের পাতাদের শিরা উপশিরায়
আমি প্রতিদিন তবু শিশির ছিটিয়ে দিয়ে
ঝির ঝির বাতাসের স্পর্শে
জেগে থাকি

সুদূরে পরাহত আমার মুখ
বিষাদের তৈলচিত্রে বিস্মরণের নদী হয়ে ভেসে যায়
শুধু প্রিয়সীর অবাধ্য ছলনা
বৈঠার জল মন্থনের নিবিড় শব্দে
আমাকে জাগিয়ে রাখে

আর পাহাড়ের গা বেয়ে দৃষ্টির ক্রশবিদ্ধ
উন্মাদনা
উন্মূল আয়নার অভ্যন্তরে
নন্দনের সিঁদুর ছড়িয়ে পড়া গলিত প্রভাতের স্তনে
মুখ ডুবিয়ে
কাঠ শিল্পে খোদাই করছে বরফ চূর্ণ রাত
মোহনার সয়ম্ভরী অন্ধকার..

এ অন্ধকারে এ লট অফ ফ্লাইং কিস
গড়ে তুলছে তাঁতশিল্প..তিতির..

আমার কোন ব্লেজার নেই

আমার কোন ব্লেজার নেই, নখ আছে,
সারাক্ষণ নখরে সূর্য লটকে থাকে; বেতফল,
আমার মাফলার আছে, তার মধ্যে গুপ্ত নগরী আছে,
ব্রেনটিউমার আছে, ধসে পড়া দেয়ালের গায়ে
ক্ষণিকা-তোমার নেশাঝরাফুলের ভিতর
নাগরিক কোটপিন, লিপিস্টিক, ভেঙে যাওয়া চুড়ির শব্দ,
অনেক দূর গড়িয়ে যায়, যায়...
কোট পিনে সূর্যদয় লুপ্ত হয়ে আছে, তবু
শিশির গড়িয়ে অভিশপ্ত টেলিগ্রাম আসে
তৃষ্ণার নাভীতলে, ঠোঁটের কোনে,
ছদ্মবেশি চশমার কাচে,
নৈতিক বালুর বাঁধে চাঁদ, মৃত্যুপুরীর বাঘিনী,
ও তাঁর মস্তক ছিন্ন
দৃশ্যের নাটকীয়তা, মিশেল ফুকোর
স্যান্ডেল চুয়ে পড়া রীতিনীতির
বক্ষদীর্ণ করে
বনরক্ষকের দৃষ্টি এড়িয়ে পাতার মনলতায় ছড়িয়ে যায়,
যায়...
আমার কোন ব্লেজার নেই, লোমকূপ আছে,
তাঁর মধ্যে অসংখ্য ঘুমন্ত নীল ডুবুরি আছে,
তারা বেদনাবিধুর পতঙ্গের মতো উড়ে বেড়ায়, তারা উন্মত্ত,
চুম্বনসিক্ত চামড়ার গভীরে;
বিষণ্ন, মহাজাগতিক সাহসের ডাইনি ঘড়ির কাঁটা
হতে
বনবাসী মাঙ্গলিক চাকুর ডগায়
খসে পড়ে, খসে পড়ে....

বিউটি স্পট

মৃত্যু আড়াল করে গোর খুঁড়ে চলেছে
যে বালক তাঁর নেশা বাজিধরা
হাতের ভিতর ঘুমিয়ে গিয়েছে
তারকাঁটা
খুব নিরবে দেয়াল টপকিয়ে
চলে গেছো
...................................
সংগীতের ফণায় নেচে গেছে বাঘের থাবা
জানলা দিয়ে মুখ বের করা সাপেরা
দেখো পড়শীদের বিছানায় কাত হয়েছে
ওদের মুখস্থ একুরিয়ামের মধ্যে
অসংখ্য ভালুক
বরফের ঠান্ডা স্পর্শ ভেঙে আঙুল
অন্ধকারের তাঁবু নেড়ে চলে যাচ্ছে
..........................................
কোন কথা না বলে ভাবছি বিকেলের ঠোট
থেকে এবার একাই নেমে যাবো
সন্ধেবেলা বাড়িফেরা পথে কাটা বিছিয়ে রাখা
আয়নায় ঢুকে পড়বে মেঘ
.................................................
দূরের জানলায় বৃষ্টি পড়ার দৃশ্যে
এবার লুট হয়ে যাবো সেলুট
দিয়ে যাবো
তুমি না ফেরা পর্যন্ত আমি কার্তুজ
ভরবো না
গভীর রাত পেরিয়ে সিড়ি
ধরে দাঁড়িয়ে থাকবো
......................................................
ধাঁধাশীল জোছনার সন্ধায় বাফেলো সোলজার
দেখো শুধু ঘুড়ি ওড়ে
নীলতারা ওড়ে
ঘড়ি থামিয়ে বাজপাখি মগজে
পুরে নিচ্ছে ঋতু বদল, ছলনা
..................................................
নিরুত্তাপ দেহের ভাজে নকশা এঁকে
দেখি
আমি
বাঘিনীর বর্ষাবদনের ঝোপে
টুকরো টুকরো
বিউটি স্পট খুঁজে চলেছি

বিড়াল

প্রতিদিন চিন্তার নীলদাঁড় বেয়ে বিড়াল
লাফিয়ে পড়ে সৌন্দর্য থেকে তুমিও ছিন্ন হও গভীর
হলুদে..বলাকা ভেবে উড়িয়ে দিই প্রসন্ন
মুখোভঙ্গি
কার্পাস লালে দেখি ম্যাজিশিয়ান ধর্মপাঠে
কার্পেট মহলে
ছিন্ন হচ্ছে ধূসর লয়ে আমি সন্তর্পণে মাথা নুইয়ে
পড়া বৃদ্ধবটের কিশোরী পটে
লটকিয়ে দিচ্ছি নীলচাকু
প্রতিস্থাপিত চাকৃদৃশ্যে ঝুলন্ত মহুয়া গন্ধের
নথে
আমার অপরাধসমূহ নেমে যাচ্ছে জলে
জল সে আমাকে নি:স্ব করে দিয়ে
ধুয়ে ফেলছে তাঁত বুননের কৃৎ কৌশল
তুমি ফের জোড়া লাগাচ্ছো বটির
নিচে ভোর স্নান
নাস্তার টেবিলে ভেজা চুলের গন্ধ
বিছিয়ে তুমি উৎফুল্ল
আমি ভাবছি শীৎকারের গলা ধরে
কেন দাঁড়িয়ে থাকেন
তিনি
তুমি যাকে শবাগার চেনালে সে
তো ফুল বিক্রি করা মেয়েটির
কাঁধে
হাত
আমি তোমাকে খুব করে ভুলতে
চাচ্ছি..

বিরহকূল

বিরহকূল ভেঙে জঙ্গল গেঁথে রাখা অভিব্যক্ত
ফণাতুলে দাঁড়াও বানিজ্যতরীর নাভীমূলে দেখো লকলকে সন্দেহ
কোমরজড়িয়ে থাকা যোগিনীর দৃষ্টি বিচ্যুত পথের ড্রিম লাইনে
ঢুকে পড়েছি

জলসিঁদুরের তৈলচিত্রে দেখা যায় দেখা যায় বেদনাবিধূর
গাছের ছায়া মায়া বিকল সানগ্লাস
অভিযোজনের
বাইস্কোপের মুখে লালা হরিৎ সকাল

পুরনো সিন্দুকের চাবি ভেঙে দেখো দেখো
রঙবেরঙের ফণাতুলেছে
সুবোধ দেয়াল
দেয়াল টপকিয়ে চলে এসো কূপঘরের কাছে এখানে নাচে
দেখো শহরের
ভিউ পয়েন্ট লেক সার্কাস

চারিপাশ বাদলের এ দিনে গান পরাণ
খুলে দিতেছে
এখানে এসো পাখি দেখো নাচ
গঙ্গাস্নান
জলপার হলে
দেখবে মিরর তাঁর অভ্যন্তরে পেরেকে লটকানো জিবে
আহা কি সুন্দর!

*বিরহ ভালো লাগে
তোমার সাথে ক্রিয়া শেষে তৃষ্ণার নীড় থেকে
গাঙচিল উড়ে গেলে অধরে নিঝুম

রাত নামে,

পাহাড়ের গাল চুয়ে চুয়ে রাত
নামে, কোথাও বৃষ্টি হয়েছে মনে হয়

সুদূরের মেঘে অজস্র তারার নরম আলোয়
তখন, একাকি

পোকার ভীষণ মৃত্যুর মতো বিরহ ভালো
লাগে
এরকম ভাবে
রোদের তীরে একা একা উড়ে যাওয়া

নীল ট্রেনে চড়ে
তোমার বাহুর কাটাতারে ভীষণ যুঝেছি

ক্রিড়ারতা বিষণœর নীড় হারা বাতায়ন
ছেড়ে, যে চলে গেছে, সে ছিল ম্রিয়মাণ পাতার

ক্রন্দন

তাকে পরিমিত সোহাগের সাইকেলে চড়ে

যেতে দেখেছি, এরকম গতির স্যান্ডেল পায়ে

লুটিয়ে পড়া
শব্দের বিরহ ভাল লাগে

*মাংশের মধ্যে বৃষ্টি

মাংশের মধ্যে বৃষ্টি তো থেমে গেছে...তবু তুমি গোধূলী খামে উড়ে গেছো, অধরের অমরাবতী বিষ ছড়িয়ে দিয়ে গেছো ঘাসে ঘাসে, শিরার ভিতর রাত, ঝাঁঝাঁ দূপুর, সূর্যের তেজ আর কফি গন্ধের বাতাসের স্পর্শ জল রঙে লেপে দিয়ে কোন দিগন্তে মেলেছো পাখা...
বলছি না ফিরে এসো ফিরে এসো গুহাচিতল মাদলপুরীর মৃদঙ্গ হয়ে
ভোরের স্নিগ্ধ আলোর লিফটে, জানালায় মুখ লেপটে রেখে প্রাণনাথের মেলায় গি‘য়েলে কাল? শরৎ শশীর কোমরের বাঁকে ধাঁধাঁশীল অধোজগৎ সেখানে কি খুইয়ে এসেছো প্রাণের কূল কূল, বিবাগী নথ?
অধিভ্রমণে কাল আমি তো বজরা ধ্যানের পাশফেরা জুতোর মধ্যে তোমাকে ছুঁতে না পারার অবুঝ টানে নিজের ভিতর গুটিয়ে নিয়েছিলাম সাপলুডু,
বেঘোরে ক্লিনিক বেডে শুয়ে আছি, মাথা ছিন্ন করে গেছে নার্সের ভ্রুকুঞ্চন মেঘ, তবু দেখছি তোমার খোপার কাটায় রাজনীতিবিদদের মুখের চামড়ার মতো চকচকে বে¬ড, আমাদের গ্রামীণ স্কুলের হেডমাস্টারের গুটানো ছাতার তুবড়ানো মুখ...
কেন যেন পা জড়িয়ে আছে মহাসড়কের চামড়ার মতো তোমার প্রেম মাইল মাইল বেদনার ইউক্যালিপটাস..
কেমন তারা ঝলমলে, মনে হয় বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় গড়ে উঠা গুণোমুগদ্ধকর পাখি শিকারীদের অভয়াশ্রম...গ্রোথ সেন্টার..
তোমার বন্ধুরা তো সব সাপ, কেউ কেউ চিল পুরুষ, তারা, মহাজাগতিক শক্তির ডানা থেকে খসে পড়া তারাদের ঝুম ঝুম....
দেখো, চিলের ডানায় আমি রৌদ্দুর, আমার পরাণের তলে অনেক মেঘের নীল রঙ এসে ভিড় করেছে, তাঁদের পাঁজরের কম্পনে টের পাও কি গুহা মানবের ঘ্রাণ, প্রাণ উছলানো সারসের ডানায় ভেসে যাওয়া নদী....?
যে নদীর মায়াবী স্রোত ও দৃষ্টির আশা-নিরাশার ঢেউয়ে..বহুজনমের প্রেম, ফুল ঝরে পড়া চোখের কাজলের মতো অন্ধকার ফুলগাছের পাতায় তোমারই জন্য জেগে আছে
জেগে আছে.....

*আমার কোন অসুখ নেই

নীলব্যথার কিনারে লোকগাঁথা থেকে ছিটকে পড়েছি
দন্ডখন্ড
উলুবনের নিরবতা ফুড়ে তুমি ফুটে আছো মেঘফুল
তাঁর গভীর কোটিবন্ধে নিস্তব্ধ নগরীর উ™£ান্ত মুখোশের
লালায় আমি জেব্রাক্রসিং

কালোধূয়ার সেবিকা রুমালে আমার ঘ্রাণ নি: সঙ্গ
উন্মাদ বালকের মুখের একপাশে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া ব্রণ

তুমি শল্যবিদ চেনো, আমি ভয় পাই, লুকিয়ে ফেলি ব্রেণটিউমার
বিষাদের মরু তন্ময়তায় তবু তুমি জলরঙ

আমি তোমার গ্রীবাদৃশ্যে হৃৎপিন্ড খুলে যাওয়া লেদের পাশে
দাঁড়িয়ে থাকা চৌরাস্তার মোড়
বাগানবাড়ির ঘনআধারে তোমার চোখের সূর্যাস্তের বিপরীতে
গড়ে তুলছি আমি মৃত্যুবাণের নক্ষত্র

তোমার স্পর্শ হরর ফিল্ম বা কালোতিলের অলীক দৃশ্যান্তর
ওর মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছি বাঘিনীর হারানো নখর,

কৃষ্ণচূড়ার মুখমণ্ডল ভরা গণশোক

*দেহ কাঠে ঘুঙুর বাজুক
আমি হাড়ের কফিনে
পেরেক ঠুকে ঠুকে তোমার মধ্যে ঢুকে

পড়ি
তুমি দেয়াল সরিয়ে নৌকার গলুই
দিয়ে

ঘা দিতে বলো, আমি পানকৌড়ির রক্ত
লেগে থাকা

রুমালের পালকে স্তব্ধ নিরাবতার ঘাড় থেকে
নেমে পড়া ঝিরঝির..অনুভূতি
মুদ্রণ করি মুদ্রণ করি..

আমি কুয়াশাচ্ছন্ন দূরের জানালায়

ঘোড়ার মাতাল গতি চুম্বনের অন্তর্গত আজ
তবু নৃত্যের শরীর বেয়ে নামে নীল আর্তনাদ

তবে কি তুমি চৈতন্যে একমাত্র কবির বিলাপ?
অগাধ তৃপ্তিতে দৃষ্টি প্রবাহিত জলের ভিতর

নিসর্গ রমণে তাই মগ্নতার ঘটে সর্বনাশ

*ঝুম ঝুম বৃষ্টির রাত
ঝুম ঝুম বৃষ্টির রাত চুয়ে পড়ছে
চোখের পাতায়, পাশ ফিরে দেখে কেউ নেই

গভীর নিস্তব্ধ নগরীর উ™£ান্ত জেব্রাক্রসিংয়ে নি:সঙ্গ
এক উন্মাদ বালক

মরু তন্ময়তার জলরঙের
রেখাদৃশ্যে হৃৎপিন্ড খুলে দাঁড়িয়ে আছে

তাঁর চোখে সূর্যাস্তের বিপরীতে গড়ে তুলছে নক্ষত্র
আলোর নীল চাবুকের মৃত্যু, অলীক

দৃশ্যান্তর

সে দৃশ্যান্তরের মধ্যে প্রতিদিন খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের
অবয়ব, বাঘিনীর হারানো নখর,
স্নানঘর

বালুরতটরেখায় ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার
প্রস্ফটিত মুখমণ্ডল

অন্তরে তাঁর ঘড়ি বিক্রেতার শোক
পাহাড়ের চূড়া অবধি নিয়ে যায় নিয়ে যায়

সে সেখান থেকে ফিরতে পারে না আর

*ঐতিহ্যের কাঁধ

ঐতিহ্যের কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখা গোলাপী খরগোশ
মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে ফেলেছে নিমগ্ন ক্রোধ

চিনতে পারেনি

আমায়, ছোটবেলাকার পুকুরপাড়ের নিবিড় সন্ধ্যা
ঘাট পার হয়ে গেছে,

তুমি বকুল তলের বিষণœতা
পাশে রেখে,

দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছো কলপাড়ে

আমি বোগেনভেলিয়া সড়কের তেমাথায় দাঁড়িয়েছি,

তোমাকে দেখার জন্য এখান থেকেই সূচ বাঁকানো পথের পাশে
আমি কাটা রাইফেল গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে
আছি

তোমাদের বাড়ির ছাদে পরাণ শোভা দিক
ভ্রমণ
দেখবে বলে...

*মনো-সাইকো

আমার জিবে দেয়ালে পেরেকে আটকিয়েছি
নিরক্ষর অনুভূতি বোধহীন তোমার উরুর
শিলালিপি পড়তে পারেনি
পরকীয়া পাঠশালার দরোজা ভেঙে
উড়ে গেছে
আঙুলের উলুধ্বনি
উদ্ভান্ত মুখোশ থেকে চুয়ে পড়া হলুদের
মনো-সাইকো সার্কাসের তাবুতে
তোমার
নাভীতলের সৌন্দর্যে
গভীর নির্জনতার গ্রীবা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে
অবুঝ ক্রোধ
জানালার গ্রীলে মৃতদেহ নীল
ব্যালোরিমা রঙের ঘুমন্ত দিগন্তের দৃষ্টি মেলে
শববাহকের বাহুতে লটকে গেছে

*কিনারা খুঁজে খুঁজে

কিনারা খুঁজে খুঁজে পালের হাওয়ায় পার হয়ে চলে গেছো তুমি
সেলুনের আয়নার মধ্যে আমি ফিরিয়ে নিয়েছি যতি
চিহ্নের অবসরে যাওয়া ক্লেদ, বৃষ্টির ঝুমঝুমি....
এর মধ্যে জীবনাচরণে সফল চটি বিক্রেতারা উজ্জল হাসি হেসে
গড়িয়ে পড়ছে শপিংমলে, আবার নতুন ভাবে তুমি আমি গা
ঘেষাঘেষি করছি পার্কে বা সিনেমায়
চুমুটুমুও খাচ্ছি, ব্রাউজ করছি, বডি পেইন্টিং দেখছি দেয়ালে
ও চোয়ালে, মধ্যবিত্ত ট্যাকসিতে দ্যাখো বেঢব পেটমোটা ফার্স্টফুড
কিশোর-কিশোরী লটকে আছে, তারপরও উন্নয়নকর্মী বিষণœ
নাগরিক মুখমণ্ডলে তোমার খোপার রোদ খুলে পড়া
সাংস্কৃতিক মনোজগতে যে নদী বাক্যহারা, বিমূঢ়, তাঁর কংকালে
পেরেক ঠুকে কফিনে ঢুকে পড়ছে নিরক্ষর জঙ্গল
ও ছায়া হরিণীর দল, তাদের পিছনে দৌঁড়াচ্ছে হন্তারকের কব্জিতে
ঘাপটি মেরে থাকা তৃষ্ণার পেটি, ঝলমলে শহরের সংবেদনশীল
মশলার ঘ্রাণে মুখ গুজে আড়াল করছে উৎপাদনশীল খাতের ঘাম
দেখো পাপোশের মধ্যে আমার ঋণ ভারাক্রান্ত অসাড় শরীর,
তবুতো, আমি শুধু খুঁজে
বেড়াচ্ছি তোমার স্তনের গভীর সন্ধ্যার সাইকোলজি, দারিদ্র
মোচনের
মোমে পুড়ে যাওয়া অন্তর নিভৃত বন বিভাগ
তুমি দ্যুতি ছড়ানো ক্যালোরি দিয়ে ভরে তুলছো মিউজিয়াম
আমি শহরের তাবৎ সচ্ছল
পরিবারের বটির নিচের মাছের কাটাগুলিকে
সংগ্রহ করে
প্রত্যেকদিন বাড়ি না ফিরে শাহবাগের মোড়ে
দাঁড়িয়ে থাকি....

*শীত চলে যাচ্ছে সাম্পানের নথের ওপারে

শীত চলে যাচ্ছে সাম্পানের নথের ওপারে, আমি ম্যাড মিউজিক
ক্রসিং দ্যা রোড, বিদ্যুৎ তারে লাইভ কিস ছুড়ে দিয়ে, রৌদ্দুর
আক্রান্ত
নীল সিড়ি পার হয়ে তোমার দরোজা পর্যন্ত উথলে পড়া
গৃহপালিত অশান্ত নদী
জানালার কপাটে বাতাসের তোড় মেঘ শতদলে পাখোয়াজ
হয়ে উঠছে রক্তিম চুম্বন সিক্ত শোক
বকুলের ডালের অন্তরে আশা লতা বেয়ে
তোমার সর্ষে ক্ষেতের পাশে গুহা দৃশ্যের প্রান্তর ছুঁয়ে থাকা
কংকালের ছায়ায় ছড়িয়ে পড়া
আমার তৃষ্ণার চিতল হরিণ সবুজ ঘাসের ডগায়
রেখে গেছে যে সুদীর্ঘ নি:শ্বাসের ফণা, তুমি তাঁর উদ্ভাসিত
লালায়
নিজেকে ভিজিয়ে রেখেছো, আমি সোডিয়াম আলোয়
অন্ধ তীরের বাঁকানো চূড়া বরাবর অস্থির থরো থরো
ঘৃণার
কোটপিন, মৌবনের কাটা ফুলে আটকে আছি, বহুপুরনোকালের
নগরে তুমি সুশীল
সংবেদনশীল সোহাগের তিলে বৃষ্টির তুমুল
শব্দ তবু লেগে আছো ভিজে থাকা রেশমের মতো
মনে, প্রাণের গভীরে বলাকাদের মৃত দেহে
ফুলের ঘ্রাণ
আমি ভালো বাসি বলে
জানালার বাইরে তুমি রোজ আমাকে ঠেলে দাও
আমি কুয়াশা কুড়াতে কুড়াতে স্কুল পথ ভূলে গেছি
আর
নিভৃতে গড়ে তুলছি বিষাদের শিশির কণায়
ডুবন্ত নগর...

চাকু দিয়ে গাল কেটে

চাকু দিয়ে গাল কেটে রক্তের মুদ্রিত
বিবরণ পড়তে গিয়ে ট্যাবু
বিশারদের
গাল
হালকা বেঁকে যায়, বাঁকের
কিনারে দেখা যায় পেছন
ফিরে
দাঁড়িয়ে আছেন তিনি
বিভ্রম পুকুরে হাঁস ভেসে যায়
পুকুর পাড়ের ঝোঁপের আড়ালে
রোদ ফুটে ওঠে
মুখের বিবর গুহায় লিপিমুদ্রণের পাথরে
বর্ণ প্রথার সামাজিকতা
ভেদ করে খোদাই করে গেছে
সঙ্গম শেষের স্নান দৃশ্যের
অটোগ্রাফ
এরপর মনোচিঠি খাম ড্রয়ারের মধ্যে
উড়িয়ে নিয়েছে
রাত
যে সময়ের পাঠ্যবইয়ের পাতা ছিঁড়ে
তৈরি হচ্ছে
নির্জন গুহার তৈল চিত্র
চিত্রালী হরফ
থেকে চুয়ে
পড়া ভোর বেলা
এই সব ভিড় ঠেলে
ডাঙগুলির শব্দ ছুঁড়ে দিয়েছি
কখনো যেন ডাঙগুলি ছুঁড়ি
নাই

সিঁড়ি ঘরে ফেলে আসা পিয়ানোর শব্দ
ঘাস বিছানো পথের
মাঝে
থেমে আছে
ঘোরের মধ্যে
আপনার চশমার বিষণœতা
ডাক পিয়নের শাদা হাড়
জিরাফের চামড়ায় তৈরি তাঁবুঘর
রাঙা মুখের মতন
সম্ভ্রম প্র“ফ কাচের ঘরে
ভাঙা মুখের মতন
রোদ
ঝলমল

*সন্ধ্যার নিরাবতার কিনারে

নিবিড় সন্ধ্যার নিরাবতার কিনারে ঘাড়গুজে
আয়নায় মৃতদেহগুলি চেহারার নৃতাত্ত্বিক ভাজ খুলে
দেখছে হাড়ের খড়ম, সন্ধ্যা তারার
পুড়ে যাওয়া আঙুলের অবোধ সঞ্চলতা

অসারতায় রক্তিম গাল দুমড়ে মুচড়ে
চিৎ হয়ে শুয়ে আছে
তোমার নথে, এথনো সাইকেলের ডানার খাজে..

অদৃশ্যে জোছনার তরীতে তুমি আমি তবু
গভীর রাতে পালের হাওয়ায় পার হয়ে চলেছি মেঘের
পর মেঘ,
ফিরিয়ে নিয়েছি আমরা দেয়ালভেদি চোখাচোখি,
আমাদের খুনসুটি যদিও এসি সেলুনের আয়নার
মধ্যে খেলছে গেম, তুমি আমি পাশ ফিরে একে

অপরের ঘাড়ের দিকে চেয়ে মাঝেমাঝেই আতকে উঠছি,
সাপ ..সাপ বলে চিৎকার দিয়ে উড়ে যাচ্ছে অসংখ্য চিল..

নিবিড় সন্ধ্যার নিরাবতার কিনারে ঘাড়গুজে
শুধু তুমি আমি যতি চিহ্নের স্তনে মিলিত হচ্ছি
ভেঙে পড়ছি জোড়া লাগছি....

*শবাগারের দেয়াল ঘেষে

শবাগারের দেয়াল ঘেষে বেড়ে উঠছে তোমার
ঘড়ি,
রোদগাছ,
তাঁর চিকন সরু সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে
নেমে আসা নিস্তব্ধ রাত স্তনের মতন সুন্দর
পুকুরঘাটের সিঁড়িতে বসে
এই দৃশ্য দেখে আমি শাপমোচনের চাকা
বেয়ে
উঠে গেছি পাহাড়ের চূড়ার
উপর
তুমি কদমফুলের গন্ধো চেয়ে যে চিঠি
পাঠিয়েছো
তা
দেখছি
পাঁজরের শব্দে তৈরি হওয়া পেন্ডুলামের
চোখ
তাঁর মসৃণ নাভী দেখলে
আমার ক্ষণে ক্ষণে ঘাড় বেয়ে নামতে
থাকে
তরঙ্গ..বিক্ষুব্ধ স্রোত..

*শোকের ছায়ায়

শোকের ছায়ায় আমার কামরাগ উন্মুখ হয়
হেলে পড়ে বিকেলের রোদ
ঘাড়ের উপরে
চারপাশে অশ্র“ মুছতে মুছতে শাখা চূড়ি
খুলে দেয় সমুদ্র অধর
আমি বিবেকের কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়ে
নূপুরের শব্দে
বনোফুলের মালা গেঁথে যেন বহুকাল থেকে
বসে আছি
শোকের এ মহিমায়, নতমুখআমি
দৌঁড়ায় ... দৌঁড়ায়...

*টকটকে ভোরবেলা

অবচেতনে কখন যে মনের মধ্যে বৃষ্টি
গাছের পাতা থেকে গড়িয়ে পড়েছে
টের পাই নি
তোমার পিঠের উপর হাত আঙুলের ভিতর
দিয়ে
টকটকে ভোরে
সূর্য গলে ঢুকে গেলো যেন
দীর্ঘরেল ভ্রমণের পর
এমন হয় যে
বহু পুরনোকালের ঠান্ডা পিরামিড ধ্বসে
যাবার মতো দ্রুত দৃষ্টি বদলে
নিলো
যেসময় তুমি আনমনা ছিলে গভীর রাতের
জানালার পাশে
খোলা প্রান্তরের দিকে মখমলের শব্দেরা
উড়ে গেছে যেদিকে তাঁদের পদচিহ্নে
আমার হাত আঙুল
খুলে নিয়ে
গেছে
টকটকে ভোর বেলা

*অপারেশন থিয়েটার
রাস্তার উপর পরিচিত সম্পর্কগুলি গড়িয়ে গড়িয়ে চাকা
ফল্ডিং
চেয়ারে চুপসানো জোনাক তারার শোক
আমার কোন ডানা নাই মননের
হাতলে ফুল তুলছে তবু ক্লিনিক বেডের মেঘ

আমি তাকে ভালবাসি
তাঁর অন্তর জমিনে বৃক্ষ রোপণ করি
গোপনে
সে আমার পাতাল রেল
বনগাঁ স্টেশন ..
মোহন মুগ্ধ ভোরে কলতলার জল পড়ার শব্দে
ফিরে আসুক ইশকুল বেলার রোদ
দূরের জানালায় ঝুলে থাকা মঙ্গল জ্যোতি
ফিরে আসুক
মুঠো মুঠো দুষ্টুমি ভরা বাতাসের তোড়
দুচোখের পাতার উপর ঝরে পড়–ক পাহাড়ের নীল বিবরণ
বুকের গভীর থেকে উঠে আসুক
প্রেম-বিভাবরি
ছুরির
মনের কানায় কানায় জমুক হাজার প্রজাপ্রতির ঝাঁক
তবু জল পড়ার রিমঝিম রিমঝিম
বেজে চলুক..
দূরন্ত দুপুরের বটের ছায়ায় গা এলিয়ে শুয়ে থাকা
শান্তি সৌম্য শরীরের ভাজে
নিরুদ্দেশে বয়ে চলুক
মনের বিক্ষুব্ধ পায়রাগুলি নীল আকাশের দিকে পাখা মেলে দিক
তবু জল পড়ার শব্দ
তুমি ফিরে আসো অন্তরের জানালায়..
আমার অপারেশন থিয়েটারে..

*ডেমোক্রেটিক
আমাদের সামাজিক জীবনের চৌকাঠে মিরর
আমি ভাঙি ছিন্নভিন্ন নিজেকে দেখি বাঘবন্দি দেখি আমার
মনের ভিতর করাত কলের চাকা
চাকার নিচে টুকরো টুকরো সংগীত শেখানো বিড়ালের থাবা
আমার কাঁধের উপর পলিসি’র ছড়ি ঘুরায়
তবু ধ্বংস স্তুপ থেকে উঠে আসা গোলাপ ফুলের
পাঁপড়ী তোমার গা বেয়ে
আমার ডেমোক্রেসি
উপরের দিকে উঠতেছে
আমি খুব ডেমোক্রেটিক আইচক্রিম খাচ্ছি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে..
*কাটাবন
কাটাবন এখন অনেক দূর
পাখোয়াজদের আবাসস্থল ফুলমন পুরনো প্রেমিকের দীর্ঘশ্বাসে ভরা
মাইল মাইল তারকাটা নরম ড্রিম আলোর বিভূতি সন্ধ্যার জেব্রাক্রসিং
কুয়াশার শহর ভেদ করে যায়
তারপরও
মনোজাগতিক ল্যাপটপে ছড়িয়ে পড়ে তোমার শখের গ্রীবা
বাতাসের প্রাণ ছুঁয়ে থাকা
ড্রিল মেশিনের শব্দে
তবু তোমার
বাহু
ঠান্ডা
বহুদূরের পিরামিড
কিংবা মোমের ফ্যাশন থিয়েটার
থিয়েটারের দরোজার
একপাশে
তোমাদের পাশের ফ্লাটের যে ছেলেটা
দিন দিন শুকোচ্ছে
মধ্যরাতের জানালা দিয়ে তার হাত
চশমার দোকানে মাল্টিকালার ফিকশন নাচাচ্ছে..
এদিকে ফিকে বিকেলের রাবার বাগানের মাঝখানে
মেঘ রেস্তোরার টেবিলজুড়ে তোমার নাগরেরা
গান গাচ্ছে
গভীর রাতের হলুদ আঙুলগুলি
ফাঁকা রাস্তায় পুলিশের হাতাগুটানো জামার মতো বিষন্ন
কাটাবন দূরে বহু দূরে সরে যাচ্ছে
আমি সিগারেট থেকে সোনা পাতারগুড়োগুলি ফেলে দিয়ে
ভরে নিচ্ছি নতুন শহর
বুড়োবৃক্ষর সবুজ পাতার ঝাঁক..

*জ্ঞানের ভিতর মন পরমার মুখচ্ছবি ভাসে
শুরু করি নিজের মধ্যে
বাক্য হারা সদানন্দকে প্রণাম করার
মাধ্যমে
সে আমার প্রান পবনের
জল
তরঙ্গের হাওয়া
তাঁর নিশি কুটুমের হাওয়া ঘরে
বিরাজ করে
মেঘ
যে মেঘের ইশারায় সাধুজনেরা চলে, খায়-দায় গান করে
গীতবাণীর গভীরে
তারা নাওয়া খাওয়া ভূলে মত্ত থাকে প্রেমে
তাদের পরাণের লীলা-কিত্তন
ভাবের মোহরানার ঝন ঝন শব্দে
পরমের
দেহরুপ লীলা-কিত্তনের ঘরে
সাইঁজির রূপ
ধরে গীতবাণীর গভীরে মনোসহযোগে নাচে
নাচের মধ্যে বাক্যহারা
সদানন্দ
ভাবের মধ্যে ভাবে
তাঁর তালাশে দেহ ফকির জ্ঞানের ভিতর হাঁটে
সেই সুবাদে জ্ঞানের ভিতর মন পরমার মুখচ্ছবি
ভাসে..

*তত্তাবধায়ক ট্রাক
তত্তাবধায়ক ট্রাক ফ্যাশন হাউজের জানালা খুলে
দেখছে হলুদ রাস্তার মোড়

আমি কফি মেকার তোমার বুকের বোতাম ঘরে
বিদ্যুত তারে ঝুলন্ত জনগণের ক্ষোব

নৌকার তলার মতো
জলের স্পর্শে

প্রতিদিন টুকরো টুকরো চোখের জল মুছতেছি
গোটানো হাতায়

আমার চুলের স্বাধীনতাকে ছাঁটতে
র‌্যাবের কালো পোষাক ফুটপথের উপর
হাত তুলে দাঁড়িয়েছে

আমি এস এস সুলতানের ছবির মধ্যে
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কসাইদের
মুখচ্ছবি দেখছি

সিএনজি শব্দের স্তুপে হারিয়ে যাচ্ছে
কফি মেকার
তোমার বুকের সংবিধান লঙ্ঘন করে
আমি তত্তাবধায়ক ট্রাকের
পিছনে
দৌড়াঁচ্ছি ... দৌড়াঁচ্ছি...

*তারারা
কডিনাল রাতের কার্তুজ ভরা
তারারা
পথ ভূলে
ভালবেসে নিরুদ্দেশে
পাখি
হয়ে গেলে
সবুজ কুয়াশার নগরে
আমি
সন্ত্রস্ত দরোজার পাশে নিরবতা
ভেঙে
নিজেকে আঁকি সাইবার বল্কলে..
কার্তুজ ভরা তারারা
জাগে
ভালবেসে
আমার দু’পাশে..

*প্রিয় মুখের জানালা
প্রিয় মুখের জানালা
ভেদ করে ঢুকে পড়–ক গাছের ফাঁকের রোদ

ঘাসের অবুঝ ছায়
গার্মেন্টস কর্মীদের হাহাকারের জলচিত্র
ফুটে উঠুক
গুন্টার গ্রাসের মুখে
শরতের ভোরে গাছের কচি পাতার ফাঁকে
মুখ লুকিয়ে
তুমি সয়ে যাও
প্রাকৃতজনেরা পলেস্তারা হাসি-অভিমান
নিয়ে তোমার বুকের মধ্যে
রূপকথা হয়ে থাকুক
ক্ষেত খামারের ছোট ছোট সবুজ শর্টের আলো
হাড় বের হওয়া কৃষকের মুখের চামড়ায় রৌদ্দুর খেলা করা মন্তাজ

*তিনি চলে গেলেন
তিনি রিকসা পেইন্টিং করে চলে গেলেন

ভারি
চশমার আড়ালে রেখে গেলেন
গ্রামীণ তাঁত

গলির মোড়ে অসংখ্য মুখ
আঁকলেন

আঁকলেন
করাত কলের চাকা

মনের ভিতরে নগরের ঝলমলে নাভীসমুদ্রে নিজেকে
সপেঁছিলেন..

শোক সভায়
বয়স্ক লোকেরা জামার হাতায়
চোখ মুছতেছেন..

সত্যিই তিনি রিকসা পেইন্টিং করে চলে গেলেন

*খোঁজ নিয়ে জেনেছি
খোঁজ নিয়ে জেনেছি উদ্বিগ্ন মুখোশের তলে
তলিয়ে যাওয়া
ঈর্ষা উনজলে খুব গভীর তৃষ্ণার তলপেট
ছুঁয়েছিল
খুব বিষণœ আঙুলের স্পর্শ পেন্সিল কাটারের
ঠোটে
উড়িয়ে নিয়ে এসেছে
তোমার বান্ধবীদের টুকরো টুকরো হাতঘড়ি
চলন্ত বাসের জানালায় মুখ বের করা
মেঘ তবু
বাড়ি ফেরেনি খোঁজ নিয়ে জেনেছি
কুয়াশায় মিশে গেছে চুলের জমিন তাঁর নথের
প্রান্তর
ছেড়ে জাহাজের ছায়া
এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা রোগীর
দৃষ্টি ভেদী
টেলিস্কোপ
আমি নার্স ভালো বাসি
কাটাচামুচের শব্দে আমি লুকিয়ে ফেলি
কোকিল
কোকিলের কন্ঠে তুমি কুহু কুহু
ডাকলে আমি মাথা ডুবানো
চাঁদ
জলের ভিতর থেকে উড়িয়ে দিই জানালা
খোঁজ নিয়ে জেনেছি...

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতা সংকল/মুক্তি মণ্ডল ;
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:১৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১২
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: হাপিশৈছিলো কেম্নে?
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩২

লেখক বলেছেন: বস এডিট করতে গিয়ে কোন কী তে মনে হয় চাপ লেগে হাপিশ হইছিলো। বার বার সংরক্ষণ করেও ওইটা আর ফিরে পাই নাই। এটা আমার অদক্ষতার ফল মনে হয়।

২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১২
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: হাপিশৈছিলো কেম্নে?
৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৪
কঁাকন বলেছেন: হাপিশৈছিলো কেন?
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩২

লেখক বলেছেন: জবাব কাকে দিছি।

৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৬
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: আমার কোন ব্লেজার নেই, নখ আছে,
সারাক্ষণ নখরে সূর্য লটকে থাকে; বেতফল,
আমার মাফলার আছে, তার মধ্যে গুপ্ত নগরী আছে,
ব্রেণটিউমার আছে............................
এ রকম অনেক সুন্দর সুন্দর বর্ণনা আছে যা ভীষণ ভাল লেগেছে।
............................................................................................
কী খবর? কেমন আছেন? পারিবারিক নির্যাতন নিয়ে লেখাটার আরেক কিস্তি পোস্ট করেছি। মন্তব্য পেলে বাধিত হবো।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: জ্বি, আমার ব্লেজার নাই, নখ আছে।

আমি পড়বো নে। আমি একটু চিপাই আছি।

৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫
আমি ও আমরা বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ । এখন একটু ভালো লাগতাছে।

আজ রাতে একটা কিছু লিখবো। কেমন জানি গা কাপাইয়া ভাব আসতাছে।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০২

লেখক বলেছেন: হে হে। কী কথার ছিরি তোমার। বস কথা হবে নে।

৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৭
আমি ও আমরা বলেছেন: হাহাহা, দাপ্তরিক কবিতা লিখে ফেললাম। হূট করেই ভাব চলে এলো না লিখে পারা গেলোনা। তোমার ছবিটা দারুন হইছে। মনে হচ্ছে কোন অজ পাড়া গাঁয় টিউব ওয়েল লাগানোর কর্মসূচী নিছো।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৫

লেখক বলেছেন: ধুর তুমি ধরতে পারো নাই। দু:খ পাইলাম। বাঁশের চোঙা নির্মিত তামাক সেবনের যন্ত্র। মানে হুকা। আদিবাসিদের গ্রামে এক আদিবাসির কাছ থেকে একটু তামাক সেবন আর কি!

তোমার ঘরে যাইতেছি।

৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২২
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: বাপ্পী ঠিকই কইছে......তবে আমি অতোটা বাস্তববাদী নই। আগে আমাদের গ্রামে জাদুকর আসত জাদু দেখানোর জন্য। তার হাতে ওইরকম চোঙা থাকত। মনে হইতাছে আপনি এখন খেলা দেখাইবেন....চোঙা ফুঁকিবেন। তবে হাপিস হওয়াটা খুব কারাপ হইছে। কত সুন্দর সুন্দর কমেন্ট ছিল ওতে। ওইটাকি আর পাওয়া যাবে? তুই ইদানিং বেশি অস্থির হয়ে উঠেছিস........ব্যাপারটা কি? নাকি ভ্রমন তোমাকে গতিশীল করিয়াছে।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

লেখক বলেছেন: এই সেরেছে, আমি আর কী খেলা দেখাবো। সবই তো আপনে দেখাচ্ছেন। একটু চান্স দিলে না হয় দেখাতে পারি।
অস্থির? একটু আধটু।

কমেন্টগুলার জন্য আমার নিজেরও খারাপ লাগছে। নির্ঝরের কমেন্টটা খুব দরকারি ছিল। আমার কবিতা বিষয়ে যে প্রশ্নগুলো তুলেছিল তা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্রমণ কার না ভাল লাগে! গতিশীল করেছে কী না তা জানি না। তবে, ভাল লাগা চোখে মুখে লেগে আছে।

৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৬
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: হা হা হা........ছবিটা চেঞ্জ করলি কেন? ভালই লাগছিল.........বাজীকর!
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: আগেরটা পরিবর্তন করলাম এমনি এমনি।

৯. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৬
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
পুনর্বার পড়লাম।
কেমন আছেন, কবি?
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: ভাল। আপনার মন্তব্যগুলির জবাব গতকাল লিখেছিলাম। পোষ্টও করেছিলাম। এডিট করার সময় পুরো পোষ্টটি মুছে গেছে।

আমি জানি না আপনি তা পড়েছেন কী না। আপনার মতামতগুলা যা স্মরণে আছে তা হলো, কবিতায় বানানভুল, ইচ্ছে করে করা না তা। বাংলা থেকে কনভার্ট করার সময় ঠিক করা হয়নি। এখনো আছে আস্তে আস্তে তা ঠিক করে নেবো। আর একটা ছিল ইংরেজি শব্দের ব্যবহার নিয়ে, আমিও ইংরেজী শব্দ হামেশা ব্যবহারের পক্ষে না, তবে, প্রচলিত বা আমরা কথাবার্তায় যা ব্যবহার করি তা হয়তো চলে এসেছে। এটা কমানোর পক্ষে আমি।
কবিতায় চিত্রকল্প বেশি। এইটাতে আমার মত হা আমার কবিতায় চিত্রকল্পের পর চিত্রকল্প থাকে। এইটা থেকে বের হবার চেষ্টা করছি। ইদানিংকার লেখার ভেতর হয়তো কিছুটা পেলেও পেতে পারেন। আর একটা ছিল কবিতায় বাহুল্য, এইটা আমি ঠিকঠাক মতো বুঝি নাই।
দিও গো সাই কবিতাটা এখানে চলেনা, এই ধরণের একটি অভিমত আপনার মনে হয় ছিল। এই ধরণের কবিতা একসময় আমি লেখার চেষ্টা করেছিলাম। এই ঘরানার কিছু কবিতা এইখানে আরো আছে। এই ধরণের কবিতাগুলা দিয়ে পরীক্ষা করার ইচ্ছে ছিল, এখনো আছে, তাই এখানে দেয়া এবং শেয়ার করা।
ভাগাড়ি কবিতাকে কেন কোলে নিবো...এইটার ব্যাখা হলো এইগুলাও আমার সন্তান, এদের তো আমি ফেলে দিতে পারি না। ১৭-১৮ বছরে আমার কবিতা ৩০০ বা সাড়ে তিন'শ'র মতো হবে। এইগুলা তারই অংশ। আপনার তিন হাজার কবিতা থেকে হয়ত কিছু ফেলে দিলে কিছু যাই আসে না। আমার ক্ষেত্র ঠিক তা না। এই বিকলঙ্গ শরীরের হলেও এদের উপর দারুণ মায়া আছে। এই জন্যই এখানে দেয়া। আস্তে আস্তে এগুলোকে সারিয়ে তোলা যায় কী না তা দেখা।

আমি মোটামুটি। আপনি কেমন আছেন?

১০. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:১২
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ, কবি; আবার কষ্ট করে উত্তর লেখার জন্যে। না, আমি আমার কমেন্টের উত্তর তখন পড়তে পারি নাই। কেননা আমি রাতের লাইন(নেট) ব্যবহার করি।
------------------------------------------------------------------------------

বাহুল্য মানে হলো আপনার কবিতায় হাজার হাজার শব্দ, কিংবা পরপর চিত্রকল্প। মানে ঠিক অতোটা কমপ‌্যাক্ট না। এটা অবশ্য আপনার স্টাইলও হতে পারে। কিন্তু পাঠক (অবশ্যই একনিষ্ঠ)হিশেবে আমার মনে হলে যতোটা না কবিতার ঘোর, তারচে' বেশি শব্দের ঘোর আপনার; শব্দের 'পরও আপনার দারুণমায়া। যদিও আপনার শব্দ এবং শব্দবন্ধগুলো ভযানকসুন্দর। তথাপি পড়তে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলি, কোন জায়গায় রাখবো ধ্যান। এটা অনেকটা অদ্ভুতসুন্দরনকশার মতো: দৃষ্টি কেবল ঘুরতে থাকে উপরে, এটা ধাঁধা তৈরি করে। ভিতরে ঢুকে গেলে পাশাপাশি অনেক সুন্দরকে অবহেলা করে যেকোনো একটি সুন্দরের ভিতর ঢুকে পরিভ্রমণ করতে হয়। ফলে অন্যান্য সুন্দরের জন্যে হাহাকার জাগে প্রাণে।

আমি যেটা মানি, কবিতার পরিণতি শিল্পনন্দনে, নকশায় নয়। একটি কবিতা একটিমাত্র দরোজা; যে-দরোজার ওপাশে অভাবনীয় সুন্দরতা প্রতীক্ষায় কম্পমান-- পাঠক ঘোরলাগাসারল্যে প্রবেশ করবে এবং সৌন্দর্যের ভুবনকে উত্তরোত্তর সুন্দর করবে তার স্বপ্নসত্যকল্পনায়। এবং অবশ্যই প্রতিটি পাঠকই আলাদা স্রষ্টা। কবি কেবল এক অপার সৌন্দর্যের দুয়ারই তৈরি করে দেন। আর কিছু না। দরজার ওপারের জগত পাঠকের সৃষ্ট। মহাত্মা রোঁলা বার্থের 'ডেথ অব অথর' তত্ত্ব আমার মনে হয় কবি এবং কবিতার ক্ষেত্রেও খাটে। অবশ্য আমার কথাগুলি একান্তই আমার নিজস্বদৃষ্টিভঙ্গি।

আর আপনার কাব্যসন্তানদের হত্যার প্ররোচনা দিয়েছি বলে লজ্জিত।

-----------------------------------------------------------------------------
আপনাকে অনেক শুভচ্ছা। নতুন কবিতা পড়তে চাই। আর আপনার ব্লগের কবিতাসমূহ আমি ধীরে ধীরে পড়ছি। কেননা কবিতা আমার কাছে একইসাথে সুরা(মদ) ও সুন্দর। সুরা পান করতে হয় ধীরে ধীরে তাহলে বমিও হয় না এবং অভাবনীয় ঘোর তৈরি হয়, সুন্দরের কাছেও তেমনি যেতে হয়।

শুভরাত্রি।
-----------------------------------------------------------------------------

পুনশ্চ:
আমি কেবলই পাঠক। তাই প্রিয় কবি'র কাছে ভালোলাগানালাগা শেয়ার করলাম। কোনো সিদ্ধান্ত দেই নি। কবি তার আত্মবিশ্বাসেই দৃঢ় থাকবেন জানি। তথাপি বিবেচনা তো আশা করতে পারি।
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: নির্ঝর আপনার এই মন্তব্যগুলি পড়ে ভাল লাগছে। অনুপ্রাণিতবোধ করছি। কবিতা লেখার চেষ্টা যে করি তার মুদ্রণমুকুরে সুন্দর ঘা জেগে উঠছে। যেখানে আমি নিজেকে চিনতে পারছি ঝাপসা, এই রকমই আমার কবিতাকে করে তুলতে চাই। হাজার হাজার শব্দের মালা সড়কের পাশে ছবি করে তুলতে চাই বোধ ও মননের তুলশি পাতাকে, সেটা কতুটুকু হয়, পাঠকেরাই ভাল বলতে পারবে এই যেমন আপনি বলতেছেন।
আমি আসলে চিত্রকল্পছাড়া কবিতাকে ভাবতেই পারিনা। চিত্রকল্পকে মনে করি কবিতার প্রাণ, ভোমরও। গুণগুণ যেমন করে তেমনি পাতার আড়ালে ডানাও ঝাপটায় এইটা আমি চাই। যেজন্য চিত্রের পর চিত্র আসে আমি আসতে দিই, শব্দের গোর না থাকলে কবিতায় কিভাবে গোর আসবে, এইটা হয়তো আমার কবিতার নাবালেক অবস্থা চলতেছে, বালেক হয়ে উঠলে হয়তো কবিতায়ও একসময় ঘোর আসবে। এখন শব্দের ঘোরে না গোরে আছি বুঝতেছি না। এইরকম চলুক... এই আমি চাচ্ছি।
আমি মনে প্রাণে চাই পাঠক খেই হারাক, ডুবু ডুবু হয়ে হয়ে আবার ভেসে উঠুক, দেখুক নিজের মতো করে, ভাবুক একটু...আর যে সুন্দরের কথা বলেছেন, আসলে এক সুন্দর আর এক সুন্দরকে অবহেলা না বলে বলা দরকার ঈর্ষা করে। গিলে ফেলতে চাই। আমিও এইটা চাই।
কবিতার পরিণতি শিল্পনন্দনে, নকশায় নয় - এইটা আমি ভাবি না, নকশায় কেন নয়। মাকড়সার শিল্পনন্দন তো তার নকশায়ই, নাকি? কবিতায় মাকড়শা হতে পারলে আর আমি কিছু চাই না।
কবিতার একটি মাত্র দরোজায়ও আমার আস্থা নেই, আমার কাছে কবিতার অসংখ্য দরোজা চাই, নাভি চাই, গ্রীবা চাই...চাই অসংখ্য আঙুল....

জানি না আপনার কথার ভেতর ঢুকতে পারলাম না কী না। আপনার কাব্যবোধ কে সেলুট।

১১. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:১৭
আমি ও আমরা বলেছেন: মুক্তি, অল্প অল্প করে পড়ছি। তাই ভাবছি অল্প অল্প করে মন্তব্য করে যাই। যতটুকু পড়লাম তার থেকেই বলছি। অবশ্য নির্ঝর যা বলেছে ভালই বলেছে এর পর কি আর মন্তব্যের দরকার? এর আগে ওর মন্তব্য আমিও পড়েছি।

আমার কাছে যেটা ভালো লাগেনাই কেন লাগেনাই শুধু তাই আলাপ করি।
---------------------------------------------------------------------------
এ লট অফ ফ্লাইং কিস
এই কবিতায় তুমি শিরোনামে ইংরেজী লাইন ব্যবহার করেছো করতে পারো। ষ্টাইল ভাংগার খেলাই তো কবিতা। কবিতাতে প্রয়োজনে অন্য দেশীয় শব্দ আসতে পারে। তাছারা আমাদের দেশের প্রচলিত যেই ভাষা সেখানে আমরাও অনেক বিদেশী শব্দ ব্যবহার করি। এখন আসি কথায়।
তুমি শুরুটা ও করেছো "এ লট অফ ফ্লাইং কিস" লাইন দিয়ে। আমার কাছে এটা ভালো লাগেনাই। তুমি দেখো শেষে কিন্তু এ লট অফ ফ্লাইং কিস কথাটা চলে এসেছে। শুরু থেকেই তুমি পাঠক কে একটা রাস্তায় চলার জন্য রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছ। শেষ পর্যন্ত তাকে তার মত করে তোমার কবিতা বুঝে বুঝে যেতে দেয়াটা আমার কাছে বেশী আরামদায়ক মনে হচ্ছে। আমি আসলেই প্রথম লাইন এ ঢুকে যেতে পারিনাই। বরং ঢুক্লাম শেষে গিয়ে। কারন একবার আমি প্রথম লাইন টা বাদ দিয়ে পড়ে দেখেছি।
-----------------------------------------------------------------------------
আমার কোন ব্লেজার নেই

এই কবিতাটা ভালই কিন্তু আজ অব্দি তোমার অন্য অনেক কবিতা দেখেছি। সম্প্রতি "নাচের স্কুল" এগুলো সামনে এই কবিতা পাত্তা পাবেনা। তবে কবিতাটা থেকে আমি কিছু শিখলাম এর জন্যই লিখছি।
তোমাকে গতকাল বলেছিলাম না আমি কিছু শিখছি। এই কবিতায় তোমার রিপিটেশন টা ভালো লাগল। সেটাই দেখলাম। তাছারা আমার কাছে কবিতাটা মুক্তি মন্ডলে "ঘড়ির কাটায় মেটার্নি শো" বই ও বর্তমান আরো যে যে কবিতা আছে তার সাথে যায়না। আমার কাছে এটা কেমন জানি শক্তিশালী কবিতা মনে হয়নাই।

-----------------------------------------------------------------------------
এই মন্তব্য গুলো "*বিরহ ভালো লাগে" কবিতা পর্যন্ত। বাকি গুলো আজ রাতে পড়ব।

ভালো থেকো তুমি। তোমার কবিতাকে নিয়ে ওটি তে যেতে হাত কাপে আমার।
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: তোমার কথা শেষ হলে আমি বলবোনে..আগে তুমি বলে নাও..

১২. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৬
আমি ও আমরা বলেছেন: মা কি কোনদিন মোটা ছেলেকে মোটা বলতে পারে? তার চোখে চিরকাল তার ছেলে রুগ্ন।

তোমার সাথে আমি যতটুকু মিশেছি, সেই মেশার কারনেই আমি জানিনা তোমার মনে কতটুকু জায়গা করে নিয়েছি কিন্তু আমার মনের অনেকাংশ জুড়ে একজন ভালো বন্ধু হিসাবে তুমি জায়গা করে নিয়েছো। এর জন্যই আমি তোমার অনেক কাজের দ্বারা প্রভাবিত হই।তোমার কাজ গুলো আমি খুব কাছ থেকে যতটুকু পেরেছি দেখেছি। তাই কবিতার বিশেষ করে এই পোষ্টার বিচার করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আর যদি তোমাকে চিন্তে না পারতাম, তোমার কাজের অবগত না থাকতাম তাইলে তোমার কবিতার ঢং নিয়ে নিরপেক্ষ একটা তর্কে খুব সহজেই নিজেকে ধাবিত করতে পারতাম। কারন সেখানে এসে ভির করতো কিছু অপরিচিত কাজের অবয়ব। তখন নতুন করে পরিচিত হতাম বা যেটা জানতাম না সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেত। সেই আলোচনায় অবলিলায় বেরিয়ে আসতো অনেক মতের বড় বড় সাপ। তোমাকে খেতো আমাকে খেতো।

হা আমি নিজের সাথে এখন এখানে এসে সেই যুদ্ধই করে যাচ্ছি। মনকে বুঝাতে চাচ্ছি আমি মুক্তি মন্ডল কে এখন চিনিনা।

বাকী কবিতা গুলো পড়ছি। তা নিয়ে পড়ে কথা হবে। উপরের মন্তব্যটা যে পর্যন্ত দেখেছি বা লিখেছি তা শুধু ভালো না লাগার কথাই।

নির্ঝর একটা কবিতা নিয়ে কথা বলেছে (লালন রিলেটেড)। জানিনা ওকে তুমি চেনো কিনা। তবে আমিতো তোমার বৈঠকখানা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। লালন কে নিয়া তোমার যে প্রচেষ্টা বা একটা টানসূত্র আমি দেখি, তাতে তুমি অনেকখানি সফল হয়েছো। লালনের তত্ত্বকে অনুধাবন করে তা কবিতায় তুলে আনা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ওর তত্ত্বটাই তো বুঝতে দির্ঘ জীবন সাধনা করতে হয়। তবে এটা আমি বলে রাখি তোমাকে। আমি যদি লালন তাত্ত্বিক গায়ক হতাম তাহলে আমি তোমার এখানকার কিছু কবিতা নিতাম গান আকারে বের করতাম। এটা একটা ছোট্ট বিপ্লব হতে পারে। অবশ্যই তা লালন সাঁইজির প্রতি সম্মান রেখে। কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো আমি কোন সাঁই, অচিন কোন জায়গায় বসে গান গাইছি। এইযে এইখানেই দেখো তোমাকে আমার না চেনার কতো দরকার ছিল।

তবে লালনের তত্ত্বটাকে তুমি যদি মানুষকে বুঝাতে চাও কবিতা দিয়ে, সেখানে তুমি তোমার সহজ ও সাবলিলতার মাঝে আরেকটু খোলাসা বা সহজ করে বুঝাতে পারো। এখন এখানে একটা কথা চলে আসতে পারে। তা কি শুধু লালন চর্চাকারীদের মধ্যেই তুলে ধরতে চাও নাকি সবার জন্য। এখানে কবিতা যে বুঝে তার জন্য কবিতা এই শ্লোগান টা ভূলে যাও। যদি লালনপ্রেমী দের জন্য হয় তাহলে ঠিক আছে। আর যদি তুমি লালনের ম্যাসেজটা সাধারনের মাঝে তুলে ধরতে চাও তাহলে আরেকটু সহজ করলে মনে হয় ঠিক হবে।


আজ এখানেই আবার পরে এসে কথা বলে যাবো।
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: বস তোমার আলোচনাটা আমি বুঝতে পারছি। লালন আমি যে খুব বুঝি তা না। পারিবারিক পরিমন্ডলে যা দেখেছি তাও পুরোপুরি বুঝি নাই। লালনের তত্ত্ব আমি বুঝি না পুরোপুরি। লালনের যেভাষা ভঙ্গি সেইটা আমাদের আধুনিক বাংলা কবিতার যে ধারা গড়ে উঠেছে তার সাথে মেলে না। লালনের পথ ধরে আমাদের কবিতা হয়তো এখন যে চেহারা পেয়েছে তা অনুসরণ করলে হয়তো অন্যরকম হতে পারতো। তা হয়নি। বর্তমানে কেউ কেউ এই ধারাটা ফলো করছে। কী রকম ভাবে দাঁড়াবে এই সব কবিতা তা হয়তো আরো অনেক পরে জানা যাবে। আমার ভেতর এই ধারার প্রতি এক ধরণের সোহাগী সমর্থন আছে। খুব ভেতরে তা নড়ে চড়ে বসে। ভাবি এইরকম ভাবে তো কবিতা লেখা যেতে পারে। সেই সুবাদেই কিছু কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলাম। তত্ত্বফত্ত্ব মাথায় না রেখেই।
বস লালন তুলে ধরার কিছু নেই। উনি উপরে উঠেই আছেন। উনাকে নিয়ে বড়োজোর ব্যবসা করা যায়।

১৩. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০০
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
কবি, আপনার আত্মবিশ্বাস ভালো লাগলো।
কখনো যদি আপনার সাথে মুখোমুখি কথা বলতে পারি আরো ভালো লাগবে। আপনি কি ঢাকায় থাকেন? তাহলে এখন সম্ভব না। আমি চট্টগ্রাম থাকি। হয়তো মাসছয়েক পরে ঢাকা চলে আসবো। তখন যোগাযোগ করবো নিশ্চয়ই।

অনেক ভালো থাকুন।
শুভরাত্রি।
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। দুনিয়াটাই তো হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। আসেন ঢাকায় দেখা হয়ে যাবে। আমি মিরপুর ১০ এ থাকি। ঢাকায় আসলে আওয়াজ দিয়েন।

দেখা হয়ে যাবে। ভাল থাকবেন।

১৪. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৩
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: আবার পড়লাম। আর শব্দের গোলক ধাঁধাঁয় জড়িয়ে গেলাম
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৫

লেখক বলেছেন: শব্দের গোলক ধাঁধাঁয় পাঠকেরা পড়ুক এটা আমিও চাই। গোলকের ভেতর পড়ে পথ খুজে নিক এক এক জন একেক রকম করে। এইটা যদি হয় তাহলে আমার কাছে মনে হচ্ছে পাঠকের এক ধরণের অংশগ্রহণও হয়ে যায় কবিতার সঙ্গে। এটা তো আমার জন্য সুভাগ্যর একটা ব্যাপার।

ভাল থাকবেন।

১৫. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৪
নম্রতা বলেছেন: সময় নিয়ে পড়বো লেখাগুলো। তবে একটা কথা বলে যেতে চাই আপনার এই অসাধারণ সৃষ্টিই আমাদের কবিতা পড়ার আনন্দ...

ফিরে আসবো দাদা ...শুভকামনা !
১৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: শুভ কামনা আমার পক্ষ থেকেও।
১৭. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪১
শত রুপা বলেছেন: আমি ঢুকে পড়েছি বৃষ্টির ভিতর দাঁড়িয়ে আছি
অস্থির বিজ্ঞাপণ রক্তচূর্ণ চুম্বনের শেষ অধ্যায়ন




আমি ঢুকে পড়েছি বৃষ্টির ভিতর দাঁড়িয়ে আছি
অস্থির বিজ্ঞাপণ রক্তচূর্ণ চুম্বনের শেষ অধ্যায়ন



আমি ঢুকে পড়েছি বৃষ্টির ভিতর দাঁড়িয়ে আছি
অস্থির বিজ্ঞাপণ রক্তচূর্ণ চুম্বনের শেষ অধ্যায়ন




আমি ঢুকে পড়েছি বৃষ্টির ভিতর দাঁড়িয়ে আছি
অস্থির বিজ্ঞাপণ রক্তচূর্ণ চুম্বনের শেষ অধ্যায়ন














মুক্তিদা
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: বহুপুরানা লেখা পড়তেছেন দেখি!

ভাল থাকবেন।

১৮. ১১ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৮
ভাঙ্গন বলেছেন: কয়েকদিন থেকে একজনের প্রিয় পোস্টে আপনার কবিতা সংকলনটা চোখে পড়ছিলো।
ব্যস্ততায় ঢুঁ মারা হয়নি। এখন এক লহমায় পড়ে নিলাম।
দারুন অভিজ্ঞতা।
ছিন্নগ্রন্থির জলরঙে ঝুমঝুম বৃষ্টির রাত
১১ ই মে, ২০১০ রাত ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: বস, এই সংকলনে অনেক বানান ভুল আছে। ঠিক করার সময় পাচ্ছিনা। সময় করে ঠিক করে দিবো। অনেক আগেকার লেখা এইগুলা।

এক লহমায় পড়ার জন্য ধন্যবাদ নিয়েন বস।

১৯. ২৩ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৩৪
তৃণ বলেছেন: এতো কবিতা একসাথে?! সবগুলো পড়ে শেষ করতে পারলাম না, পরে আবার আসবো।
২৪ শে জুন, ২০১০ রাত ২:২৯

লেখক বলেছেন: আরে পুরানা কবিতা পড়তেছেন দেখছি! শুভেচ্ছা জানাই আপনাকে।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯৭৭০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ফুলের গন্ধ থোকা ভেঙে গেলে, জানালায় খোপার আকাশ, ভরে ওঠে পাখিদের টহলে।।
ইমেইল: Mukte.mandal@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ