আমার প্রিয় পোস্ট

C:\Documents and Settings\raad\My Documents\Lighting cig..jpg

চট্টগ্রাম সেনা বিদ্রোহের ২৯ বছর পর ফিরে দেখা। পর্ব-৬

০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১:২২

শেয়ারঃ
0 2 0

পর্ব-১ পর্ব-২ পর্ব-৩
পর্ব-৪
পর্ব-৫

অপরাহ্ন, ১ লা জুন, ১৯৮১,

রেডিওর একটি ঘোষনা আমাকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। মেজর দোস্ত মোহাম্মদ সিকদার নাকি অধিনস্ত সৈন্যসহ আত্মসমর্পন করেছে!

কিভাবে! দোস্ত মোহাম্মদ সিকদার তখন ৬ ই বেংগলের সহ অধিনায়ক। তারই ব্যাটালিয়ানের এডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন হায়দার তাকে জোর করে বন্দুকের মাথায় ধরে নিয়ে এসেছে। ফেনীর অস্থায়ী ব্রিগেড সদরে সে-ই একমাত্র বন্দী। রফিক, সেরনিয়াবাত বা ইলিয়াস নয়, সে কি করে আত্মসমর্পন করে?

সেই প্রথম আমার রক্ত হীম হয়ে আসা শুরু করলো। What am I missing? কি যেন একটা কিছু আমার সামনেই যা আমি দেখতে পাচ্ছিনা। কি যেন ঘটে চলেছে যা আমি ধরতে পারছিনা। অত্যন্ত অস্বস্তিকর অনুভূতি। আমি আবার আমার সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সজানোর চেষ্টা করলাম। দশ বারো বার করেও কিছুই মেলাতে পারলাম না। ধুৎতেরি বলে আমার সিটে আমার পাশে শোয়ানো ক্যাসেট প্লেয়ারটা চালিয়া মনে মনে ঠিক করলাম করের হাটে পৌঁছেই ব্যাটারি কিনতে হবে গান শোনার জন্যেঃ

If you change your mind, I'm the first in line
Honey I'm still free
Take a chance on me
If you need me, let me know, gonna be around
If you've got no place to go, if you're feeling down
If you're all alone when the pretty birds have flown
......।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।

Take a chance on me
That's all I ask of you honey
Take a chance on me

৭৭/৭৮ এর ওঅর্ল্ড চার্টের টপ টেন এর টপ মোস্ট গান।

গান শুনতে শুনতেই হঠাৎ জিগসাও পাজলের (jigsaw puzzle)প্রত্যেকটি অংশ ঠিক ঠিক জায়গায় বসে যেতে শুরু করলোঃ জেনারেল জিয়াকে হত্যা করা। ব্রিগেড কমান্ড পোস্টে সব প্রত্যাগত দেখা, রফিকও অন্যান্য আত্মসমর্পনকাকে দেয়া প্রয়োজনাতিরিক্ত পাহারা, এখন রেডিওতে শোনা দোস্ত মোহাম্মদ কাহিনী।

ধীরে ধীরে বোধদয় হওয়া শুরু করলো যে যা দেখছি যা শুনছি যা বুঝছি তারো বাইরে কিছু ঘটে চলছে, আর তা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা বনাম প্রত্যাগতদের লড়াই। আর আমরা ব্যাবহৃত হচ্ছি দু'দল দিয়েই। আর যে দলকে ঠিক পছন্দ করি না সে দলেরই আমি দাবার ঘুঁটি ( a pawn- a peon- a powerless person, কে শিখিয়েছিল? আমার চতুর্থ শ্রেণীর গৃহ শিক্ষিকা Mrs. Rasmusen? না ফৌজদারহাটের মিস্টার রাফি ইমাম)?

জোরাল গঞ্জ থেকে কিছুক্ষণ আগে রওয়ানা দিয়েছি করের হাটের উদ্দেশ্যে। নির্দেশ মত সমস্ত ভারী অস্ত্র, গোলা বারুদ ও কুক হাউজের ৩ টন গাড়ী রেখে এসেছি। হাতের নাগালে যত পেয়েছি ততগুলো স্টেন নিয়েছি। কমান্ডার আমাকে আমার ঊপদলকে নিয়ে করের হাটের একটা নির্দিষ্ট স্থানে ডেকেছেন। চেষ্টা করছি বুঝতে, কেন? খাবারের সংস্থান নেই (যদিও বলা হয়েছে যে যথা স্থানে যথা সময়ে খাবার পৌঁছে যাবে), ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে আসা, বেশী করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নেয়া, হালকা পোশাক।


আমাকে কেন? ব্রিগেডে কি Subaltern (Lieutenant & Second Lieutenant) এর অভাব পরেছে? হিসাব করে দেখলাম পুরো ব্রিগেডের ১৫ জন সাবলটার্নের মধ্যে ১০ জনই উপস্থিত!

প্রথমে ব্রিগেড সদরে G-III, অপস রুমে চিন্তার ঝড়ে আংশ নেয়া, আত্মসমর্পন করানো, নিরস্ত্রীকরন করানো, চিটাগাং এ রেডিও স্টেশনের দখল নিতে পাঠান, এখন আবার কি যেন কি অপারেশনে পাঠাবে। আবার অংক কষতে বসলাম। সহজেই অংক মিলে গেল। এরকম পরিস্থিতিতে, যখন ন্যায় অন্যায়ের সীমা রেখা ম্লান হয়ে যায় (when the thin line between right and wrong gets blurred) , তখন ঠিক ন্যায় নয় এমন কাজ করাতে বিস্বস্থ লোকের প্রয়োজন হয়। আমার বিস্বস্থতা আমার পড়ালেখার সাথে জড়িয়ে আছে। কমান্ডার, ব্রিগেড মেজর (বি এম)আর আমি একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের-ফৌজদারহাট কেডেট কলেজের।
ফেঁসে যাচ্ছি কি?


করের হাট পৌঁছে রানারকে ব্যাটারী কিনতে বাজারে নামিয়ে দিয়ে , যতক্ষণে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছুলাম, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে হত্যা, বিপথে যাওয়া একদল সৈন্যকে বাগে আনা, দেশের তরে জীবন দেয়ার সুযোগ পেয়ে আত্মহারা হওয়া এগুলো সব উবে গেছে। বুঝে গেছি এ হচ্ছে এক দলের অন্য দলকে নিশ্চিহ্ন করার সুযোগের সদ্যবহার করা। প্রত্যাগত দল যদি হেরে যায় তবে আমার ভাগ্যে কি ঘটবে তা আমার কাছে দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেল। তবে আশার কথা যে সে সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ।দেখি আমাদের একই ব্রিগেডের অন্য সেনাদলের মেজর তালেবুল মাওলা (মেজর সাঈদ ঈস্কান্দার , খালেদা জিয়ার আপন ছোট ভাইয়ের কোর্স মেট, প্রয়াত), তাঁর উপদল নিয়ে আগেই এসে পড়েছেন। তাকেও ডেকেছেন কমান্ডার। মেজর মাওলার মোটর সাইকেলেরন ধবংস সাধন করার তিন মাস পূর্তিও হয়নি আমার, তাই তাঁকে এড়িয়ে যাবার ব্যার্থ চেষ্টা করলাম। সদা হাস্যজ্জ্বল মেজর মাওলার মুখ পান্ডুর বর্ণ ধারন করেছে। তাকে আমার চিনতেই কষ্ট হচ্ছিল।

আমি পৌঁছানোর মিনিট দুয়েকের মধ্যেই পৌঁছুলেন কালা ভাই (কমান্ডারকে এ নামেই ডাকা হ'ত আড়ালে), ইঊনিফর্মের সাথে স্নিকার পায়ে, গলায় মাফলার পেঁচানো। তার হাতের তাক ছিল অব্যর্থ। আমি আমার চাকুরী জীবনে তার চেয়ে ভাল চাঁদিয়াল (marksman) দেখিনি। শিকার করা ছিল তার নেশা। হাতে মোড়ান একটি quarter inch map (বিশেষ স্কেলের ম্যাপ) নিয়ে উনি তিন মিনিটের একটি ব্রিফিং দিয়ে আমাদের দুজনকে ছেড়ে দিলেন। করের হাট থেকে রাম গড়ের রাস্তাকে দুটি আংশে ভাগ করে রামগড় থেকে হেঁয়াকো দিলেন আমাকে। আর হেঁয়াকো থেকে করের হাট মেজর তালেবুল মাওলাকে। তিনি জানালেন যে যে জেনারেল মঞ্জুর সহ বিদ্রোহী অফিসারেরা পালাচ্ছে এবং তারা যেদিক দিয়ে এগুচ্ছে তাতে রামগড় থেকে করের হাটের মাঝামাঝি যে কোন জায়গা দিয়েই পালানোর চেষ্টা করবে। আমাদের কাজ হবে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের এলাকা দিয়ে কোন মানুষ রাস্তা পেরিয়ে ভারতের দিকে না চলে যেতে পারে। যে-ই যাবার চেষ্টা করবে তাকেই ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এং সামান্যতম সন্দেহ হ'লে আটক করতে হবে। আর সে যদি আমাদের পরিচিত হয় তা'লে তো কথাই নেই।

জীবনের প্রথম সৃষ্টিকর্তার কাছে কায়মনোবাক্যে একটি জিনিসই অন্তরের অন্তস্থল থেকে চাইলামঃ "হে ইচ্ছা পুরনকারী, আমার মনের একটি ইচ্ছে পুরণ করুন। কেঊ যেন আমার হাতে ধরা না পড়ে"।

আমাদেরকে আদেশ দিয়ে তিনি আগে থেকে জড়ো হ'য়ে একদল বেসামরিক স্থানীয় লোকদেরকে সংঘবদ্ধ করতে লাগলেন- ৩/৪ জনের একেকটি দলে, যারা পায়ে চলাপথ যেগুলো বাংলাদেশের ভেতর থেকে ভারতে চলে গেছে সেগুলোতে পাহারা দেবে। কমান্ডারের এলাকাটা চষা ছিল, কারন শিকার করতে তিনি প্রায়ই এলাকাটিতে কাটাতেন।

হেঁয়াকোতে ছিল একটি বি ডি আরএর বি ও পি (Border Out Post)। এমন অনেক জায়গা ছিল হেঁয়াকো থেকে রামগড় পর্যন্ত যেখানে রাস্তা পেরুলেই ৪/৫ ফুটের মধ্যে ১০/১২ ফুট চওড়া একটি অতি সরু খাল, খালটি পেরুলেই ভারত।

টহল শুরু হ'ল। প্রথমেই আমার জীপ, তার পর ৭ টি Volvo ২ টন ট্রাক, তখনকার সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দামী state of the art military vehicle. হঠাৎ মনে পড়লো , জেনারেল মঞ্জুরই সিজিএস (Chief of the General Staff) থাকতে অনেক জোর জবরদস্তি করে জেনারেল জিয়াকে রাজী করিয়ে এই বাহনগুলো কিনেছিলেন। আজ তাকেই ধরতে এগুলো ব্যাবহার করা হচ্ছে।

সন্ধ্যার কিছু আগে দিকে খবর এল জেনারেল মঞ্জুর আত্মসমর্পন করেছে ফটিকছড়িতে। আমার ও মেজর মাওলার ওয়্যারলেস ফ্রিকোয়েন্সী এক থাকায় এবং আমারা দু'জন বেশিরভাগ ওয়্যারলেস নিজেরাই অপারেট করার জন্যে সব খবরাখবর আদান প্রদান হচ্ছিল। আমার কুখ্যাত Weird Sense of Humour তখনো অল্প বিস্তর কাজ করছিল। দুজনেই কিছুক্ষন অদৃষ্টবাদী কথাবার্তা বলতে বলতে মনটাকে একটু চাংগা করলাম। হঠাৎ অপরপ্রান্ত থেকে কথা বন্ধ হ'য়ে গেল। আমি তখন অপারেটরকে ওয়্যারলেস সেটটা দিয়ে দিলাম।


মিনিট পাঁচেক পর আমার অপারেটর জানালো যে মেজর রওশন ইয়াজদানী ভুঁইয়া বীর প্রতীক, মেজর মাওলার হেফাজতে । ভাগ্যের কি পরিহাস। মেজর মাওলা ক্যাপ্টেন থাকা আবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এই মেজর ইয়াজদানীর সরাসরি অধীনে GSO-III ছিলেন।

যেহেতু মেজর তালেবুল মাওলা নিজে সে ঘটনা সম্পর্কে আমাকে কোনদিন কিছু বলেন নি, আমিও কিছু জিজ্ঞেস করিনি কখনো এবং যেহেতু মেজর ইয়াজদানীর হেফাজতে আসা নিয়ে একাধিক পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায় তাই আমি সে সম্পর্কে কিছু বলছি না।

সৃষ্টিকর্তাকে ডাকা আবার শুরু করলাম একই আর্জি নিয়ে। রাত বারটার কিছু আগে আমার চোখ ব্যাথা করতে লাগলো। প্রচন্ড শীতে আমি কাঁপতে লাগলাম। গাড়ীর বহর থামালাম মিনিট খানেকের জন্যে। মেডিক্যাল এসিট্যান্টকে ডেকে আনল রানার, জ্বর একশ চার। অনেকদিনের অভ্যাস জ্বর এলেই গোসল করা অনেকক্ষণ। কোথায় পাবো পানি? একবার ভাবলাম খালে নামি। কিন্তু অত সময় কোথায়? চারটা নোভালজিন মেরে দিয়ে পেটের ব্যাথায় মোচড়াতে মোচড়াতে টহল আবার শুরু করলাম।

রাতের খাবার তখনো পৌছেনি. ঘড়িতে বাজে রাত বারোটা।


-চলবে।





 

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১:৩৩
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: পড়লাম। আগের দুই পর্ব মিস হয়েছে। এক্ষুনি পড়ছি।
০৫ ই জুন, ২০১০ সকাল ১১:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

০৫ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:০১

লেখক বলেছেন: সমব্যাথী হবার জন্যে কৃতজ্ঞতা।

০৫ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:০৬

লেখক বলেছেন: মানি।

তবে,

১। আমি ভয় শূন্য ছিলাম না।

২। নিজেদের মধ্যে মারামারির সময় শির উচ্চ রাখা কষ্টকর।

৩। আমি বীর নই।

০৬ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮

লেখক বলেছেন: তুমি বুদ্ধিমান। নাম এত বড় কেন? নামকেই মনে হয় মন্তব্য!

আকার তো এত বড় না।

৪. ০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৩৭
অলস ছেলে বলেছেন: কমান্ডার কে ছিলেন? মাহমুদুল হাসান নামে যার কথা আগে লিখেছিলেন তিনি? প্রত্যাগত? আরেক মাহমুদুল হাসানের দেলদুয়ারেরর থিফ অভ বাগদাদ হবার বিষয়টা বুঝিনি।

সামরিক বাহিনীর প্রতি মাঝে মাঝে রাগ হয়। দেশটার বারোটা বাজাতে রাজনীতিবিদ দের পর তাদের অবদান অনেক।

ভালো থাকবেন।
০৫ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৩০

লেখক বলেছেন: কমান্ডার মানে ব্রিগেড কমান্ডার, ছিলেন ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুল হাসান। সে সময়ে দু'জন সিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ছিলেন।একজন প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারের মাহমুদুল হাসান, যার বাড়ি ছিল দেলদুয়ার। তাঁর দূর্নীতির কাহন এরশাদের আমলে এতই ছড়িয়েছিল যে তাকে আমরা থিফ অফ বাগদাদ ডাকতাম। সে সময়ে তিনি ছিলেন ঢাকার মেয়র/সম পর্যায়ের।

আমাদের ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন প্রাক্তন পদাতিক বাহিনীর।

সামরিক বাহিনীর প্রতি মাঝে মাঝে রাগ হয়। দেশটার বারোটা বাজাতে রাজনীতিবিদ দের পর তাদের অবদান অনেক।

- যদি আরেকটু বিশ্লেষনে যান তা'লে দেখবেন "Our Army was used like a french leather, which is thrown away just after the use, not even like a concubine, who is looked after by her suitor long after they have copulated last".

৫. ০৫ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৬
সৌম্য বলেছেন: সবগুলো পর্ব একসাথে পড়লাম। খুব ভালো লাগলো। ফেভারিটে। পাকিস্তান ফেরতা আর মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের সংঘাতের কারনে বাংলাদেশ পেইড আ লট। একটা চমতকার উদাহরন, আজ পর্যন্ত ১৩ জন সেনাপ্রধান এসেছেন বাংলাদেশে (কর্নেল রবকে বাদ দিয়ে)। এদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সেনাপ্রধানরা কেউই ভালো ভাবে তাদের সময়কাল পার করতে পারেননি। জেনারেল শফিউল্লাহ ডিসমিসড, জেনারেল জিয়া (২ মেয়াদে পরে রাষ্ট্রপ্রধান) নিহত, জেনারেল খালেদ মোশারফ (নিহত এবং পরে ভারতীয় দালাল আখ্যা পাওয়া, অথচ তার সহযোদ্ধাদের লেখায় দেখা যায় ৭১ সালে ভারতীয় অফিসারদের সাথে তার সম্পর্ক হৃদ্যতার ছিলো না), জেনারেল নাসিম ( প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাস যার ৭১এর ভুমিকা পাকিস্তানের পন্থি, সেনাবাহিনীতে ব্যাপক রদবদল করলে এর প্রতিবাদ, এবং ব্যর্থ ক্যুএর অভিযোগে বরখাস্ত), জেনারেল মুস্তাফিজ তার মেয়াদকাল শেষ করেন, কিন্তু পরবর্তীতে তার র‌্যাঙ্ক ডাউন, দুর্নীতির মামলা এবং তাকে সকল গ্যারিসনে অবাহ্নিত ঘোষনা করা হয়। জেনারেল মুস্তাফিজের মেয়ে বিএমএতে আমাদের সিনিয়র ছিলেন। তার কমিশন প্যারেডের দিনেও জেনারেল মুস্তাফিজ বিএমএ তে আসতে পারেননি। তাকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পড়ায় অভিভাবক হিসাবে তার খালা। অথচ প্রত্যাগত সেনাপ্রধানরা সবাই দিব্যি তাদের মেয়াদ শেষ করেছেন, এরশাদ সাহেব তো প্রেসিডেন্ট হবার খোয়াব এখনো ছাড়তে পারেননি, ৯ বছর বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ধর্ষন করার পরেও।
রাজনৈতিক নেতারা তাদের লোভের কারনে সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে জড়ায় এবং তার মুল্য দিয়েছে ব্যাপক ভাবে। এর ধারা এখনো শেষ হয়নি।
০৫ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:১০

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার উপাত্তের জন্যে।

আমি এভাবে কখনো হিসেব করে দেখিনি। আমার ব্যাক্তি সংগ্রহে আপনার এ মন্তব্যের পুরোটাই রাখছি।

৬. ০৫ ই জুন, ২০১০ ভোর ৫:৪০
আত্মা দীপ্‌ বলেছেন: ভালো এবং তথ্যবহুল লেখাগুলো পড়ে হারিয়ে যাচ্ছি জন্মের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহে।
আমরা কখনো নিজেদের কি পরির্বতন করতে পারব না?
০৫ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:১৫

লেখক বলেছেন: আগে বিশ্বাস ছিল পারবো। সে বিশ্বাসের দৃঢ়তা আর নেই।

তবে আমি মনে করি যে আমাদের দেশের সবচে' বড় প্রয়োজন আমাদের মধ্যমানের নেতৃত্বের উত্তরন।

৭. ০৫ ই জুন, ২০১০ ভোর ৫:৪৩
ধীরে বৎস বলেছেন: আরো কিছু প্রশ্ন :(

দোস্ত মোহাম্মদ সিকদার এখন কোথায়? সে কতটুকু বেনিফিটেড হয়েছিল পরে?

ক্যাপ্টেন হায়দারের কি হয়েছিল এরপরে? উনি এখন কেমন আছেন? কোন বই লিখেছেন কি?

মঞ্জুর কি শুধু চিটাগাং রেডিও দখল করেছিলেন না আরো কিছু জায়গায় তার deployment ছিলো? রেডিওতে মঞ্জুরের ঘোষনাটা সম্বন্ধে জানেন কিছু?

সে সময় বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান কে ছিলেন? তারা এখন কে কোথায়? তাদের ভুমিকা কি ছিলো ক্যুয়ের সময়?

তিনপর্বে অনেক প্রশ্ন করে ফেলেছি, আপনাকেও বিরক্ত করে ফেলেছি, তাই স্যরি বলে নিচ্ছি। আর উত্তর যেকোন একসমইয় দিলেই হবে :D

আপনার হাতের অবস্থা এখন কেমন?
০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৪০

লেখক বলেছেন: দোস্ত মোহাম্মদ সিকদার এখন কোথায়? সে কতটুকু বেনিফিটেড হয়েছিল পরে?

সেই যে রেখে এসেছিলাম বন্দী করে ব্রিগেড সদরে, আর খবর জানি না। তাকে "অকালীন বাধ্যতামূলক অবসর"এ পাঠানো হয়েছিল বলে শুনেছি।

ক্যাপ্টেন হায়দারের কি হয়েছিল এরপরে? উনি এখন কেমন আছেন? কোন বই লিখেছেন কি?

-উনি মেজর হয়ে স্বেচ্ছা অবসরে। এখন ঢাকায় থাকেন ভাল আছেন। কন্যাটি খুবই মেধাবী। না, তিনি কোন বই লেখেন নি।

মঞ্জুর কি শুধু চিটাগাং রেডিও দখল করেছিলেন না আরো কিছু জায়গায় তার deployment ছিলো? রেডিওতে মঞ্জুরের ঘোষনাটা সম্বন্ধে জানেন কিছু?

-ওঁর ডেপ্লয়মেন্টএর মধ্যে ফেনী নদীর দক্ষিণ পাড়ে দুটি সেতুকে মাঝে রেখে দুটি ছাড়া আর জানি না। মঞ্জুরের ঘোষনা সম্পর্কে কিছুই জানিনা।

সে সময় বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান কে ছিলেন? তারা এখন কে কোথায়? তাদের ভুমিকা কি ছিলো ক্যুয়ের সময়?

-এখন মনে পড়ছে না। তাদের কোন ভুমিকা ছিল বলে জানা নেই।

০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন: দোস্ত মোহাম্মদ সিকদার এখন কোথায়? সে কতটুকু বেনিফিটেড হয়েছিল পরে?

সেই যে রেখে এসেছিলাম বন্দী করে ব্রিগেড সদরে, আর খবর জানি না। তাকে "অকালীন বাধ্যতামূলক অবসর"এ পাঠানো হয়েছিল বলে শুনেছি।

ক্যাপ্টেন হায়দারের কি হয়েছিল এরপরে? উনি এখন কেমন আছেন? কোন বই লিখেছেন কি?

-উনি মেজর হয়ে স্বেচ্ছা অবসরে। এখন ঢাকায় থাকেন ভাল আছেন। কন্যাটি খুবই মেধাবী। না, তিনি কোন বই লেখেন নি।

মঞ্জুর কি শুধু চিটাগাং রেডিও দখল করেছিলেন না আরো কিছু জায়গায় তার deployment ছিলো? রেডিওতে মঞ্জুরের ঘোষনাটা সম্বন্ধে জানেন কিছু?

-ওঁর ডেপ্লয়মেন্টএর মধ্যে ফেনী নদীর দক্ষিণ পাড়ে দুটি সেতুকে মাঝে রেখে দুটি ছাড়া আর জানি না। মঞ্জুরের ঘোষনা সম্পর্কে কিছুই জানিনা।

সে সময় বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান কে ছিলেন? তারা এখন কে কোথায়? তাদের ভুমিকা কি ছিলো ক্যুয়ের সময়?

-এখন মনে পড়ছে না। তাদের কোন ভুমিকা ছিল বলে জানা নেই।

আপনার হাতের অবস্থা এখন কেমন?

-তথৈবচ।

৮. ০৫ ই জুন, ২০১০ ভোর ৬:১০
অ্যামাটার বলেছেন: প্রশ্ন আছে অনেক; শেষ হোক, তারপর সব করব:)
০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০. ০৫ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:২৫
সেতূ বলেছেন: সত্যই থ্রীলিং
কঠিন এক সময় পাড় করেছিলেন..।
সাথে আছি..
ভালো থাকুন
+++
০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: বিশ্বাস করুন একটুও থ্রীলিং নয়।

সাথে থাকার, শুভ কামনার এবং প্লাসের জন্যে কৃতজ্ঞতা।

১১. ০৫ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৩২
নাজনীন১ বলেছেন: ঠিক কোন সময়ে কোন গান শোনা হয়েছে, আবার তার কথাগুলোও মানুষের এভাবে মনে থাকে!!!!!!

হিংসা, হিংসা, প্রচন্ড হিংসা করলাম।

মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, ক্যাপ্টেন হায়দার -- উনারা নিজেরা কি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষের ছিলেন? বয়স? আরেকটু পরিষ্কারভাবে বলেন প্লীজ।
০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০৭

লেখক বলেছেন: হিংসা, হিংসা, প্রচন্ড হিংসা করলাম।

-এব্যাপারে আমি রফিককে হিংসা করতাম। একে ইংরেজী লিরিক, তার ওপরে আমাদের কান-অভ্যস্ত ব্রিটিশ বা আমেরিকান উচ্চারণ নয়-সুইডিস উচ্চারণ- লিরিক বারবার rewind করে ও-ই লিখত বেশীর ভাগ সময়। আর ও ছিল শ্রুতিধর।একবার শুলনেই মুখস্ত হয়ে যেত। ও যদি চলে না যেত এখনো ও সঠিক সুরে, সঠিক কথায়, সুরেলা গান গুলো দরদ দিয়ে গেয়ে আপনাদের তাক লাগিয়ে দিত।

রফিক আমার মত ভাগ্যবান ছিল না-ওর সময় লিরিকস ডট কম ছিল না বা http://www.lyricsdownload.com/abba এড্রেস বারে লিখে Enter টিপে দিলেই মূহুর্তের মধ্যে সব লিরিক এসে হাজির হ'ত না।

দোস্ত মোহাম্মদ সিকদারের ব্যাপারে পরের পর্বে বিস্তারিত লিখেছি। ক্যাপ্টেন হায়দার আমার ছ্য় মাসের সিনিয়র, তাকে আজ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করিনি যে তিনি মুক্তি যোদ্ধা ছিলেন কিনা।

১২. ০৫ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৩:২৬
চন্দন বলেছেন: চালিয়ে যান মুগ্ধ হয়ে পড়ছি ।
০৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৩. ০৬ ই জুন, ২০১০ রাত ১২:০৯
পারভেজ বলেছেন: অনেক চরিত্র সম্পর্কে জানা নেই। এখন মনে হচ্ছে অন্য রেফরেন্স বইগুলি ঘেটে দেখা দরকার।
০৬ ই জুন, ২০১০ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: প্রশ্ন করতে পারেন। জানা থাকলে উত্তর দেব।

১৪. ০৬ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:৪৩
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: পড়েই যাচ্ছি..........
একটা কথা বলবো-বলবো করেও বলা হচ্ছে না.........
শিরোনামের চট্টগ্রাম বানানটা কি এভাবেই রেখে দেবেন!
:D:D
০৬ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। পরেরটায়।

১৫. ০৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৫১
জুল ভার্ন বলেছেন: ঐ ঘটনার সাথে আরো একজন "কালা ভাই"(মেজর বাসার, প্রত্যাগত) তার সম্পর্কে আপনি কিছুই লিখেননি...............কিন্তু ঐ সময় তার অনেক গুরুত্বপুর্ন ভুমিকার কথা মিডায়াতে এসেছিল.........

+
০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: উনি "কালা ভাই" নন, উনি ছিলেন "কালা বাসার"। সে সময় সেনাবাহিনীতে চার বাসার ছিলঃ

১।দুলাভাই বাসার (সকল অধস্তনকে শালা বলে সম্বোধন করতেন, প্রয়াত)।

২। আব্বা আম্মা বাসার (Afzalul Bashar Mir.......).

৩। গাঞ্জা বাসার (বিরল কেশের অধিকারী)।

৪। কালা বাশার (খাঁটি দ্রাবির ত্বকের অধিকারী। কালা ভাইএর চেয়ে ১০ গুণ কালো।)

এই চার জনই ছিলেন প্রত্যাগত এবং এ চারজনই গোলন্দাজ বাহিনীর।

কালা বাসারের সাথে পুরো সময়টাতে আমার কোন মিথুষ্ক্রিয়া হয়নি। তাকে তখনো চিনি না।

এটা ঠিক যে মিডিয়াতে তখন এসেছিল, কিন্তু আমি তখন জানতাম না।
প্লাসের জন্যে কৃতজ্ঞতা।

১৬. ০৮ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৩৭
জুল ভার্ন বলেছেন: ভাইয়া, আমি আপনার উল্যেখিত ৪ নম্বর বাসার(আর্টিলারী/ ৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট) এর কথাই বলছি...... "ক্যু কর্ম" সম্পন্ন করার(জিয়া হত্যার পর , বিচারের নামে প্রহসন করে কয়েক ডজন মুক্তি যোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে) পর উনি এরশাদ সাহেবের স্টাফ অফিসার ছিলেন...পরে একটা কর্পোরেশনের অনেক গুরুত্বপুর্ন পদে থেকে আখের গুটিয়ে এখন বহাল তবিয়তে বর্তমান আছেন।
০৮ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৪১

লেখক বলেছেন: আমি ঠিক আপনার বলা কথাই তার সম্পর্কে শুনেছি। তবে তার সাথে আমার পরিচয় '৮১র পরে।

৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অস্তিত্ব সম্ভবতঃ ১৯৮১, মে পর্যন্ত ছিল না।

১৭. ০৯ ই জুন, ২০১০ রাত ১২:৩৮
পরিবেশবাদী ঈগলপাখি বলেছেন: এতোদিন আসা হয়নি , তাই আজকে পড়লাম ।
১০ ই জুন, ২০১০ সকাল ৯:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৮. ০৯ ই জুন, ২০১০ সকাল ৯:৩৭
জুল ভার্ন বলেছেন: আমার ১৬ নম্বর মন্তব্যে আপনার জবাবের শেষ লাইনের সাথে একমত। ঐ সময় চট্টগ্রামে ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট ছিল-৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট নয়। ধন্যবাদ আপনাকে।
১০ ই জুন, ২০১০ সকাল ৯:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, শুধরে দেবার জন্যে।

১৯. ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:১৪
রোবোট বলেছেন: কমেন্ট ৭: সে সময় বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান কে ছিলেন? তারা এখন কে কোথায়? তাদের ভুমিকা কি ছিলো ক্যুয়ের সময়

----

সদরুদদিন ও এম এ খান (তারেকের শ্বশুর) যথাক্রমে। ১ম জন ঢাকায় ছিলেন, সরকারের পাশে। এমএখানের চেহারা টিভিতে দেখিনি ২ দিন। শুনেছি চট্টগ্রামে ছিলেন।
১১ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২০. ২২ শে জুন, ২০১০ দুপুর ২:৩৫
সুবিদ্ বলেছেন: কী সময়টা যে আপনারা পার করেছেন.......ভাবলেই শিউরে উঠি
২২ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: আমি মনোবিকলিত আমৃত্যু।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬২০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
না প্রেমিক না বিপ্লবী
trishonku@hotmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই