somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভ জন্মদিন রেজওয়ানা

১৭ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
রেজওয়ানা (ডান পাশে)

রেজওয়ানা এমন একজন ব্লগার (নি) - যাঁর গুরু গম্ভীর ইতিহাস চর্চা থেকে গরু বিষয়ক লঘু রচনা পোস্ট করা মাত্র হিটে হিটে সয়লাব হয়ে যায় । এটা অনেকের কাছে ম্যাজিকের মতন মনে হয়। যাই হোক। রেজওয়ানা এমন একজন ব্লগার (নি) -যিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের প্রতিটি পুরনো বাড়িতেই কমবেশি ভূত বাস করে। এবং একবার নিজেও ভূতের খপ্পর পড়েছিলেন। জয়দেবপুরের এক অভিশপ্ত বাড়িতে মাঝরাতে এই বিভ্রম ঘটেছিল। এই বিষয়ে পোস্ট দেওয়ার পর মন্তব্যও সেই রকম হল। বেচারি, সত্য কথা বলে ফেঁসে গেল। কেবল আমি তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছিলাম। (২৫ নং মন্তব্য খেয়াল করুন) ... আপনি কি ভালো! আপনি আমার কথায় বিশ্বাস করেন! ... রেজওয়ানার সে কী উচ্চ্বাস
সেই থেকে আমার পোস্টগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়া শুরু। এবং মুখগ্রন্থেও এ্যাড করলেন ...;)




ভূতের সন্ধানে সঙ্গে পুরাতন জমিদার বাড়িতে রেজওয়ানা । পাশের জন সহকর্মী ...

জানতে পারা গেল। রেজওয়ানা ভূতের সন্ধানে বাংলাদেশের পুরনো দালানকোঠায় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। তবে একা একা না। তাঁর পাশে থাকে জীবনসঙ্গী। ইনি আবার প্রাক্তন গোলকিপার। এখন পাল্লায় পড়ে ভূত কিপার হয়েছেন! যা হোক।



তাজহাটের ভূতের বাড়ি

ভূতগ্রস্থ দালানকোঠায় কি ভাবে যাবেন সে বিষয়ে রেজওয়ানার ব্লগে ছবিসহ বিস্তারিত বর্ণনা থাকে। আমার আবার হেলিক্পার থাকার কারণে আকাশ পথে যেতে সুবিধা। জিজ্ঞেস করি হেলিকপ্টার করে গেলে কীভাবে যাব? উনি বলেন, ‌'পুকুর আছে। সি প্লেন হলে ভালো হয়।:)' ... যা হোক। এই ঘুরে বেড়ানোর কারণেই আমি তাঁকে খেতাব দিলাম পর্যটিকা (আপা) । এতে পর্যটিকা আপা ক্ষেপে উঠেন নি। বরং খুশিই মনে হল।:) বুঝলাম-ব্লগে আমার এক বিচিত্র মানবীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। ;)




সোহামনি। ২০১০ সালের পহেলা বৈশাখে তোলা।

আর কে না জানে পর্যটিকা আপার একমাত্র কন্যা সোহামনির কথা! ব্লগে
রেজওয়ানা নিজের ছবি তেমন আপলোড না করলেও সোহামনির বিস্তর ছবি আপলোড করেন। ... এবং ফেসবুকেও একই কীর্তি করেন;)। আগে সোহাকে ফেলেই সোহার আব্বার সঙ্গে বেরিয়ে যেত ভূতের সন্ধানে । তো সোহা এখন বড় হয়েছে (যদিও স্কুলে যেতে এখনও ৩ বছর বাকি) ...দেখা গেল সোহাও নাকি ভূতের গল্প পছন্দ করে। এখনকার পর্যটনমূলক পোস্টে সোহার ছবি থাকে ...



সোহামনি ...এখন

এবার বলি আমি কেন পর্যটিকা আপার ফ্যান (পাঙ্খা) ... আমি আবার রান্নাবান্না নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলী। যে কারণে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ মিস করি না। (এই অনুষ্ঠানটা রান্নাবান্নার মূল উপাদান নিয়েই:)।) পর্যটিকা আপার ২০১০ সালে ১ লা বৈশাখে রান্না বিষয়ক তুমুল পোষ্ট দেখে আমি রীতিমতো হতভম্ব। কত পদের দেশিও রান্না যে তিনি করতে পারেন। তা ছাড়া খাবার পরিবেশনে তিনি মাটির তৈষজপত্র ব্যবহার করেন। বুঝলাম হাই কোর্টের সামনে থেকে কিনেছেন;)



২০১০-এর (পহেলা বৈশাখ ) দুপুরের খানাদানা। প্রতি পদে পদে বাঙালিয়ানার ছাপ ... তবে রেজওয়ানা ঠিক মেলামাইনবিরোধী কেন তা বুঝলাম না! (আরেক রেজওয়ানা শিপব্রেকিং ব্যবসার বিরোধী) ...

যাই হোক। প্রতিটি পদই আমার পছন্দের আইটেম। বিশেষ করে আমডাল আর কেচকি মাছের ভর্তা। আমি বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে কৃতার্থ ওই আমডাল আর মাছ ভর্তার জন্যই ;)



পর্যটিকা আপার রান্না আমডাল। কে বলবে এই রাঁধুনি বাংলাদেশে বিশাল এক কর্পোরেট অফিসে চাকরি করেন? আর আপনারাই বলুন এমন রাঁধুনির বাহারি হাতপাখা (পানখা) না হয়ে উপায় আছে?
আপনারা অবগত আছেন যে রাঁধুনি আপা আবার ইতিহাস চর্চা করেন এবং পুরনো দালানকোঠায় ভূতের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান এবং চমৎকার আমডাল রাঁধেন। যে কারণে মনে মনে ভাবছিলাম পর্যটিকা আপার উপযুক্ত পদবী কি হতে পারে।
আমার মনে হয় পর্যটিকা আপার উপযুক্ত পদবী হতে পারে ‘ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপা।’
আপনারা কি বলেন?
বাঙালি নাকি গুণের কদর করতে পারে না!;)

‘ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপা বাঙালি রান্নার ভীষণ অনুরাগী হলেও ব্যাক্তিগত জীবনে কিন্তু কোণ আইসক্রিম খেতে ভারি পছন্দ করেন। কে না কোণ আইসক্রিম খেতে পছন্দ করে। তবে পার্থক্য আছে। ‘ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার সবচে বেশি পছন্দ কোণ আইসক্রিমের এর বিস্কুট। এই পোস্টের ১২ নং মন্তব্যের উত্তর দেখুন ... ... তবে এই পোস্ট পড়ার পর কেউ কেউ নাকি কোণ আইসক্রিমের ভিতর বিস্কুট-টিস্কুট খুঁজে পায় নাই ...:P

কোণ আইসক্রিমের বিস্কুট ছাড়াও ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার প্রিয় পানীয় স্যালাইন ওয়াটার। কেননা, বছরে একবার না একবার তাঁর কক্সবাজার যাওয়া চাইই চাই। এই পোস্টে মন্তব্য করেছেন ... সমুদ্রের টানে কক্সবাজারতো আমরা কতবারই যাই ... সুতরাং কক্সবাজার তাঁর প্রিয়। আমরা অবগত আছি বাংলাদেশের সবচে বড় স্যালাইন ওয়াটারের ডিপো ওই কক্সবাজারেই ...

ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপা অন্যদের চেয়ে আলাদা। কাজেই আপার আবেগ প্রকাশ এর ধরণও অন্যদের চেয়ে আলাদা। যেমন একদিন ফেইসবুকে দেখলাম আপা লিখেছেন: আমার কেমন ডিপফ্রিজের মতন লাগতেছে ...(এই ভয়ানক মন্তব্যটি মুখগ্রন্থে বিধায় লিঙ্ক দেওয়া গেল না বলে আমি দুঃখিত।) আপনারা কেউ কোনওদিন এমন কথা শুনছেন?
যাই হোক। আমার এক পোস্টে ইনি ৩০০ কোটি মাইনাস দিয়েছেন!
Click This Link
এই পোস্টের ৬ ন! মন্তব্য দেখুন।
৩০০ কোটি মাইনাস!
ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপা সত্যিই অন্যদের চেয়ে আলাদা।;)

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ ...
আমি লোকটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন নই। তবে নিউমারোলজিতে বা সংখ্যাতত্ত্বে আমার সামান্য কিছু আগ্রহ আছে। জন্মদিনে উইশ করার জন্যও সবার ডেট অভ বার্থ মনে রাখতে চেস্টা করি। যাক। ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার জন্ম তারিখ নিয়ে মনে মনে কৌতূহল ছিল। সামান্য দ্বিধা করে সে কথা জিজ্ঞেস করতেই অতি উৎসাহের সঙ্গে ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা বললেন, জানেন আমার জন্মদিনে সরকারী ছুটি। আমি সামান্য বিস্মিত হলাম। পরে বুঝতে পারলাম ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার জন্মদিন ১৭ মার্চ। (সালটা অবশ্য এড়িয়ে গেলেন।) ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। পরে আরও দু 'জন মহৎ প্রাণের সঙ্গে ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার জন্মতারিখের সাদৃশ্য লক্ষ করে বিস্মিত হয়েছি।
এরা হলেন-

১. খলিফা হারুন অর রশীদ
২. সম্রাট হুমায়ূন।


তখনও একবার বলেছি যে ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা বাংলাদেশের একটা বড় অফিসে চাকরি করেন। যে অফিসের নাম সবাই জানে এবং সে অফিসে যারা চাকরি করে তারা ভীষণ ভাব মারে। আমাদের আপার মধ্যে কিন্তু সেরকম ভাবটাব নাই। ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা অবিকল মাটির মানুষ । তবে রোববার সকালে অফিসে যাওয়ার কথা মনে হলে আপার নাকি মেজাজ গরম থাকে...এই তথ্যও পেয়েছি মুখগ্রন্থে ...
এ ধরনের ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার কথা ভাবলে আমার মনে হয়

যে রাঁধে/ সে চুলও বাধে ...
(মানে যে কর্পোরেটে চাকরি করে আবার আমডালও রাঁধে ...)

এমন ব্যস্ত কর্পোরেট আপা আবার অত্যাধুনিক কবিতার ভক্ত। ইদানীং আধুনিক এক কবির ফ্যান হয়েছেন তিনি।
Click This Link
এই পোস্টের ১৮ নং মন্তব্য লক্ষ করুন ...আর উক্তরে কবি কী বলেছেন তাও খেয়াল করুন ...
যাই হোক। এমন সর্বগুণে গুণান্বিতা ভ্রমনপিয়াসী মাটির মানুষকে জন্মদিনে উইশ না করলে ভারি অন্যায় হয়ে যায় নাকি?
শুভ জন্মদিন হে বিচিত্র মানবী ...


কেকটা আবার একাই খেয়ে ফেলেন না যেন ... সোহমনি আর প্রক্তন গোলকিপারকে দিয়েন অল্প ...;)



এই ছবিটা ঐতিহাসিক রাঁধুনি পর্যটিকা আপার পরিচিত ঠেকতে পারে

সূত্র; ইনটারনেট ...
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:৪১
৯৭টি মন্তব্য ৮৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×