জাকার্তা বিমানবন্দরে ফাটা বদনা!
আমাদের ট্রেনিং সেন্টার এর টয়লেট ছিলো আরো ‘অসাধারণ’, পরে অবশ্য জাকার্তার অন্য অনেক জায়গাতেই এ ধরনের টয়লেট দেখেছিলাম|
প্রথমদিনই আমাদের সহপাঠী-কলিগ হান্নি দেখলাম মুখচোখ বাঁকা করে কঁকাতে কঁকাতে আসছে|
পাশের টি স্পেস এ আমি চা বানিয়ে খাচ্ছিলাম, জিজ্ঞাসা করলাম কি ব্যাপার, কোনো সমস্যা?
‘ফাক, ইটজ় ফাকিং!’
আমি মোটামুটি আঁতকে উঠলাম, কারণ এই বংগসন্তানের গালির সর্বোচ্চ্য দৌড় হচ্ছে শালা, ছাগল ইত্যাদি| কিন্তু এই ভেনেজুয়েলিয়ান ললনা যা বলা শুরু করেছে , তাতে আমার কান ই না শুধু, মুখচোখ ও লাল হয়ে যাচ্ছে|
তারপর যা বলল (অকপট ভঙ্গিতে), তাতে হাসবো না ওকে সান্তনা দেবো বুঝতে পারছিলাম না| কাহিনী হলো, ও গিয়েছে wc তে (টয়লেট)| তারপর বড়টা ছাড়ার জন্য যেই বসেছে, তারপরই তীব্র ব্যাথা|
ধাতব কিছু একটা ওর পশ্চাতদেশে ঢুকে গিয়েছে , ঊঠে দেখে এক বাকানো ইউ আকৃতির হুক, একটা নব ঘোরালে ওইটা দিয়ে পানি বেরিয়ে শৌচ করিয়ে দেয়|
এরিমধ্যে ইন্দোনেশিয়ান কলিগরাও এসে গেছে , তারা তো মহা বিব্রত তাদের কমোডের এই অশালীন আচরণে, রেনুকি অবশ্য একটু এই ধরণের কমোডের উপকারিতা বোঝানোর চেষ্টা করছিলো, কিন্তু এই ল্যাটিন বীর মানবে কেন|
‘তোমাদের ওই কমোড দিয়ে ইয়ে কর’, এই তার ঘোষনা|
যাই হোক সবাইকে সাবধান করে দেওয়া হলো|
পরদিন যখন আমরা ডেভিডকে লাঞ্চ আওয়ারের পরে কাঁচুমাচু করতে দেখলাম , একটু খোঁচাখুঁচি করতেই বেরিয়ে গেলো – ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়াছে’| হো হো হা হা শব্দে ডেভিড পারলে ওই কমোডের ভিতরই ঢুকে যায়| থাইল্যান্ডের এই ছেলেটি এমনিতেই ছিলো লাজুক, ওর ‘কিয়াটসাংগস্লিপ’ নামটা নিয়েও ঠাট্টা-মশকরা করা হতো, আমরা অবশ্য বুঝিনি|
তারপর এই টয়লেট পদ্ধতিটাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার নিমিত্ত আমি পরিদর্শনে গেলাম|
এই সেই দেখে যেই মাত্র একটা নব ঘুরিয়েছি, ঝর্ণাধারার মতো উধ্বমুখী পানির ধারা এক্কেবারে মুখ ভাসিয়ে দিলো|
ওয়াকঃ ওয়াকঃ , সেই হুকের মতো নলটা দিয়ে......।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



