somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেইস স্টাডিঃ জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ - পর্ব ৩ (নির্বিচারে নারী হত্যা ও নির্যাতন)

২৫ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[আজ ভয়াল পচিশে মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙারীদের উপর কামান ট্যাংক নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। শুরু করেছিলো ইতিহাসের জঘন্যতম গনহত্যা। গনহত্যায় নিহত সকল বাঙালীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা। পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আর শপথ নিচ্ছি - এই গনহত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করে শহীদদের প্রানের ঋন লাঘবের চেষ্টা করবো। ]

---------------------------------------------------------------------------------

২. খ নির্বিচারে নারী হত্যা ও নির্যাতন

এটা আরো লক্ষ্য করা গেছে যে, আর্মেনিয়া ও নানজিং এর মতো বাংলাদেশেও নারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত করা হয়েছিলো। বাঙালী নারীদের উপর যৌন নির্যাতন, ধর্ষন আর হত্যা শুরু করা হয় যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থা থেকেই। যুদ্ধের পুরো সময়টা জুড়ে বাঙ্গালি নারী নির্যাতন ও মৃত্যুর সম্মুখীন ছিলো -যা ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ।


সুজান ব্রাউনমিলার তার এগেইন্সট আওয়ার উইল বইতে (Against Our Will: Men, Women and Rape, Susan Brownmiller ) এই নির্যাতনকে নানজিঙ্গে জাপানিদের দ্বারা ধর্ষন ও রাশিয়াতে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মানিদের দ্বারা ধর্ষনের তুলনা করেছেন। ৮০ শতাংশ ধর্ষিত ছিলো মুসলমান নারী (পৃ. ৮১)।

“ ২,০০,০০০ বা ৩,০০,০০ বা ৪,০০,০০০ (তিনটি ভিন্ন পরিসংখ্যান) বাঙালী নারী ধর্ষনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০% নারী ছিলেন মুসলমান, যা তখনকার ধর্মভিক্তিক জনসংখ্যানুপাতিক ছিল। সেই ক্ষেত্র হিন্দু বা খৃষ্টান নারীরাও রক্ষা পায়নি। একটা ছোট্ট জনবহুল দেশের নারীদের উপর এই ভয়াবহ যৌন অত্যাচার হয়েছে।“ (ব্রাউনমিলার, পৃষ্ঠা - ৮১)


এই বিষয়ে Aubrey Menen নামক এক রিপোর্টার কয়েকটি উদাহরন দিয়েছে। তারমধ্যে সদ্যবিবাহিতা এক তরুনীর নির্যাতনে ঘটনা এইরকম -

“দুইজন পাকিস্তানী সৈন্য বাসরঘরে ঢুকে পড়লো। অন্যজন বাইরে বন্দুক নিয়ে পাহারায় দাড়িয়ে থাকলো। বাইরের মানুষরা ভিতরে সৈন্যদের ধমকের সুর আর স্বামীটিরর প্রতিবাদ শুনতে পাচ্ছিলো। সেই চিৎকার একসময় থেমে গেল - শুধু শুনা গেল তরুনীর কাতর আর্তনাদ। কয়েক মিনিট পর একটা সৈন্য অবিন্যস্ত সামরিক পোশাকে বেড়িয়ে এলো বাইরের থেকে আরেকটা সৈন্য ভিতরে গেল। এভাবে চলতে থাকলো - যতক্ষন না ছয়টা সৈন্য দ্রুত সেই বাড়ী ত্যাগ করলো। তারপর বাবা ভিতরে গিয়ে দেখতে পেল তার মেয়ে দড়ির বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর তার স্বামী মেঝেতে করে ফেলা নিজের বমির উপর উপুর (?) হয়ে পড়ে আছে।“ (Brownmiller, Against Our Will, p. 82)


“বাঙ্গালি নারীদেরকে নির্যাতন কোন সৌন্দর্য বা এই রকমের কোন কিছুতে বাধা ধরা ছিলো না। তারা আট সন্তানের মা বা ৭৫ বছরের দাদীমাকেও ছাড়ে নাই। তারা শুধু ঘটনাস্থলে নির্যাতন করেই চলে যায় নাই, তারা হাজারো নারীদের তাদের ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যায়। কেউ কেউ আট বারের মত নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিল এক রাতে (ব্রাউনমিলার পৃ. ৮৩)।

দুখজনক হলেও এই নির্যাতিত নারীদের অসন্মান যুদ্ধের পরেও চলেছিল। শেখ মুজিব কর্তৃক তাদেরকে জাতির বীরঙ্গনা ঘোষনা দেয়া হলেও বাস্তবে তা হালে তেমন পানি পায় নাই। নির্যাতিত অনেক নারী তাদের হারানো সুখ ফিরে পায়নি (ব্রাউনমিলার পৃ. ৮৪)।

মুল রচনা: জেন্ডারোসাইট ওয়াচ
http://www.gendercide.org/

[জোন্ডারোসাইট ওয়াচ সাধারন মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যালীলার বিষয়ে গবেষনা করে। তাদের মতে নিরস্ত্র মানুষের উপর সংগঠিত হত্যাকান্ড বা গনহত্যা বর্তমান শতাব্দীতে বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে বড় একটা হুমকী]


ছবি কৃতজ্ঞতা - দৃষ্টিপাত ডট কম
কেইস স্টাডিঃ জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ - পর্ব ২ (পুরুষদের বিরুদ্ধে “জেন্ডারসাইড”)



কেইস স্টাডিঃ জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ - পর্ব ১ ( সূচনা ও পিছনের কথা)


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৩২
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×