আমার প্রিয় পোস্ট

আমার আড়িয়াল বিল কাঁদে... মা আমাকে কতোদিন দেখে নি

ঢাকা কলেজের কথা

২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৬

শেয়ারঃ
0 1 0

সে এক স্বপ্নের কলেজ ছিল, যে কোন ছাত্রেরই। ঢাকা কলেজে পড়বার সৌভাগ্য যেমন সবার হয় না, পড়াবার সৌভাগ্যও তেমনি হয় না সবার- বলেছিলেন প্রিন্সিপাল নোমান স্যার নবীন বরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে। তারপর কলেজে পড়বার সময়, কলেজ থেকে বের হয়ে, বহু বহুদিন ধরে, সব ক্ষেত্রেই দেখেছি ঢাকা কলেজিয়ানদের একচেটিয়া দাপট, মেধার বিচ্ছুরণ।

কিন্তু সেই কলেজ, আমার ১৯৮৫-৮৬ সনের ঢাকা কলেজ কি আর আছে? পরীক্ষার রেজাল্টে যেখানে আগে মেধাতালিকার প্রায় ২০টিতেই থাকতো ঢাকা কলেজিয়ানদের নাম, অধুনা জিপিও-৫ ধারীদের সংখ্যার হিসেবে ঢাকা কলেজের নামই ওঠে না। নিউজে ঢাকা কলেজের উল্লেখও থাকে না। কেন এমন হলো সেই সোনার স্বপ্নের কলেজ?

আমি উত্তর ছাত্রাবাসের ১০১ নম্বর রুমে থাকতাম। সেকশন-সি, রোল-৫৩, বিজ্ঞান বিভাগ। পাশ করে বেরিয়ে আসার বেশ কিছুদিন পর্যন্ত ১০১ নম্বর রুমে বেড়াতে যেতাম, কলেজ ঘুরে দেখতাম, অডিটরিয়ামে ঢুকতাম।

একদিন অহনাকে নিয়ে গেলাম।

ছাত্ররা আমাদের দেখে সালাম জানায়, স্যার বা ম্যাডাম সম্বোধন করে পাশ কেটে চলে যায়। বিব্রত হই, কিন্তু ভালো লাগে। অহনাকে নিয়ে খেলার মাঠে গেলাম। কয়েকটা ছেলে ফুটবল, কয়েকজন ভলিবল খেলছে। এক পাশে কয়েকজন ক্রিকেটও করছে। অহনাকে বললাম, তুই দাঁড়া, আমি একটু বোলিং করি। ও সায় দিয়ে তারপর বলে, চল্ আজ যাই, দাঁড়াতে পারছি না। ....পেটের ভেতর ৯ মাসের বাবু নিয়ে ঘোরাঘুরি করা যায় না। খেলার মাঠকে বিদায় নিয়ে চলে আসি।

আমার ঢাকা কলেজ পেছনে পড়ে থাকে, বুকের আর মনের গভীরে নাড়া দিতে থাকে, যেমন অহনার বাবুটাও নাড়া দিচ্ছিল ক্রমাগত...তার ২দিন পর পেট কেটে ওর বের হবার কথা, কিন্তু তখনই বেরিয়ে আসতে চাইছিল বোধ হয় পৃথিবীর আলোতে।


ঢাকা কলেজ - জামান স্যার, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার ও শামীম আজাদ ম্যাডামের কথা; এবং হাবিজাবি

ঢাকা কলেজে - জামান স্যার, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার ও শামীম আজাদ ম্যাডামের কথা; এবং হাবিজাবি

ঢাকা কলেজের কথা

ঢাকা কলেজের পুরনো গৌরব কোথায় গেলো?

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অনুবাদ কবিতা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২২
নিরক্ষর বলেছেন: আমি মনে কর্ছিলাম লেখাটা কতই না বড় হবে :(

একদম...................
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন: বড়ই তো।

২. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৫
জটিল বলেছেন: আবেগাক্রান্ত হচ্ছেন বোধ হয় , আর তা স্বাভাবিক বটে , আফসোস এখন পর্যন্ত ঢাকা কলেজ দেখলাম না :|
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন: একদিন দেখে যান।

৩. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৪
আকাশনীল বলেছেন: হুম এখন ভাল রা সেখানে পড়তে সাহস পায় না
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫১

লেখক বলেছেন: আসলেই।

৪. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩২
শিট সুজি বলেছেন: জটিল ভাই থাকেন কই?
ঢাকা কলেজ দেখেন নাই।
২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৩

লেখক বলেছেন: জটিল ভাই ঢাকা থাকেন না, তা নিশ্চিত। তবে একদিন দেখে নেবেন।

৫. ১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৬
কালীদাস বলেছেন: চমৎকার স্মৃতিচারণ!++++++
১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কালীদাস।

৬. ১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২২
হায়রে দুনিয়া বলেছেন: আজকের আগ পর্যন্ত আমার ধারনা ছিল আপনি মেয়ে যেহেতু আপনি সবসময় এক মেয়ের পিক প্রোফাইলে ইউজ করেন (ভাবী?) আর আপনার নামটাও ছেলে-মেয়ে দুইজনেরই মনে হয় হইতে পারে। :D :D
১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: আপনার জন্য সমবেদনা থাকলো:(:(:( প্রোফাইলে কিন্তু নিজের ছবিই দেয়া হয় না, অন্য কারো বা অন্য কিছুর ছবিও দেয়ার রেওয়াজ আছে। যাই হোক, আপনার মনোকষ্ট অচিরেই দূর হয়ে যাবে আশা করি। আর, কেউ যে এমনটা ভাবতে পারে তা মনে হয় নি কখনো:):)

৭. ০৮ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯
মেহবুবা বলেছেন: একজন ছিলেন মোর্শেদ স্যার অংকের ।
আমি হলাম মোর্শেদ স্যার এর শাশুড়ী (সে সময়ে আমার ব্যাচের মেয়েরা ছাড়া , স্যার ছাড়া কেউ জানে না সে কথা ) ।
আপনাদের পোষ্ট পড়লে নিজে ভাবি লিখবো নিজের স্মৃতিনির্ভর কিছু কিছু ।
০৮ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪২

লেখক বলেছেন: শ্মশ্রূমণ্ডিত মোর্শেদ স্যারের কথা বলছেন? আপনার আপন মেয়ের জামাই? আমাদের প্রথম দিনের প্রথম ক্লাস ছিল মোর্শেদ স্যারের। অবশ্য তিনি ক্লাস নেন নি, আরেক নতুন ম্যাডামকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য তিনি এসেছিলেন। সেই ম্যাডামেরও ওটা ছিল জীবনের প্রথম ক্লাস।

কিন্তু মোর্শেদ স্যার তো ঐ সময়ে আমাদের শ্বশুরবয়সী ছিলেন:):) আমি ১৯৮৪-৮৫'র কথা বলছি:):)

আন্টি, আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

৮. ০৮ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩০
মেহবুবা বলেছেন: অটপিক -- আপনার নিক দেখে আগ্রহী হলাম জানতে । এটার মানে কি ?
০৮ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১

লেখক বলেছেন: ওটা এখান থেকে শুরু। শেষমেষ এখান থেকেই নেয়া হলো।

৯. ০৮ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১
মেহবুবা বলেছেন: ব্যাচে কয়েকদিন পড়েছিলাম, যে মেয়েরা ছিল সাথে তাদেরকে স্যার বলতেন আমার মেয়েকে উনি বিয়ে করবেন ( এইচ এস সির ছাত্রী ছিলাম তখন) যত দেরীতেই হোক ।
অল্প কদিনের পর যখন আর পড়বো না বলে স্যারকে জানালাম বন্ধুরা বলল , স্যার আপনার প্রথম পক্ষ মানে ভাবী সাহেবের আর মনে কষ্ট থাকল না । ঢাকা কলেজের উলটোদিকে একটা গলি ঢুকে গিয়েছে , সেটার ভিতরে ছিল স্যারের বাসা ।

স্যার অনেক স্নেহ করতেন । পরে আমাদের কলেজে ( বদরুন্নেসায়) দুর থেকে দেখে একবার ডেকে পাঠালেন ।

০৮ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৭

লেখক বলেছেন: বন্ধুরা বলল, স্যার আপনার প্রথম পক্ষ মানে ভাবী সাহেবের আর মনে কষ্ট থাকল না।

স্যার বড় রসিক ছিলেন:) যেমন আপনিও:):) না হলে শাশুড়ি বানাতে চাইবেন কেন?:):):)

যাক আন্টি, কিছুটা স্বস্তি পেলাম এখন:):)

১০. ০৮ ই মে, ২০১০ রাত ৮:০৭
মেহবুবা বলেছেন: আন্টি কেন নানী হই সম্পর্কে ।

আমি রসিক ছিলাম না , স্যার বলতেন লক্ষ্মী মেয়ে আমাকে । বলতেন আমার মেয়ে নিশ্চয় লক্ষী হবে ।
এখন মেয়ে আছে আমার এবং অদ্ভুতভাবে অনেক লক্ষী (সবার কথায় ) ।
০৮ ই মে, ২০১০ রাত ৮:১৯

লেখক বলেছেন: নানী/দাদীই বলতে চেয়েছিনু, ভয়ে বলি নি, সত্য কথা:):):)

যাক, লক্ষ্মীনানী আরো আরো অনেক অনেক দিন ব্লগিং করুন, এই কামনা।

১২. ২০ শে জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:২৫
সেলিম তাহের বলেছেন:

আবার ফিরিয়ে আনলেন আমার সেই ঢাকা কলেজ জীবনের সোনাঝরানো স্মৃতি! আমি যখন পড়ি, তখন নোমান স্যার প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন।

ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে আমরা চারজন দুষ্ট কিশোর “সনেট পরিষদ” নামে একটি গোপন গুপ্ত কবিসংগঠন করেছিলাম। আমাদের সনেট পরিষদের একটাই শুধু মহান কাজ ছিল- নোমান স্যার সহ বিভিন্ন স্যার ও আমাদের চক্ষুশূল কিছু সহপাঠীদের নিয়ে প্যারোডি অথবা স্বমস্তিষ্কপ্রসূত কবিতা রচনা করে পোস্টার সাইজ কাগজে লিখে কলেজ ক্যান্টিনের দেয়ালে সাঁটিয়ে দেয়া। সমস্ত কলেজ হুমরি খেয়ে পড়তো সেই স্যাটায়ারধর্মী ছান্দসিক পদ্য পড়বার জন্য। নোমান স্যার তখন হন্যে হয়ে এই সনেট পরিষদের পিছনের আসল বদগুলোকে খুঁজে বের করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। শেষে একদিন ধরা খেয়ে গেলাম আমরা চার হোতা। কোনরকমে নাকে কানে খত দিয়ে সে যাত্রা নোমান স্যারের ক্ষমা অর্জন করেছিলাম। সে এক ইতিহাস!

বাংলার সাইদ স্যারের ক্লাস হতো গ্যালারিতে। তিল ধারনের জায়গা নেই। সিটি কলেজ থেকে পর্যন্ত ছেলেরা চলে আসতো ক্লাসে স্যারের বাকমাধুর্যের সুধা পান করতে। স্যার হৈমন্তি দিয়ে শুরু করতেন, কিন্তু ওই পাঁচ মিনিটের জন্য শুধু। তারপর শুধু এই গল্প আর সেই গল্প... হৈমন্তি বেচারীর কোন হিল্লে হতো না কোনদিন।
শামীম আজাদ ছিলেন স্টাইলিশ কথক। তখনই কবিতা গল্প লিখে তার ফাটাফাটি অবস্থার শুরু। তারপর একদিন আমাদের অকুল কুম্ভীরাশ্রুর জলে ভাসিয়ে দিয়ে বিলেত পারি জমালেন। আর ছিলেন ইংলিশের রুমানা ম্যাডাম। একবার ইচ্ছে করে masturbation শব্দের বানান জিজ্ঞেস করে ভেবেছিলাম তাঁকে বেশ এক হাত নেয়া হলো। কিন্তু উনি স্মার্টলি আমাকে ব্ল্যাকবোর্ডে ডেকে এনে মুখে হাসি ফুটিয়ে বানানটা ধরে ধরে শিখিয়ে দিয়ে শেষে সবািকে শুনিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “ ‘মাস্টারবেশান’ শব্দের অর্থ জানো তো?” আমি কানটান লাল করে মানে মানে নিজের সিটে ফিরে এসেছিলাম। আর ছিলেন ইকনমিস্টের রুখসানা ম্যাডাম! আহা! আমার মৃদুগ্মফু কিশোর চোখের প্রথম প্রেম যাকে বলে... আ হিউক ক্রাশ! মেক্রো আর মাইক্রোর প্যাচাল শুনে কে! তার পরিবর্তে ঢুলুঢুলু মুগ্ধ নয়ানে শ্রিমুখসুধা পান করতে ব্যস্ত!

র‌্যাগ ডে’র দিনটার কথা আর নাই বা বললাম। সে আরেক ইতিহাস! :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৭৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচা ছিলেন
জ্যেষ্ঠতম। তিনি ২০০৬ সালের
১৪ এপ্রিলে মারা যান

ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয়া ছিলেন
আমার ফুপু
২০১১ সালের জুলাইয়ে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ