আমার প্রিয় পোস্ট

হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

রিফাত হাসানের ‌'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫১

শেয়ারঃ
0 0 0

রিফাত হাসানের ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার Click This Link লেখাটি আমার দৃষ্টি থেকে মস্তিষ্ক মায় মন পর্যন্ত আকর্ষণ করে ফেলেছে। সত্যিই তো ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার। কিন্তু সীমাটা কে ঠিক করবে? উত্তর হবে, যার সেই ক্ষমতা আছে। বাংলাদেশে সীমা ঠিক করবার ক্ষমতা আছে রাষ্ট্রের_ যে রাষ্ট্র লুটেরা পুঁজিপতিদের ক্লাব, এবং যে রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদের লিঙ্গও বটে। আপাততদৃষ্টে মনে হয়, হুজুরেরা বোধহয় রাষ্ট্রের সীমা ঠিক করাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারা এখানে রাষ্ট্রের সঙ্গে কোলাবরেটই করছে। আর তাতে অনেকের লোম জ্বালা করা শুরু হয়েছে। তারা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত কালচারাল এলিট তথা ’জাতীয়তাবাদী অসাম্প্রদায়িক’। এর বাইরে আরেকটি অংশ আছে। তারা এই ঘটনাকে রাষ্ট্র-মিলিটারি-মোল্লা অরে সঙ্গে জনগণের সাংষ্কৃতিক প্রতিরোধের দার্শনিক প্রতীক লালনের লড়াই হিসেবে গণ্য করেন, এবং এর মধ্যে বর্তমান শাসকদের প্রতিবিপ্লবী রাজনৈতিক চাল উদ্ঘাটন করেন। এ নিয়ে এখানে Click This Link আমি আমার অবস্থান খোলা করার চেষ্টা করেছি। এখানে বরং রিফাত হাসানের লেখা থেকে নাজেল হওয়া কয়েকটা প্রশ্ন নিয়ে কথা বলা যাক। রিফাত লিখেছেন,
কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে, তাদের আগ্রহের জায়গা লালন, নাকি কউমি মৌলভিদের প্রতি তাদের আক্রোশ, এই প্রশ্নটা আমার মনে জোরভাবে পয়দা হয়েছে।[/si গুড। প্রশ্নটা সঙ্গত, কিন্তু রাষ্ট্র কেন এই মুহূর্তে কউমি মৌলভিদের আষ্ফালনের স্পন্সর হচ্ছে, সেই প্রশ্নটিও সমান ভাবে ওঠা উচিত ছিল না কি? নাকি, এই ভাঙ্গার ব্যাপারে তাঁর সমর্থন মোল্লা-মিলিটারি আর ইংরেজি শিক্ষিত এলিট আমলাদেরই সঙ্গে???

তাই তিনি লিখতে পারেন,
মৌলভিদের প্রতিবাদের উত্তরে প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যবিত্তিয় অবস্থান ও অবস্থান-সঞ্জাত ভাষাকে মোকাবেলা করার ...যা কিনা একই সাথে আমাদের রাষ্ট্রের বর্তমান সংকটের মূল বিন্দুসমূহের একটি গুচ্ছকেও নির্দেশ করে বলে আমার মনে হয়। কিন্তু কী নিদের্শ করে তা বলা হল না দেখে বোঝাও গেল না। যেহেতু করনেওয়ালা মোল্লারা করেছে আমরা বকাউল্লারা তার একটা বুদ্ধিবৃত্তিক সাফাই গেয়ে এই পালা শেষ করি? ব্যাপারটা তাই না কি? তারপরও কয়েকটা দাগ এঁকেছেন রিফাত। সেই দাগ থেকে একটা চিন্তার ছবি ধরার চেষ্টা করে দেখি না কেন? তিনি মৌলভিদের ভাস্কর্য ধরে রশি দিয়ে টানাটানিকে বলছেন প্রতিবাদ অর্থাত উচিত কাজ এবং যে ক্যাম্প থেকে এর প্রতিবাদ হচ্ছে, সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী, শিল্পবাদীদের প্রতিক্রিয়াশীল। ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতা আর জাতীয়তাবাদী এলিটদের প্রতিক্রিয়াশীলতার মধ্যে কোনটা কম বেশি সেই তর্কে না গিয়ে বলতে হয়, ভাস্কর্য ভাঙ্গাই যদি প্রগতিশীলতা হয় তাহলে সাদ্দামের মূর্তি ভেঙ্গে বুশও একজন দশাশই প্রগতিশীল। সত্যিই কলিকালে জরুরি অবস্থার দশচক্রে পড়ে ভগবান ভুত, আর ভুতই হয় ভগবান। দেখি তো কেমন প্রতিবাদ তা? খতমে নব্যুয়তের নেতা জানিয়েছেন, কোনো একজন ‘সব অর্থ দিচ্ছেন; কিন্তু তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি নন’ (সমকাল, ১৮ অক্টোবর)। আমিনী গং-য়ের হুঙ্কারে সরকার নড়েছে, নাকি সরকারেরই খুঁটির জোরে তারা মূর্তি বা ভাস্কর্য টেনেছে তা নিয়ে কেউ বিতর্ক করতে পারে। কিন্তু আমরা পত্রিকা মারফত জানছি যে, সিভিল এভিয়েশনের উচ্চশিক্ষিত চেয়ারম্যানও ভাস্কর্যবিরোধীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বলছেন, ‘কেবল ওরাই মুসলমান নয়, আমরাও মুসলমান’, (সমকাল ১৮ অক্টোবর) সুতরাং ‘যে প্রতিবাদ সরকার স্পন্সরড এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ একটি কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিও যখন সহমত, তখন তা প্রতিবাদ না প্রতিবিপ্লব, তা বোঝায় মারেফতি জ্ঞানের দরকার পড়ে না। কথা এখানেই শেষ নয়,
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত্ব, যারা বেশীরভাগ সময়ই জরুরী মুহূর্তে কোন রেডিক্যাল অবস্থান নিতে পারে না হরেক সুবিধাবাদিতার কারণে, তাদের একটা আক্রোশ অবশ্যই আছে অশিক্ষিত মৌলভিদের প্রতি, যারা জরুরী অবস্থায় কথা বলে, প্রতিবাদ করে, ভাঙ্গে, পৌত্তলিক সমাজের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য আইকনগুলো। বেশ ভাল কথা। উভয় সংস্কৃতির পারস্পরিক আক্রোশের ব্যাপারটা আমি বুঝি, কিন্তু জরুরি অবস্থার মধ্যে মৌলভিদের কোন প্রতিবাদ জনগণের দিক থেকে জরুরি ও রেডিক্যাল ছিল তার হদিস পেলাম না। আমাদের কর্পোরেটপুষ্ট শিক্ষিত কলোনিয়াল মধ্যবিত্ত আর মধ্যপ্রাচ্যপুষ্ট মৌলভিদের মধ্যে একটা স্বার্থগত দ্বন্দ্ব আছে জানি। উভয়েই যে রাষ্ট্রের দুধ-মধু-ঘি খাওয়ার জন্য কামড়াকামড়িরত, তাও তো দেখা। এর বাইরে মৌলভিদের কোনো সত্যিকার রেডিক্যাল অংশ নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু দেখিয়ে দেবেন কি তারা কারা?
এই মৌলভিরা মোটেই অশিক্ষিত নয়, তারা রীতিমতো (আরবি-ফার্সি-ইংরেজি) শিক্ষিত। নানান এলেমদারির সঙ্গে তাদের কানেকশন। তাদের মধ্যে পশ্চিমা ভাবধারায় শিতি ধনীর দুলালেরাও যেমন আছে, আবার মোসাদের টাকার চ্যানেলও ফকফকা শোনা যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে ঐ সিভিল এভিয়েশনের আমলা বা ফখরু সরকারের ড. ব্যা. অলা উপদেষ্টাদের সঙ্গে তাদের অর্থাৎ ঘোড়া আর গাধার মিলনও আকছারই তো দেখি। ব্যারিস্টার মইনুলের আমলের কথা স্মরণ করতে বলি। স্মরণ করতে বলি, ঢাকা শহরের এন্তার শপিং মলগুলোতে সাজানো ইতর যৌনাবেদনমাতানো মেনেকিন মূর্তিগুলো বা আর বিশ পঞ্চাশটা জায়গায় বিভিন্ন কর্পোরেট স্পন্সরড ভাস্কর্য কিন্তু তারা ভাংতে যায়নি। কালচার ইন্ডাস্ট্রির রগরগে দৃশ্যসংষ্কৃতি ও পুঁজিবাদী পৌত্তলিক সমাজের সকল আইকনের সঙ্গে সহবাসে তারা রীতিমতো অভ্যস্ত। সাম্রাজ্যবাদের খনিজ লুণ্ঠন ও সোফা-হানা-পিএসসি, এফডিআই ইত্যাদির বিরুদ্ধে একটা ঢিলও তাদের চুঁড়তে দেখা যায়নি। মার্কিন দূতাবাস তাদের কাছ থেকে সর্বদা নিরাপদ। সুতরাং পুঁজিবাদী সমাজের কোন কোন আইকন তারা আঘাত করে, ভাঙ্গে, কীভাবে তারা রাষ্ট্রবিরোধী হয়, তার সুলুক কিন্তু রিফাত হাসানের লেখায় নাই। যাহা নাই, তাহাকে আমলে নিই কীভাবে?
তারপর তিনি বলে যান, যারা কোন সুবিধাভোগি নয়, যারা এইসবকে প্রত্যাখ্যান করেছে, উদ্ধত, জঙলি এবং অসভ্য উপায়ে, সভ্য মানুষের ভাষায়। মচেৎকার!!!

বাংলাদেশের ইসলামী স্ট্যাবলিশমেন্ট টিকেই আছে রাষ্ট্রের সহযোগিতায় আর পুঁজির কারুণ্যে। দরিদ্র মাদ্রাসা ছাত্রদের কথা বাদ দিলে, এদের নেতারা সবাই সম্পত্তিবান শ্রেণীভুক্ত। কবে তারা সুবিধাভোগের বিপরীতে দাঁড়াল? গরিব, সবদিক থেকে নিপীড়িত সম্ভাব্য শ্রেণী সংগ্রামের অগ্নিগর্ভ নিম্নবর্গীয় হিসেবে এই শ্রেণীটির প্রতি আমাদের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও তাদের রাষ্ট্র যত অবিচার করেছে, তার সঙ্গে কৃষক শ্রেণীর ওপর চলা অবিচারের তুলনা চলে। কোনো কাকতাল নয় যে, এরা সেই কৃষকদেরই সন্তান বা সন্তুতি। কিন্তু কবে, ইসলামপন্থি নেতারা সুবিধার মধুর নহর থেকে গা উঠিয়ে এদের সঙ্গে এককাতারে দাঁড়িয়েছে? আজিব, তবুও রিফাত বলতে কোশেশ করেন,
মৌলভিদের মূর্তিবিরোধিতার মোকাবেলায় অইটার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে ফ্যানাটিসিজম দিয়ে আলাপ সারা আর ফাজলামো করা একই কথা। কারণ এই আলোচনাটির সাথে দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক আলোচনাটি জড়িত। আনকন্ডিশন, নিরাকারকে আকার প্রদান, ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিজত্বের ধারণা, পৃথিবীতে ধর্মের বিবর্তনের যে ইতিহাস, এইসব ব্যাপারগুলিতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং স্ট্যাণ্ডপয়েন্ট আলোচনায় আনতে হবে। অবশ্যই আনতে হবে, কিন্তু সবার আগে রাজনীতির বিষয়টা ফয়সালা করে নিয়ে। বিষয়টাকে বিমূর্ত ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় নিয়ে যেতে মুনতাসীর মামুন বা শাহরিয়ার কবির মার্কা বুশের ওয়ার অন টেররের পালক পুত্রদের সুবিধা হয়। কিংবা চারুকলা কেন্দ্রিক আন্দোলনকারীদের হঠাত লালনপ্রেমের নামে জাতীয়তবাদের কাঠামোর মধ্যে গরিবের সাংষ্কৃতিক নেতার আÍসাতকরণের দরকার পড়ে। এবং দেশ তালেবান হয়ে গেল বলে বা এদের ফ্যানাটিক বলে দেশে মার্কিন সেনা ডেকে আনার মওকাও কারো কারো হয়। হুজুরদেরও তাতে সুবিধা, কেননা ইসলামে নাজায়েজ পোপতন্ত্রের মতো ভূমিকা নিতে পারলে, তারা আর ধর্ম সমার্থক হয়ে যায়। আমাদের রাষ্ট্রেরও তাতে সায় থাকে। কেননা আদর্শিক সংকট এবং পুঁজির লুণ্ঠনকে একটা ধর্মীয় সামিয়ানায় ঢাকতে রাষ্ট্রও হালে ইসলামী পোপতন্ত্র খাড়া করতে চায়। এই জিনিষটা চোখে পড়ে না বলেই রিফাত হাসান বলে যান, কিন্তু এর সাথে রাষ্ট্রের একটা সম্পর্কের জায়গা আছে যেইটা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি। মূলত রাষ্ট্র কোন চরম বা চুড়ান্ত কনসেপ্ট না। নাগরিকের কনসেন্ট, নাগরিকের সাথে একটি অলিখিত চুক্তি, যেইটারে আমরা সোশাল কন্ট্রাক্ট বলতে পারি, সেইটাই রাষ্ট্র গঠনে আপাতত বৈধতা তৈরী করে। Click This Link

রাষ্ট্র আমাদের এই ধারণা দিতে চায় যে, তা আমাদেরই সম্মতির ভিত্তিতে চলে। কিন্তু রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার মুহূর্তেই ধরা পড়ে যে, রাষ্ট্র আসল বলপ্রয়োগের ভিত্তিতে গড়া এবং সেটাই তার প্রধান তরিকা। হেগেল বলেছিলেন, যাহা বাস্তব তাহাই যৌক্তিক। এখানে বলা দরকার, যাহার বল আছে তাহাই বাস্তব। শক্তিই তার যুক্তি। আজকে মোল্লাতন্ত্রই হোক আর তাদের প্রতিপালক রাষ্ট্রই হোক আর হোক সাম্রাজ্যবাদ। বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আধুনিকতা, এদের সকলেরই ভিত্তি বলপ্রয়োগের ওপর। সেই দিকটা খেয়াল না করলে আসল জিনিষটাই হারিয়ে যায়। এবং এই জরুরি অবস্থাতে আমরা দেখছি, আমিনী গংদের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা আর রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের শক্তি দুজনে দুজনার হয়ে কাজ করছে কোনো এক মায়াবির যাদুবলে। গত এক দশকে এই ঐক্যের ভুরিভুরি নজির হাজির হয়েছে। তা বাদ দিয়ে গায়েবি ইতিহাসের কোশেশ করায় কেন এত কসুর, তা জানতে সাধ হয়। এই ঐক্যের রাজনীতিটি না বুঝলে সত্যের শাঁসই খাওয়া হয় না, ছালবাকলায় গাল ঘসাঘষি হয়। কেননা রিফাত নিজেই তো বলেছেন, শিল্প সংস্কৃতি এইসবের কোনটাই ধোয়া তুলসিপাতা নয়, এসবের রাজনৈতিক পাঠ জরুরী। সুতরাং আমিনী-খতমে নবাদের সংষ্কৃতির রাজনৈতিক চেহারাটি কী? বিপ্লবী, জনপ্রেমী নাকি সাম্রাজ্যবাদের পঞ্চম বাহিনীগিরি? এখানে বলে রাখি, আমাদের আওয়ামী কালচারাল বৃত্তের সাংস্কৃতিক প্রত্যয়ের মধ্যেও পশ্চিমাদের গোলামির ছিলছাপ্পর স্পষ্ট। এবারও তা খোলামেলা দেখা যাচ্ছে। বুঝতে হলে তো দুই দিকেই বুদ্ধিবৃত্তিকে নিয়োজিত করা উচিত।

দেখুন কেমনে তিনি বলে যান,
ষাট সত্তর দশকে ভারতের প্রভাবশালী নকশাল আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা প্রচুর ভাস্কর্য ভেঙেছে। মূর্তি নয় ভাস্কর্য, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ এলিট আইকনদের, এবং এলিট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বৈপ্লবিক অবস্থান নিয়েছে।
বেশ, এর অর্থ দাঁড়ায়, নকশালরা ভেঙ্গেছে বলে খতমেদের ভাঙ্গাটাও জায়েজ। অর্থাৎ ভাঙ্গাটা প্রধান নয়, কে ভাংছে সেটাই প্রধান। দেখা যাচ্ছে, তিনি লালনের মুর্তি ভাঙ্গার পক্ষে কারণ ইসলামপন্থিরা তা ভেঙ্গেছে। নাকি? ফলে মূর্তি বা ভাস্কর্যের থেকে তেনার কাছে মূর্তিবিরোধীদের পলিটিক্সটাই বেশি গ্রহণীয়। তবে?

তিনি জানাচ্ছেন, আফগানিস্তানে যখন জাতিসঙঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে অনাহারে প্রচুর শিশু মারা যাচ্ছিল, জাতিসঙঘ তখন বুদ্ধমূর্তি সঙস্কারের জন্য প্রচুর টাকা নিয়ে হাজির হলো- তালেবানরা তখন বলেছিল, আমাদের মূর্তির দরকার নেই, আমাদের শিশুদেরকে আহার দিন।

মুর্তি বনাম শিশু এই বাইনারি সাজিয়ে দিয়েছিল পশ্চিমা মিডিয়া ও তাদের প্রভুরা। দেখা গেল তালেবানরা সেই ফাঁদ ধরতে না পেরে মুর্তি ভেঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী ওয়ার মেশিনের পিস্টনে এমন গতি আর প্রচারের পালে এমন হাওয়া দিল যে, শেষ পর্যন্ত আফগান নারী আর মুর্তি রক্ষার নামে সেখানে আগ্রাসন ঘটলো। আমাদের এনারাও তেমন ফাঁদে পা দিচ্ছেন সজ্ঞানে। (সাম্রাজ্যবাদী নারীবাদ আর মানবতাবাদের সঙ্গে বিপ্লবী নারীবাদ ও মানবতাবাদ নিয়ে পরে আমাদের আলোচনা করতে হবে। আপাতত আমাদের পথে এগই।)

আখেরে রিফাত বলছেন, এটি কোন ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি হল আইকনকে ব্যবহার করে রাস্ট্রের ধর্ম হওনের আকাঙ্ক্ষা, যেইটারে প্রতিরোধ করা সব নাগরিকের দায়িত্ব।
এই পয়েন্টে আমি আত্মহারা। আলবৎ এটা কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ক্ষমতা বিষয় রাজনীতির বিষয়। লালনের আইকনের বদলে তাহলে হজ্ব মিনারের আইকনটিই যে শ্রেয় হলো, সেটা বাংলাদেশের জনগণের কোন অংশের রাজনীতি এবং কোন অংশের ক্ষমতায়ন? রাষ্ট্র যেভাবে কয়েকজন লুঙ্গি পরা কৃষক বাউলের ভাস্কর্য লুঙ্গি পড়া মাদ্রাসা ছাত্রদের দিয়ে বেইজ্জত করালো, সেটা কি এলিট পাড়ার স্থাপিত বা সোনারগাঁ-শেরাটনের কোনো কিছুর বেলায় হতে দিত। এসব প্রশ্নে জবাব তাই আমাদের খুঁজতেই হয়। যতই খেলাফতের মোরতবা কানে বাজুক, যতই একদিকে ওয়ার অন টেরর অলা শিল্পবাদী-জাতীয়তাবাদী কলোনিয়াল এলিট আরেকদিকে মূর্তিবিদ্বেষী জেহাদিদের মাতম। আর রাষ্ট্র আধা সামন্তীয় ইসলাম আর আধা পুঁজিবাদের এক খচ্চর রাষ্ট্রধর্ম জন্ম দিক। সেইটারে প্রতিরোধ করা কর্তব্য কি কর্তব্য না সেটা জানতে সাধ হয়।



 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভাস্কর্য-বিবাদ ;
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৪৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১১
আরিফ জেবতিক বলেছেন: শেষ পর্যন্ত রিফাত হাসান নিয়া !!!!!
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: কেন সমস্যা কি, উনি তো সত্যিই চিন্তা জাগানীয়া লেখা লেখেন। তাতে সাড়া দেয়া চিন্তার জন্য এবং আমার অবস্থানের জন্যই দায়িত্ব মনে করি। একটু দেরি হয়ে গেল, এই যা। আর কোনো গুঢ় অর্থ আছে নাকি এর?

২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: হুম........... অনেক বড় ও কঠিন বলেই মনে হল পোস্টটি। যতটুকু বুঝলাম তাতে সহমত জ্ঞাপন করিছি।

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, উদ্ধৃতি ধরে ধরে লেখার জন্যই বড় হল। বাকিটা আমার মুদ্রাদোষ। মুদ্রাটা বোধহয় এই অঞ্চলে অচল।

৩. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৪
হরিণ বলেছেন: ভাইরে আমার জন্য একটু কঠিন হইয়া গেল। আপনার পোস্ট বইলা পড়তে চাইছিলাম কিন্তু অনেক বড়, সেই সময় আমার নেই। তারপরও যা চোখ বুলাইছি একমত
৪. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৪
হরিণ বলেছেন: ভাইরে আমার জন্য একটু কঠিন হইয়া গেল। আপনার পোস্ট বইলা পড়তে চাইছিলাম কিন্তু অনেক বড়, সেই সময় আমার নেই। তারপরও যা চোখ বুলাইছি একমত
৫. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৬
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ, পরে একবার বাদবাকিটা দেইখেন।
৬. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৬
হাসিব মাহমুদ বলেছেন: ঠিকাছে । অবস্থানহীন নপুংসক চরিত্র হওয়া কোন কাজের কথা না । মত ঠিক করে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই দস্তুর ।
৭. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আমাদের হইছে মুশকিল একদিকে জাতীয়তাবাদী অহং আরেকদিকে জেহাদি জোশ। এর মধ্যে স্যান্ডউইচ দশা। লগে থাইকেন।
৮. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩২
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: খুবই চমৎকার লাগলো আপনার বিশ্লেষণী দৃস্টিভংগী।:)

ধন্যবাদ।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুয়ীজ।

৯. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৩
রাসেল ( ........) বলেছেন: বিতর্কের জায়গাটা বিস্তৃত , মাদ্রাসার ছাত্রদের গজারীর লাঠি হাতে অহেতুক হঠকারিতাকে যখন তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বলে গণ্য করা হয়, যদিও তারা নিজেরা নিজেদের শ্রেণী এবং নিষ্পেষণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নয় এমন কি পরিবর্তনগুলোতে তাদের ভুমিকা নেহায়েত জিহাদী সৈনিক না কি আদর্শিক সৈনিক এই পরিচয়টুকুও তাদের কাছে পরিস্কার নয়। তখন তাদের রাজনৈতিক অগ্রসরতা, তাদের ধর্মবোধ এবং তাদের সক্রিয় প্রতিরোধের আলোচনাগুলো আকর্ষণীয়।

প্রতিরোধ করা উচিত কি উচিত নয় এই প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত ব্যক্তিগত রেষের রাজনীতি, ধর্মীয় রাজনীতি এবং ইসলামি বিপ্লবের রাজনীতির সমর্থকদের ভেতরে একটি সাধারণ ঐক্যবদ্ধতা চোখে পড়ে।

শুধুমাত্র রিফাত হোসেন নির্মোহ আলোচনা করে মধ্যবিত্তের এই হঠাৎ লালনপ্রীতির সঠিক বিশ্লেষণ করে ফেলেছেন এই বাহবাটা অনেকেই দিচ্ছে। তাই মধ্যবিত্তের ফাজলামিকে প্রতিক্রিয়াশীলতা মনে হওয়াটাতে দোষের কিছু নেই।
১০. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: ধর্মীয় অন্ধত্ব-কে প্রগতিশীল বলা আর এর বিরুদ্বে শিক্ষীত মধ্যবিত্তীয় প্রতিবাদ-কে প্রতিক্রিয়াশীল বলাটাকে খুবই হাস্যকর হয়েছে :)

রিফাত হাসানের "মৌলভিদের প্রতিবাদের উত্তরে প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যবিত্তিয় অবস্থান ও ......."ডায়ালগ অফ দা ইয়ার। :)
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪১

লেখক বলেছেন: আমি মনে করি, দুটোই এক বিচারে প্রতিক্রিয়াশীল। তবে ঐ যে এই বিশেষ ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভাস্কর্য অপসারণের রাষ্ট্রীয় নাশকতার বিরুদ্ধের আন্দোলনটি তুলনায় গণতান্ত্রিক।
বিষয় হচ্ছে, কোন ধরনের রাজনীতিকে আমরা বিকশিত করতে চাই, তা।

১১. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: একমত।
তবে, মাদ্রাসার ছাত্রদের ওই প্রতিবাদে (অবশ্যই সেটা প্রতিবাদ) তাদের শ্রেণী অবস্থানের একটা সুপ্ত প্রতিফলনও নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্দিস্ট বিশ্লেষণ এবং সেটাকে বৃহত্তর কর্মসূচির মধ্যে দেখতে পারা ছাড়া, তা আখেরে তাদের শ্রেণীগত অবস্থানের মুক্তি ঘটাবে না। তবে এই হয়ে ওঠার মুহূর্তে তাদের সঙ্গে যারা এখানে মুক্তির রাজনীতি করে বা করবে, তাদের বাহাস ও সংলাপ হওয়া দরকার। এই মুহূর্তে সেটাই জরুরি।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: আগেরটা @ রাসেল।

১২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪০
আরিফ জেবতিক বলেছেন: রিফাত হাসান চিন্তা জাগানিয়া লেখা লেখেন , তাহলে নিশ্চয়ই সেই চিন্তার বিপরীতে অথবা স্বপক্ষে আপনার লেখা থাকতেই পারে । স্বাগতম জানাই ।

তবে জামাল ভাস্কর উনাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে মূর্তির বিপরীতে হজ্বমিনারের আইডিয়াকে উনি আইকন হিসেবে দেখেন কি না , সেই প্রশ্নের কোন উত্তর আমার নজরে আসেনি এখনও ।
সেই প্রশ্নের জবাবটা জানতে পারলে সুবিধা হতো ।
১৩. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৬
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: সেটা বুঝেছি কিন্ত মধ্যবিত্তীয় বিচারে উনি আসলে সার্বিক আন্দোলনকেই প্রতিক্রিয়াশীল খাতে আবর্জনায় ছুড়েছেন....এ বিষয়টকে ইংগিত করেছি...
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: আমি তা খণ্ডন করার চেষ্টা করেছি।

১৪. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আইকনের বিপরীতে আইকন, মানে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে আরেকটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তবে প্রেক্ষিতের বাইরে গিয়ে আলোচনা করলে হয়তো আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে পারি, কিন্তু ঘটনার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারি কি?

যারা অপসারণবাদী, তারা কিন্তু আগে সেখানে হজ্ব মিনারের দাবি তোলে নাই। তারা আগে এটাকে ভাংতে গিয়েছে, পরে প্রশ্নের জবাবে বলেছে হজ্ মিনারের কথা। সুতরাং এটা তাদের এজেন্ডাভুক্ত ছিল না।

কেউ যদি হজ মিনারের পক্ষে থাকে, থাকতেই পারে। তাহলে কী যুক্তিতে এই মুহূর্তে হজ মিনারের দাবি উঠতে পারে এবং কেন তাকে লালনের বা বাউলের বা লুঙ্গি পড়া কৃষক মূর্তির বিপক্ষে হাজির করাতে হচ্ছে, সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয়, তারা তাদের ভাঙ্গন-খেলা খেলে চারদলীয় জোটের পালে হাওয়া দেয়া এবং মুজাহিদ কাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরাতে চাইছে। আবার ভাস্কর্যবাদীদের বড় অংশই কিন্তু নির্বাচনে এবং তার আগের ক্ষমতার বলয় সৃষ্টিতে পরোক্ষে ভূমিকা রাখছে। এসব নিহিতার্থ। তার সঙ্গে সঙ্গে এই কাজের প্রকাশ্য রাজনৈতিক তাৎপর্যটি দেখা জরুরি। যেটা আমি ওপরে মোটা দাগে বলার চেষ্টা করেছি।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫৩

লেখক বলেছেন: যথারীতি ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই। আপনার সঙ্গে ইহজনমে আর দেখা হল না!

১৭. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫০
ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯ বলেছেন: সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার হয়, তেমনি কানসাটের কৃষক বা শনির আখড়ার নিম্ন মধ্যবিত্তের আন্দোলন আর জ্বালাও-পোড়াওয়ের পক্ষ নেয়। 'ফরহাদ মজহার স্কুল অব থটে'র সমস্যা হলো তারা মোল্লাদের প্রলেতারিয়েত হিসাবে উপস্থাপন করে নব্য মার্কসবাদী কপচানি আউড়ে সাম্রাজ্যবাদের মুখোমুখি করার উদ্ভট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: ফূলবাড়ীর এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের কথা কিন্তু বেশি লোক বলে না। কারণ সেটা অনেক বেশি করে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বলেই কি? সেটায় একদিকে মধ্যবিত্তিয় উন্নয়ন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে বিপ্লবী রাজনীতির যোগ আছে বলেই কিনা কে জানে?
ফরহাদ মজহারও ওই উদাহরণ কম আনেন। কে জানে তত্ত্বে ফিট না করলে এক শ্রেণীর ডান বাম সবাই ইতিহাস ও বাস্তবকে পাশ কাটায়।
ধন্যবাদ ক্যাডেট সাহেব।

১৮. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১১
ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯ বলেছেন: ফুলবাড়ি আন্দোলন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা নাকি? আমি বরং লাতিন আমেরিকায় তেল ক্ষেত্র জাতীয়করণকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা বলতে রাজি।
১৯. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১৫
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ফুলবাড়ীর আন্দোলন কী অর্থে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নয়, আর ল্যাটিন আমেরিকার তেলক্ষেত্র জাতীয়করণের চেতনা ও কর্মকৌশলের সঙ্গে এর বিরোধটা কোথায় তা না বললে বুঝি কীভাবে।
যাহোক, এখানে আমি মূল প্রসঙ্গেই থাকতে আগ্রহী।
২০. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:২৬
ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯ বলেছেন: বড় বিতর্কে যাবো না। এশিয়া এনার্জির সম্ভাব্য লুটপাট নিয়ে এখানে আনু মুহাম্মদরা যতোটা সোচ্চার পাশেই বড়পুকুরিয়ার চীনা কোম্পানি বা মধ্যপাড়ায় কোরীয় কোম্পানির চুরিচামারি, অপচয় আর দেশীয় লুটপাটকারীদের নিয়ে তাদের মুখে কোনো রা নেই!!
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫১

লেখক বলেছেন: আমারো এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবার ইচ্ছা এ মুহুর্তে নাই। আমি আপনার বিবেচনার জন্য কিছু পয়েন্ট দিচ্ছি।

১. আপনি জানেন না (তা তো বোঝাই যাচ্ছে) যে, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির বিষয় নিয়ে ছয় মাস যাবত একটি আন্দোলন চলছে। সেখানে আনু মুহাম্মদরা সামিল। এ আন্দোলনে দশ বারো হাজার লোকের একটা সমাবেশও ঘটেছে।

২. আনু মুহাম্মদ ব্যক্তি মাত্র। ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলোচনা না করলে দেখতে পেতেন, তাঁর নের্তৃত্বাধীন জাতীয় স্বার্থে তেল-গ্যাসি বিদ্যুত-বন্দর ও কয়লা রক্ষা জাতীয় কমিটি গত ছয়/সাত বছর ধরে জাতীয় সম্পদে সাম্রাজ্যবাদী হানা ও লুটপাট নিয়ে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বিবিয়ানা-সিলেট, এবং ঢাকা-খুলনা-মংলা এবং ঢাকা-দিনাজপুর -ফুলবাড়ী লংমার্চ করা হয়েছে এই কমিটির মাধ্যমে। এর বাইরে অজস্র কাজ নিয়মিত হয়। আপনি চাইলে তার খোঁজ করতে পারেন। তবে মিডিয়ার থেকে জানতে চাইলে সব পাবেন না। সব খবর তারা দেয় না, তারা দেয় যখন রক্তপাত হয় তখন।

৩. আপনার জানা থাকবার কথা যে, বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি এখনো রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানাতেই রয়েছে। চিনারা এটার ম্যানেজমেন্ট ও প্রাযুক্তিক সার্ভিসের ঠিকাদার। সেই হিসেবেই তাদের সমালোচনা হয়, মালিক হিসেবে নয়। এখানেই এশিয়া এনার্জির সঙ্গে তার তফাত। এখানে এও উল্লেখ্য বড় পুকুরিয়ার খনি সর্বনাশা উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে হচ্ছে না, হচ্ছে সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে।

আশা করি আপনার সংশয় এতে দূর হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

২১. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:২৮
সুমন রহমান বলেছেন: ভালো হয়েছে ফারুক ওয়াসিফ। প্রায় একই কথা বোধয় আমার পোস্টেও এসেছে।
২২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৪১
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ওটা পরে দেখলাম, আগে দেখলে আর এটা লেখার প্রয়োজন এভাবে পড়তো না। ধন্যবাদ সুমন।
২৩. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৯
দিনমজুর বলেছেন: এই বিতর্ক থেকে ইচ্ছা করেই বিরত থেকেছি- ভাস্কর্য ইস্যুতে আপনার আগের পোস্টের বক্তব্যই আমার অবস্থান, রিফাতের "চিন্তা জাগানিয়া" আলোচনার জবাবে আপনার এই পোস্টের সাথেও একমত।

আপনাকে ধন্যবাদ।
২৪. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৬
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ দিনমজুর, আপনার লেখা আমার বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
২৫. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬
ফজলুল কবিরী বলেছেন: ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতা আর জাতীয়তাবাদী এলিটদের প্রতিক্রিয়াশীলতার মাত্রা মাপার জন্য আমার মনে হয় কোয়ান্টেটিভ মেজারমেন্টে যাবার সময় এসেছে। তা না হলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নিয়ে আপনার যে অ্যাজামশন সেটাই সত্য হয়ে থাকবে আরো অনেকদিন। কিন্তু সেটা আর কতদিন চালিয়ে যেতে দেব আমরা?
জরুরী মুহূর্তে রেডিক্যাল সীদ্ধন্ত নিতে পারলে তো খোজা রাষ্ট্র বলবৎ থাকে না। যাতে আজীবন খোজা রাখা যায় সে উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রের তাবৎ ক্রীয়াশীল শক্তি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের একটা স্ট্রাকচার তৈরী কইরা রাখছে।
গণপ্রতিরক্ষা নিয়া আমার একটা দৃষ্টিভঙ্গী আমার ব্লগে আছে। সময় থাকলে ভাগ কইরেন। ভাল লাগবে।
২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ শিক্ষিত মধ্যবিত্তের প্রধান প্রবণতা ও স্বার্থ জাতীয় অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তারা এখন গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম এবং তার সাংস্কৃতিক পরজীবীতার আগ্রহী খাতক। আরেক অংশ আত্মপরিচয় ও সামাজিক দ্বন্দ্ব থেকে বিকল্প মতাদর্শ হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করছে। এরই কিছুটা প্রকাশ ঘটছে বর্তমান সংঘাতের মধ্যে।

২৬. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯
রাজীব_নন্দী বলেছেন: ফারুক ভাই, বরাবররে মতোই ভালো। মন্তব্যের পিঠের উপর মন্তব্য চেপে লেখাটা আরো জমে উঠেছে। তাই পড়ার পর মন্তব্য দেখে আবারো পড়তে হয়।
লেখাটা সত্যিই ভালো লাগলো। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশ ইরানের পথে পথে তো শত শত ভাস্কর্য। মডারেট ইসলামী দেশ মালয়েশিয়ায় আছে রামায়নের মিথ অবলম্বনে পথের ভাস্কর্য। এসব বিষয়কে ধরে আগানো যায়।
তবে মন্তব্যর শেষ দিকে এসে বড়পুকুরিয়া প্রসঙ্গে আরো আগ্রহ জাগল। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ অর্থনীতি চর্চা কেন্দ্রর সাথে একটি বিতর্ক চলেছে। আনু মুহাম্মদ থেকে শুরু করে বদরুদ্দিন ওমর, বাসদ, সিপিবি, মানববন্ধন, মিছিল, ঘেরাও, স্বাক্ষর সংগ্রহ সবকটিই তাদের কাছে বহুজাতিকের ‌লুন্ঠন আড়াল করার স্বার্থেই পরিচালিত হয়!
এমনকি কথার মারপ্যাচে আজকে বলল, ‌বড়পুকুরিয়া নিয়ে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল-ব্যাক্তি নাকি টু শব্দটিও করছে না-করে নাই'।
কি বলা যায়?
শুভেচ্ছা র্ইল।
২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: ইসলামে মূর্তি বা ভাস্কর্য জায়েজ কিনা, সেটা এই বিতর্কের অন্তর্গত জরুরি বিষয়। কিন্তু এখন বিবাদটা যেভাবে হুজুরেরা তুলেছেন, তাতে ওর থেকে জরুরি হয়ে উঠেছে ঘটনার রাজনৈতিক কৌশলগত অভিঘাত। অর্থাৎ এই ঘটনা রাজনীতিতে কী জিনিষ যোগ বা বিয়োগ করলো। সরকারের সঙ্গে তাদের যোগের কথা বলেছি। অন্যদিকে উদিচী-ছায়ানট বোমা, হুমায়ুন আজাদ হত্য, জেএমবি বোমা, গ্রেনেড হামলা ইত্যাদির ধারাবাহিকতার মধ্যে এই ঘটনাকে ফেলে দেখার চেষ্টা হবে। তাতে কারো কারো মনে হবে, বাংলাদেশ ইজ নেক্সট আফগানিস্তান। আমি এই মতের বিরোধী।
প্রথমত, এইসব ঘটনার পেছনের শক্তির শেকড় আমার মনে হয় ইসলামপন্থি স্ট্যাবলিষ্টমেন্টরে মধ্যে নাই। তা ব্যর্থ রাষ্ট্র যারা প্রমাণ করতে চায়, তাদেরই নকশা। তাদের মদদ ছাড়া এসব হতে পারতো না। আবার এও সত্য যে, একটা ইসলামী প্রতিক্রিয়ার শক্তি দানা বেঁধেছে। এবং তারা রাষ্ট্রের ভেতর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এই অবস্থান থেকেই আমার প্রশ্নটা এরকম যে, আজকে সাম্রাজ্যবাদী শাসন-লুণ্ঠন-সামরিকায়নটিই প্রধান এজেন্ডা নাকি, বুশ গং এর দেশিয় সংস্করণদের জনবিচ্ছিন্ন মৌলবাদবিরোধিতা?

বড় পুকুরিয়া নিয়ে যে প্রচারটি চালানো হয়, আমার জানা মতে কিছু স্বল্পদৃষ্টি লোকের ভুল বুঝ এবং এশিয়া এনার্জি গংয়ের পৃষ্ঠপোষকতার চলা প্রচার। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কয়েকটি বিভাগ এবং বেশ কিছু শিক্ষক এখন সরাসরি এশিয়া এনার্জির হয়ে কাজ করে। তাদের একটা প্রভাব তো পড়বেই।

২৭. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪১
রাজীব_নন্দী বলেছেন: ও আচ্ছা! সহমত কথাটা লিখতে ভুলেই গেলাম।
সহহহহহহহহহহমত!!
২৮. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৮
নুশেরা বলেছেন: ওয়াসিফ, আপনার বোধহয় একটা ছোটগল্প আছে "৩২ নম্বর খাতা" বা কাছাকাছি কোন শিরোনামে। মোস্তাফিজ রিপন বললেন। লিংক দেবেন, প্লীজ?
২৯. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১১
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ওটা ঠিক গল্প ছিল না। কিছুদিনের জন্য ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের জামাই হয়েছিলাম। সেসময়কার খণ্ডস্মৃতি ওটা। ধারাবাহিক করতে চেয়েছিলাম পরে আর করা হয়নি। লিংকটা দিলাম: Click This Link

এটা আরেকটা ওই সিরিজের Click This Link

আবারো বলছি, এগুলোকে গল্প ভাববেন না। কারণ কী, গল্প আমার কাছে নিছক কাহিনী না। ভাল থাকবেন আপনি।
৩০. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:০৫
একবাল হুসেন বলেছেন: এসব বলে লাভ নেই। ইসলামে মুর্তি হারাম।
৩১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫১
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: কী অর্থে, কোন শর্তে তা কি আপনি জানেন একবাল? এ বিষয়ে ইসলামের ভেতরে আলেমদের তর্ক-বিতর্কগুলো কি আপনার জানা আছে? আপনি ইসলামি শাস্ত্রের যে সূত্র ও ব্যাখ্যা জানেন, তার অনুবাদক এবং তফসিরকারিদের বিষয়ে আপনি কি চূড়ান্তভাবে নিঃসন্দেহ?
এসব বিষয়ে নিঃসেন্দহ হয়ে এলে তবে আপনাকে মোলাকাত করব। বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে হলে মেহনত করতে হয়। নইলে উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে ভাবাই ভাল যে, আমিই ঠিক। ওই যে ঝড় আসছে ওটা ঠিক নয়।

আপনি খেয়াল করেননি যে, আমি বিষয়টাকে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে দেখতে যাইনি এখানে। দেখতে চেয়েছি রাজনৈতিকভাবে এর তাৎপর্যটা কী? আপনার ইসলামী দলগুলো কিংবা দেশের বেশিরভাগ মুসলমানও কিন্তু এভাবেই দেখছে। নইলে তাদের সবাইকেই কিন্তু রাজপথে থাকতে দেখা যেত এবং বাংলাদেশের কোথাও কোনো ভাস্কর্য টিকে থাকতে দেথা যেত না। কী বলেন?
৩২. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০১
একবাল হুসেন বলেছেন: জনাব ওয়াসিফ,

আপনি ঠিকই বলেছেন, বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে মেহনত করতে হয়। কিন্তু কোন মেহনত? আপনি ঠিক করে ইতিহাসটা ভেবে বলুন তো সারা বাংলাদেশে মুসলিম সংখ্যাধিক্য হবার পরেও কোন কোন রাজনীতির ছত্রছায়ায় তথাকথিত ভাষ্কর্য তথা বিগ্রহ তৈরী হয়েছে? খুলাফায়ে রাশেদীনের পরে ইসলামী রাজনীতি কক্ষচ্যুত হয়েছে। এর আসল কারন আঞ্চলিকতা। কোন এলাকায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে আলেমরা দুরদর্শিতার অভাবে সেখানকার আঞ্চলিকতার সাথে মিশে গেছেন। পারস্যে সুফীদের জন্ম থেকে এই মিশাওয়াট শুরু। এরা ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্যাসবাদের দিকে ঝুকেছে। উপমহাদেশে এরাই প্রথম এদের মনগড়া ব্যাখ্যা সহ ইসলাম প্রচার করেছে। যারা রাজনৈতিক ভাবে এসেছে তারাও পার্থিব লাভালাভের মোহে সমাজে সংস্কৃতিতে ইসলামকে শক্তিশালী করার বদলে আঞ্চলিকতাকে ছাড় দিয়েছেন। এটা তাদের অদুরদর্শীতা নয়তো ভোগী মনোভাবের প্রতিফলন। মুসলীম শাসনামল বলে ইতিহাস যা লেখে সেখানে ইসলামী শাসন বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। এক আওরঙ্গজেব ছাড়া উপমহাদেশে কোন পরহেযগার শাসক আসেনি।
এরপর ইংরেজের সময় ছিল খ্রীষ্টানদের শাসন। তারা হিন্দুদের উন্নত করে মুসলমানদের সংগঠিত হতে দেয় নি। তারপরেও মুসলমানেরা একটু একটু করে তিল তিল গড়ে তুলেছে নিজেদের। আমি মনে করি আমরা এখনো ইংরেজ শসনে আছি। কিন্তু আগের তুলনায় ইসলামী দলগুলি অনেক সংগঠিত। বাংলাদেশে যে ঐতিহাসিক কারণ বললাম তাতে ভাস্কর্য টিকে আছে। কিন্তু যদি মনে করে থাকেন তারা চিরদিন টিকে থাকবে তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

আপনার লেখাজোখা দেখে বুঝলাম আপনি বামপন্থী। ইদানিংকালের আর দশজন সস্তা বামের মতো আপনিও ইসলাম নিয়ে দুচারটা ভালো কথা বলে পরহেযহারদের বিভ্রান্ত করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত। আপনারা ইসলামী রাজনীতির সমর্থকদের এতো বোকা ভাবেন কেন?
৩৩. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৫
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: না ভাই, আমরা ইসলামী রাজনীতির সমর্থকদের বোকা তো ভাবিই না, বরং মূল্য দিয়ে ভাবি। একারণে যে, আপনাদের পথ দেখানোর দায়িত্ব আমাদের রয়েছে এবং আপনারা আবার যে আমাদের গণহত্যার বলি করতে আসবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকবার জন্য।

আপনি যেটা বলেছেন, সেটা মূর্তি পূজা সম্পর্কে ইসলামের প্রতিষ্ঠিত মত। শিল্পচর্চার সঙ্গে এর সম্পর্ক নাই। ও বিষয়টি আসলেই আপনারা এখনো বুঝে উঠতে পারেন না যে, এটা কি? খায় না মাথায় মাখে?

আপনার তরিকায় চললে, ইসলাম কেবল একদল যাযাবরের কাল্ট হয়ে থাকতো, বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র সত্যিকার বিশ্বজনীন ধর্ম হয়ে উঠতে পারতো না। আর যাদের আপনি বলছেন, ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী, তারাই কিন্তু এই বঙ্গে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আপনি ইসলামের যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তার জন্ম খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগেই। সেসময়েই নবীর তরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবীরা জয়ী হয়ে ইসলামের বিপ্লবী সম্ভাবনাকে রূদ্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিভিন্ন মতপথ আছে। এখানে বিস্তারিত বলবার প্রয়োজন দেখছি না। আপনি ইসলামের একটি ব্যাখ্যা প্রচার করছেন, আমি অন্যটাকে বুঝে নিয়েছি। কিন্তু আপনিই যে সঠিক এই গোঁয়ার্তুমি দাবিটাকেই বলা হয় ফ্যাসিস্ট মনোবাসনা। এ বিষয়ে জর্জ বুশ এবং বুর্জোয়া ইসলাম বিদ্বেষীদের সঙ্গে মনে হয় আপনার ভায়রা ভাই সম্পর্ক। আপনাদের সুর একই, কেবল বাণী আলাদা।
৩৫. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:০৫
একবাল হুসেন বলেছেন: জনাব ওয়াসিফ,

প্রথম কথা হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে আমরা মুসলমানরা কার কথা কে গুরুত্ব দেবো? একজন বিশ্বাসী মানুষের কথা কে নাকি আপনার মতন একজন জড়বাদীর কথাকে। এই ব্লগের আর দশটা লোকের মতো আপনি আড়ালের কেউ নন। বাজারে আপনার পরিচিতি আছে এবং সেটা একজন বামপন্থী হিসেবে। ইতিহাস, দর্শন এসব আমিও কিছুটা পড়েছি। আজকে অন্য কোন মতলবে কার্ল মার্কসকে আপনারা যতই বাঁচাবার চেষ্টা করেন, শেষ বিচারে তিনি নাস্তিকই ছিলেন। লেনিনমাও ইত্যাদিরাও নাস্তিক ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো নাস্তিকের দেশই ছিল। ভবিষ্যতেও কখনো যদি বামপন্থীরা ক্ষমতায় যায় তবে সেখানে নাস্তিকের রাজত্বই কায়েম হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধের শ্রাদ্ধ না করে আপনারা পারবেন ই না। আমি জানি এই কথা খন্ডন করার আপনার কোন ক্ষমতা নেই।

দ্বিতীয় কথা,

আপনি বলেছেন,"একারণে যে, আপনাদের পথ দেখানোর দায়িত্ব আমাদের রয়েছে এবং আপনারা আবার যে আমাদের গণহত্যার বলি করতে আসবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকবার জন্য।"

এখানেই কিন্তু আপনার পরস্পরবিরোধীতা স্পষ্ট হয়ে উঠে। আমাদেরকে কিসের পথ দেখানোর দায়িত্ব আপনাদের? আপনাদের কাছ থেকে আমরা পথের সন্ধান কেনই বা নিতে যাবো? আমাদের রয়েছে আল কুরআন,আমাদের রয়েছে আল হাদিস।আপনারা যতই মুখোশ পড়ুন না কেন আপনাদের চেহারা আমাদের খুব বেশী চেনা। পরের লাইনেই আপনি স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। ভবিস্যতের কোন এক কাল্পনিক গণহত্যার জুজু দেখিয়ে আপনি নিজের নাস্তিক সত্তাকেই সামনে তুলে আনলেন।

আপনারা আপনাদের দাবী মোতাবেক "লড়ছেন" কোন এক সাম্রাজ্যবাদের সাথে। আমরা কিন্তু লড়ছি বেদাতের সাথে কুফরির সাথে। দুটো মোটেও এক নয়। এখানকার অনেক ইসলামপন্থী না বুঝে আপনার লেখায় বাহবা দেয়। তাঁদেরকে সতর্ক থাকবার আহ্বান জানাচ্ছি।
৩৬. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: হ্যাঁ, মার্কসবাদ মানুষের কর্মকেই গুরুত্ব দেয়, দৈবি বাণীর মধ্যে মানুষের মর্মের কথা, আত্মার আকুতির সন্ধান করে। এটা কিন্তু জড়বাদ নয়। নাস্তকতাবাদীও নয়। জড়বাদী হলো পাশ্চাত্যের বুর্জোয়া দর্শন। অনেক পাতলা বামপন্থি না বুঝে বুর্জোয়া প্রভাবে নাস্তিকতার প্রচার করে। মার্কস-লেনিন সেটা করতেন না। আবার আপনাদের বা আপনাদের মতো অন্য ধর্মের চিন্তার কাছে তারা সমর্পিতও হতেন না। তাঁরা এর মধ্যে মানুষের মুক্তির সংগ্রামের সুবাস পেতেন আবার তার বাধা নিয়ে চিন্তিতও হতেন।
ঠিক আছে, এটা তো পরিষ্কার যে, আপনারা আর আমরা আলাদা। কিন্তু আপনারা যাকে কুফরি বলে বাতিল করেন, আমরা তাকে মানবজাতির শত্রু বলে লড়াই করি। ফলে কমন এনিমির বিরুদ্ধে আমাদের কাছাকাছি অবস্থান আসতে পারে। যেটা শ্যাভেজ এবং হিজবুল্লাহ তথা ভেনেজুয়েলা ইরান করছে। কৌশলগত ঐক্য।
এটা কি কখনও ভেবেছেন, আপনারা কেন এতকাল সাম্রাজ্যবাদের হাতে বারবার ব্যবহৃত হলেন আফগানিস্তানে আশির দশকে, ইন্দোনেশিয়ায় ষাটের দশকে , বাংলাদেশে ১৯৭১-এ? এই ফাঁদ সম্পর্ক সতর্ক থাকলে আমাদের মতপথের অমিল সত্যেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আমাদের আর ঝাঁপাতে হয় না। তখন এক মনে কমন শত্রুর মোকাবেলা করা যায়।

ভবিস্যতের কোন এক কাল্পনিক গণহত্যার জুজুর কথা বলছেন কেন, অতীতের বাস্তব ঘটনার কথা ভুলে গেছেন?
হ্যাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করে বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে চায় তার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো কথা নাই, আমরা তার কাছে আশা করি সে যেন সত্যিকারভাবেই শত্রুর কলাকৌশল আর নিজের স্বার্থ বুঝতে পারে। সেকারণেই আপনাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে বলেছি।

আবারো বলি, আমি আপনাদের মতো অবশ্যই নই। তবে আপনারা যেভাবে নাস্তিক বলেন কাউকে, সেরকম নাস্তিক আমি নই। আমি এদেশে হুমায়ুন আজাদের তরিকাকে সমর্থন করি না, কিন্তু ভাসানীর সমাজতন্ত্রের সমর্থক। এখন ভাসানী যদি নাস্তিক হন, তাহলে আমিও নাস্তিক।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭২৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই