প্রথমেই বলে নেই---আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। পৃথিবীর ইতিহাসের এক নৃশংস গণহত্যায় জড়িত থেকেও এদের বিচার হবেনা, তাও আবার গণহত্যার শিকার সেই দেশে বসেই, এটা ভাবতেই পারিনা।
তার মানে কী দাঁড়াল, আমি কি আওয়ামী লীগের লোক?
আমার উত্তর: না, কখনোই না। আওয়ামী লীগ এই বিচার করবে বলে কথা দিয়েছে, তাই তাদের প্রতি আমার কিছুটা হলেও শুভেচ্ছা রয়েছে। দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের আর কোন দলই এই ভয়ংকর অপরাধীদের শাস্তির ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি, এবং, আমরা জানি, নেবেও না। আওয়ামী লীগই এই ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র "কানা মামা", বাকী সবাই "নাই মামা"।
তার মানে, আওয়ামী লীগ যা করছে সবই ঠিক?
আমার উত্তর: না, কখনোই না। দেশ শাসনে এই দল অনেক ভুল ত্রুটি করছে, অনেক অন্যায় শক্তি প্রদর্শন করছে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ তো আছেই, এছাড়াও "আমার দেশ" পত্রিকার পুরো ঘটনাটাই অন্যায় শক্তি প্রদর্শনের একটা উদাহরণ। আবারো বলি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের আশ্বাস দিয়ে তারা আমাদের কাছে কিছুটা শুভেচ্ছা পেয়েছে, সাত খুন মাফের দাসখত পায়নি।
এই খারাপ শাসনের আরেকটা উদাহরণ হল--- নিজামী-মুজাহিদকে, সামান্য একটা মামলায়, সামান্য কারণে গ্রেফতার। এটা কি ঠিক হল?
উত্তর: এই ক্ষেত্রে আমি খারাপ কোন কিছুই দেখি না। এখন ছোট মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলেও রিমান্ডের পরে নতুন তথ্যসহ বড় মামলা করাটা অস্বাভাবিক ঘটনা না। আমেরিকার জগতবিখ্যাত গ্যাংস্টার আল কাপোনকে শেষ পর্যন্ত ট্যাক্স ফাঁকির মামলায় ফাঁসানো হয়। কাদের মোল্লা, কামরুজ্জামানকে যুদ্ধাপরাধ মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাহলে বলতে চাইছেন আওয়ামী লীগ ১০০% ঠিকভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালাচ্ছে?
উত্তর: বিচারের প্রক্রিয়া এখনো চলমান, অনিচ্ছাকৃত (বা ইচ্ছাকৃত) ভুলত্রুটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে সাংবাদিক এবং ব্লগাররা আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা কাজকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে অত্যন্ত চমৎকার একটা কাজ করছেন। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লিগের অনেকেই প্রখর রাজনৈতিক বুদ্ধিসম্পন্ন, যুদ্ধাপরাধী বিচারের সাথে সাথে বিরোধী দলের কোমর ভেঙে দিতে (ন্যায়ভাবে অথবা অন্যায়ভাবে) ইচ্ছুক থাকবেন তাদের অনেকেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন ঠিকভাবে হয়, সেটা খেয়াল রাখা সবারই কর্তব্য।
তার মানে সামু ব্লগের সাম্প্রতিক আওয়ামী লীগ বিরোধিতার জোয়ার সম্পূর্ণ যৌক্তিক?
উত্তর: না। এখানে জামাত শিবিরের ব্লগারদের একটা বড় অংশগ্রহণ আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত জামাতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের কল্লা বাঁচানো। এই উদ্দেশ্যেই তারা (সবাই নন) "বাকশাল" "ফেরাউন" "দেশের সমূহ সর্বনাশ" ইত্যাদি নাটকীয় শব্দসম্ভার এনে একটা "জরুরী অব্স্থা" টাইপ পরিবেশ তৈরী করতে চাইছেন, যার সুফল দুটি---জনতার দৃষ্টি নিজামী-মুজাহিদি থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগের ওপরই রাখা, আর যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা।
আরেক টাইপের ব্লগার আছেন যারা তাদের প্রবল আওয়ামী বিরোধিতা-টাকে (দোষের কিছু নয়) বিস্তৃত করে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি সমবেদনায় নিয়ে যান (অবশ্যই দোষের)।
আইচ্ছা বুঝলাম। ভাব দেইখা মনে হইতেছে, দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের থেইকা আগে কিছু নাই। আগে ভাতের ব্যবস্থা হোক, তারপর এইসব দেখা যাবে!
উত্তর: অত্যন্ত ভ্রান্ত একটা ধারণা। প্রথম কথা: আপনার কি ধারণা, আওয়ামী লীগ আজকে বিচার করা বাদ দিলে কাল থেকে দেশের সবার ঘরে ঘরে ভাত উঠবে? উঠবেনা। ভাতের ব্যাবস্থা, বিচার সব এক সাথেই চলতে হবে, একটা ভাল সমাজ গড়তে এইটার কোনই বিকল্প নাই। এই সংক্রান্ত একটা চমৎকার লেখা দেখেন এইখানে ।
কিন্তু তার আগে বলেন, আওয়ামী লীগ কি এই বিচার করবে? বিচারকরলেই তো ইস্যু শেষ! আর বিচার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কত থলের বিড়াল বের হয়ে যাবে, এইটার কী হবে?
উত্তর: আওয়ামী লীগ বিচার করতে দেরী করবে, এই সম্ভাবনা উড়ায়া দেওয়া যায় না। তবে আমি আশাবাদী। কেন?
মুজিব হত্যার বিচারের সময়ও আমরা একই কথা শুনছিলাম---বিচার আওয়ামী লীগ করবেনা, কারণ তাতে ইস্যু কমে যাবে, আওয়ামী লীগও যে জড়িত তা বের হয়ে যাবে, ফারুক রশিদ আবার দেশ অচল করে দিবে, তারা অনেক গোপন কথা বলে দেবে---কই, বিচার তো ঠিকই হল! আর দেশও তো ঠিকই চলতেছে, কই কোন ক্যু হইছে বলে তো দেখিনা!
কিন্তু যত যাই বলেন, নিজামী-মুজাহিদি-কামরুজ্জামান এনারা আসলে বিশিষ্ট ইসলামীবিদ, তাদের যুদ্ধাপরাধ প্রমাণিত হয় নাই, এইগুলা সবই আসলে অপপ্রচার, আওয়ামী লীগের বাকশালী চিন্তাধারার ফসল।
সাত খন্ড রামায়ণের পর যদি এই কথা বলেন, তাহলে বলতেই হয়
অবশেষে অরিন্দম, কহিলা বিষাদে
ছাগুদের বাসভূম, ছাগলা গারদে।
আপনে একজন বিশিষ্ট ব্লগ ছাগু, আপনার জন্য কাঁঠালপাতা আর সমবেদনা।
হেপ্পী ব্লগিং!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



