somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই!----আমার কিছু সাদাসিধা কথা

১৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলে নেই---আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। পৃথিবীর ইতিহাসের এক নৃশংস গণহত্যায় জড়িত থেকেও এদের বিচার হবেনা, তাও আবার গণহত্যার শিকার সেই দেশে বসেই, এটা ভাবতেই পারিনা।

তার মানে কী দাঁড়াল, আমি কি আওয়ামী লীগের লোক?

আমার উত্তর: না, কখনোই না। আওয়ামী লীগ এই বিচার করবে বলে কথা দিয়েছে, তাই তাদের প্রতি আমার কিছুটা হলেও শুভেচ্ছা রয়েছে। দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের আর কোন দলই এই ভয়ংকর অপরাধীদের শাস্তির ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি, এবং, আমরা জানি, নেবেও না। আওয়ামী লীগই এই ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র "কানা মামা", বাকী সবাই "নাই মামা"।

তার মানে, আওয়ামী লীগ যা করছে সবই ঠিক?

আমার উত্তর: না, কখনোই না। দেশ শাসনে এই দল অনেক ভুল ত্রুটি করছে, অনেক অন্যায় শক্তি প্রদর্শন করছে, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ তো আছেই, এছাড়াও "আমার দেশ" পত্রিকার পুরো ঘটনাটাই অন্যায় শক্তি প্রদর্শনের একটা উদাহরণ। আবারো বলি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের আশ্বাস দিয়ে তারা আমাদের কাছে কিছুটা শুভেচ্ছা পেয়েছে, সাত খুন মাফের দাসখত পায়নি।

এই খারাপ শাসনের আরেকটা উদাহরণ হল--- নিজামী-মুজাহিদকে, সামান্য একটা মামলায়, সামান্য কারণে গ্রেফতার। এটা কি ঠিক হল?


উত্তর: এই ক্ষেত্রে আমি খারাপ কোন কিছুই দেখি না। এখন ছোট মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলেও রিমান্ডের পরে নতুন তথ্যসহ বড় মামলা করাটা অস্বাভাবিক ঘটনা না। আমেরিকার জগতবিখ্যাত গ্যাংস্টার আল কাপোনকে শেষ পর্যন্ত ট্যাক্স ফাঁকির মামলায় ফাঁসানো হয়। কাদের মোল্লা, কামরুজ্জামানকে যুদ্ধাপরাধ মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাহলে বলতে চাইছেন আওয়ামী লীগ ১০০% ঠিকভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালাচ্ছে?

উত্তর: বিচারের প্রক্রিয়া এখনো চলমান, অনিচ্ছাকৃত (বা ইচ্ছাকৃত) ভুলত্রুটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে সাংবাদিক এবং ব্লগাররা আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা কাজকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে অত্যন্ত চমৎকার একটা কাজ করছেন। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লিগের অনেকেই প্রখর রাজনৈতিক বুদ্ধিসম্পন্ন, যুদ্ধাপরাধী বিচারের সাথে সাথে বিরোধী দলের কোমর ভেঙে দিতে (ন্যায়ভাবে অথবা অন্যায়ভাবে) ইচ্ছুক থাকবেন তাদের অনেকেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন ঠিকভাবে হয়, সেটা খেয়াল রাখা সবারই কর্তব্য।

তার মানে সামু ব্লগের সাম্প্রতিক আওয়ামী লীগ বিরোধিতার জোয়ার সম্পূর্ণ যৌক্তিক?

উত্তর: না। এখানে জামাত শিবিরের ব্লগারদের একটা বড় অংশগ্রহণ আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত জামাতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের কল্লা বাঁচানো। এই উদ্দেশ্যেই তারা (সবাই নন) "বাকশাল" "ফেরাউন" "দেশের সমূহ সর্বনাশ" ইত্যাদি নাটকীয় শব্দসম্ভার এনে একটা "জরুরী অব্স্থা" টাইপ পরিবেশ তৈরী করতে চাইছেন, যার সুফল দুটি---জনতার দৃষ্টি নিজামী-মুজাহিদি থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগের ওপরই রাখা, আর যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা।

আরেক টাইপের ব্লগার আছেন যারা তাদের প্রবল আওয়ামী বিরোধিতা-টাকে (দোষের কিছু নয়) বিস্তৃত করে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি সমবেদনায় নিয়ে যান (অবশ্যই দোষের)।

আইচ্ছা বুঝলাম। ভাব দেইখা মনে হইতেছে, দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের থেইকা আগে কিছু নাই। আগে ভাতের ব্যবস্থা হোক, তারপর এইসব দেখা যাবে!

উত্তর: অত্যন্ত ভ্রান্ত একটা ধারণা। প্রথম কথা: আপনার কি ধারণা, আওয়ামী লীগ আজকে বিচার করা বাদ দিলে কাল থেকে দেশের সবার ঘরে ঘরে ভাত উঠবে? উঠবেনা। ভাতের ব্যাবস্থা, বিচার সব এক সাথেই চলতে হবে, একটা ভাল সমাজ গড়তে এইটার কোনই বিকল্প নাই। এই সংক্রান্ত একটা চমৎকার লেখা দেখেন এইখানে

কিন্তু তার আগে বলেন, আওয়ামী লীগ কি এই বিচার করবে? বিচারকরলেই তো ইস্যু শেষ! আর বিচার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কত থলের বিড়াল বের হয়ে যাবে, এইটার কী হবে?

উত্তর: আওয়ামী লীগ বিচার করতে দেরী করবে, এই সম্ভাবনা উড়ায়া দেওয়া যায় না। তবে আমি আশাবাদী। কেন?

মুজিব হত্যার বিচারের সময়ও আমরা একই কথা শুনছিলাম---বিচার আওয়ামী লীগ করবেনা, কারণ তাতে ইস্যু কমে যাবে, আওয়ামী লীগও যে জড়িত তা বের হয়ে যাবে, ফারুক রশিদ আবার দেশ অচল করে দিবে, তারা অনেক গোপন কথা বলে দেবে---কই, বিচার তো ঠিকই হল! আর দেশও তো ঠিকই চলতেছে, কই কোন ক্যু হইছে বলে তো দেখিনা!

কিন্তু যত যাই বলেন, নিজামী-মুজাহিদি-কামরুজ্জামান এনারা আসলে বিশিষ্ট ইসলামীবিদ, তাদের যুদ্ধাপরাধ প্রমাণিত হয় নাই, এইগুলা সবই আসলে অপপ্রচার, আওয়ামী লীগের বাকশালী চিন্তাধারার ফসল।

সাত খন্ড রামায়ণের পর যদি এই কথা বলেন, তাহলে বলতেই হয়

অবশেষে অরিন্দম, কহিলা বিষাদে
ছাগুদের বাসভূম, ছাগলা গারদে।

আপনে একজন বিশিষ্ট ব্লগ ছাগু, আপনার জন্য কাঁঠালপাতা আর সমবেদনা।




হেপ্পী ব্লগিং!
২৩টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×