সেই অসাধারণ "কবি", "সে ও নর্তকী", "শুভ্র" বা দূর্দান্ত কিছু "মিসির আলি" আর "হিমু" পড়ার পর একটা সময়ের পর হুমায়ূন পড়তে আর ভালো লাগে না। মনে হয় এক-ই ব্যপার ঘুরে-ফিরে আসছে কুমিরের সাতটা বাচ্চার মতো। তাও অভ্যাস এমন একটা জিনিস যে হাতে কোন হুমায়ূন পরলে তা যতোই যাচ্ছেতাই হোক, এখনো উল্টে দেখি। সেভাবেই একটা বই আসলো হাতে, "যদিও সন্ধ্যা"। পড়তে পড়তে বেশ একাত্ম হয়ে গেলাম, আগের মতোই মনে হলো প্রতিটা চরিত্রকে ছুঁতে পারছি! পড়ার পর-ও মনটা খারাপ হয়ে থাকলো বেশ কতোক্ষন!!
এখানে "ইমন" হচ্ছে এমন একটা ৫-৬ বছরের ছেলে যার বাবা আর্টিস্ট আর মা (সবসময়ের মতোই) অনিন্দ্য সুন্দরী একজন মহিলা। মা তার বাবার ছবি আঁকা দেখে মুগ্ধ হয়ে বিয়ে করে, পরে মুগ্ধতা কেটে গেলে ছাড়াছাড়ি-ও হয়ে যায়। তারপর সে মা'র সাথে চলে যায় এ্যামেরিকা ...কিন্তু তার মাথায় ঘোড়ে তার আর্টিস্ট বাবার কথা...যে তার জন্মের সময়ের কন্যা-দেখা আকাশ দেখে ছেলের নাম দিয়েছিল "লেমন ইয়েলো"। প্রতি জন্মদিনে বাবা ইজেলে লেমন ইয়েলো পেইন্ট দিয়ে ব্রাশ ঘসে যায়! মা আরেকজন এ্যামেরিকান বিয়ে করে যে ইমনের খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। তারপর-ও ছেলেকে বাবা-র দেখা দিতে মা নিয়ে আসে বাংলাদেশে। একটা স্বপ্নময় সময় বাবার সাথে কাটিয়ে, মা'র সাথে প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে ইউ.এস. ফিরে যায় ইমন। আর তার ভেতরে কষ্টের ঝড় উঠে যায়...কেন তারা একসাথে থাকতে পারছে না ?!
অনেক ঘটনার ফাঁকে "ইমন" চরিত্রটা মনে গেঁথে গেলো খুব! আমি পাগলের মতো বাচ্চা পছন্দ করি। সেজন্যই ইমনের কষ্টটায় কেমন যেন একটা গুমোট বোধ করলাম। ওকে খুব সঙ্গ দিতে ইচ্ছা করলো! লিখতে ইচ্ছা হলো কয়েক লাইন... তাই লিখলাম... ভেতরের অযথা কিছু বনুভূতি...
|| ইমণ ||
তার -
ছোট্ট দু'টা চোখের ভেতর ভীষণ গাঢ় মায়া
তীব্র দুঃখ-কষ্টে পড়ে চোখের জলে ছায়া ।
গভীর অনুভবে থাকে, যায় না তাকে ছোঁয়া
সন্ধ্যা আকাশ গোপন করে কষ্টশ্বাসের ধোঁয়া ।
তার -
আকর্ষনের চূড়ায় থাকে তুলির রাজা - "বাবা"
মায়ের কঠিন তত্ত্বাবধান হঠাৎ তোলে থাবা ।
ছোট্ট বুকে ঝড় উঠে যায় অতীত অভিশাপে
পাথরশক্ত দেয়াল মাঝে ছোট্ট ইমন কাঁপে !
উপন্যাসের পাতায় পাতায় গভীর ব্যথার কায়া
মিশতে মিশতে এক হয়ে যায় আমার আপন ছায়া!
গহীন মনের কোণ থেকে ঐ ইচ্ছেটা দেয় উঁকি -
"ইস্! একটু নিতাম ইমন বাবার "আম্মু" হবার ঝুঁকি!"
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



