somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রাবণ আমার মায়ের চোখে

১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খুব ছোটবেলার ঘটনা। আমি আর আমার বড় ভাই তখন হয়ত ক্লাস ফোর ফাইভে পড়ি। ছোট ভাইটি সবেমাত্র হাটঁতে শিখেছে। সারাদিন গুঁটিগুঁটি পায়ে এঘর থেকে ওঘর, ওঘর থেকে এঘর।

মজা করার জন্য আমরা দু'ভাই পাশাপাশি দু'টি বিছানা থেকে শরীরের খানিকটা বের করে দিয়ে পড়ে যাওয়ার ভান করতাম আর বলতাম, পড়ে যাচ্ছি...বাচাঁও বাচাঁও।

ছোট ভাইটি ছুটে এসে তার ছোট ছোট নরম দুটি হাত দিয়ে একবার ভাইয়াকে বিছানায় তুলবার চেষ্টা করত। ভাইয়াকে কোনরকমে তুলে দিয়েই আমার কাছে ছুটে আসত যেন পড়ে না যাই। আমাদের দু'ভাইকে বাচাঁনোর জন্য তার সে কি আপ্রাণ চেষ্টা! একসময় হেসে উঠে আমরা যখন তাকে কোলে তুলে নিতাম, আমাদের দু'ভাইকে বাঁচাতে পেরে তার মুখে তখন বিজয়ের হাসি।

বড় দু'ভাইয়ের প্রতি সেই ছোট্ট অবুঝ মনের অকৃত্রিম ভালবাসার কথা কল্পনা করলে আজ এতবছর পরেও চোখ ছলছল করে উঠে। কিছুতেই চোখের জল ধরে রাখতে পারিনা।

সেই ছোট্ট তুলতুলে ভাইটি চোখের সামনে কখন যে এত বড় হয়ে গেল বুঝে উঠতে পারিনি! মাকে মাঝে মাঝে বলি, ও যদি সেই ছোট্টটি থাকত, তবে এখনও সেইরকম আদর করতে পারতাম। মা কপট রাগের সুরে বলেন, হুঁ ! তোমাদের আদরের জন্য সে সারাজীবন ছোট্টটি থাকুক। তাকে আর লেখাপড়া শিখতে হবেনা, বড় হতে হবেনা।

সত্যি সত্যি সে আজ অনেক বড় হয়ে গিয়েছে! কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিবিএ পড়ার জন্য বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে।

এই প্রথম আমরা কোন ঈদ তাকে ছাড়া করলাম। রোজার ঈদের নামাজ শেষে ঘরে ফিরেছি, মাকে সালাম করতে যাব- দেখি মায়ের চোখে শ্রাবণ বইছে। অঝোর ধারায়। কি বলে মাকে স্বান্তনা দেব! তারপরও বললাম, কেন কাঁদছ। গতকালও ত ওর সাথে কথা বলেছ। তোমার কাছ থেকে রেসিপি নিয়ে ঈদের দিন মেরাগপোলাও রেধেঁছে। ল্যাপ্পিতে তোমাকে দেখিয়ে খেয়েছে। সে ভাল আছে, নিয়মিত ক্লাস করছে। তবে কাঁদছ কেন?

মার কাছ থেকে আমি কোন উত্তর পাইনি। ছোট ছেলেটির কথা ভেবে ভেবে তখনও তিনি আচঁলে চোখ মুছছেন।

আমার ছোট ভাইটির খুব পছন্দের একটি খাবার মায়ের হাতের মোরগ পোলাও। এই ঈদেও মা মোরগপোলাও রেধেঁছে আর শুধুই কেদেঁছে। কিন্তু একফোটাঁ ও মুখে দেয় নি। আদরের ছেলেটি সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে বসে আছে, তাকে না খাইয়ে নিজে কেমন করে খান।

এরি নাম হয়তো মা। মা তোমরা এমন কেন গো ? মা অশ্রু মাখা কন্ঠে বলে, মা হলে বুঝতি!

মনে আছে জাহানারা ইমামের '৭১ এর দিনগুলি' পড়েছি আর পড়তে পড়তে কতবার যে কেদেঁছি। এক ছেলে মুক্তিযুদ্ধ থেকে মায়ের কাছে চিঠি লিখেছে,'' মা এখানে খুব কষ্ট। মাটিতে শুতে হয়। কোন কোন দিন একবেলা ভাতও জোটে না। রুটি গুড় মুড়ি খেয়ে থাকতে হয়।'' যুদ্ধ শেষে সেই ছেলে আর ঘরে ফেরেনি। যতদিন বেঁচে ছিলেন সেই মাও আর কোনদিন বিছানায় ঘুমাননি; ভাত মুখে দেননি। যুদ্ধকালীন ছেলে যে তাঁর ইঁট মাথায় মাটিতে শুয়েছে, খেয়ে না খেয়ে থেকেছে।

মায়েরা এমনই হয়! তাদের সমস্ত পৃথিবী জুড়ে শুধুই তাদের সন্তানেরা



( আপনারা আমার এই আদরের ছোট ভাইটির জন্য দোয়া করবেন।)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৮
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×