কোন এককালে রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছিলেন যে ব্যাঘ্র একবার মানুষের মাংশের স্বাদ পায় সে যেমন এডিকটেড হয়ে যায় তেমনি বিবাহিত পুরুষমাত্র নারী মাংশাসী প্রানী হয়ে ওঠে। দুইটা প্রানীই এরপরে আর ছাড়তে পারে না মাংশের লোভ। আপাত সিংগেল আমি তাই ঘরে ফিরে ইসলামিক টিভি আর পিচ চ্যানেল দেখে তাবু গুটাবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। কিন্তু গতকাল ডঃ জাকির নায়েকের কাছে প্রশ্ন হয়েছিল কিছু সংগম কালিন ইসলামিক রীতি নীতি নিয়ে। উহাতেও আমার তাবুতে হাওয়া লাগে। স্বভাবতই পাশের চ্যানেল পিচে আমি সটকে পড়ি। কিন্তু একি! সেখানে চলছে পর্দা কিভাবে নারীর এক্সপোজিং এলিমেন্ট নিরাপদ রাখে তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন। অভুক্ত প্রানী ঘ্রানেও ভোজন সেরে নিতে পারে, আর আমি তো কোন ছার, অতএব চ্যানেল পরিবর্তন এবং গিয়ে পড়লাম পুরো এক দংগল অর্ধনগ্ন এমটিভি নৃত্যে। না, আজ চারিপাশে কেবল নাফরমনী দৃশ্যের আহবান।
সংগত কারণে টিভি বাদ দিয়ে আমি ম্যাগাজিন পড়ার চেষ্টা করি। ঘরে ছিল সানন্দা, পৃষ্ঠা উলটাতে গিয়ে অনেকবার দেখা নারীর উদ্ধত সৌন্দর্য্য চোখে রঙ লাগিয়ে দিল। না, এই ম্যাগাজিনেও চলবে না। ভেবেচিন্তে রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নেই। এবং অলিগলি ছেড়ে যখন মোটাপথে তখন পেছন থেকে নারী কন্ঠের ডাক শুনে বিপদের গন্ধ পেলাম। ফিরে দেখি, মিতু, অল্পবয়সে ডিভোর্সী মেয়েটির সাথে একসময়ে নিয়মিত কথা হতো। বাসায় ঘন্টার পরে ঘন্টা আড্ডা মারতাম। তার রূপযৌবন দেখে মাথায় ঢুকতো না কিভাবে এ স্বামী পরিত্যক্ত হয়। ডিভোর্সী মেয়ে মানেই সহজভোগ্যা, এমন একটা সোসাইটাল পার্সেপশনের কারণে তার সাথে বন্ধুত্বকে গুডবাই জানিয়েছিলাম। আজকে যখন আমার দরকার বুদ্ধদেব হবার তখন সেই আগ্রাসী সুন্দরীকে দেখে আমার ধ্যান ভঙ্গ হবার জোগার।
কৌশিক, কি খবর?
আমি মাথা নাড়ি, না, না!
কি হয়েছে?
না, না, এ অসম্ভব!
কি না না বকছো? কি হয়েছে?
আমি মাথা নেড়ে যাই, বিড়বিড় করে গৌতমবুদ্ধের নাম জপ করি। রক্ষে করো নপুংসক গড, চোখ চলে যায় তার উদ্ধত শরীরের বাকে, আবার জোরে চেচিয়ে উঠি, নো, নো...., কুল, ইটস এ ট্রি, নট এ লেডি!
কি? কি বলছো? বলে হাত ধরে চেপে। আমার মুখ দিয়ে বের হয়, উপস! নোওওও! তারপরে কথা যায় বন্ধ হয়ে, শরীরের সব রন্ধ্রে রন্ধ্রে বইতে থাকে বন্যার পানি। আমি মাথা নাড়ি, জিভ বের করে হাফসাফ করি। মিতু আরো চেপে ধরে, বলে, অসুস্থ্য লাগছে?
আমি আরো জোরে চেচাই, নো! ওহ মাই গড!
মিতু এবার রিকশা ডাকে। দাড়াও তোমাকে বাসায় নিয়ে যাই, নিশ্চয়ই সামথিং ইজ রঙ!
এবার শুধু হাত নয়, স্পর্শে আদ্র হয় আরো প্রতংগ। রিকশায় বসে সে পিঠে হাত দিয়ে থাকে।
কি হয়েছে তোমার? চারদিকে এখন মেন্টাল ডিজিজের ছড়াছড়ি, পটপট করে নয়জন ট্রেনের নিচে ঝাপ দিলো!
আমি মনে হয় সৌরজগত ছেড়ে সপ্তর্ষীমন্ডলে বিচরণ করি। গরম একটা শরীর লেপ্টে থাকে। বিবাহিত পুরুষ মানেই নারীলোভী। এ হতে দেয়া যাবে না। ব্রেক দ্যা রুল। ধাতস্থ হয়ে মিতুকে বলি, নামছি, এখন আমি ব্যাঘ্র হয়ে গেছি!
মিতু তাকিয়ে থাকে অবাক হয়ে। ব্যাঘ্র মানে কি? তুমি কিসের ব্যাঘ্র হয়েছো!
কোন জবাব না দিয়ে আমি রিকশা থামাতে বলি, নেমে হনহন করে হাঁটতে থাকি।
পেছনে শুনি মিতুর মন্তব্য, মাস হিস্টরিয়া ডিসঅর্ডার!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




